Friday, 2 August 2019

রেকড

রেকড

ওমর ফারুক


লিংক বি এ লেখা পডা শেষ করে ইউনির্ভাসিটিতে মাস্টার কমপ্লিট করবে ।

তার বাবা নাই মা আছে,বাবা সরকারী স্কুলের টিচার ছিলেন ।

লিংকের বয়স যখন পনেরো বছর ,তখন তার বাবা চাকরী থেকে অবসর নিয়ে নেই।

হঠ্যাৎ এক দিন তার বাবা র্হাট এট্রাকে মারা যায় ।

সেই থেকে তার মা-ই সংসারের সব দায়িত্ব নিয়ে নেই ।

তার বাবার পেনশনের টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে ।

তার মা- ক্লিক বেগম শহরে মানুষের বাসায় বাসায় টিউশনি করে বেডায় ।

এতে তাদের সংসার ভালোই চলছিলো ।

লিংক শহরের সব ছেলেদের থেকে আলাদা

ওর বাইরে এক রকম, ভিতরে আরেক রকম ।

বাহির থেকে ভিতরেরটা বুঝা যাবে না ।

ভিতর থেকে বাহিরেরটা বুঝা যাবে না ।

ইদানিং সেই ইউনির্ভাসিটিতে একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে ।

মেয়েটির নাম ইমু গায়ের রং দুধে আলতা দেখলে

একশো ষাট বছরের বৃদ্ধ ও থাকিয়ে থাকবে ।

তার বাবা ছোট খাটো ব্যাবসায়ী,মা-গৃহিনী ।

ইমু লিংকের ব্যাপারটা জানে ,লিংক যে সব সময় ওকে অনুসরন করে ।

ওকে নিয়ে ঘুমের রাজ্য হারিয়ে যায় ,সেই নিজে নিজে কথা বলে ।

কিন্তু সব কিছু ইমু যেন জানতে পেরে যায় ।হঠ্যাৎ এক দিন র্ভাসিটিতে !



ইমু : এই যে মিস্টার আপনি সব সময় আমার পিছু নেই কেন ?

লিংক : আপনে কি আমারে কিছু বলছেন ।



ইমু : দেখেন একদম নেকামী করবেন না,এখানে আপনি ছাডা আর কেউ আছে ।



লিংক : না মানে, ইয়ে ।



ইমু : না মানে ইয়ে ,সেটা আবার কি,কিছু বলার থাকলে সারাসরি বাংলায় বলুন ।



লিংক : কিছু না এমনিতে ।



ইমু : কিছু না মানে, মেয়ে দেখলে কথা বলার মন চায় ।

আপনাদের মতো ছেলেদের জন্য মেয়েরা স্বাধীনভাবে রাস্তায় চলতে ও পারে না ।

শুনেন আর কখনো আমার পিছু নিবে না ,কথাটা যেন মনে থাকে ।



সোহেল : কিরে দোস তোর মনের মানুষ তোকে কি যেন বলে গেল ।



লিংক : আর বলিস না, ও মেয়ে নাকি গোল মরিচ,মুখে নেওয়ার আগে

সব পুড়ে ছাই ,কেন যে ওকে আমার ভালো লাগতে গেল ।

না পারতেছি ভূলে যেতে ,না পারতেছি ভাল বাসার কথা বলতে ।



সোহেল : বেশ তো মনের কথা ,মনে না রেখে ওকে সব বলে দেয় ।



লিংক : তোর মাথা খারাপ , ঐ মেয়ের যে রাগ ও যদি আমার মাথা পাটিয়ে দেয় ।

কিংবা ইভটেজার হিসাবে পুলিশে ধরিয়ে দেয় ,তখন কি হবে ।



সোহেল : ও এ গুলোর কিছুই করবে না, ও যদি তোকে ইভটেজার
হিসাবে ধরিয়ে দিতে চাইতো

তাহলে অনেক আগে ধরিয়ে দিতো,তুই ওকে এক বার বলে দেখ
না কি হয় ।

কতজনের জন্য কত কিছু করলি,আর নিজের বেলায় দেবদাস
হয়ে বসে থাকবি ।



লিংক : কারো সাথে সর্ম্পক করিয়ে দেয়া, আর নিজে কারো সাথে সর্ম্পক করা এক নয় ।



সোহেল : সেটা না হয় বুঝলাম ,তুই ওকে না বললে তখন দেখবী ওকে হারাতে হবে ।

তখন ওকে আর দোষ দিতে পারবি না ।

লিংক বাসায় গিয়ে বন্ধু সোহেলের কথা ভাবতে লাগলো ।

আসলে ইমুর কোন দোষ নাই ,
ওকে ভাল বাসি কিভাবে বলা যায়
লিংক সেই সুযোগ খুজতে লাগলো ।

তাই এক দিন সুযোগ বুঝে ইমুর সামনে গেল ।



লিংক : ইমু আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই ।



ইমু : হুম কি বলবেন তাডাতাডি বলেন আমার কাজ আছে ।



লিংক : আই লাভ ইউ ।



ইমু : কি বলেছেন বুঝি নাই ,বাংলায় বলেন ।



লিংক : না মানে ,আমি আপনাকে ভালবাসি ।



ইমু : কি বলেছেন আপনার সাহস তো দেখি কম না,

আয়না কখনো নিজের চেহারা একবার দেখেছেন

ভীতুর ডিম কোথাগার আর
কখনো আমার সামনে আসবেন না,

এখান থেকে যাবেন নাকি প্রেন্সিপাল স্যারের কাছে যাবো ।



লিংক আর কিছু বললো না,চোখ মুছে মাথা নিচু করে
চলে আসলো পথে সোহেলের সাথে দেখা ।

সোহেল : তোর কি হয়েছে,মন খারাপ কেন ?



লিংক : কই না তো ।



সোহেল : না তো আবার কি, আমি দেখতেছি তোর চোখে পানি,কিছু একটা হয়েছে

নিশ্চয়ই ইমু তোকে অপমান করেছে,তুই খালি একবার বল ওকে

তুলে তোর পায়ের নিচে পালাবো ।



লিংক : প্লিজ দোষ আমার কিছু হয় নাই ,আসলে বাবার কথা মনে পডলো,

তোরা ওকে কিছু জিজ্ঞাস করিস না ।



সোহেল : হায়রে দেবদাস এখন বুঝছি তুই কেন এই রকম হলি ।


লিংক বাসায় চলে এসেছে,মন খারাপ আজ কারো সাথে কোন
কথা নাই ,
শুয়ে পডেছে এমন সময় তার মা ক্লিক বেগম ডাক দিলো ।



ক্লিক বেগম : লিংক বাপ আমার তোর কি হয়েছে,আজকে তোর কোন সাডা শব্দ পাচ্ছিনা ।



লিংক : বেশী চেচামেচী করো না তো, আমার কিছু হয় নাই ।



ক্লিক বেগম : না কিছু একটা হয়েছে, আমার ছেলে একা একা বসে থাকার মানুষ নাই ।

কোন মেয়ের প্রেমে পডেছিস আমাকে বল তুই ছাডা আমার আর কে আছে ।

তোর কিছু হয়ে গেলে আমি কি নিয়ে বাচবো কান্না কন্ঠে ।



লিংক : ওমা,তুমি কি সব আজে বাজে চিন্তা কর ,আমার ঐ সব কিছু হয় নাই ।

এমনিতে শরীর খারাপ লাগতেছে,



ক্লিক বেগম : তাহলে ডাক্তারের কাছে চল ।



লিংক : না লাগবেনা এমনিতে সেরে যাবে ।



লিংক সপ্তাহ খানেক র্ভাসিটিতে যাচ্ছে না,
তার মা কোন কিছু জিজ্ঞাস করলে
বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ভূলিয়ে দেয় ।
এই দিকে ইমু সেই দিন রাতে কেমন যেন
ঘুমাতে পারলো না ।
সারা রাত মনের অজানতে লিংকের কথা ভাবতেছে ।

আর কাদছে, কেন যে ওকে এই সব কথা বলতে গেল
,পরের দিন র্ভাসিটিতে
লিংককে খুজতে লাগলো
,ইমুর বান্ধবী মেনু কে জিজ্ঞাস করলো ।



ইমু : মেনু তুই কি লিংককে দেখেছিস ?



