Thursday, 12 April 2018

কোরআন এবং বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে ভালোবাসা


লেখক
ওমর ফারুক

সব কিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি হয়েছে

আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি , যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর । আল কোরআন সুরা যারিয়াত আয়াত ঃ 49)
” পুত পবিত্র সেই সত্বা যিনি প্রত্যেকটির জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন , যা উপন্ন করে যমীন আর তাদের নিজেদের ভিতরেও আর সে সবেও যা তারা জানেনা । আল কোরআন সুরা ইয়াসীন আয়াত ঃ 36
আর তার আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে , তিনি তোমাদের মধ্যে হতে সংঙ্গীনি সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা তাদের কাছে শান্তি পেতে পার এবং পাস্পারিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন । এতে চিন্তাশীলদের জন্য রয়েছে বহু নির্দশন । আল কোরআন সুরা রুম আয়াত ঃ 21
আলোচনা ঃ- জোড়ায় জোড়ায়
জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি সম্পকির্ত আল কোরাআনের এ ঘোষনা মানুষ , প্রাণী , উদ্ভিদ , ও ফল সমূহ সব কিছু কে বোঝায় । এমন কি এটা ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন ও ধনাত্মক চাজযুক্ত প্রোটনের সম্বয়ে গঠিত বিদ্যুতের ইলেকট্রিসিটি পরমানু কে ও বোঝায় । আর এমন কিছু জীব ও জড় বস্তু রয়েছে যা মানুষ আজও জানতে পারেনি ।
আলোচনা ঃ- ভালো বাসা দয়া ও সংঙ্গীনি সৃষ্টি
প্রথমে আসি সঙ্গীনির ব্যাপারে ইতি পূবে আমরা জেনিছি মহান আল্লাহ সব কিছুতে সৃষ্টি নারী ও পুরুষ করেছেন এবং দিয়েছেন যৌন প্রক্রিয়া বংশ বিস্তার !
ভালেবাসা ও দয়া , ভালোবাসা অনেক প্রকারের হতে পারে । মা , বাবা , ভাই ,বোন আত্মীয় স্বজন সমাজ রাষ্ট্র ইত্যাদি ।
আরেক প্রকারের ভালবাসা হচ্ছে একটা ছেলে একটা মেয়ের প্রতি বা একটা মেয়ে একটা ছেলের প্রতি !
কাছাকাছি আসা , কাথা বলা , দেখা করা , ঘুরতে যাওয়া একজন অপরজনকে না দেখলে অস্থির অনূভব করা ইত্যাদি । আমাদের কাছে বিষয় গুলো হয়তে কোন সাধারন ব্যাপার হতে পারে । কিন্তু আমরা কি একবার ও জানতে এমনটা কেন হবে । আসুন কোন এবং কোরআন এবং বিজ্ঞান কি বলে !
কোরআন ঃ
নিজেকে নিদোষ বলে মনে করো না , কেননা মন তো কূকর্ম প্রবণ , তবে সেই ছাড়া যার প্রতি আমার রব দয়া করেন , নিশ্চয়ই আমার রব ক্ষামাশীল দয়ালু ।
আল কোরআন সুরা ইউসুফ আয়াত ঃ 53
উক্ত আয়াতে জুলেখা ওইউসুফ আঃ এর ঘটনা কে কেন্দ্র করে বলা হয়েছে । জুলেখা ইউসুফ আঃ এর ব্যাবহার সৌন্দর্য্য দেখে প্রেমে পড়ে যায় একসময় সেই প্রেমের অপার দেয় । কিন্তু ইউসুফ আঃ বার বার সেটা প্রত্যাখান করে ! পরে জূলেখার মনে কুকর্ম প্রবণতা কাজ করে কিন্তু ইউসুফ সৎ ও ন্যায় প্ররায়ন বিধায় মহান আল্লাহ সেই মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তি দেন । কিন্তু ভাই আমি আর আপনি মতো নই । এখনকার ভালোবাসা হোটেল , রেষ্টুড়েন্ট , সিনামা হল বা বিভিন্ন র্পাকে । অনেকে বলতে পারে ভাই আমরা তো কোন খারাপ কাজ করতেছিনা , আমি কি বলেছি আপনি খারাপ করতেছেন । ঐ যে আল্লাহ বলেছেন মনতো কূকর্ম প্রবণশীল , তাছাড়া কোন বেগানা নারী , কোন পুরুষের সাথে কথা বলা ,দেখা দেওয়া , হাসি মসকারি রং তামাশা করা ইসলামে যায়েজ আছে কি ?
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে প্রেম
ভালোবাসা চার প্রকার 1. প্লেটোনিক 2 রোমান্স 3 লাভ সিক বা প্রেম রোগ 4 ফ্লাটিং ।
বিজ্ঞানীদের মতে প্রেমে পড়লে , মস্তিক থেকে নিঃসৃত হয় কিছু রাসাকি পর্দাথ । ফিনাইল ,ইথাইল , ড়্যাপটোমিন , অ্যামটামিন , যা স্নায়ু তন্ত্রের মাধ্যমে শরীরের সব কোষে ছড়িয়ে যায় । এদের বিক্তিয়াই আনন্দ , উত্তেজনা , বেদনা সৃষ্টি করে । শুধু মোহ সে জন্য স্থায়ী হয় না । শুধু তা আর্ষনের তীব্রতা বাড়ায় ।
লাভ সিক বা প্রেম রোগ
এটা মানুষের মস্তিকে খুব প্রভাব ফেলে , যেখানে মানুষ তার নৈতিকতা ও সঠিক সিদান্ত হারিয়ে ফেলে , ফলে সেই বুঝতে পারে না তার কি করার , এই সময় মস্তিকে নৈতিকতার প্রভাব না থাকার কারণে সেই যেই কোন ভয়ানক সিধান্ত নিতে পারে ।
আবেগসমূহ

স্নেহ ক্রোধ ক্রোধাগ্নি ক্লেশ বিরক্তি দুশ্চিন্তা অনীহা উদ্দীপনা শ্রদ্ধা একঘেয়েমি আত্মবিশ্বাস অবমাননা আত্মতৃপ্তি উদ্যম কৌতূহল অবসাদ আকাঙ্ক্ষা নৈরাশ্য অসন্তোষ ঘৃণা অবিশ্বাস ভয় উল্লাস বিব্রতবোধ হিংসা Euphoria উচ্ছ্বাস ভীতি হতাশা কৃতজ্ঞতা দুঃখ অপরাধ-বোধ সুখ ঘৃণা আশা আতঙ্ক শত্রুতা ব্যথা Hysteria নির্লিপ্তী আগ্রহ ঈর্ষা সুখ অনিচ্ছা একাকীত্ব ভালোবাসা কাম নিষ্ঠুরতা আকস্মিক ভয় ঝোঁক সহানুভূতি আনন্দ গর্ব প্রতিহিংসা অনুশোচণা বিমর্ষতা বিষন্নতা পরিতৃপ্তি
প্লেটোনিক ভালোবাসা বা বায়বীয় ভালোবাসা (ইংরেজি: Platonic love)
হ'ল সেই শুদ্ধতম ভালোবাসা যাতে কামনা বাসনার কোনও স্থান নেই। এ শব্দটির উৎপত্তি মূলত প্লেটোর "প্লেটোনিজম" মতবাদ থেকে যাতে বলা হয় এমন প্রকার ভালোবাসার কথা যাতে প্রেমিক-প্রেমিকা ভালোবাসার সর্ব্বোচ পর্যায়ে প্রবেশ করবে কিন্তু শরীর নামক বস্তুটি থাকবে অনুপস্থিত। যে প্রেমে শরীর বিষয়টি অনুপস্থিত অথচ প্রেমের স্বাদ বা রস আস্বাদন করা যায় ষোলো আনা, এমন প্রেমই একমাত্র প্লেটোনিক প্রেম বা বায়বীয় ভালোবাসা হিসেবে পরিগণিত হবে। এ ভালোবাসা কামগন্ধহীন, কেবলই নিজেকে বিলিয়ে দেয় পরিবর্তে নেয় না কিছুই। এমন নিষ্কাম প্রেম, যে প্রেম রাজাধিরাজের মতো দু’হাত ভ'রে শুধু দিয়ে যায়, নেয় না কিছুই। যাকে লাভ করার জন্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর দুঃসহ যন্ত্রণাসমূহও সহ্য করতে হয় মুখ বুজে। বিনিময়ে কখনও কখনও কপালে জোটে ব্যর্থ প্রেমিকের অপবাদের ছাপ! প্রেমের জন্য স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে নিজের জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়-প্রেমের এমন ভয়ঙ্কর রূপের নামই তো প্লেটোনিক লাভ! যেখানে প্রেমিকের শরীরের গন্ধই প্রেমিকাকে মোহিত করার জন্য যথেষ্ট তার উপস্থিতির দরকার পড়ে না। এরূপ ভালবাসায় থাকে না কোনও চাহিদা, থাকে কেবল অনন্ত ভালোবাসা। যৌনতার কোনও স্থান নেই প্লেটোনিক ভালোবাসায়। এ প্রেম ভালোবাসার সর্ব্বোচ পর্যায়। এ এক প্রচণ্ড ভালোবাসা যখন প্রেম কে মনে হয় স্বর্গ সুখ।
প্রেম (ইংরেজি: Romance,
রোমান্স) হল ভালোবাসার সাথে সম্পর্কিত একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও রহস্যময় অনুভূতি। এটি হল কোন ব্যক্তির প্রতি যৌন আকর্ষণের সাথে সম্পর্কিত কোন আবেগীয় আকর্ষণ হতে উদ্বুদ্ধ একটি বহিঃপ্রকাশমূলক ও আনন্দঘন অনুভূতি। গ্রিক চারটি আকর্ষণের মধ্যে এটি আগেপ, ফিলিয়া কিংবা স্টরজ-এর তুলনায় ইরোসের সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। মনোবিজ্ঞানী চার্লস লিন্ডহোমের সংজ্ঞানুযায়ী প্রেম হল "একটি প্রবল আকর্ষণ যা কোন যৌন-আবেদনময় দৃষ্টিকোণ হতে কাওকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরে, এবং যাতে তা ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার মনোবাসনাও অন্তর্ভুক্ত থাকে।"[১]কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এতে অপর ব্যক্তির প্রতি একইসাথে শক্তিশালী মানসিক এবং যৌন আকর্ষণ কাজ করে। প্রেমের সম্পর্কে যৌনতার তুলনায় ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি অধিক গুরুত্বের অধিকারী হয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্পর্কসমূহের সূচনাপর্বে প্রেমের অনুভূতি অধিকতর দৃঢ়ভাবে কাজ করে। তখন এর সঙ্গে এমন এক অনিশ্চয়তা এবং দুশ্চিন্তা অনুভূত হয়[২] যে এ ভালোবাসা হয়তো আর কখনো ফিরে নাও আসতে পারে।
ফ্লার্ট, ফ্লার্টিং বা প্রণয়চাতুর্য (ইংরেজি: Flirting বা coquetry)
(অর্থ: খেলাচ্ছলে প্রেমের ভান করা, প্রেম প্রেম দুষ্টুমি) হল এক ব্যক্তির প্রতি অপর কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রদর্শিত অথবা দুজন ব্যক্তির মাঝে পারস্পারিকভাবে সঙ্ঘটিত একটি মানব আচরণ, যাতে কোন ব্যক্তির প্রতি যৌন ও প্রেমময় আগ্রহ প্রদর্শন করা হয়। আলাপ, দৈহিক ভাষা (যেমন চোখের ইশারা), অথবা সীমিত শারীরিক সংস্পর্শ এর অন্তর্গত।[১][২][৩][৪] বিভিন্ন সংস্কৃতিতে স্বীকৃত ফ্লার্টিং-এর মাত্রার বিভিন্নতা দেখা যায়।[৫] অধিকাংশ সংস্কৃতিতেই, প্রকাশ্যভাবে যৌন সুবিধার সুযোগ গ্রহণ করা সামাজিকভাবে অস্বীকৃত, কিন্তু পরোক্ষ বা ইঙ্গিতসূচক সুবিধা গ্রহণকে (যেমন ফ্লার্টিং) প্রায়শই গ্রহণযোগ্যরূপে বিবেচনা করা হয়।[৬] অন্যদিকে, কিছু লোক শুধুমাত্র নিছক আনন্দ নেবার জন্যই খেলাচ্ছলে ফ্লার্ট করে থাকেন।

শেয়ার করুন

0 coment rios: