সর্বশেষ সংবাদ

Monday, 3 August 2020

 মায়াবী পরী

মায়াবী পরী

 মায়াবী পরী
 ওমর ফারুক
 মুখ তার কবেকার গেোলাফের কলি ,
 চোখ তাহার নিশাচর -
 দীঘল লম্বা বেনী ।
 ভ্রু গুলো সরু পথ-
 বৃক্ষ সারি সারি ।
 দাঁত গুলো মুক্তা ঝরা -
 হীরের মালা খানি ।
 দেহের গড়ন বুনো হাঁস -
 জল সাঁতারের ন্যায় ।
 এই ভর দুপুরে কে ডাকিল আমায় ।
 গায়ের বর্ণ কালো সাদা -
 সুমিষ্টি কোকিলের ভাষা ।
 তিমির আঁধারে -
 যে নাবিক হারিয়েছে দিশা ।
 অন্ধকারের প্রদীপ সেই-
  জ্যোস্নাকে হারায় ।
  চরণের ঘঙুরে পশুরা খেলে ,
  প্রকৃতির মায়াবতী-
  যুবকের মনে দৌলা জাগে ।
  হ্নদয়ের ঐশ্বর্যে রাণী সেই -
  প্রকৃতির কল্যাণ বয়ে আনে ।
  কবির যত কাব্য -
  তাহা তোমার নিচে ।
  লাল পরী নীল পরী -
  সব কিছু মিছে -
  তুমি হলে মায়া পরী -
  এই ভর দুপুরে এলে ।
  

Sunday, 2 August 2020

খাঁচার পাখি

খাঁচার পাখি

খাঁচার পাখি
ওমর ফারুক
আমি তো খাঁচার পাখি ,,
নীল আকাশ চেয়ে থাকি !
সখিদের কবে পাবো দেখা ?
আমার বাড়ির আঙিনায় -
হরেক পাখির মেলা ।
ইচ্ছা জাগে তাদের ভিড়ে-
 আমি মিশে যাই  ।
 পায়ে আমার লোহার বেঁধি ,
 দেখার কেউ নাই ।
 স্বপ্ন দেখি সখির সাথে নীল আকাশে উড়ি ,
 স্বপ্ন ভাঙ্গলে খাঁচার ভিতর মাথায় খুড়ে মরি ।
 অশ্রু আমার শিশির কণা-
 সূর্য মামা শুকায় ।
 স্বপ্ন আমার পরজীবি -
 কারো সমাদর নাই ।
 পালক গুলো ভীষণ কালো-
 বাসা খানা ভঙ্গুর ।
 আমার ঘরে আসেনা কেউ -
 সকাল ,সন্ধা - দুপুর ।
 নেয় না খবর দেয় না কেউ উৎকিষ্ট খাবার ।
 অবহেলা অপমানে চার দিকে আধাঁর ।
 নির্জনে বসে চুপ মেরে কাঁদি ।
 খাঁচার ঐ শিক গুলো আমার যে সাক্ষী ।
 মুক্ত বনে সখির সাখে করছি নানান খেলা -
 সকাল ঘনিয়ে দুপুর পেরিয়ে ডুবে যেত বেলা ।
এখন তাদের দেখিনা কাউরে -
আমি যে একেলা ।
চোখের সামনে পাখির ঝাঁক -
আকাশ মাতায় বেলা ।
অশ্রু আমার ঝর্ণা ধারা -
হ্নদয় ছটফট করে ।
 আমি খাচায় বন্ধী পাখি-
 কেন ভূলে যাই ।
 স্বপ্ন আমার পরজীবি -
 কারো সমাদর নাই ।
ইতিহাসে কোরবান

ইতিহাসে কোরবান

ইতিহাসে কোরবান
ওমর ফারুক
শুনরে মুমিন ওরে মুসলমান ,,
জ্বিল হজ্জ মাসের চাঁদ উকি মেরেছে ,
ইবরাহিমের মিল্লাতের আজ ডাক এসেছে ।
হাজরা মায়ের কোলে পয়গ্মম এসেছে ,
জ্বিল হজ্জ মাসের চাঁদ উকি মেরেছে ।
বৃ্দ্ধ বয়সে দূত ইবরাহিমকে কহিলো ,,
মোর খোদা আপনাকে পুত্রের সংবাদ দিলো ,,
সেই কথা শুনিয়া হাজরা বলিলো ,
আমি এক বয়স বৃ্দ্ধ বান্ধা এক নারী ,,
এই বয়সে সন্তান কিভাবে মানি ।
দূত বলিলো যে ভাবে যাকারিয়া মরিয়ম কোল জুডে আনি ।
রবে জানেন লিলা খেলা মানব চিন্তার উধ্বে
হাজরা  ইসমাইল কে রেখে আসলেন -
উপতাপ্ত মরুভূমি সাফা মারওয়া তে ।
হাজরা ছুটে নবীর পিছু ডাকেন নবীরে ,,
নির্জন এই মরুভূমি একলা সেথায় কেমনে থাকি ।
নবী বলেন ভয় কনে পাও ?
আমার রব তোমার সাথে রয় ।
খাবার নাই পানি নাই -
ইসমাইল আঃ করতে কান্নাকাটি ।
খাবার ও পানির সন্ধানে -
হাজরা করতেছে সাফা মারওয়া দৌড়াদৌড়ি ।
নিরাশ হয়ে যখন ফিরছিল -
তখন একটি শব্দ শুনতে ফেল ।
শিশু পুত্রের কান্না জড়িত পায়ের আঘাতে -
নিচ থেকে পানির ফোয়ারা প্রবাহিত হতে থাকে ।
সেই কূপ যা বর্তমানে জমজম খ্যাতি পায় ।
অলৌকিক ভাবে রব পানি ও খাবারের ব্যবথা করে ,
সাফা ও মারওয়া হাজরার  দৌড়াদৌড়ি -
রবকে সন্তুষ্ট করে ।
 পুত্র যখন হাটতে কথা বলতে শিখেছে -
 রব বলেন ইবরাহিমের এইবার অগ্নি পরীক্ষা -
 স্বপ্ন দেখন রবের নামে দিতে হবে কোরবানি ।
 স্বপ্নকে বাস্তবায়িত্ব করে দিলেন কোরবানি ,,
 একই স্বপ্ন তিন বার দেখ -
 কোরবানি কবুল হয় নাই ।
 ইবরাহিমক আঃ বুঝতে পারে -
 ইসমাইল ছাড়া অন্য উপায় নাই ।
 পিতা হতাশ হয়ে পুত্রকে বলে -
 আমি স্বপ্ন দেখছি তোমাকে দিতে হবে কোরবানি ।
 পুত্র বলে আপনার কাজ আপনি করেন -
 সৃষ্টার উপর ভরসা রাখেন ।
 পশুর ন্যায় বেঁধে ফেলে গলায় বসায় ছুরি ,,
 তা দেখে ফেরেশতারা করতেছে কাাঁপাকাপি -
 জ্বিবরাইল বলিলো কিভাবে ইহা সর্হ্য করি ।
 খোদা কহিলোব বেহেশতের ঐ দূম্বাটা-
 নিয়ে যাও ইবরাহিমের ছুরির নিচে ।
 আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে -
 জ্বিবরাইল ইবরাহিমের কাছে দুম্বা নিয়ে আসে ।
 দুম্বা জব হইছে পুত্র জব হয় নাই ।
 তা দেখে পিতা পুত্র তাকবীর দিয়ে উঠে ।
 জ্বিবরাইল ইবরাহিম ইসমাইল
- তিন জনের তাকবীর খোদা কবুল করে ।
সেই থেকে কোরবানি ঈদে এই আইন বাধ্য করে ।
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ

Sunday, 26 July 2020

করোনা ভাইরাস

করোনা ভাইরাস


করোনা ভাইরাস ওমর ফারুক

সবুজ শ্যামল এই ধরণীর বুকে,,
মানব সভ্যকে অজানা শত্রু গ্রাস করে ।
সেই শত্রুকে দেখা যায় না ছোঁয়া যায় না ,
তাহার ভয়ে পুরো বিশ্ব আতষ্ক ।
এই তো দুই চার দিন আগে ও যেখানে-
কিশোর –কিশোরীদের উম্মাদ চলাফেরা ছিলো ,,
মদ জুয়ার আসর ছিলো লোক সমাগমে ভর্তি !
হোটেল শপিং মহল ছিলো কানায় কানায় পরিপূর্ণ ।
বিনোদন মূলক পার্ক গুলো ছিলো অশ্লীলতার আশ্রয় কেন্দ্র ,
চোর বাটপারদের রাষ্ট্রের প্রতি বৃদ্ধ আঙ্গুলি ,,
আজ সবার মনে ভয় ভয় –
কে মরে কে বা কখন আক্রান্ত হয় ।
সেই মৃত্যুর নাম করোনা –
সেই আক্রান্তর নাম করোনা ।
নর-ঘাতক এই ভাইরাস পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করে নিচ্ছে ,
মৃত্যুর মিছিল কিছুতেই থামছে না ।
বাঁচার তাগিদে লকডাউন হোম কোয়েন্টাইন স্বাস্থ্যবিধি ,,
করোনা দেখাচ্ছে বৃদ্ধ আঙ্গলি ।
আজ কোথাও মানব চিহ্ন নেই ,,
যেই মানুষ ছিলো প্রকৃতি নিয়মের ঊর্ধে ,
তারাই আজ প্রকৃতির কাছে অসহায় ।
যে যুগল বাঁচানো বলে একে অন্যের হাত ধরেছে ,
তারাই আজ একে অন্যকে ভূলে গেছে ।
যে মাতা কষ্ট করে সন্তানদের লালন পালন করেছে ,,
সেই মাতাকে করোনার ভয়ে রেখেছে জঙ্গলে ।
যে বাবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে-
সন্তানদের ভরণ পোষণ করেছে ,,
তাহার লাশ বেওয়ারিশ হিসাবে দাফন করে ।
সমাজের যেই মানুষটি সবার উপকার করেছে ,,
তাহার জানাযা লোকের অভাব পড়ে ।
যে আলেম সর্বদা লোক জনকে মৃত্যুর কথা স্মরন করিয়ে দিতো ,
সেই আলেম আজ করোনা মৃত ব্যাক্তির জানাজা পড়াতে চায় না ।
যে ডাক্তারের চেম্বারে রোগীদের লম্বা লাইন ছিলো ,,
সেই ডাক্তার আজ করোনার ভয়ে পালাতক ।
যে হাসপাতাল গুলো রোগীদের কাছে পাওয়ার জন্য -
বিভিন্ন অজুহাত খোঁজ তো ।
সেই হাসপাতাল গুলো করোনার ভয়ে –
রোগীদের দূর দূর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে ।
ধর্মীয় উপাসনালয় গুলো ছিলো হ্নদয়ের আকুতি,
সেই গুলো আজ তালা বদ্ধ ।
কুলি, দিন মজুর গুলো আজ অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে ।-

কলকার খানার যে শ্রমিক গুলো দেশের সম্পদ বলে উপাধী ছিলো -
তারা আজ দেশের বোঝা ।
যে দোকানদারের কাছে সময়ের কোন হিসাব ছিলোনা ।
তারা আজ সময়ের বাইরে বেচাকেনা করতে পারতেছে না ।
স্কুল কলেজের যে ছাত্র গুলো ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডায় মেতে থাকতো , তারা আজ করোনার ভয়ে গৃহবন্দী ।
যে পথ শিশুরা হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াতো –
তারা আজ নিরুদ্দেশ ।
ভিক্ষুকেরা আজ ভিক্ষা করতে লজ্জা পায় ।
সারা পৃথিবী থম থমে পরিবেশ ,
সুবিধা ভোগীরা বিনা দোষে শ্রমিক ছাঁটাই করতেছে ।
মিডিয়া গুলো করোনা ছাড়া কোনো কথায় প্রচার করতেছে না ।
দেশের প্রশাসন গুলো আজ কোণ ঠাসা হয়ে পড়েছে ।
আজ বিজ্ঞানের উন্নত প্রযুক্তি আধুনিক অস্ত্র শস্ত্র –
অটল ধন সম্পদ কোন কিছু করোনা হাত থেকে বাঁচাতে পারতেছে না ।
সমগ্র বিশ্ব আজ নিরব নিস্তব্দ মৃত্যুপুরী ।
আজ রক্তের সম্পর্কের কেউ মারা গেলে –
প্রতিবন্ধীর মতো শুধু চেয়ে থাকি যেন আমাদের কিছুই করার নেই।
করোনা ভাইরাস আজ আমাদের যেন মনে করিয়ে দিতে চায় ,
এই ভুবেনশ্বর তোমাদের হুকুমে চলবেনা –
করোনার হুকুমে চলবে আজ থেকে এই পৃথিবীতে –
আমরা রাজত্ব করে বেড়াবো ।
তোমার মতো হতে পারি নাই

তোমার মতো হতে পারি নাই

 তোমার মতো হতে পারি নাই 



তোমার মতো হতে পারি নাই
 ওমর ফারুক
এই যে তোমার  বিচিত্র রুপ লাবণ্য ,,
হ্নদয়ের অরণ্যে মায়ার আকুতি ,,
যে কোন যুবককে মুগ্ধ করবে ।
অশ্রুর ঝর্ণা ধারা –
প্রকৃতির রহস্যকে হারাতে পারবে ।
তোমার মায়া জালে –
দেবতার ও যে বন্ধী ।
সেখানে আমি তো খেলনার পুতুল ।
তোমার মীর জাফরের ন্যায় বিশ্বাস ঘাতকতা ,
আমাকে যে পরাজয় করতে বাধ্য করেছে ।
হিটলারের ন্যায় দৃষ্টি ভঙ্গি ,
 আমি যে সদাই শংকিত ।
ক্ষুধাত্ব সিংহের গর্জনে –
আমি যে উম্মাদের মতো ছুটছি ।
আমি তো মাকড়সা নয় –
 আমার হ্নদয়ে জাল বুনবো ।
আমি মীর জাফর নয় ,
 স্বার্থের জন্য বিশ্বাস ঘাতকতা করবো ।
আমি তো হিটলার নয়
 যে নিজের হুকুমত জারি রাখবো ।
আমি তো তোমার মতো নয় –
যে ছলনার জালে ,
কাউ কে হারাতে পারবো ।
চাইলে আমি সবার মতো হতে পারি ।
শুধু তোমার মতো হতে পারি না ।

Saturday, 25 July 2020

 তুমি কি সেই

তুমি কি সেই








 তুমি কি সেই

ওমর ফারুক 

তুমি কি সেই ,,
যে আমার নিঃসঙ্গ জীবনে এসে ছিলো ।
তুমি কি সেই ,
যে আমাকে ভালো বেসেছে ।
তুমি কি সেই ,
যে আমাকে সব সময় সমর্থন করতো ।
তুমি কি সেই ,,
যে আমার  হাত ধরেছে ।
তুমি কি সেই ,
যে কখনো ধনী গরীব ভেদাবেদ করতো না ।
তুমি কি সেই ,
যাহার দৃষ্টি ভঙ্গী বাল্যসুলব ।
তুমি কি সেই ,
যাহার কখনো দৃষ্টি গোচর হতাম না !
তুমি কি সেই ,
যে কখনো বিনিময় চাইতো না ।
তুমি কি সেই ,
 যে কাউকে কষ্ট দিতো না ।
তুমি কি সেই ,
 যে কখনো তর্কে লিপ্ত হতো না ।
তুমি কি সেই ,
 যাহার হ্নদয় কলঙ্কমুক্ত ।
তুমি কি সেই ,
 যাহার হ্নদয় আকাশের চেয়ে উচু ।
তুমি কি সেই ,
 যাহার কাছে প্রকৃতির যে কোন –
উদারতা হার মানায় ।
না আজ আমার সামনে যে দন্ডমান-
সেই কেবল প্রতিশোধ পরায়ণ ।
তাহার ছোবলে প্রকৃতির যে কোন সৌন্দর্য বিলিন ।

প্রোপোজ

প্রোপোজ






প্রোপোজ
 ওমর ফারুক
তোমাকে অনেক দিন ধরে,
একটা কথা বলবো বলবো ভাবছি ।
তাই তো কোন এক নির্জনে আসতে বলেছি !
 হ্নদয়ের সাইরেন বাজিয়েছি  ,
পাওয়া না পাওয়ার ভয় –শংকিত হ্নদয় ।
আলোর গ্রতিতে ছুঁটছি-
মাঝে মাঝে ভিড ভিড করছি ।
লাজুক বেশে তোমার সামনে এলাম ,
তুমি জানতে চাইলে !
অনেক ক্ষন চুপ রইলাম ।
কপালটা ঘাম ছিলো –
দেহ খানি কাপ ছিলো ।
ভাঙ্গা ভাঙ্গা কণ্ঠস্বরে –
তোমাকে ভালো বাসি ।
তুমি ও অভয় দিলে ।
শুরু হলো নতুন জীবন ।