মেনু : না তো, লিংক তো বেশ কয়েক দিন র্ভাসিটিতে আসতেছে না ।



ইমু : চল না ওর বন্ধুদের জিজ্ঞাস করি ওর কি হয়েছে ।



মেনু : তুই নিশ্চই লিংক সাহেবের প্রেমে পডেছিস ।



ইমু : তোরা কি প্রেম ভাল বাসা ছাডা আর কিছুই ভাবতে পারছ না ।



মেনু : তুই নিশ্চয়ই লিংক সাহেবের প্রেমে পডেছিস
তা না হলে হঠ্যাৎ ওকে পাগলের
মতো খুজতে যাবি কেন ?
তবে তুই ওর সাথে যে দূর
ব্যাবহার করেছিস মনে হয় না ও তোর সামনে আসবে ।



ইমু : তুই আমার পক্ষে না লিংকের পক্ষে ।



মেনু : কেন তোর পক্ষে ।



ইমু : তাহলে আমার পক্ষে থাক ।



মেনু : লিংক এর এক বন্ধু আছে চল ওকে গিয়ে জিজ্ঞাস করি ।

ও হয়তো লিংক এর ব্যপারে কিছু বলতে পারে ।



মেনু : আপনার নাম কি সোহেল না ।



সোহেল : জ্বী কিছু বলবেন ?



মেনু : ও আমার বান্ধবী ইমু, ও লিংকের ব্যাপারে কিছু জানতে চায় ।



সোহেল : আপনি তাহলে ইমু ,তবে আপনি লিংকের সাথে যে ব্যবহার করেছেন

এর হিসাব এক দিন আপনাকে দিতে হবে ।



ইমু : প্লীজ ভাইয়া আমাকে মাফ করবেন ,আমি বুঝতে পারি নাই ।

ও যে এই রকম করবে, আপনি একবার ওর সাথে আমার দেখা করিয়ে দেন ।



সোহেল : আচ্ছা ঠিক আছে ,আমি দেখবো কি করা যায় ।



সোহেল : তুট তুট তুট,হ্যালো দোস তুই কই ।



লিংক : এই তো দোকানে বসে চা খাচ্ছি,কেন ?



সোহেল : ইমু তোর কথা জিজ্ঞাস করলো ,ও তোকে কিছু বলতে চায় ।



লিংক : কি বলিছ ও তো আমাকে চিনে না, আমি ওর কে ,

আমার মনে হয় তুই আমার সাথে মজা করতেছোস ।



সোহেল : না রে বাবা,সত্যি বলছি তুই কালকে আসবি তো ।



লিংক : হ্যা আসবো তুই কিন্তু আমার পাশে থাকবি ।



সোহেল : ঠিক আছে তাহলে কল রাখ ।



পরের দিন সোহেলের কথা মতো লিংক ইউনির্ভাসিটিতে আসলো ।

দুই জনে ইমুর সাথে দেখা করতে গেল ।
কিছু দূরে ইমুকে দেখতে পেল ,
সেই তার বান্ধবী মেনুর সাথে দাড়িয়ে
কি যেন বলছে ,এমন সময় সোহেল ডাক দিলো ।



সোহেল : ইমু একটু এই দিকে আসবি ।



ইমু : মেনু তোরা তাহলে যা ,আমি একটু পরে আসতেছি ।



মেনু : ঠিক আছে, বি এফ পেয়ে আমাদের অবহেলা করলি ।



ইমু : উ ,তোদের নিয়ে আর পারি না ।



ইমু : সোহেল ভাই আপনি একটু যান ,
আমি গাধাটার সাথে কিছু
কথা বলতে চাই ।



লিংক : ও কোথাও যাবে না ও আমার সাথে থাকবে ।কাপা কাপা কন্ঠে ।



সোহেল : ঠিক আছে ভাবি ,আমি যাচ্ছি ।



ইমু : আপনি এতো বোকা কেন ? কত দিন দেখতেছি
র্ভাসিটিতে আসতেছেন না ।
আপনার হয়েছেটা কি ।




লিংক : আপনি বলেছিলেন সেই জন্য ।



ইমু : আমি কি বলেছিলাম আপনাকে ?



লিংক : আপনার সামনে না আসতে ।



ইমু : আমি আমার সামনে না আসতে বলেছিলাম ,কিন্তু র্ভাসিটিতে কেন আসেন নাই ।



লিংক : র্ভাসিটিতে আসলে হয়তো আপনার সামনে চলে আসতে পারি তাই আসি নাই ।



ইমু : হু র্ভাসিটিতে আসলে হয়তো আপনার সামনে চলে আসতে পারি ,
গাধা কোথায় গার
আমার হাত ধর



লিংক : আমার খুব ভয় হয় আপনার হাত ধরতে ।



ইমু : ভয় মানি অন্য কেউ আছে নাকি ।



লিংক : না, তা থাকবে কেন ? এমনিতে বলছি ।



ইমু : শুনেন আমার নাম আপনি না, আমাকে ইমু বলে ডাকবে ।



তোমার ঐ ভীতু ভীতু চেহারা আমার একদম ভাল লাগে না ।



প্রেম করতে গেলে অনেক স্মাট হতে হয় ।

অনেক সাহসী হতে হয় মারামারি করতে হয় ।



লিংক : কেন এটা সিনেমা নাকি , আমার যে ওতো সাহস নাই ।



ইমু : প্রোয়োজনে হবে ।



ইমু : চল ।



লিংক : কোথায় ।



ইমু : কেন ক্যান্টিনে ,কোন সমস্যা আছে ।



লিংক : না এমনিতে ।



তার পর দুজনে মিলে নাস্তা পানি খেয়ে যে যার বাসায় চলে গেল ।

মান -অভিমান নিয়ে একটি বছর কিভাবে যে কেটে গেল লিংক একটু টের ও পেলো না ।

লিংকের পডাশুনা প্রায় শেষের দিকে
,এই দিকে ইমুর জন্য রোজ একটি করে
পাত্র দেখতে আসতেছে ।
ইমু কিছুতে সামাল দিতে পারতেছেনা ।

সেই এখন কি করবে ,অন্য দিকে ইমুর মা-বাবা চাইতেছে
তারা মারা যাওয়ার
আগে মেয়েটাকে কোন ভাল ছেলের হাতে তুলে দিতে
পারলে হয় তো
তারা শান্তিতে মরতে পারবে ।
তারপর হঠ্যাৎ এক দিন ইমুর বাবা জলিল সাহেবের



জলিল সাহেব : ইমু এই দিকে আয় মা ।



ইমু : জ্বী বাবা কিছু বলবেন ।



জলিল সাহেব : দেখ মা , আমাদের বয়স হয়েছে আর কয় দিন বা বাচবো
তোকে বিয়ে শাদি দিতে হবে না ।
আমার কোন ছেলে নাই তুই
আমার সব আমরা মরে গেলে তখন তোর কি হবে ।

ঘটক সাহেব ভাল একটা পাত্রের সন্ধান দিয়েছে,
ছেলে দুবাই থাকে
বিরাট ব্যবসায়ী মা বাবার
একমাত্র ছেলে ধন সম্পত্তির অভাব নাই ।



ইমু : বাবা কত বার বলেছি আমি এখন বিয়ে করবো না,

আমি আগে পডাশুনা করবো, ভাল একটা চাকরী করবো,

তারপর তোমাদের পছন্দ মতো বিয়ে করবো আমি গেলাম ।



জলিল সাহেব : এই ইমু যাছোস কোথায় আমার কথাটা অনন্ত শুনে যায় ।

ইমু মা তোমার মেয়েকে বুঝাও ।



সাহারা খাতুন : তোমার জন্য আজ এই অবস্থা মেয়েটাকে আদর দিয়ে বানর বানিয়ে পেলেছো ।


লিংক র্ভাসিটিতে অনেক ক্ষন দাডিয়ে আছে কিন্তু ইমুর কোন খবর নেই,

চলে যাবে ,এমন সময় ইমু এলো ।



লিংক : কি ব্যাপার তোমার আজ আসতে এতো দেরী হলো যে ।



ইমু : মন চাইছে তো এবার থেকে সব সময় দেরী হবে ।



লিংক : কেন কি হয়েছে,আজ আমার প্রতি মেম সাহেবের দেখী অনেক রাগ ।



ইমু : আচ্ছা আমরা বিয়েটা কবে করছি ।



লিংক : আমাদের বিয়ে মানি আমি তো কিছু বুঝতেছি না ।



ইমু : এখন কখতো কিছুই বুঝবে না ,প্রেম করার সময় ঠিকই বুঝো ।



আর কত দিন এইভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করবো ।

প্রতি দিন আমাকে পাত্র পক্ষ দেখতে আসে,আমি এড়িয়ে চলি ।
মা -বাবার সাথে আর কত মিথ্যা কথা বলবো ।

আমি আর পারতেছিনা , কিছু একটা কর ।



লিংক : হা হা হা,বেশ ভালো তো সেই ছেলে নিশ্চই অনেক বড লোক ,

আমার মনে হয় সেই তোমাকে পছন্দ করে ,আর করবে বা না কেন ?
তোমাকে
দেখলে যে, কোন ছেলে নজর সামলাতে পারবে না ।

আমি
এখনো বেকার ,কবে লেখা পডা শেষ করবো ,ভাল একটা চাকরী করবো,

তত দিন তোমাকে তোমার মা-বাবা আমার জন্য ঘরে বসিয়ে রাখবে না ।

মজার কথা হচ্ছে কি জানো ,বেকার ছেলেদের

কপালে প্রেম জুড়ে কিন্তু প্রেমিকা জুড়ে না ।

তার চাইতে ভাল ,তুমি যদি তোমার মা-বাবার পছন্দ মতো ছেলেকে বিয়ে করো ।



ইমু : আচ্ছা তুমি কি আমাকে পছন্দ করো না ।



লিংক : দ্যোত বোকা আমি তোমাকে পছন্দ করতো যাবো কেন ?

আমি কেবল তোমার বন্ধুমাত্র ।


ইমু : আমার মাথায় হাত দিয়ে বলো সত্যি তুমি আমাকে পছন্দ করো না ।



লিংক : এই তোমার মাথায়, হাত দিয়ে বলছি,আমি আমি আমি কান্না কন্ঠে কিছুই বলতে পারতেছে না ।



ইমু : কি হলো কাদছো কেন ?



লিংক : হঠ্যাৎ করে বাবার কথা যেন মনে পড়ে গেল ।



ইমু : চুপ মিথ্যুক ,আর একটা কথা ও বলবে না ,


চল তোমাকে নিয়ে একটা জায়গা যাবো ।



লিংক : কোথায় যাবে ?



ইমু : সেটা গেলে দেখতে পাবে ।



লিংক : আমার কেমন যেন ভয় হয় ।



ইমু : সব কিছুতেই তোমার এতো ভয় ভয় কিসের চল বলছি ।



লিংক : ঠিক আছে তাহলে যাওয়া যাক ।



ইমু : টিং টিং, দরজা দাড়িয়ে কলিং বেল টিপছে ।

এমন সময় জলিল সাহেব দরজা খুলে দিলো ।



জলিল সাহেব : ইমু ছেলেটি কে ও কে তো চিমলাম না ।



ইমু : ও আমার বন্ধু লিংক ,ঐ যে যার কথা তোমাকে বলেছিলাম ।



জলিল সাহেব : ও আচ্ছা আচ্ছা মনে পডেছে ।



লিংক : আসসালামু আলাইকুম ।



জলিল সাহেব : ওয়ালাইকুম সালাম । ভিতরে আসো বাবা ।



জলিল সাহেব : ইমুর মা, দেখে যাও তোমার মেয়ের সাথে কে এসেছে ।



সাহারা খাতুন : ইমু এই দিকে আয়, ছেলেটা কে ।



ইমু : ও আমার বন্ধু, লিংক এনি আমার মা ।



লিংক : আসছালামাইলাইকুম । ভালো আছেন আন্টি ।



সাহারা খাতুন : ভাল আছি, তোমরা বসে গল্প কর আমি চা বানিয়ে আনছি ।


ইমুর বাবা কই এই দিকে আসেন বাজারে যান কিছু বাজার নিয়ে আসেন ।



জলিল সাহেব : দাও তোমার দেখতেছি আর তর সর্হ্য হইতেছেনা ।


সাহারা খাতুন অনেক গুলো ফলমুল নাস্তার টিবিলে করে নিয়ে আসলো ।




লিংক : এতো কিছু কেন করতে গেলেন আন্টি ।




সাহারা খাতুন : ও তেমন কিছু না , আচ্ছা তোমার কে কে আছে ।



লিংক : শুধুমাত্র মা আছে ,বাবা ছোট কালে মারা গেছে,তখন থেকে মা-ই সব ।



সাহারা খাতুন : তোমার আম্মু কি করেন ?



লিংক : টিউশনি করেন ।



সাহারা খাতুন : ও আচ্ছা ,দুপরের ভাত খেয়ে যেয়ো ।



লিংক : না, আন্টি আর কিছু খাবো না এমনিতে পেঠ অনেক লোড় ।



সাহারা খাতুন : সেটা বললে কি হয়, আমি তোমাকে ভাত না খাইয়ে ছাডছিনা ।



লিংক : ইমু তুমি আন্টিকে কিছু বলো ।



ইমু : আমি কি বলবো মায়ের হুকুম ।




জলিল সাহেব : এই নাও তোমার বাজার ।


সাহারা খাতুন : কই দেখি কি এনেছো ।

জলিল সাহেব সাহারা খাতুনের মেনু মতো অনেক গুলো বাজার নিয়ে এলো ।

তারপর সাহারা খাতুন আর ইমু মিলে অনেক গুলো খাবার রান্না করেছে ।

মাছ,মাংস,মুগড়াল, মুড়ি খন্ড,বেগুন র্ভতা,

সুটকি র্ভতা,পোলাও পিরনি, ফলের জুস হরেক রকমের খাবার ।

সব খাবার ডাইনিং টিবিলে নিয়ে আসলো ।



লিংক : আন্টি এতা খাবারের আয়োজন ,কেন শুধু শুধু কষ্ট করতে গেলেন ।



সাহারা খাতুন : না,বাবা আমি তেমন কিছুই করি নাই ,সব কিছু ইমু করেছে ।



লিংক : বাহ খাবার গুলো খুব সুস্বাধু হয়েছে।



ইমু : দেখতে হবে না কে রান্না করেছে ।

খাওয় ধাওয়া শেষ করে গল্প করতে করতে প্রায় সন্ধা হয়ে এলো ।



লিংক : আন্টি আজ তাহলে আসি ।



সাহারা খাতুন : ঠিক বাবা, যখন সময় পাবে আসিও ।



লিংক : আচ্ছা ঠিক আছে ।

লিংক কথা বার্তা শেষ করে বাড়ি ফিরলো ,এমন সময় ।



ক্লিক বেগম : কিরে বিকাল বেলা বাসায় এলিনা, ফোন করলি না কোথায় ছিলি ।

তোর জন্য ভাত বেয়ে রাখছি যা ভাত খা ।



লিংক : আমি ভাত খাবোনা, আমি ভাত খেয়ে এসেছি ।



ক্লিক বেগম : ভাত খাইছোস মানি, কোথায় খাইছোস ।



লিংক : আমার বন্ধু ইমুর বাসায় ।



ক্লিক বেগম : ইমু এটা আবার কে কোন মেয়ে নাকি ?



লিংক : তোমার বৌ মা ।



ক্লিক বেগম : মাকে না জানিয়ে তলে তলে এতো দূর আমি আজই খবর পাঠাবো ।



লিংক : না মা এতা তাড়াতাড়ি না ,আগে একটা চাকরীর ব্যবস্থা করি তারপর ।



ক্লিক বেগম : ঠিক আছে বাবা, তুই যা ভাল বুঝিছ তাই কর ।




প্রতি দিনের মতো আজও লিংক ইমুর আগে র্ভাসিটিতে এসে অনেক ক্ষন দাডিয়ে আছে ।

লিংক : তোমার এতো ক্ষন পর আসার সময় হলো ,আমি সেই কখন থেকে দাড়ায়ে
তোমার জন্য অপেক্ষা করতেছি নবাবের বেটি একটা ।



ইমু : কি বলছো আমি নবাবের বেটি তাই না,আমার সাথে প্রেম
করার আগে ঘন্টার পর ঘন্টার
দাড়িয়ে থাকতে ,তখন তোমার কোন সমস্যা হতো না ।
আমাদের মেয়েদের সংসারে
কত কাজ করতে হয় ।
যদি মেয়ে হতে তাহলে বুঝতে মেয়ে হয়ে বেচে থাকা কত কষ্টের ।



লিংক : ও তাই বুঝি ,আমি তো মনে করছিলাম ছেলে হয়ে বেচে থাকা কষ্টের ।

এখন বুঝি তোমাদের জীবনে কষ্ট বলতে কিছু একটা আছে ।



ইমু : তুমি মেয়েদের মতো এতো প্যাচাল কর কেন ?



লিংক ঃ লিংক তাহলে স্বীকার করে নিলা তোমরা মেয়েরা প্যাচাল



ইমু : আমি গেলাম তোমার মতো প্যাচালের সাথে কখা বলার কোন ইচ্ছা নেই ।

লিংক : হায়রে কপাল মেয়েদের সামনে উচিৎ কথা বলতে নাই ।তাহলে হয়তো
আপনি থাকবেন নয়তো ও থাকবে ।

একা একা মন খারাপ করে বাসায় চলে আসলো ।

আজ আর কোন কথা বার্তা নেই , মন খারাপ করে বসে আছে ।



ক্লিক বেগম : কিরে মন খারাপ করে বসে আছোস কেন ?



লিংক : কিছু না মা এমনিতে মন খারাপ ।



ক্লিক বেগম : এমনিতে বললে হলো,নিশ্চয়ই তুই বৌ মা এর সাখে ঝগডা করেছিস ?



লিংক : বাদ দাও তো ঐ সব ।


ক্লিক বেগম : আচ্ছা ঠিক আছে, ভাত খেতে আয় ।



ভাত খেয়ে শুয়ে পডলো, মাঝ রাতে ইমুর সাথে ঝগডার কথা মনে পডলো ।

কিছুতেই ঘুম আসতেছে না,মেযেটাকে সরি বলা দরকার, কিন্তু বিকাল খেকে ওর মোবাইল বন্ধ ।

ইমু -লিংকের ওপর রাগ করে মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছে ।

এরপর লিংক র্ভাসিটিতে এসে
কোন এক জায়গা বসে রইলো ।কিছু ক্ষন চুপ থাকার পর ।



লিংক : সরি আমার ভূল হয়ে গেছে, আমাকে মাফ করে দাও ।



ইমু : কিসের জন্য মাফ করবো,তোমাদের ছেলেদের দোষ করতে ও

দেরী হয় না,আবার মাফ চাইতে ও দেরী হয় না ।

মাফ করতে পারি এক র্শতে যদি কান ধরে উঠ বস কর ।



লিংক : এই কান ধরলাম ।


ইমু : ব্যাথা পাচ্ছি,আমার কান ছাডো আমি কি আমারটা ধরতে বলছি ।



লিংক : আমি কি জানি তুমি কার কান ধরতে বলেছো ?



ইমু : আহারে কোচি খোকা, বেজা বিড়াল কোথায়গার !



লিংক : ভাবছি তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দিবো !



ইমু : কিসের সারপ্রাইজ শুনি ।



লিংক : সেটা আমার সাথে গেলে দেখতে পাবে ।



ইমু : তাই নাকি তাহালে চলো ।



ইমু : লিংক আমারা কার বাসায় যাচ্ছি ।



লিংক : আহা আসো না এতো কাথা বল কেন ?



লিংক কলিং বেল টিপছে টিং টিং,এমন সময় ক্লিক বেগম ।

ক্লিক বেগম : আয় বাবা ভিতরে আয় ,ওকে তো চিনলাম না ?



লিংক : ও হচ্ছে ইমু যার কথা তোমাকে বলেছিলাম ।



ক্লিক বেগম : ও বুঝেছি বৌমা বাহ দেখতে ভীষন মিষ্টি ।

তোর পছন্দের তারিফ করতে হয় ,



ইমু : আসসালামু আলাইকুম একে বারে পা জুডিয়ে সালাম করে বসলো ।


ক্লিক বেগম : ওয়ালাইকুম সালাম তোমার কে কে আছে ?



ইমু : শুধু মা বাবা আর আমি ।



ক্লিক বেগম : তোমার বাবা কি করেন ?



ইমু : বাবা ছোট খাটো ব্যবসা করেন ,মা গৃহিনী ।



ক্লিক বেগম : তোমরা কোথায় থাক ?



ইমু : উত্তরা দুই নং রোড আহসান ভিলা ।



ক্লিক বেগম : ও আচ্ছা ঠিক আছে ,সময় করে এক দিন তোমাদের বাসায় যাবো ।



ইমু : আচ্ছা আন্টি আমি তাহলে আসি ।



ক্লিক বেগম : ভাত খেয়ে যাও , আন্টি কেন, আজকের পর খেকে আমাকে মা বলে ডাকবে ।

ইমু আর কোন কথা বললোনা লজ্জা গাল দুটো লাল হয়ে গেছে ।



ক্লিক বেগম : লিংক যা, বৌমাকে ওর বাসায় পৌছে দিয়ে আয় ।



লিংক : ঠিক আছে ।



লিংক : তুমি কি একা একা যেতে পারবে ?



ইমু : হ্যা পারবো, আমাদের বাসায় যাবে ।



লিংক : আজকে না অন্য সময় যাবো ।

ইমু টিং টিং কলিং বেল টিপছে ,এমন সময় সাহারা খাতুন দরজা খুলে দিলো ।



সাহারা খাতুন : কিরে আজ এতো দেরী করে ফিরলি যে ।



ইমু : না মা, লিংকের সাথে একটু ওদের বাসায় গিয়েছিলাম ।



সাহারা খাতুন : ও তাই বল, লিংকের মা কিছু বলেছে ।



ইমু : তোমার কথা আব্বুর কথা জিজ্ঞাস করেছে ।
লিংকের মা ভীষণ ভালোমানুষ
আমাকে তো বিয়ের আগে বৌমা বলে ডাকা শুরু করে দিয়েছে ।



সাহারা খাতুন : কি বলিছ উনাকে আমাদের বাসায় আসতে বলিছ নাই ।



ইমু : আমি কি বলবো উনি বলেছে সময় পাইলে আমাদের বাসায় আসবে ।

লিংকের আজ র্ভাসিটি জীবনের শেষ দিন ।

আজ লিংকের সাথে ইমুর কলেজ জীবনের শেষ দেখা ।

তাই মন খারাপ করে বসে আছে ।



লিংক : জানো ইমু আজ আমার জীবনের গুরুত্ব পূর্ন সময় পূরণ করেছি ।

আমি মাস্টার কমপ্লিট করেছি ,এবার শুরু একটা চাকরী

পাইলে তোমাকে বৌ বানিয়ে ঘরে তুলে নিবো ।

ইমু এই ইমু কি হলো তোমার আজ কোন কথা বলতেছো না যে ।

আমি সেই কখন থেকে বকবক করে যাচ্ছি ।



ইমু : কি বলবো তুমি সুখে থাক ।



লিংক : এর মানি কি তোমার চোখে জল কেন ?



ইমু : ও তেমন কিছু না,মনে হয় চোখে কিছু একটা পডেছে ।



লিংক : কই দেখি ,তুমি আমার সাথে মিথ্যা কথা কেন বলতেছো ?



ইমু : চল আমরা পালিয়ে বিয়ে করে ফেলি ।



লিংক : মাথা খারাপ যেখানে তোমার আমার ফ্যামেলি রাজি ।

সেখানে পালিয়ে বিয়ে করতে যাবো কোন দুঃখে ।



ইমু : আমার মাথায় হাত দিয়ে বলো কখনো আমাকে ভূলে যাবে না তো ।



লিংক : আচ্ছা বাবা এই তোমার মাথায় হাত দিয়ে বললাম ,

আমি কখনো তোমাকে ভূলে যাবো না এইবার হয়েছে তো ।



ইমু : না কেমন যেন ভয় ভয় লাগছে,তোমাদের ছেলেদের কোন বিশ্বাশ নাই ।

আজ এক জন তো কাল আরেকজন ।

লিংক : ও তোমাদের মেয়েদের বিশ্বাস করি বিধায়, প্রেম করো এক জনের সাথে বিয়ে করো আরেক জনকে ।

ইমু : হইছে হইছে তোমরা ছেলেরা বেশি ভালো তো,তার জন্য ।

লিংক : আচ্ছা বাদ দাও তো এই সব, ভাবতাছি এক জাযগা যাবো ।

ইমু : কোথায় যাবে ?

লিংক : কেন তোমাদের বাসায় তোমার আব্বু আম্মুকে আমার পাশের খবর বলতে হবে না।



ইমু : ওয়াও তাহলে তো খুব ভালো হবে ।

লিংক মিষ্টি নিয়ে ইমুদের বাসায় গেল টিং টিং ।

এমন সময় সাহারা খাতুন দরজা খুলে দিলো ।



লিংক : কেমন আছেন আন্টি ?



সাহারা খাতুন : ভাল আছি তুমি কেমন আছো তোমার মা কেমন আছে ?



লিংক : আমি ভালো আছি, আম্মু ও ভালো আছে ।

আমাদের পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে,আমি মাস্টার ডিগ্রি পাস করেছি ।



সাহারা খাতুন : আলহামদুরিল্লা ভালোই হলো ত চাকরীর চেষ্টা কোথায় করেছো ।



লিংক : হ্যা আন্টি চাকরীর জন্য অনেক জায়গা আবেদন

করেছি, আশা করি কিছু একটার ব্যবস্থা হবে ।



সাহারা খাতুন : ভালো করেছো, ভাবতাছি তোমাদের বাসায় যাবো

তোমার আম্মুর সাথে একবার দেখা করা দরকার ।



লিংক : ঠিক আছে আন্টি আমি তাহলে আসি ।



সাহারা খাতুন : আচ্ছা ঠিক আছে সময় পাইলে আমাদের বাসায় আসিও ।



ক্লিক বেগম : কিরে তুই কোথায় গিয়েছিলি ?



লিংক : মা আমি মাস্টার ডিগ্রি কমপ্লিট করেছি ,সেটা জানানোর জন্য ইমুদের বাসায় গিয়েছিলাম ।



ক্লিক বেগম : ও আচ্ছা ইমুর মা কিছু বলেছে ?



লিংক : বলেছে তোমার সাথে কখা বলতে চায় ।



ক্লিক বেগম : বেশ তো সময় করে আসতে বল ।



লিংক : এখন না একটা চাকরী পাই তারপর ।

অনেক জায়দা খুজার পর অবশেষে অনলাইন কোম্পানিতে এস ই ও পদে চাকরী পেল ।

লিংকের কাজ হলো সোসাল মিডিয়াতে পোডাক্ট এর র্মাকেটিং করা ।

লিংকের কাছে কাজটা খুব ভালো লাগে

গুগলের কাছে নতুন নতুন আইডিয়া জানতে পারে ।

ভাবতেছে এইবার ইমুকে বৌ বানিয়ে ঘরে নিয়ে আসবে ।



ক্লিক বেগম : আচ্ছা লিংক ইমুদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে কেমন হবে ?



লিংক : তোমার ইচ্ছা ,তুমি যেটা ভাল মনে করো ।



ক্লিক বেগম তার আত্মীয় স্বজনসহ লিংক কে সাথে করে নিয়ে ইমুদের বাসায় গেল ।

দরজা দাডিয়ে কলিং বেল টিপছে এমন সময় সাহারা খাতুন দরজা খুলে দিলো ।

অবশ্যই লিংক ইমুর আম্মুকে আগেই সব বলে দিযেছে ।



ক্লিক বেগম : আসসালামুআলাইমুক আপনি কি সাহারা খাতুন ।



সাহারা খাতুন : জ্বী আপনি কে ?


ক্লিক বেগম : আমি লিংকের মা,এনি ওর চাচা, এনি ওর মামা আমরা এসেছি ইমুর কে

আমার ছেলের বৌ বানিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ।



সাহারা খাতুন : ও আচ্ছা ইমুর মুখে আপনার নাম অনেকবার শুনেছি কি সুভাগ্য আমার ।



ক্লিক বেগম : আমার বৌমা কোথায় ?



সাহারা খাতুন : ও তো ওর ঘরে আছে , ইমু এই ইমু ।



ইমু : জ্বী আম্মা ।



সাহারা খাতুন : দেখে যা কে এসেছে ?

ইমু এসে দেখে লিংকের মা ও সাথে কিছু মেহমান সবাইকে সালাম দিলো ।



সাহারা খাতুন : তুই একটু তোর ঘরে যায় ।

ইমু ওর ঘরে চলে গেল ।



সাহারা খাতুন : আচ্ছা ছেলের দাবি দাওয়া আছে ।



ক্লিক বেগম : না আমাদের কোন দাবি দাওয়া নেই ।

এমন সময় জলিল সাহেব এলো ,টিং টিং সাহারা খাতুন দরজা খুলে দিলো



জলিল সাহেব : দরজা খুলতে এতো দেরী কেন ?



সাহরা খাতুন : আস্তে কথা বল ,লিংকের মা এসেছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ।



ক্লিক বেগম : আসসালামাইলাইকুম ভাল আছেন ।



জলিল সাহবে : জ্বী ভাল আছি, আপনি কেমন আছেন ?



ক্লিক বেগম : জ্বী ভাল আছি, আমি লিংকের বিয়েরপ্রস্তাব নিয়ে এসেছি, আপনি কি বলেন ?



জলিল সাহেব : আমি কি আর বলবো,ওরা দুইজনে দুইজনকে পছন্দ করে ।

আমি রাজি ছেলের কোন দাবি দাওযা থাকলে বলেন ।



ক্লিক বেগম : না বেয়াইসাব ছেলের কোন দাবি নাই ।বিবাহের দিন তারিখ কোন দিন পালাবেন ।



জলিল সাহেব : সাহেব এই তো 9 জুন বৃহঃবার গায়ে হলুধ 10 জুন শুক্রবার বিয়ে আপনি কি বলেন।



ক্লিক বেগম : আমি কি আর বলবো,আপনি যা ভাল মনে করেন ।



জলিল সাহেব : তাহলে এই কথা রইলো ,বর পক্ষ কতজন মেহমান আসবে ।



ক্লিক বেগম : 200 জন কনে পক্ষে কত জন আসবে ।



জলিল সাহবে : 150 জন মেহমান আসবে ।



এরপর সবার সম্মত্তিক্রমে ইমু আর লিংকের বিবাহ হয় অনেক ধুমধামের সাথে ।

ইমুর মা-বাবা শশুর বাডিতে হাডিপাতির ,আসবার পত্র দিতে চাইলো ।

লিংকের এক কথা সেই শশুর বাডি থেকে এক টুকরো সুতা ও নিবে না ।

আজ তাদের বাসর রাত ,লিংক বন্ধু বান্ধবের সাথে কথা র্বাতা শেষ করে এইমাত্র

বাসর ঘরে প্রবেশ করলো,এমন সময় ইমু ।



লিংক : আহা উঠে দাডালে কেন ?



ইমু : তোমাকে সালাম করবো ।



লিংক : তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে ।




ইমু : থ্যাক্স !



লিংক : আমি একটু ঘুমাবো, আমাকে জায়গা করে দাও সেই কখন থেকে ঘুম পাচ্ছে ।



ইমু : ঘুমাবে মানি, আজকে আজকে আমাদের প্রথম রাত !



লিংক : তো আমি কি করবো ।



ইমু : চলো কোথায় ও খোলা মেলা জাযগা গল্প করি ।



এই আবদ্ধ ঘরে বসে থাকতে আর ভাল লাগতেছেনা ।



লিংক : কোথায় যাবে এতো রাতে ?



ইমু : কেন ছাডে ।



লিংক : আচ্ছা চলো ।



ইমু : ওয়াও কি অদ্ভুদ জায়গা ,আকাশে অনেক তারার মেলা,

হালকা হিমেল হাওয়া বইছে,শহরের বিল্ডিং গুলোকে রাতের বেলা

খুব সুন্দর লাগে তাই না লিংক ।



লিংক : হ্যা ঠিক ,ইমু এই দিকে তাকাও ।



ইমু : কোন দিকে ।



লিংক : আকাশের ঐ তারাটা দিকে ।



ইমু : তারাটা খুব সুন্দর অন্য সব তারা থেকে কেমন যেন বড় ।



লিংক : ঐ তারাটার নাম কি জানো ।



ইমু : কি নাম ।




লিংক : এটার নাম ধূব তারা এই তারা গুলো নক্ষত্র এদের নিজস্ব আলো আছে ।

এই গুলো সৌর জগৎতে অবস্থান করে ,তারা গুলোর দুই পাশে যে খালি জায়গা আছে

সেখানে এক জন মানুষের পোঁছতে সময় লাগবে 500বছর তো আবার আলো গতিতে ।

সব চেয়ে মজার বিষয় কি জানো আলোর গতির সাথে পাল্লা দিবে এমন

কোন যন্ত্র আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানিরা আবিষ্কার করতে পারেনি ।



ইমু : তাহলে তো বলতে হয় তাদের জীবন ব্যার্থ ।



লিংক : বিজ্ঞানিদের ব্যার্থ বলতে কিছু নাই, যেখানে ব্যার্থ হয়েছে সেই কিছু একটা খুজে পাইছে ।

আমাদের
গেটের দিকে তাকাও বাতি গুলো কি অদ্ভুদ ছোট একটা বাতি অতিক্ষদ্র একটা র্শাকেট

এর মাধ্যমে কিভাবে রং ধনুর মত একবার একটা করে আলো দিচ্ছে ।

এর মিটমিট আলো জ্বলা দেখে আমার ছোট কালের কিছু স্মৃতি মনে পডে যায় ।

আমি যখন ছোট ছিলাম তখন জোনাকি পোকাকে স্বচ্ছ কাচের বোতলে ঢুকিয়ে ছিপি বন্ধ করে দিয়ে

টচ লাইট হিসাবে ব্যবহার করতাম ।



ইমু : বাহ বেশ ভালো তো তুমি তো দেখছি টমাসউন বাতি আবিষ্কারক ।



লিংক : ধন্যবাদ আসলে আমি বিজ্ঞানি না ,তবে বিজ্ঞানিদের কল্প কাহিনী আমার খুব ভাল লাগে

এই যেমন পিড়াদের জীবনের সাথে মানুষের জীবনের মিল খুজে পাই,

আবার বনরে পশুরা হিংস হলেও এক সাথে বসাবাস করে ।

কি অদ্ভুদ তাদের জীবন একবারে আমাদের থেকে ভিন্ন ।



ইমু : তোমার বকবকানি থামবে,সেই কখন থেকে শুনছি বিজ্ঞানিরা এটা করেছে ঐ টা করেছে ।

তোমার কাছে আর কোন কথা নাই ,

বিজ্ঞানিরা কি করেছে সেটা তোমার কাছ থেকে আমি শুনতে চাইছি ।



লিংক : আচ্ছা তুমি কি তাদেরকে বিশ্বাস করতে চাও না ।



ইমু : না করতে চাই না ।



লিংক : তুমি কি জন্ম বিরতি করন ঔষুধ ফ্যামিকন, কিংবা ভেকসিন, টি টি হেপাসিটি এইসব পদ্ধতির নাম শুনেছো ।



ইমু : হ্যা শুনেছি সন্তান না, নিতে চাইলে সল্প এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা ।



লিংক : তুমি এই গুলো বিশ্বাস করো ।



ইমু : হ্যা করি ।



লিংক : এই গুলো কি তুমি আবিষ্কার করেছিলো , না তোমার বাবা বানিয়েছে ।

বিজ্ঞানের যুগে বসাবাস করো অথচ তাদেরকে বিশ্বাস করো না

,আদিম মানুষের মতো তোমার জঙ্গলে বসাবাস করা উচিত ।



ইমু : কি বললে তুমি ,আমাকে যা ইচ্ছা তাই বলে যাচ্ছে তুমি তোমার

বিজ্ঞান নিয়ে থাক আমি চলে গেলাম ।



লিংক : হায়রে কপাল যাদের দেয়া মেয়েরা সব কিছু ব্যবহার করে তাদেরকে

বিশ্বাস করতে চায় না, শুধু সংসার আর নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু বুঝতে চায় না,

নিজেরা তো কিছু করতে পারবে না বরং আমাদের ওপর মাতবরি করবে ।



লিংক : ছাদে বসে ধূব তারার দিকে তাকিয়ে আছে আর বসে বসে বিজ্ঞানিদের বিভিন্ন
জিনিসের কথা ভাবছে ,কত না ভাল হতো নারী জাতিকে

নিয়ন্ত্রন করার জন্য এমন কোন যন্ত্র আবিষ্কার করতে পারতো ।

এই সব ভাবতে ভাবতে রাত শেষ হয়ে কখন যে সূর্য মামা উকি দিলো তার সেই দিকে একটু ও খেয়াল নেই ।

ঘডির দিকে তাকিয়ে দেখে সকাল সাতটা বাজে ।

সারা রাত জেগে থেকে সকাল বেলা ভীষন ঘুম

পাচ্ছে,তাই একটু ঘুমাতে গেল এমন সময় ।



ক্লিক বেগম : লিংক একটু এই দিকে আসবি ।



ইমু : জ্বী আম্মা ও তো ঘুমাচ্ছে, কিছু বলবেন ।



ক্লিক বেগম : আচ্ছা ঠিক ওর ঘুম ভাঙ্গলে আমার কথা বলবে ।



ইমু : ঠিক আছে আম্মা ।



বিবাহের ছুটি এক সপ্তাহ পর লিংক আবার কাজে যোগ দিলো ,অফিসের কলিগরা

স্ত্রীর ব্যপারে জানতে চাইলো ।লিংক ও তাদের সাথে সব কিছু শেয়ার করতেন ।

লিংক এমন এক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন ,
যে কিনা অল্পতে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারতো ।

ক্লিক বেগম এবং ইমুকে দেখলে মানুষ বুঝতে পারবে না এরা কি
বৌ -শাশুডি না কি ,মা-মেয়ে ।

ইমু তার শাশুডিকে ছাডা কোথাও যেতে চাইতো না,

আর ক্লিক বেগম ও ইমু কোথায় গেলে ভীষণ একাকিত্ব বোধ করতেন ।

কিন্তু বিয়ের এক বছর যেতে না যেতে ,ইমুর সাথে ক্লিক বেগমের পার্থক্য তৈরী হলো ।



ক্লিক বেগম : এই যে নবাবের মেয়ে সারা দিন শুধু সেজে খুজে

চলাফেরা করলে চলবে ঘরে কত কাজ পডে আছে ।



ইমু : সব কাজ আমি করবো কেন তুই করতে পারিছ না ।



ক্লিক বেগম : কি বললি বেয়াদব কোথায়গার বোবার

মুখে দেখি কথা ফুটেছে ফকিন্নীর মেয়ে



ইমু : কি আমি ফকিন্নীর মেয়ে , তুই ফকিন্নী ছি তোর লজ্জা আছে নেয়,

তোর পোলারে জিজ্ঞাস করিছ আমার বাবা অনেক কিছু দিতে চাইছে ,

তোর পোলা না নিলে কার দোষ ।



ক্লিক বেগম : আমার আমার সাদা সিধে ছেলেটাকে তুই আর তোর

মা মিলে তাবিজ তুমার করে খারাপ বানাছোস ।

মনে করছিলি আমি কিছু বুঝি না আমি সবি বুঝি ।



ইমু : আমার মা- বাবা তাবিজ করে নাই তুই করেছিস যাতে আমার কাছ থেকে দুরে সরে যায় ।



ক্লিক বেগম : আজকে খালি লিংক বাড়িতে আসুক তোর মতো ডাইনির কি বিচার করে ।



ইমু : যা ইচ্ছা বলিছ ,আমি কি চুপ মেরে বসে থাকবো ।

লিংক সারা দিন কাজ কর্ম শেষে রাত নয়টার দিকে বাসায় এলো ।

দরজা দাড়িয়ে কলিং বেল টিপছে এমন সময় ক্লিক বেগম দরজা খুলে দিলো ।



লিংক : মা তোমার কি হয়েছে তোমার মুখ কালো কেন ?



ক্লিক বেগম : আমি আর তোদের সংসারে থাকবো না ?



লিংক : আচ্ছা বুঝলাম আগে কি হযেছে সেটা তো বলবে, তারপর যে দিকে ইচ্ছা সেই দিকে যাবে ।



ক্লিক বেগম : আজ তোর বৌ আমাকে যা ইচ্ছা তাই বলে গেছে ।



লিংক : আচ্ছা তোমাকে যখন আমর বাবা বিবাহ করে এই নিয়ে আসে ।

তখন আমর দাদি তোমার শাশুডিকে তোমার কেমন মনে হয়েছে,

তোমরা মেয়ে হয়ে মেয়ের কে সর্ম্মান দিতে পারো না ।



ক্লিক বেগম : ও বুঝেছি আজ আমার কথা তোর কাছে কোন দাম নাই ।

আজ লিংকের ব্যপারে ইমুর কোন খোজ খবর নাই ,লিংকের সাথে রাগ করে শুয়ে আছে ।

লিংক মা এবং বৌকে ভাত খাওয়ার জন্য ডাকলো কিন্তু কেউ এলোনা ।

লিংক একা একা ভাত পানি খেয়ে ঘুমাতে যাবে এমন সময় ।



ইমু : আমাকে র্স্পশ করবে না।



লিংক : কেন কি হয়েছে ?



ইমু : তোমার মা ,আজকে আমাকে যা ইচ্ছা তাই বলেছে ।



লিংক : তুমি কি বলে ছিলে ।



ইমু : আমি কিছু বলি নাই ।




লিংক : আরে বাদ দাও আম্মার বয়স হয়েছে ,আচ্ছা তোমার মা যদি তোমাকে

শাষন করতো তাহলে তুমি কি তার সাথে রাগ করে বসে থাকতে পারতে ।



ইমু : আমার মা কখনো আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালা গালি করতো না,আমি কালই চলে যাবো ।

লিংক আর কোন কথা বললো না ,শুয়ে পডলো সকাল বেলায় ,

নাস্তা পানি সেরে মায়ের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে অফিসে চলে গেল ।

যাওয়ার সময় ইমুকে ও বলে গেল ।



ক্লিক বেগম : হায়রে হায় আমার কি পোড়া কপাল ,মানুষে পুত্রের বৌয়ের বাড়ি থেকে কত কিছু পায় ।

আর ভাগ্যে একটা সুতার বস্ত্র ও জুটে না, এমন ঈদ যায় চাদ যায় ওর মা বাবা

কানা নাকি চোখে দেখে না ।



ইমু :কি বললি তুই আমার মা বাবা কানা ।তুই কানা লোভী কোথাগার তোর মতো এতো

লোভী মহিলা আমি বাবার যনমে ও দেখী নাই ।



ক্লিক বেগম : না দেখলে দেখী নেয়, আজ খালি লিংক আসুক দেখি কি তোর কি বিচার করে ।

লিংক সারা দিনের কাজ কর্ম শেষে আজও বাড়ি ফিরলো দারজা দাড়িয়ে

কলিং বেল টিপছে এমন সময় ইমু এসে দরজা খুলে দিলো ।



লিংক : কি হলো কাদছো কেন ?



ইমু : উ উ সেটা তোমার মাকে জিজ্ঞাস করো ।



লিংক : মাকে পরে জিজ্ঞাস করবো ,তোমাকে আগে জিজ্ঞাস করেছি তুমি আগে বলো ।



ইমু : তোমার মা সব সময় আমাকে খোটা দিয়ে কথা বলে ।



লিংক : তুমি কি মাকে কিছু বলেছিলা ।



ইমু : আমি কিছু বলি নাই শুধু শুধু আমাকে খোটা দেয় ।



লিংক : ঠিক আছে আমি মায়ের সাথে একা কথা বলতে চাই, মা একটু এই দিকে আসবে ।



লিংক : তোমরা বৌ-শাশুডি মিলে যে, অবস্থা সৃষ্টি করেছো ,আমি তোকে

অল্প দিনে পাগল হয়ে যাবো ,তুমি ইমুকে কি বলেছো ?



ক্লিক বেগম : আজ আমার থেকে তোর কাছে বৌ দামি হয়ে গেল ,আমি ওকে কোন কাজের

কথা বললে ও আমাকে না বলে ছাড়ে না, আমি শুধু , বলেছিলাম

এমন ফল মূলের দিন যায় ওর বাবা মেয়ের জন্য কিছু ফলমুল পাঠালে তো পারতো ।



লিংক : তুমি জানো না তোমার ছেলে অন্যের কাছে হাত পাতা পছন্দ করে না ।

ইমুর বাবা আমাকে অনেক কিছু দিতে চেয়েছে আমি নিনাই ।

হাত পা থাকার সত্তে কারো কাছে ভিক্ষা চাওয়ার চেয়ে মরণ ভালো ।



ক্লিক বেগম : আচ্ছা ঠিক আছে বাবা সেটা না হয় বুঝলাম,

কিন্তু মহল্লার মানুষে আমাকে দুনিয়ার কথা বলে ।

তখন আমি তাদের কি বলি ।



লিংক : সোজা বলে দিবে আমার ছেলে কারো দয়া ভিক্ষা চায় না ।

রাতে সবাই মিলে এক সাথে খাবার খেল কিন্তু বৌ-শাশুডি কেউ কারো

সাথে কথা বললোনা, খাওয়া শেষে যে যার মত করে ঘুমাতে গেল ।



লিংক : ইমু কথা বলতেছো না যে কি হয়েছে ।



ইমু : কিছু হয় নাই যেটা হয়েছে সেটা তো তোমাকে অনেক আগে বলে দিয়েছি ।



লিংক : বাদ দাও মায়ের বয়স হয়েছে তা ছাড়া এই সব কুসংষ্কার সমাজ থেকে

দূর হতে কিছুটা সময় লাগবে আমি বলি কি তোমাকে কিছুটা টাকা দিই ।

তোমার আব্বু আম্মুকে বল সেই টাকা দিয়ে কিছু ফলমুল কিনে দিতে ।

আমি যে তোমাকে টাকা দিয়েছি সেটা যেন মা কিছুতেই জানতে না পারে ।

ইমুর চোখে পানি চলে আসলো ,লিংকের মতো এই রকম স্বামী কয়জন মেয়ের ভাগ্যে জুটে ।

এছাড়া ইমুর বাবা টা ও অসুস্থ্য লিংকের মায়ের অজানামতে ওর শশুর শাশুডিকে সার্হায্য করে ।

কিছু দিন পর লিংকের শুশুর বাড়ি থেকে বিভিন্ন রকমের ফলমুল নিয়ে এলো ।

আজ ক্লিক বেগম খুশিতে মাত হারা আশে পাশের বিভিন্ন মানুষকে ডেকে সেই গুলো বিলি করে দিলো ।

কিন্তু দিন যতো বাড়ছে বৌ -শাশুডির মন কষা কষি ততই বাড়ছে ।

এক সময় লিংক বিরক্ত বোধ করে কিছু দিন ঘরে আসলো না ।

এক দিকে মায়ের মন পাইলে অন্য দিকে বৌয়ের মন পায় না ।



লিংক ঘরে আসলো টিং টিং এমন সময় ক্লিক বেগম দৌড়ে এসে দরজা খুলে দিলো ।



ক্লিক বেগম : কিরে বাবা তুই এতো দিন কোথায় ছিলি কান্না কন্ঠে ।



লিংক : কোথায় যাবো তোমাদের জ্বালায় ঘরে থাকতে পারি না ।ভাবতাছি সন্যসি হয়ে যাবো ।



ক্লিক বেগম : তোর জন্য আমার ছেলেটা ঘর ছাড়া ।



ইমু : তুই কুটনির জন্য আমার এই অবস্থা আমি কালই বাপের বাড়ি চলে যাবো,



ক্লিক বেগম : যা তোরে কে মানা করেছে ।



ইমু : তোর পোলারে আমার দেন মোহরের টাকা দিতে বল ।



লিংক : ইমু তুমি মায়ের সাথে এটা কোন ধরনের ব্যবহার করতোছো আমি

তোমার কাছ থেকে এই ধরনের ব্যবহার আসা করি নাই ।



ইমু : তুমি খালি আমার দোষ দেখবে ,তোমার মায়ের দোষ চোখে দেখবে না ।



লিংক আর কোন কথা বললোনা দুই জনকে ভাত খাওয়ার জন্য ডাকলো

কিন্তু কেউ এলোনা লিংক দুই লোকমা খেয়ে বাকি গুলো ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ঘুমিয়ে পড়লো ।

পরেরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত্তি গ্রহন করলো । যাওয়ার আগে মাকে-বৌকে বলে গেল ।

এতে মা সাড়া দিলেও বৌর কোন সাড়া শব্দ নাই ।

অফিসে গিয়ে কাজে মন বসতেছেনা, বসবে কি করে,সারা দিন অফিসে

কাজ করার পর বাসায় গিয়ে শান্তিতে একটু বিশ্রাম নিবে, বৌয়ের জ্বালা মায়ের জ্বালায়

কোন কিছুই ভাল লাগতেছেনা ,এখন তার একমাত্র জীবন সঙ্গী গুগল ।

গুগল এর কাছে জানতে চায় কি করে এর সমাধান ভের করা যায় ।

খুজতে খুজতে মোবাইল ফোন আবিষ্কারক র্মাটিন কুপারের জীবন কাহিনী ভালো লেগে যায় ।

র্মাটিন কুপার ও নাকি গভেষনা চলাকালিন তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায় ।

বর্তমানে র্স্মাট ফোন আবিষ্কারক স্টিব রোজ এর কাহিনী ভাল লেগে যায় ।

তবে লিংকের ব্যাপারটা ভিন্ন সেই এমন কিছু আবিষ্কার করবে যা দিয়ে মা এবং বৌকে দমন করা য়ায় ।

কিন্তু কোন উপায় খুজে পায় না ।
বিজ্ঞানী স্টিব রোজের র্স্মাট ফোনে কত কিছু না করা যায় ।

এর অন্যতম হচ্ছে সাউন্ট রেকড ।
জিনিসটা লিংকের কাছে থুব ভাল লেগে যায় ।

সেই চিন্তা করে কি করে এর ব্যবহার মা এবং বৌ এর উপর প্রয়োগ করা যায় ।

এক সময় সেই সুয়োগ কাজে আসলো ।



ক্লিক বেগম : বাবা তোকে একটা কথা বলবো , তুই যদি কিছু মনে না করিছ ।



লিংক : কি কথা বলবে শুনি ।



ক্লিক বেগম : তুই তোর বৌকে ডিবোস দেয় তোকে আমি আরেকটা বিবাহ করাবো ।



লিংক : আচ্ছা তুমি আামাকে আরেকটা বিবাহ করাবে তখন যদি ঐ মেয়ে ইমু থেকে আরো খারাপ হয় ।

তাছাডা ইমুকে তো তুমি নিজেই পছন্দ করে বিবাহ করিয়েছিলে ।

এখন কেন এই কথা বলতেছো ।



ক্লিক বেগম : আমি জানতাম নাকি ঐ মেয়ে এতো জ্বললাদ আর আমি যে মেয়ে

পছন্দ করিছি ঐ মেয়ে অনেক ভালো দেখলে তোর ওর পছন্দ হবে ।



লিংক : আমারএকটা র্শত আছে,আমি তোমাকে একটা মোবাইল ফোন কিনে দেব ।

ঐ ফোনে গোপন সাউন্ট রেকড় আছে ,ইমু যখন তোমার সাথে খারাপ আচরন করবে,

তখন তুমি সেটা রেকড করে রাখবে ।
যেন কোন কারনে ওর মা-বাবা
মামলা করতে না পারে, ও যেন হেরে যায় আর তুমি জিতে যাও ।

সবাই মনে তোমার সাথে খারাপ আচরনের কারনে আমি ওকে ডিবোস দিই ।

যেভাবে হোক তুমি ওকে দোষী বানাতে হবে ।

ও আরেকটা কথা তুমি ভূলেও ওর সাথে খারাপ আচরন করতে পারবে না ।



পরের দিন লিংক তার মায়ের জন্য র্স্মাট ফোন কিনে আনলো ।

তাই দেখে ইমু চোখ কপালে উঠে গেল , খাওয়া দাওয়া শেষ করে, লিংক ঘুমাতে যাবে এমন সময় ।

ইমু :তোমার মায়ের জন্য এতো দরদ আর আমার জন্য কিছুই না ।

আচ্ছা তুমি সত্যি করে বল মা চাও না বৌ চাও ।



লিংক : আমি দুজনকে চাই ।



ইমু : না তোমাকে যে কোন এক জনকে বেছে নিতে হবে ।



লিংক : তাহলে আমি তোমাকে চাই ।



ইমু : তাহলে আমারা আলাদা হয়ে যাই ।



লিংক : হুড করে আলাদা হয়ে গেলে সমাজের মানুষ নানা কথা বলবে ।

তখন তো আর কারো মুখ চেপে ধরে রাখতে পারবো না ।

সবাই ভাববে আমি বৌ পাগল সোনা মিয়া ।

তবে আমার মাথায় একটা বুদ্ধি আছে
,
মাকে সবার চোখে খারাপ বলে প্রমানিত করতে হবে ।

যাতে সবাই বলে বৌ শাশুডি এক জন আরেক জনের সাথে মিল মিশ নাই,

বিধায় ছেলে বৌ নিয়ে আলাদা হয়ে গেছে ।

আমি তোমাকে একটা র্স্মাট ফোন কিনে দিই ।

মা-যখন তোমার সাথে ঝগডা করবে ,

তখন তুমি তা রেকড করে রাখবে
কিছুতেই মা যেন বুঝতে না পারে ।

তবে তোমার সাথে মা যতই খারাপ আচরন করুক

তুমি কিছুতেই খারাপ আচরন করতে পারবে না ।
যেন সমাজের মানুষের চোখে মাকে দোষী বানানো যায় ।



লিংক ইমুর জন্য খুব সুন্দর দামি একটা র্স্মাট ফোন কিনে আনলো ।

ক্লিক বেগম অপেক্ষা করতেছে ইমু কখন তার সাথে ঝগডা লিপ্ত হবে ।

ইমু ও অপেক্ষা করতেছে ক্লিক বেগম কখন তার সাথে ঝগডা লিপ্ত হবে ।

ক্লিক বেগম ইমুর সাথে এতো সুন্দর ব্যবহার করে যেটা নিজের মা মেয়ের সাথে করবে না ।

তবে ক্লিক বেগম যে দিকে যায় দুনিয়া ছাড়তে পারে লিংকের দেয়া র্স্মাট ফোন ছাড়তে পারবেনা ।

ইমু একি অবস্থা যেন দুই জনের ভিতর বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতা নেমেছে ।

ইমু ও তার শাশুডিকে কোন কাজেই করতে দেয় না ।

এই ভাবে মাসের পর মাস চলে যায় কিন্তু
কেউ কাউকে দোষী বলে প্রমানিত করতে পারে না ।

তাদের সর্ম্পক আগের মতো হয়ে গেল তারা এখন বৌ শাশুডি থেকে মা মেয়ে পরিনিত হয়ে গেল ।

লিংকের মনে সমস্ত দূর চিন্তা দূর হয়ে গেল ।



উপসংহার



আমাদের সংসার জীবনে বৌ শাশুডি ঝগডা নতুন কিছু না ।

লিংক এক জন প্রযুক্তি বিশ্বসাসী মানুষ ছিলেন ।

সেই বিশ্বাস করতেন প্রযুক্তি দিয়ে মানব জীবনের সব সমস্যা সমাধান করা যায় ।

কারন মানুষ যখন কোন সমস্যা পড়েছে, তখন নতুন করে ভাবতে শিখেছে ।

বিজ্ঞান এসেছে মানুষের কল্যানের জন্য ।

লিংক বুদ্ধি খাটিয়ে তার পরিবারের সমস্যা সমাধান করেছে ।

আমরা কি পারি না , বিজ্ঞানের দেয়া প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে

আমাদের জীবনের সব সমস্যা সমাধান করতে ।

Click






শেয়ার করুন

0 coment rios: