রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সৎ মা বনাম নিজের মা




সৎ মা বনাম নিজের মা

ওমর ফারুক







আবদুল হকের সুখের সংসার পাঁচ ছেলে মেয়ে,দুই ছেলে ফারুক ও রিয়াজ

তিন মেয়ে বড মেয়ে পেয়ারা বেগম {মামনা}সেলিনা আক্তার, মোমেনা আক্তার,

ওদের মায়ের নাম তারা বেগম,তারা বেগম ছেলে মেয়েকে শাসন করলেও আাবদুল হক তেমন গুরুত্ব দেন না ৷

তবে তারা বেগম মুখে যাই বলুক ছেলে মেয়ে গুলোর কোন কষ্ট তিনি সর্হ্য করতে পারেনা ৷

তারা বেগম ঃ ফারুক এই দিকে আয় !

ফারুক ঃ জী আম্মু কিছু বলবেন ।

তারা বেগম ঃ যা ছাগলটা নিয়ে মাঠে যা !
ফারুক ঃ পার বোনা আমি এখন এক জায়গা যাবো

তারা বেগম ঃ কোন জায়গা যাবে শুনি ।

ফারুক ঃ সেটা তোমাকে বলতে যাবো কেন ।
তারা বেগম ঃ তুই ও পারবি না ,তোর ভাই বোন
কেউ পারবেনা এখন দেখতেছি আমাকে

মাঠে যেতে হবে, এই বলে ছাগলটা

নিয়ে মাঠে চরাতে গেল । ছেলেমেয়ে

গুলো তাহার খুব আদরের সন্তান

তাদেরকে কোন কাজের কথা বললে যদি

না শুনে ,সেই কাজ নিজেই করে ফেলতো ।

আর ওদের বাবা যদি জিজ্ঞাস করলে বল তো,

করেছে, ওদের অপরাধের জন্য মার খেতেও দিধাবোধ করতেন না ।
তারা বেগম আবদুল হক চাচাতো, ফুফাতো ভাই বোন ।


আবদুল হক সারা দিন কাজ কর্ম শেষ করে বাডীতে এলো ,

আবদুল হক ঃ এই শুনছো আমার গামছাটা দাও তো,

তারা বেগম ঃ এই নাও তোমার গামছা

আবদুল হক ঃ কোথায় গেলে ভাত দাও, তারা বেগম তার স্বামীকে

ভাত খেতে দিয়েছে, ভাত খেতে খেতে আবদুল হক

জিজ্ঞাস করলো আচ্ছা ওরা খেয়েছে তো,

তারা বেগম ঃ হ্যা খাইছে, এমন ভাবে জিজ্ঞাস করছো মনে হয়

আমি ওদের সৎ মা ! যে ওদের ঠিক মতো খেতে দিই না,

আবদুল হক ঃ আচ্ছা ছাগল চরায় তো, তোমার ছেলেরা,

তারা বেগম ঃ চরায়ছে, রাত অনেক এখন ঘুমাওতো,খাওয়া
দাওয়া শেষে বাতি নিভিয়ে শুয়ে পডলো,প্রতি দিন

রাতে আবদুল হক আসার সময় কিছু না,কিছু নিয়ে

আসে সকালে নাস্তা খাওয়ার জন্য আজ রাতেও নিয়ে

এসেছে, আর তাহার বড ছেলে সেই নাস্তার ওপর

চোরা গুপ্ত হামলা চালায়, কিন্তু হাতে নাতে ধরতে


পারে না । আজও সেই হামলা চালিয়েছে,

তারা বেগম ঃ এই দেখছো বিষ্কু্ট এর প্যাকেট যে ছিডা,

আবদুল হক ঃ কে ছিডবে জানো না, তোমার বড বিডাল ছাডা আর কে ।

তারা বেগম ঃ ফারুক এই কাজ তুই করেছিস,

ফারুক ঃ না মা আমি করি নাই,

তারা বেগম ঃ তাহলে কে করেছে,
ফারুক ঃ জানি না, ঘরের ভিতর আমি কি একলা থাকি আর কেউ থাকে না,

তারা বেগম ঃ রিয়াজ তুই এই কাজ করেছিস, না মা, পেয়ারা
তুই না মা আমি করি নাই ।তাহলে কে করছে

অন্য ঘর থেকে কেউ এসেছে, ঠাস,ঠাস ঠাস

তারা বেগম এই বার সবাই কে মারতে শুরু করলো

তার পর ও কেউ স্বীকার করলো না ,এই কাজটা

তার বড ছেলে করেছে, তার একটা স্বভাব আছে

বাবা ঘুমানোর সময় পকেট থেকে টাকা চুরি করা,

ছোট ভাই বোনদের জিনিস চুরি করে খেয়ে অন্যের

ঘাডে চাপিয়ে দেওয়া অনেকটা সুদক্ষ রাজনীতিবিদ ।

আবদুল হক ঃ এই শুনছো আমার গামছাটা দাও

তারা বেগম ঃ নাও শুনো তাডাতাডী এসো,

আবদুল হক ঃ ভাত দাও, আচ্ছা ছেলেমেয়ে গুলো খেয়েছে তো,

তারা বেগম ঃ হ্যা খাইছে আমি মনে হয় ওদের সৎ মা, যে ওদের না খেয়ে
,ঘুমাতে দিবো, তোমার আর কি কি লাগবে,

আবদুল হক ঃ আর কিছু লাগবে না,পানের থালাটা এই দিকে দাও,

তারা বেগম ঃ এই নাও, রাত অনেক হয়েছে এই বার ঘুমাও তো,
বাতি নিভীয়ে দিলাম কিন্তু,
ফারুক ঃ যাই গিয়ে দেখি, আব্বু ঘুমিয়েছে কিনা ।হায় হায় বুকে হাত দিয়ে
হাতটা আস্তে আস্তে চরাতে হবে।
উহু খালি এই পাশ ও পাশ করে হে আল্লাহ রক্ষা করো,
দিলাম ডুকাই।

আবদুল হক ঃ কে কে বাতিটা কোথায়,

ফারুক ঃ আজ মনে হয় রক্ষা নাই ।তাডাতাডি ঘুমিয়ে পডি ।

আাবদুল হক ঃ যাই গিয়ে দেখি কে এই কাজ করতেছে ।
সবাই তো দেখি, ঘুমাচ্ছে, হারামজাদা তোদের কে খালি একবার ধরতে পারি,
আবদুল হকের সাথে এটা নতুন কিছু না,
মাঝে মাঝে ঘুমের ভিতর কে বা কারা তার পকেট থেকে ভাংতি টাকা গাইব করে দেয়
, অনেক সময় কে নেয়, সেটা বুঝি ও না বুঝার ভান ধরে ।
তবে সেই যতই চেচামেচি করুক কেউ স্বীকার যাই না ।
আবদুল হক ঃ এই আমার পকেট থেকে কে টাকা চুরি করেছে,ফারুক তুই নিয়েছোস ,

ফারুক ঃ না বাবা আমি নিয়ে নাই ।

আবদুল হক ঃ রিয়াজ তুই নিয়েছোস,

রিয়াজ ঃ না আব্বু আমি নিয়ে নাই ।

আবদুল হক ঃ তোরা কেউ না নিলে টাকা হাওয়া নিয়ে গেছে,কথা বলছ না কেন ।
সবাই যে বোবা হয়ে গেলি ।এই তারা আমার পকেট
থেকে কে টাকা নিয়েছে

স্বীকার যাইতে বল, আমি কাজে গেলাম ।

তারা বেগম ঃ ফারুক,রিয়াজ, আয় ভাত খাইতে আয়, তোদের বাবা আসার আগে ।

ফারুক ঃ আমরা কেউ ভাত খাবো না, যার ভাত সেই খাক ।

তারা বেগম ঃ দোষ করবি তোরা আর গালি শুনাবি আমাকে,
তোদের কাছ থেকে আল্লাহ আমাকে নিয়ে যায় না কেন ।

দুনিয়ায় এতো মানুষের মরণ হয় আমার মরণ হয় না কেন,
আমি যখন মরবো তখন বুঝবি,মা কেমন জিনিস ।

ফারুক ঃ তাহলে তো ভালো হবে,তুমি আমাদের যে মারো,
তুমি একটা ডাইনি মা,নতুন মা আমাদের অনেক আদর করবে ।

আবদুল হক ঃ এই শুনছো দা নিয়ে এসো,

তারা বেগম ঃ এই নাও কি করবে ।

আবদুল হক ঃ তোমার ছেলেমেয়ের জ্বালায় কিছু করতে পারি,
ভাবছি বাঁশের ভিতর টাকা জমা করবো, এই ভাবে রোজ প্রতিদিন
ছেলেমেয়ের অগ্চরে টাকা জমা করতে থাকে ।

ফারুক ঃ অমা আব্বু বাঁশের ভিতর টাকা জমায় ।
অথচ আমরা কেউ জানি না ।যাক ভালো হলো
রোজ এখান থেকে টাকা নেওয়া
যাবে ।সিকটা কোথায় ,পাইছি ডুকিয়ে দিই ।
অমা দশ টাকা যাক আজকের মতো চলবে ।
এই ভাবে প্রতিদিন টাকা নিতে থাকে সেই ।
হঠাৎ এক দিন আবদুল হকের নজর পডে সেই বাঁশের দিকে ।
আবদু হক ঃ কিরে এতো টাকা জমা করি ভর্তি হয় না কেন ।
তারা এই তারা কোথায় গেলি এই দিকে আয় ।

তারা বেগম ঃ কি হয়েছে এতো চেচামেছি করতেছন কেন ?

আবদুল হক ঃ দাটা দেয়,

তারা বেগম ঃ কেন কি করবেন ?

আবদুল হক ঃ এটা কেটে দেখবো টাকা ভর্তি হয় না কেন ?
খড খড খড হায় হায় দেখ তোর গুনধর ছেলেরা আমার কি ক্ষতি করেছে ।

তারা বেগম ঃ ওমা সব টাকার নোট যে ছিডা ,এটা কে করেছে ?

আবদুল হক ঃ সেটা তোমার ছেলেমেয়ে কে প্রশ্ন করো ।

তারা বেগম ঃ ফারুক শিক ডুকিয়ে টাকা গুলোর এই অবস্থা কেন করেছিস ,

না মা,খোদার কসম আমি করি নাই ।

তারা বেগম ঃ না,তুই করেছিস ।ঘর তল্লাসি করা তোর কাজ ।
তা ছাডা তুই তো আবার ইঞ্জীনিয়ারিং বেশি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরী করছ

না মা,সত্যি আমি করি নাই ।

তারা বেগম ঃ রিয়াজ তুই করেছস ।

রিয়াজ ঃ না মা আমি করি না ।

তারা বেগম ঃ মামন তুই করেছিস ।

মামনা ঃ মা আমি কি এখনো ছোট ,আর আমি কেন করতে যাবো ।

ফারুক ঃ আপু ছোট না হলে খেলা ধুলা কিভাবে করে,কাজ নিয়ে কিভাবে ভাগাভাগি করে ।তোমার কোন কথা শুনে না ।

মামনা ঃ ওকে আমার সামনে থেকে চরাও ও কেমনে প্যাচ লাগায় ।

তারা বেগম ঃ হইছে তুই কত ভালো ।

মামনা ঃ খালি আমার দোষ চোখে দেখবা তোমার পোলা গো কোন দোষ দেখবা না ।
তারা বেগম ঃ তোরা থামবি ।টাকা গুলো ছিডছে কে ।তাহলে বলবি না ।ধাম ,ধাম ,ধাম, আজকে কারো ভাত নাই ।

ফারুক ঃ না দিলে না দিবেন ।আজ কে আর ভাত খাওয়া হলো না ।সারা দিন জঙ্গলে ঘুরে বিভিন্ন ফলমূল খেয়েছি ।রাত হয়ে গেল ঘরে ফিরে আসলাম,এমন সময় ।

তারা বেগম ঃ কিরে সকালে যে গেলি, সারা দিন ছিলি কোথায় ।
কোন খোঁজ খবর নাই ।

ফারুক ঃ কোথায় থাকবো,জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরতেছি ।
তুমি তো আর ভাত দিবানা ।

তারা বেগমঃ- কান্না সুরে, ওরে পাগল আমি তো এমনিতে বলেছিলাম ।
বাকিরা খাইতে পারলে তুই পারবি না কেন ।

ফারুক ঃ আমি তো তোমার সৎ ছেলে তাই ।

তারা বেগম ঃ আয় ভাত খাইতে আয় ।

ফারুক ঃ না খাবো না খিদে নাই ।

তারা বেগম ঃ না খেলে শুকিয়ে যাবি ।

ফারুক ঃ শুকালে শুকাবো তোমার কি ।
তারা বেগম এই বার খুব জোর করে ভাত খাবাইলো

ফারুকের একটা স্বভাব আছে,ঘর তল্লাশি,শিক দিয়ে
বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরী করা,
, গাছের ওপর ঘমানো,বেজা বিড়াল হয়ে থাকা ।
বিছনায় প্রসাব করলে প্যান্ট বদলিয়ে ফেলা ।
গলার ভিতর কোন তাবিজ দিলে কামড়দিয়ে কামড়দিয়ে ছিড়ে ফেলা ,
জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে ফল

মূল খাওয়া,বিভিন্ন পাখি ধরা ।লতা পাতা দিয়ে ঔষুধ তৈরী করা ।
খেলা ধুলা কোন কিছুতে পিছিয়ে ছিলো না।
যেমন,ফুট বল,ক্রিকেট,কুত কুত,,চোর পুলিশ,
লুকোচুরি পাচঘুডি,তীর,সাত তারা,বোম বাসটিং
,জোলাইভাতি,লুডু,সাইকেল চালানো,গাছে ওঠা,
লাফ ঝাফ,মারবেল,পয়সা খেলা,সাতার খেলা,
বর কনে খেলা,কাদা মারামারি,গাডি বানানো,
বাজি ফুটানো,পাশা খেলা ইত্যাদি ।
এমন কোন খেলা না্ই যেটা তার বাদ পডে না।
এর ভিতর কিছু খেলা ছেলেদের সাথে,
আর কিছু খেলা আছে মেয়েদের সাথে ।
ফারুকের একটা বন্ধু ছিলো,তার নাম সোহেল ।
বয়সে বড,দুই জন একই বাডীর লোক,
ফারুক সোহেলের চাচা,সোহেল ফারুকের চাচা।
সোহেল দেখতে কালো বর্ণের
আর ফারুক দেখতে শ্যামলা বর্নের ।
কিন্তু এক খাঁচার পাখি।
এক জন আরেক জনকে ছাডা কোথাও যেতে চাইতো না
আর কোন কারনে গেলেও বেশি দিন থাকতো না।
ফারুকের স্বভাব কিছুটা বোকা মানুষের মতো।
আবার এমন কিছু কাজ করতো
যেটা চালাক আর জ্ঞানী ব্যাক্তিরা ও পারতো না।
সেই জন্য কিছু মানুষ চালাক ভাবে
,কিছু মানুষ বোকা ভাবে।
তবে তারা বেগমের কাছে সেই বোকা।
ওকে একলা একলা কোথায় ও যেতে দেয় না।
বাজারে স্কুলে এমন কি নানার বাড়িতে।
তার একটা ভয়,বোকা ছেলে, কে মারে, কে ধরে সেই জন্য।
তারা বেগম ঃ উউউ,
জনৈক ঃ কিরে তারা কঁদছ কেন?
তারা বেগম ঃ জানেন ভাবি, আমার ভয় হয়।
আমার বড় ছেলেটা যদি,ছোট ছেলেটার মতো হতো।
ও কই যায় কি করে,কেউ মারলে ও ঘরে আসি বলে না।
তারা বেগম ঃ রিনা ফারুক কে দেখেছোস।
রিনা ঃ দেখেছি চাচি,পুকুরে গোসল করতেছে।
তারা বেগম ঃ ঐ হারামজাদা ডুবার পর ডুব দিতেছোস,স্কুলে যাবি কখন
আজকে তোকে মাইরা পালামু ।
ঠুস ঠুস ঠুস, একের পর এক আক্রমনে
ফারুক দিশে হারা,যেই দিকে যাচ্ছে সেই দিকে ঢিল মারতেছে
কোনো মতে পুকুর পাড় থেকে ওঠে পালালো।
ফারুক ঃ যাক বাবা আজ কের মতো বেঁচে গেলাম।
চোদমারানি আমার যে অবস্থা করছিলো
আর একটু হলে তো মরতাম।
মনে হয় ও আমার আপন মা না !
নইলে কি নিজের ছেলের সাথে কেউ এই রকম করে।
আবদুল হক ঃ ঐ আমার পকেট থেকে কে টাকা চুরি করেছে ,মামন তুই নিয়েছোস।
মামন ঃ না বাবা আমি নিই নাই।
আবদুল হক ঃ আচ্ছা আমি তোদের এক এক করে চেক করবো,
দেখি কে নিয়েছে,দেখেছোস তোর বড় ছেলে
আমার টাকা চুরি করেছে।
আবদুল হক ঃ,তারা আজ কে থেকে ওর ভাত পানি সব বন্ধ
,ওকে কি করবি কর আমি চলে গেলাম।
তারা বেগম ঃ ঐ হারামজাদা আর কত জ্বালাবি
আজকে তোর একদিন কি, আমার একদিন।
এই বলে মারতে মারতে মেইন রাস্তার দিকে নিয়ে গেলো,
এই ছেলেকে আজকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলবো।
বাস আসতেছে এমন সময় দিলো ধাক্কা।
গাড়ি চালক ঃ এই বেডি পাগল না কি, নিজের ছেলেকে মারতে চাস,
বেয়াদব মহিলা কোথাকার যা এই খান থেকে।
জনৈক ঃ আবদুল হক শুনছোস তোর বউয়ে, তোর বড় ছেলেকে
, গাড়ির নিচে পালাই মেরে ফেলতো লাগছিলো ।
আবদুল হক ঃ ঐ হারামজাদি, তুই পাগল হয়েছোস না কি,
নিজের ছেলেকে গাড়ি চাপা দিয়ে মারতেছাস,
ঠাস ঠাস ঠাস ,আর কখনো এই রকম করবি।
ফারুক ঃ যাক বাবা ডাইনীটার বুঝি এই বার একটু উচিত শিক্ষা হয়েছে।
ফারুক ঃ সোহেল আমি আমার নানার বাড়ি যাবো।
সোহেল ঃ কয় দিন থাকবি।
ফারুক ঃ এই তো দুই তিন দিন।
সোহেল ঃ তোকে ছাড়া আমার থাকতে খুব কষ্ট হবে।
ফারুক ঃ আমার ও কষ্ট হবে, মন চাচ্ছে না। কি করমু মা জোরাজোরি করতেছে।
সোহেল ঃ আচ্ছা ঠিক আছে তারাতারি আসিস ।
ফারুক ঃ আচ্চা ঠিক আছে।এই বলে ফারুক ও তার ফ্যামেলি নানার বাডীত গেল। ফারুক ও তার ফ্যামেলী তার নানার বাডিত গেলে
সবার আগে ওর বড় খালার ঘরে যায়।
বড় খালা ঃ মাসুদ ফারুকে বাজারে নিয়ে যা,কিছু বাজার নিয়ে আয়।
মাসুদ হলো ফারুকের খালাতো ভাই,ওর জন্য খুব টান আছে।
ফারুক কে সেই আপন ভাই এর মতো দেখে।
মাসুদ ঃ ফারুক চল বাজারে যাবো।
ফারুক ঃ চলেন ভাইয়া । দুই জনে বাজারে গেলো,
কোন একটা বিষয় নিয়ে দুজনে ঝগড়া লাগলো।
ফারুক ঃ তোর সাথে আমি বাড়ি যাবো না।
মাসুদ ঃ কেন যাবি না ?
ফারুক ঃ বলছি যাবো না ব্যাস ।
মাসুদ ঃ তুই একলা যেতে পারবি।
ফারুক ঃ সেটা তোকে ভাবতে হবে না।
মাসুদ এর চোখের আড়ালে
ফারুক ভুল করে অন্য রাস্তায় চলে গেলো ।

সেই আর নানার বাড়ি চিনতে পারতেছে না ।
মাসুদ ঃ মা ওমা ফারুক এসেছে।
খালা ঃ না, তোর সাথে ওতো গেল, আসে নাই।
কেন, তোদের ভিতর কি হয়েছে
মাসুদ ঃ ও আমার সাথে ঝগড়া করেছে,
বলেছে ও আমার সাথে যাবে না,
ও না কি একলা আসতে পারবে ।
খালা ঃ ঠাস ঠাস ঠাস, ও যাবে না বললো ,
আর তুই ওকে না নিয়ে চলে আসলি।
খালা ঃ তারা শুনছোস তোর ছেলে মাসুদ এর সাথে ঝগড়া করে এখনো আসে নাই।
তারা বেগম ঃ কি বলেন বুবু ,এ্যা এ্যা এ্যা আ আ আ ,
তারা বেগম ছেলের জন্য কান্না করতে লাগলো।
এই দিকে ওর মামারা খালুরা,খালাতো ভাইয়েরা
সবাই পাগলের মতো খুজঁতে লাগলো।
ফারুক ওর মামার বাড়ীর রাস্তা না, চিনে কাদতে লাগলো।
মানুষ জন জিজ্ঞাস করলে কিছু বলতে পারে না ।
এমন সময় তাহার বড় বোন মামন
আর খালাতো ভাই দেখতে পেলো।
একটা গরু গাডির পাশে দাঁডিয়ে তাদের ভাই কাদছে।
তারা ফারুককে বুকে জডিয়ে কাদতে লাগলো।
বাডিত এলে সবাই বলতে লাগলো
সোনা রুপার পানি দিয়ে গোসল করিয়ে তারপর কিছু খেতে দিতে।

তারা বেগম তাই করলো।
আবদুল হক ঃ মা,আমরা কালকে চলে যাবো।
শাশুডি ঃ কেন বাবা কি হয়েছে কোন অসুবিধা।
আবদুল হক ঃ আপনার নাতি যে পাগলামী করতেছে
ওকে নিয়ে আর পারতেছি না।
তাছাডা ওর পড়াশুনা আছে ।
এই বলে সবাই থেকে দোয়া নিয়ে নিজের বাডিত চলে আসলো।
সোহেল ঃ দোস্ত তাহলে চলে আসলি নানার বাডিতে খুব মজা করলি তাই নাই।
ফারুক ঃ হ্যা চলে আসলাম,তোর জন্য মনটা কাঁদছিলো।
সোহেল ঃ হ্যা আমার জন্য যদি মন কাঁদতো তাহলে এতো দিন থাকতে পারতি না।
ফারুক ঃসরি ভূল হয়ে গেছে ।
বৈখাক মাসে যখন আম.জাম.পাঁকে তখন গ্রীষ্মকালিন স্কুল বন্ধ থাকে।
হঠ্যাৎ একদিন ফারুককের দূর সর্ম্পকের
এক মামার বাডিত নিয়ে গেল।
মামার বাড়ি কাছে বলে তারা হেটে জমির আইলে আইলে চলে গেল।
ইব্রাহিম ঃ তারা যে,
তারা বেগম ঃ হ্যা আমি।
ইব্রাহিম ঃ তাহলে এত দিন পরে. আমার কথা মনে পড়লো ।
তারা বেগম ঃ কি আর করমু মন চাইছিলো তাই চলে আসলাম ।
ইব্রাহিম ঃ ভালো করেছিস।
তারা বেগম ঃ ফারুক মামা কে সালাম করো।যাও সোহাগ এর সাথে খেলা কর।
সোহাগ ঃ আস, আমরা বাগানে যাবো।
ফারুক ঃ কি সুন্দর আম,আম পাড কথাটা সোহাগ কে বললো।
সোহাগ গাছে ওঠে আম পাড়লো।
ফারুক ঃ এটা আমি খাবো।
সোহাগ ঃ এটা আমি খাবো। এই বলে দুই জনে মারামারি লেগে গেল।
ফারুক কাউকে কিছু না বলে বাড়িত চলে আসলো,
যেইভাবে গেছে ঠিক সেই ভাবে।
তারা বেগম ঃ ফারুক কোথায়।
সোহাগ ঃ জানি না,ও আমার সাথে আম খাওয়া নিয়ে ঝগডা করলো।
ইব্রাহীম ঃ ঠাস ঠাস ঠাস,তুই ওর সাথে ঝগডা করতে গেলি কেন?
এই বলে সবাই ওকে খুঁজতেছে।
কোথায় ও না পেয়ে তারা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বাডিত
এসে দেখে ,ওর পাগল ছেলেটা মাঠে খেলতেছে।
তারা বেগম এক দৌডে ছেলেকে বুকে জডিয়ে কাঁদতে লাগলো।
ফারুকের একটা বদ স্বভাব আছে, কাউকে কিছু না বলে চলে যাওয়া।
কিছু গুন আছে , ও কেউ কোন কাজর কথা বললে,
সেটা কখনো না বলে না।
গাছে ওঠতে পারে,অন্যের বাডিতে নারকেল,সুপারি পাড়া,
টাকার জন্য অন্যের কাজ করে দেওয়া।
যখন ঈদ আসে তখন টাকা জমানো তার একটা স্বভাবে পরিনিত হয়।
তবে সেই যাই কিছু করুক না কেন, গ্রামের মানুষ তাকে সব ছেলে থেকে আলাদা ভাবে।কারো না কারো উপকার করলে সেই যেন একটু শান্তি পায়।


২ গ্রীষ্মের ছুটিতে ফারুক ও তার পরিবার নানার বাডি যাবে।
ফারুক ঃ দোস্ত আমি নানার বাডিত যাবো।
সোহেল ঃ আমি ও নানার বাডিত যাবো।
ফারুক ঃ ঠিক আছে,কিছু দিন পর দেখা হবে।
ফারুক ও তার ফ্যামেলি বিকাল বেলা নানার বাডিত আসলো।
রাত হয়ে গেছে ,খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘুমাতে যাবে,এমন সময়।
তারা বেগম ঃ মা ওমা,
আছিয়া ঃ কিরে কি হয়েছে,ডাকতেছোস কেন?
তারা বেগম ঃপাগলাটারে একটু ঘুমানোর বিছনা করে দেন।
বিছনার নিচে কিছু শালার শট দিয়েন
,ও আবার বিছনায় প্রসাব করার খুব শক।
এতো বড় হয়েছে বিছনায় প্রসাব করা ,আজ ও বন্ধ হলো না।
কত কিছু করলাম কোন কাজেই হলো না।
আাছিয়া ঃ ফারুক বিছনা করে দিয়েছি ঘুমাতে যাও।
ফারুক ঃ ঠিক আছে নানু,ফারুক ঘুমাচ্ছে মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল।
হায় হায় আমি তো প্রসাব করে দিয়েছি।
অন্য সময় তো প্রসাব করে কারো ওপর চাপিয়ে দিই।
কিংবা প্যান্ট বদলিয়ে ফেলি,আজ কি হবে।
অসহায় ছেলের মতো ভিজা প্যান্ট নিয়ে শুয়ে থাকতে হবে।
আছিয়া ঃ তারা দেখে যা তোর ছেলে বিছনায় প্রসাব করে দিয়েছে।
তারা বেগম ঃ ঠাস,আর কোন দিন বিছনা প্রসাব করবি কান ধর।
ফারুক ঃআর কোন দিন প্রসাব করবো না, এই কান ধরলাম।
ফারুক যতই প্রতিজ্ঞা করুক এই প্রতিজ্ঞা কখনো রাখতে পারবে না,
যতই তুলে তুলে প্রসাব করাক,রাতে সেই বিছনায়
প্রসাব করবেই।রিয়াজ আম খাচ্ছে ।
ফারুক ঃ আমাকে দেয়।
রিয়াজ ঃ এই নেয়।
ফারুক ঃ আমের বিচি আমি খাবো।
রিয়াজ ঃআমের বিচি আমি খাবো। এই বলে দুই ভাইয়ের ভিতর দন্ধ লেগে গেল। এক পর্যায়ে আম খাওয়া ছুরি নিয়ে ফেললো,
রিয়াজ দৌডে পালাবে,এমন সময় হাতের ছুরি মারলো
রিয়াজ এর দিকে,এটা গিয়ে ওর রানের ওপর পডলো।
অল্পের জন্য ওর লিঙ্গের উপর পডে নাই।
এটা ওদের বাবা আবদুল হক দেখলো।
আবদুল হক ঃ হারামজাদা আজকে তোর খবর আছে।
এই বলে একটা লাঠি নিলো মারার জন্য।
ফারুক ঃ ওরে বাবা আজ রক্ষা নাই পালাই,মাইরের ভয়ে বাডির পাশে
একটি পাডি পাতার বাগান আছে,
এই পাডিপাতার মাঝ খানে ছোট একটি কুয়া আছে।
কুয়া নেমে গলা পর্যন্ত পানিতে ডুবিয়ে,
মাথায় কয়েকটি বড ফেনা দিয়ে দাডিয়ে আছে।
এই দিকে ওর মামারা ওকে খুঁজে হয়রান।
মাইক ও নামিয়ে দিয়েছে,মাইকে যা বলছে ও সব শুনছে।
এমন সময় ওর দূর সম্পর্কে ওর নানি
ঐখানে হাঁসের জন্য শামুক কুডাচ্ছে।
জনৈক ঃ এটা কে।
ফারুক ঃ আমি
জনৈক ঃ ওমা এটা দেখি তারার পোলা।ওরে তারা তোর পোলা
এখানে চিৎকার করতে লাগলো।আমি পালাবে,
এমন সময় সবাই ধরে ফেললো।
আমার নানী খালারা আমার আব্বু আম্মুকে বলতে লগলো
,ওর গায়ে একটা হাত ও দিবি না।ওকে সোনা
রুপার পানি দিয়ে গোসল করা
ছেলেটা ভয় পাইছে।আমি মনে মনে খুশি যাক ,
এই বার কোন মতে বেচে গেলাম।
আবদুল হক ঃ আম্মা আজ বিকালে আমরা চলে যাবো,
আপনার পাগল নাতিটা কে নিয়ে আর পারতেছিনা।
ও যে অবস্থা শুরু করে দিয়েছে।
আছিয়া ঃ আচ্ছা যাও কিছু দিন পর আবার এসো।
আবদুল হক ঃআচ্ছা ঠিক আছে আম্মা,
এই বলে সবার কাছ থেকে দোয়া নিয়ে চলে আসলো।
সোহেল ঃ কি দোস্ত কেমন আছোস।
ফারুক ঃ ভাল আছি,তোর কি খবর।
সোহেল ঃ আমি ও ভাল আছি,শুনেছি তুই না
কি তোর ছোট ভাইকে ছুরে মেরে পালাইছোস।
ফারুক ঃ তুই যা শুনেছোস সব সত্যি,ও আমার ভাই না ও আমার শত্রু।
তারা বেগম ঃ ফারুক ও ফারুক কোথায় গেলি,ভাই আমার ফারুক কে দেখেছেন।
জনৈক ঃ হ্যা দেখেছি,ইউসুফের বড় ছেলে সাথে মারবেল খেলতেছে।
তারা বেগম ঃ বেগম লাঠি হাতে,ঐ হারামজদা আমি তোকে খুঁজে হয়রান,
আর তুই এই খানে মারবেল খেলস ধুম ধুম ধুম,
মারতেছে আর বকতেছে।তারা বেগমের শাসন গুলো অদ্ভূদ,
কখনো বাঁশের সাথে পিছনের দিকে দুই হাত বাঁধিয়ে,
কখনো দুই হাত উপরের দিকে উঠিয়ে,মারধোর করতো।
কখনো কান ধরে ওঠ বস,কখনো নাকে খত দেয়াতো।
তারা বেগম ঃ আয় ভাত খেতে আয়।
ফারুক ঃ আমি খাবো না,আমার খিদা নাই।
তারা বেগম ঃ তুই খাবি না,তোর বাবা খাবে।
ফারুক ঃ বাবা খাইলে বাবা খাক আমি খাবো না।
তারা বেগম ঃ এতো মারামারি,কোথায় যায়,বিড়ালের হাড্ডি খাইছোস না কি।
ফারুক ঃ সেইটা তুমি ভালো করে যানো।
তারা বেগম ঃ এতো মারা মারলাম কারে বেহায়া শুধু হাসে,
বেহায়া কে মারি পিসা,বেহায়া বলে হুদা মিসা।
ফারুক ও তার ভাই বোনদের আর একটা স্বভাব আছে,
সেটা হচ্ছে তার বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি করা ,
সব চেয়ে অদ্ভুদ হচ্ছে কে চুরি করেছে কেউ কিছু বলতো না ,
যতোই বকা বকি করুক যতোই মারধোর করুক।
স্কুল এর ফলাফল দেওয়ার সময় ।

তারা বেগম ঃ স্কুলে ফলাফল দিয়েছে।
ফারুক ঃ হ্যা,ছয় নাম্বারে পাশ করেছি।
তারা বেগম ঃ হারামজাদা মানুষের ছেলে-মেয়ে একশত-দুইশত পায়,
তুই এতো কম পাইলি কেন ধুম ধুম ধুম।
রিনা ঃ কি হয়েছে চাচী ওকে মারতেছেন কেন?
তারা বেগম ঃ মারবো না তো কি আদর করবো ,
মানুষের ছেলে-মেয়ে কি না, একশত-দুইশত নাম্বার পায়
আর ও কি না ছয় নাম্বার পাইছে।
রিনা ঃ আরে চাচি ছয় নাম্বার মানি অনেক ভালো নাম্বার ,
এইটা হচ্ছে ওর স্কুলের রোল নাম্বার ,দরকার হলে
আপনে কাউকে জিজ্ঞাস করিয়েন।
তারা বেগম ঃ তাই না কি মা,তাহলে আমার মানিকটাকে
শুধু শুধু মারদোর করলাম,আয় বাবা ভাত খেতে আয়।
ফারুক ঃ হইছে আর বাবা বাবা করতে হবে না ,তোর ভাত তুই খা,
আমি খাবো না,কিছু করার নাই খাইতে হইলো।
তারা বেগম ঃ আমার সামনে বস ।
ফারুক ঃ কেন?
তারা বেগম ঃ বস বলছি,তোর মাথাটা কামিয়ে দিই,চুল গুলো বড় হয়েগেছে।
ফারুক ঃ না আমি মাথা কামাবো না,কিছু করার
নাই সেই আমার মাথা কামিয়ে ছাড়লো।
ফারুক তারা বেগম কে গালা গালি করতে লাগলো।
তারা বেগম ঃ যা গোসল করে আয়।
ফারুক ঃ করবো না,করবো না।
তারা বেগম ঃ গোসল করবি খাডা,এই বলে আমাকে দোডাতে শুরু করে দিলো।
কিন্তু কিছুতে ধরতে পারলো না হারামজাদা, তুই ঘরে আসবি না,
আজ তোর একদিন কি আমার এক দিন,
এই বলে চলে গেল।এই দিকে দুপুর গডিয়ে বিকাল চলে আসলো,
কিন্তু ফারুক এর কোন খোঁজ খবর নাই।
তারা বেগম ছেলেকে পাগলের মতো খুজতে লাগলো,
কিন্তু কেউ কিছু বলতে পরলো না দেখে,হাঊমাউ করে কাঁদতে লাগলো
এই দিকে বাডির সমবয়সী বন্ধুরা ও খুঁজতে লাগলো।
ফারুক ঃআর পারছি না,কেউ তো আমাকে খুঁজতে আসলো না,
জঙ্গের ভিতর আর কতক্ষণ থাকবো।
যাই রাস্তার পাশে আমাগো মরিছ ক্ষেতে শুয়ে থাকি।
রিয়াজ ঃ ফারুক ভাইয়া ঐ যে মরিছ ক্ষেতের মাঝে শুয়ে আছে।
তাদের চৎকারে আমার ঘুম ভাঙ্গলো,যখনি পালানোর চেষ্টা করলাম
তখনি সবাই মিলে ধরে ফেললো।
তারা ঃ কোথায় গিয়েছিলি বাপ।
ফারুক ঃ এনিয়ে বিনিয়ে গল্প বানাতে না পারলে আজ আমার রক্ষা নাই।
আমি যখন একা একা গাছের তলে ,তখন বাবা আসলো
বললো কিরে তোর মা তোকে মারছে নাকি।
আমি বললাম মা আমাকে মারছে,আব্বু আমাকে
জঙ্গলে বসিয়ে বললো,তুই এখানে বস আমি আসতেছি।
তার পর আব্বু আসতেছে না দেখে,আমি মরিছ ক্ষেতে শুয়ে আছি।
তারা বেগম ঃ কি কছ বাপ,তারা বেগম এইবার হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। ছেলেকে বুকে জডিয়ে চুমো খেয়ে সোনা
রুপার পানি দিয়ে গোসল করিয়ে
ভাত খাইয়ে ঘুম পাডিয়ে দিলো।আরেকটা স্মৃতি কোন কারনে পা,
ফুলে গেছে হাটতে পারতেছি না,এতে তারা বেগমের ঘুম নেই।
কত কষ্ট করলো,কাদে করে,কোলে করে
আমি যেখানে যেখানে যেতে চাইতো,সেখানে সেখানে নিয়ে যেতো।
ছেলে মেয়ের জন্য অন্যের কাজ কর্ম করে দিতো
।এতে কেউ কোন খাবার দিলে,নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে তুলে দিতো।
নিজেই ছ্যাডা জামা কাপড পরলেও সন্তানকে ,
ভাল জামা কাপড পরিধান করাইতো।
তবে তারা বেগম এবং আবদুল হক মামা তো ফুফা তো ভাই বোন
তবে সংসার জীবনে তেমন সুখের ছিলো না।
একটু এদিক সেদিক হলে তারা বেগম কে মার ধোর করতো ।
তাই মাঝে মাঝে কাদঁতো আর বলতো
হে খোদা দুনিয়ার সবার মরণ হয়।আমার মরণ হয় না কেন?
তারা বেগমের সাথে অনেক সময় তার সন্তানরা ও কান্না করতো।
তারা বেগম ঃ কি রে আমি আমার দুঃখে কাদিঁ,আমি আমার মায়ের জন্য কাদি্‌
তোরা কান্না করোস কেন?
ফারুক ঃ আমরা তোমার জন্য কান্না করি।
তারা বেগমঃ আচ্ছা আমি যদি মারা যাই,তোদের বাবা
যদি আর একটা বিয়ে করে ,তাকে তোর মা ডাকবি।
ফারুক ঃ না কখনো আমরা তাকে মা ডাকতে পারবো না।
তারা বেগমঃ কেন সেই তোদের অনেক আদর করবে
,আমি তো তোদের মারি-বকা দিই,আমি তো ভালো না।
ফারুক ঃ তাহলে তো ভালোই হবে তোমার মতো
এই রকম মা জিবনে ও দেখি নাই।
তারা বেগম ঃ আচ্ছা আপনি কি কখনো লক্ষ্য করেছেন।
আবদুল হক ঃ কি
তার বেগম ঃ ছেলে দুটোকে মুসলমানি মানি করাতে হবে।
আবদুল হক ঃ হ্যা করাতে হবে,কি দিয়ে করাবে,ডাক্তার না খলিফা।
তারা বেগম ঃ আরে খলিফা দিয়ে করালে ভালো হবে না ,খলিফা কে ভয় পায়। সেই দিন বড় ভাবির ছেলেকে, মুসল মানি করাবার সময় ।
দু জনে পালিয়ে যায় তাই বলছি
ডাক্তারের কাছে করালে ভালো হয়।
যাতে ওরা কিছুতে বুঝতে না পারে।
আবদুল হক ঃ আচ্ছা ঠিক আছে ওরা কই।
তারা বেগম ঃ মনে হয় কোথাও খেলা করছে।
আবদুল হক ঃআচ্ছা ঠিক আছে আমি দেখছি ,
ফারুক,রিয়াজ তোরা কোথায় গেলি।
ফারুক ঃ জি আব্বু আমরা এই খানে।
আবদুল হক ঃ যা ভাল থেকে জামা কাপড পরিধান করি আয়।
তোদের কে নিয়ে বাজারে যাবো।বাজারে
যাওয়ার কথা শুনে আমরা দুই ভাই খুব খুশি।
কারন আমরা সব সময় প্রহরা দিতাম,
কখন আব্বুকে দেখবো,দেখলে কোন কিছু কিনে দিতে হতো,
নইতো টাকা দেওয়া লাগতো।নইলে পিছু ছাডতাম না ।
দুই ভাইয়ে জামা কাপড পরিধান করে বাবার সাথে রনা দিলাম।
আবদুল হক ঃ চল আমরা আগে নাস্তা করি, কি খাবি, আমরা
কোন কথা বললাম না।এমন সময় মেছিয়ার এলো ।
মেছিয়ার ঃ কি খাবেন।
আবদুল হক ঃ আমাদের কে তিনটা ভাজি আর রুটি দাও।
মেছিয়ার ঃ আর কিছু লাগবে।
আবদুল হক ঃ এই তোরা চা খাবি, তিনটা চা দেন।
আবদুল হক ঃ বিল কত হইছে।
মেছিয়ারঃ ঃ ত্রিশ টাকা।
আবদুল হক ঃ এই নেন।তারপর আমরা ডাক্তার দোকানে আসলাম,
আব্বু আমাদের থেকে একটু দূরে ডাক্তারেরে সাথে
কানে কানে কি যেন বললো।
ডাক্তার ঃ এই দুনজন কে?
আবদুল হক ঃ এটা বড় মিয়া, ওটা ছোট মিয়া।
বড় মিয়ার নাম ওমর ফারুক, ছোট মিয়ার নাম রিয়াজ।
ডাক্তার ঃ তোমার নাম কি ?
রিয়াজ ঃ আমার নাম রিয়াজ।
ডাক্তার ঃ বেশ সুন্দর নাম তুমি এই দিকে এসো।
ডাক্তার তার মিষ্টি কথার চলে ওকে সিষ্টেম করেদিয়েছে।
এই বার আমার পালা ।
ডাক্তার ঃ তোমার নাম কি ?
ফারুকঃ ঃ ওমর ফারুক।
ডাক্তার ঃ এই দিকে এসো।ডাক্তারের কথা মতো ভিতরে গেলাম।
ডাক্তারের সাথে আমাদের স্কুলের হেড মাস্টার ও ছিলো,
আমাকে শুয়ে দিলো যতবার লুঙ্গি উপরের দিকে তুললো
ততো বারেই নামিয়ে ফেললাম।এই বার কসে একটা চড় মারলো,
পিপডা কামডের মতো কিছু একা অনূভোব করলাম,
ডাক্তার আমাকে বললো ব্যাথা পাচ্ছো কি না,
আমি না পাইলেও চিৎকার করতে লাগম।
পরে আমাকে বেহুস করে সিষ্টেম করে দিয়ে ।
পরে যখন হুশ এলো দেখি লিঙ্গের মাথায় ব্যান্ডেস হাটতে পারতে ছিনা।
এই বার সবাইকে ভীষন গালাগালি করলাম।
আমি নাকি ঘরের বাইরে যেতে পারবো না, খেলতে পারবো না।
শুকনো শুকনো তরকারি দিয়ে ভাত খাইতে হবে।
ফারুক ঃ তোরা আমার আসল মা বাবা না, তোরা
কেন আমার এই ক্ষতি করলি ? আল্লাহ তুমি আমাকে নিয়ে যাও,
আমি কিছু খাইতাম না, এই ভাবে মুখে যা আসে বলতে থাকলাম।
এক সপ্তাহ পরে আমাদের কে উলঙ্গ করে পানিতে নামালো।
আমার লিঙ্গে মাছের লেজের আঘাতে আমার অবস্থা খারাপ।
আমার জন্য পাওডার, ঔষুধ, নিয়ে আসলো ।
আমি লাগাতে চাইতাম না ।যাক অনেক কষ্টের বিনিময়ে
আমার টা ভালো হলো।মুসলমানির খুশির উপলক্ষে
আমার আত্মীয়রা নতুন জামা কাপড দিয়েছে, এতে খুশি হলেও
ভিতরে ভিতরে কষ্ট পাচ্ছি ।সেই প্রতারনার ভেবে।
কয়েক বছর অতিক্রম হওয়ার পর হঠাৎ আমার নানু,
প্যারালাইসেসে পঙ্গু হয়ে যায়।এতে ঘরে পায়খানা প্রসাব করতেছে।
ছেলের বৌ তো নবাবেব বেটি সেবা করা তো দূরে থাক।
শাশুডি কে মা বলে ডাকার সেই সময় টা তার নাই।
এই দিকে মেয়েদের ভিতর মায়ের সেবা নিয়ে দ্বন্ধ চলছে ,
বৃদ্ধ মানুষ কতটা অসহায় একটু ঘর প্রতিবন্ধি হলে বুঝা যায়।
হোক না সেই যতই কটিপতি।
অশেষে সিধান্ত হয় তিন মেয়ে আছে
এক জনের কাছে এক মাস করে থাকবে।
এই বার তারা বেগমের পালা,খবর দেওয়া হলো রোজ শক্রুবার ।
বাবার বাডিতে গেল অসুস্থ মাকে নিজের কাছে আনার জন্য।
তারা বেগম ঃ আমার মাকে আমার কাছে দেয়,
আমি নিয়ে যাবো যদি মারা যায়,তাহলে সেখানে মাটি দিয়ে দিবো,
তোদের খবর ও দিবো না।আল্লাহ যেন আমাকে তোদের
চেহারা আর না দেখায়। এটা যেন আমার শেষ আসা হয়।
এইভাবে নিজে নিজে বকতেছে আর কানতেছে।
অবশেষে স্বামীর বাডিত নিয়ে এলো।
রোজ শনিবার ২০০২ সাল বৈশাখ কিংবা চৈত্রমাস।
সকালে মিষ্টি আলু সিদ্ধ করেছে খাওয়ার জন্য।
নিজে খাই নাই,ছেলে মেয়েকে খাইয়েছে।কিছুক্ষণ পর শুনতে ফেল
তার দেবর মিন্টু জমির আইল নিয়ে সেলিমের সাথে মারামারি করতেছে।
সেই খবর শুনে ছুটে গেছে দেবরকে বাঁচানোর জন্য।
মিন্টুর জন্য তার অন্য রকম মায়া আছে।
সেই নাকি আমার মায়ের হাতে বড় হয়েছে।
সেই সময় আমি ও রিয়াজ খেলা করতেছি,
বড় মেয়ে মামনা যাইতে চাইলো,তাকে গালি করে যাইতে দিল না।
জনৈক ঃ ফারুক তোর মা ঘুরে পডে গেছে মনে আর বাঁচবেনা।
ফারুক ঃ মা ওমা তোমার কি হয়েছে,চাচি ও জ্যেটি আমার মা কথা বলে না কেন?
জনৈক ঃ তোর আম্মু অসুস্থ্য,তোর বাবারে খুজে আন।
দুপুর বারটা আমি বারে খুঁজতেছি রাস্তায় রাস্তায় এমন সময় দেখতেছি
বাবা রিকসা চালিয়ে আসতেছে।
ফারুক ঃ আম্মু না অসুস্থ্য কথা বলতেছে না।
আবদুল হক ঃ চল তো গিয়ে দেখী।আব্বু এসে দেখে তারা বেগম অসুস্থ্য ।
সবার অনুরোধে মেডিকেল নিয়ে গেল।দুপুর দুইটা ছেলে
মেয়ের কোন খাওয়া দাওয়া নাই।আমি রাস্তায় দাঁডিয়ে আছি,
এমন সময় দেখলাম কাদতে কাদতে আব্বু আসতেছে।
ফারুক ঃ বাবা ও বাবা তুমি কান্না করতেছো কেন?
আবদুল হক ঃওরে বাপ তোদের মা আর নেই।মা নেই হঠ্যাৎ
কথাটা কেমন যেন মানতে পারতেছি না।
এর ভিতর আত্মীয় স্বজনরা কান্না কাটি শুরু করে দিয়েছে।
অন্য দিকে খবরটা চাচা ও মামাদের কাছে যায।
চাচা বি এন পির কয়েকজন নেতাদের কাছে বিচার দেয়।
ইতিমধ্যে মামারা আমার বাবাকে সাক্ষী রেখে,বাড়ীর কয়েকজন
প্রভাবশালী ব্যাক্তি ও আওমী লিগ সমর্থনকারী ব্যাক্তিদের
নামে হত্যা মামলা দায়ের করে।পরে যখন লাশের জন্য মেডিকেলে যায়।
ডাক্তারা ফোষ্ট মর্ড়ন ছাডা লাশ দেয় নাই।
তাই আব্বু খালি হাতে ফিরলো,অনেকের কাছে হাতে পায়ে ধরলো
,কিন্তু কেউ রাজি হলো না,তারা বেগমের লাশ আনার জন্য।
মামলা হওয়া থানা থেকে পুলিশ এসে,বাডির মানুষকে
নানা ধরনের প্রশ্ন করতে লাগলো।
পুলিশ ঃ আচ্ছা যিনি মারা গেছেন,তিনি কি ঘটনাতলে
উপস্থিত ছিলেন।কার কার সাথে মারামারি হয়েছে কেন হয়েছে?
জনৈক ঃ আমি কিছু জানি না,আমি কাজে ছিলাম।
এইভাবে পুলিশ নানান ধরনের প্রশ্ন শুরু করে দিলো।
অন্য দিকে বাডির অধিকাংশ পুরুষ পালাতক।
এই দিকে পুলিশ এর রাত নাই,দিন নাই যখন তখন তল্লাশি।
অন্য দিকে বি এন পির নেতাদের ও হয়রানি।
পুরো বাড়ি জুডে কেমন একটা আতংক ছড়িয়ে আছে।
তারা বেগমের বড় মেয়ে,মামনাকে পুলিশ কিছু কথা জিজ্ঞাস করলো।
পুলিশ ঃ আচ্ছা তোমার আম্মু কি মামামারির দিন সেখানে উপস্থিত ছিলো।
মামনা ঃআমি কিছু জানি না।
পুলিশ ঃ তুমি কোথায় ছিলে।
মামনা ঃ আমি ঘরে ছিলাম।
পুলিশ ঃ তোমার আব্বু কোথায় ছিলো।
মামনা ঃ আমার আব্বু কাজে ছিলো।
পুলিশ ঃ তাকে কে খবর দিলো।
মামনা ঃ আমার ছোট ভাই।
পুলিশ ঃ তার নাম কি?
মামনা ঃ ফারুক।
পুলিশ ঃ ঠিক আছে তুমি এখন যাও।
তিন দিন পর রোজ সোমবার হাসপাতাল থেকে খবর দিলো,
লাশ নিয়ে আনার জন্য।দুপুর ১২টা ফেনী সদর হাসপাতাল
থেকে লাশ নিয়ে এলো।লাশের পেট ফূলে পঁচে দূর গন্ধ বের হচ্ছে।
কপালে সেলাই,বুক থেকে শুরু করে নাভী পর্যন্ত সেলাই করা।
তা দেখে তারা বেগমের বড় মেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল।
ছোট ছেলে মেয়েদের কান্না ,প্রতিবন্ধি মায়ের কান্না
যে কোন নিষ্ঠুর মানুষের চোখের পানি বের করে ছাডবে।
আশে পাশের বাড়ির সবাই এলো তারা বেগম কে দেখতে।
আর আসবে না বা কেন?যার যখন প্রয়োজন না বললেও
সেখানে ছুটে গেছে।বিকাল ৩টা রোজ সোমবার দাপন সমপ্ন হয়েছে।
মামলার সপ্তাহ খানেক পর সেলিম,তার বাবা আবদুর সালামসহ
কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় বাকিরা পালাতক।

মামলা প্রায় ৬মাস চলতে থাকে,এই দিকে আবদুল হকের পরিবারটা
বাডির সবার চোখে অপরাধী হয়ে উঠলো।
অন্য দিকে যখন তখন থানাত যেতে হতো কোটে যাওয়া লাগতো।
আবদুল হকের একটা বড় ছেলেও নাই যে আয় রোজগার করবে
বাবাকে সাহার্য্য করবে।এক সময় মামলা চালানো দূষ্কর হয়ে ওঠলো।
তাই বাড়ির সবাই অনুরোধ করলো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য।
এতে তার তার ছেলে মেয়েদের জন্য ভাল হবে।
এক সময় কোন উপায় না দেখে মামলা তুলে নিলো।
তাছাডা ফোষ্ট মর্ড়ন রিপোট ও নাকি মিথ্যা বলে প্রমানিত।
আসামিরা বেখচুর খালাস পেয়ে যায়। আসলে এই দুনিয়াতে গরীবের বিচার নাই।
সত্য যখন মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়,তখন আর কিছু করার থাকে না।
দেখতে দেখতে দুই বছর কেটে গেল।তবে দুষ্টামি আগের মতো আছে।
বড় বোন আমাদের কে মায়ের মতো আগলে রাখতো
।তবে আমাকে মারধোর করলে,আমি ও মারধোর করতাম।
তার শাসন মেনে নিতাম না।২০০৪ সাল,ঘরে মা নেই
শাশুডি একটা ও অসুস্থ্য একটা ঘরে কোন বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে থাকে
তাকে যে কত জ্বালা সহর্য্য করতে সেই জানে
আর তার খোদা জানে।তবে চরম সত্য কথা মা না থাকার
শর্তে ও কেউ কোন অপবাদ দিতে পারে নাই।
পরে সবার অনুরোধে দ্বিতীয় বিবাহ করতে বাধ্য হয়।
তাই সবাই ভাল থেকে একটা মেয়ে দেখতেছে।
দেখতে দেখতে এক সময় পাত্রীর সন্ধান পাওয়া গেল।

তার নাম পেয়ারা বেগম ,স্বামী ভাল না, বাবা নেই মা আছে,তিন বোন এক ভাই ।
তার একটা মেয়ে আছে নাম প্রিয়া ।ভাই করাচি থাকে
,সেই আরেকটা বিবাহ করে সেখানে থাকে দেশের বাড়িতে আসে না,
তবে টাকা পয়সা দেয়।সবার সম্মতিক্রমে বিবাহের দিন
তারিখ ঠিক করা হয়।রোজ শুক্রু বার আমি বিবাহতে গিয়েছিলাম।
ফারুক ঃ আপু আব্বু না বিবাহ করতছে।
মামনা ঃ হ্যা জানি।
ফারুক ঃ আচ্ছা নতুন মা আমাদের কে আদর করবে তো।
মামনা ঃ হ্যা করবে।
ফারুক ঃ আমাদের মা থেকে বেশী।
মামনা ঃ হ্যা আমাদের মা থেকে বেশী করবে এতো আদর করবে
,যে আমাদের মা কে আর মনে পডবে না।
ফারুক ঃ আচ্ছা আপু আমরা আমাদের মাকে দেখি না কেন,
আমাদের মা কোথায় গেছে?
মামনা ঃ জানি না।
ফারুক ঃ আচ্ছা আর আসবে না?
মামনা ঃ হ্যা আসবে ।
ফারুক ঃ কবে আসবে ।
মামনা ঃ জানি না। আসলে দেখতে পারবি।এখন ঘুমা
বাবার সাথে নতুন মা দেখতে যাবি।
পরের দিন বাবা সাথে নতুন মায়ের বিয়েতে গেলাম।
আবদুল হক ঃ তোদের মা নাই,আমার বিবাহ করার কোন ইচ্ছা ছিল না,
তুই যদি মা ডাকছ সবাই ওকে মা ডাকবে আর
ও তোদের সন্তানের মতো দেখবে।আজ আমার মনটা খুব খুশি ,
কারন সৎমা আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছে,
আমাকে অনেক গুলো মিষ্টি খাইয়েছে।
প্রথমে আমাদের আপন সন্তান ভাবলেও ,পরে যখন নিজের
গর্ভে সন্তান আসতে শুরু করলো,তখন থেকে কেমন যেন হয়ে গেছে,
আসতে আসতে ভয়ানক রুপ নিতে থাকলো।
নানীরা খালারা ভাবতো এইবার একটা ছেলে জন্ম নিবে।
কারন গ্রামে মেয়েদের কদর খুব কম।
একটা পুত্র সন্তান জন্ম নিলে সতীনের ছেলে মেয়েদের
প্রতি হুকুমত চালাতে বেশী সুবিধা হবে।কিন্তু আল্লাহ
সবাইকে বেজার করে কন্যা সন্তান দিয়েছে।



শেপালি নামে এক আত্মীয় আমাকে ঊনার শাশুডির
মঙ্গের জন্য এয়াতিম হিসাবে নিয়ে গেল।
উনার দুই মেয়ে এক ছেলে।এক ছেলে,বাবলু,শেলি,আরেকটার নাম জানা নাই।
শেপালি নিজ সন্তানর মতো আমাকে রাগলি রাখলো।
আমি ও পুরো রমজাম মাস আচার ব্যাবহারে সবার মনে জায়গা করে নিলাম।
ঈদের দিন শেপালি বেগম আমাকে কিছু জামা কাপড় কিনে দিলো।
কিছু দিন পর আবদুল হক আসলো।
আবদুল হক ঃ আপা আপনি যদি বলেন আমি ওকে নিয়ে যাবো।
শেপালি বেগম ঃ আমি ওকে লেখা পড়া শিখাবো,আমি ওকে
আমার কাছে রেখে দিতে চাই,যদি কিছু মনে না করেন।
আবদুল হকঃ আমার কোন আপত্তি নাই।ওর যদি ভাল লাগে থাকবে।
আবদুল হকঃ কিরে তোর আন্টি বলতেছে উনার কাছে থাকার জন্য, থাকবি।
ফারুক ঃ না আব্বু ,আমি বাড়িত যাবো,যদি ও উনারা নিজের
সন্তানের মতো মনে করলে ও,আমার মনটা ছোট ভাই বোন,
ব্ন্ধু সোহেলের জন্য কাঁদছে।ঐ গ্রামের সবার কাছ থেকে
দোয়া নিয়ে তার পর বাড়ি ফিরলাম।পথি মধ্যে সোহেলের সাথে দেখা।
সোহেল ঃ কেমন আছোস ।
ফারুক ঃ ভাল আছি, তুই কেমন আছোস কান্না কণ্ঠে।
সোহেল ঃ আমি ও ভাল আছি কান্না কণ্ঠে।তার পর দুই জনে
কথা শেষ করে ঘরে ফিরলাম। সেই সময় বড় আপু আমাকে
বুকে জড়িয়ে,কান্না শুরু করে দিলো।
পেয়ারা বেগম ঃ হইছে ভাইকে জুড়িয়ে আর ঢং করতে হয়ে না।
কোন দুবাই থেকে রোজগার করে আসে নাই
।ঘরে অনেক কাজ পড়ে আছে ,শুধু সেজে ঘুজে বসে থাকলে হবে না।
কিছু করার নাই। বাবা পাথরের মূত্তির মতো দাঁডিয়ে আছে।
সৎ মা কে এতোটা ভয় পায়,যেটা মৃত্যুকে ও ভয় পায় না।
কি অদ্ভ্যুদ ব্যাপার,আবদুল হক সাহেব, যে মানুষ ঊন্নিশ
থেকে বিশ হলে,স্ত্রীকে মারধোর করতো,সেই আজ বৌয়ের ভয়ে কাচুমাচু।
বৌয়ের মুখের উপর কথা বলার সাহস রাখে না।
যে ছেলেটা থালায় ভাত নষ্ট করতো ,
সেই আজ ভাত বেশি খাওয়া নিয়ে খোটা শুনতে হচ্ছে।
একবারের বেশি দুই বার চাইতে পারে না।

পেয়ারা বেগম ঃ এই শুনছো।
আবদুল হক ঃ কি তুমি কিছু বলবে।
পেয়ারা বেগম ঃতুমি তো, আমার কোন কথাই শুনো না।
তোমার বড় পোলাটা খালি বেয়াদবি করে,
কথা বললে শুনে না,ওর সামনে মেয়েটা কান্না করতেছে
ও একটু কোলে ও নিল না ।এদের লেখাপড়া শিখিয়ে কি হবে।
তার চাইতে ভাল যদি কোন কাজে লাগিয়ে দিতে।
আবদুল হক ঃ আচ্ছা ও আজকে আসলে ,আমির বিচার করবো।
আবদুল হক ঃ ফারুক এই দিকে আয়।
ফারুক ঃ কি হয়েছে আব্বু ।
আবদুল হক ঃ তুই এতো বেয়াদব হলি কবে,তোর মার মুখে মুখে র্তক করছ। তোর বোনটাকে চাখের সামনে দেখলেও কোলে লস না কেন।
ফারুক ঃ আমার পড়া সমস্যা হবে।আর আমি তখন পড়তেছি,
সামনে আমার পরীক্ষা আছে।
আবদুল হক ঃ ঠাস আমার চোখের সামনে থেকে
দূর হয়ে যায়,বেয়াদব কোথাইগার।
ফারুক ঃ হায় খোদা আমার সাথে এই রকম কেন করা হচ্ছে।
মা তুমি কোথায় আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও।
হে আল্লাহ তুমি আমাকে মরণ দাও না কেন।
পেয়ারা বেগম ঃ সবাই ভাত খেতে আয়,সবাই ভাত খেতে এসেছে।
শুধু তারা বেগমের ছোট মেয়ে মোমেনা ছাডা।
ও একটু মোটা বলে প্রতি রাতে ভাত খাওয়া ওর নিষেধ আছে।
এতে বাবা ও কিছু বলে না।তারা বেগমের সন্তানের প্রতি একটা হুকুম
,যা কিছু চাইবে একবারেই চাইবে।দ্বিতীয় বার চাইতে পারবে না।
ফারক ঃ দোস্ত জানিস।
সোহেল ঃ না বললে কি করে জানবো।
ফারুক ঃ আম্মু যখন মারা যাবে,তার আগে আমাদের জিজ্ঞাস করতো,
আমি মারা গেলে তোদের বাবা যদি আরেকটা
বিবাহ করে তাকে মা ডাকবি তো,
আমরা না,মনে মনে ভাবতাম মা মারা গেলে হয়তো
স্বাধীন মতে চলতে পারবো।এখন দেখি তার উল্টো,
মাঝে মাঝে মনে হয় আত্ম হত্যা করি।
সোহেল ঃ এই কাজ ভূলে ও করিছ না।দেখবি এক সময় সব ঠিক হয়ে যাবে। পরীক্ষা দেওয়ার সময় সব ছেলে মেয়েরা তাদের পরীক্ষার ফ্রি
দিয়ে ফেলেছে,আর আমি সব সময় সবার পরে দিই।
এমনো দিন গেছে একটা খাতা, একটা কলমের জন্য লজ্জা স্কুলে যাই নাই।
ফারুক ঃ আব্বু আমার পরীক্ষার ফ্রি লাগবে।
আবদুল হক ঃ কত টাকা লাগবে।
ফারুক ঃ ৩০টাকা লাগবে।
আদুল হক ঃ আচ্ছা ঠিক আছে তোর মা কে বলে দেখী।কি বলে।
আদুল হক ঃ এই শুনছো।
পেয়ারা বেগম ঃ হুম কি বলবে বল।
আদুল হক ঃ ছেলেটার পরীক্ষার জন্য টাকা লাগবে।
পেয়ারা বেগম ঃ টাকা লাগবে সেটা আব্বুকে বলতে পারে,
কোথায় যায় কি করে সেটা তো আব্বু বলে না।
তুমি আদর করে করে ওদের খারাপ করে ফেলেছো।
আদুল হক ঃ আহা আস্তে কথা বলো মানুষে কি বলবে।
পেয়ারা বেগম ঃ হ্যা উচিত কথা বললে তো আমার দোষ।
আবদুল হক ঃ এই নেয় ৩০ টাকা সাথে ১০ বেশি দিয়েছে ,মায়ের অজনা মতে,
আর যখন মায়ের পিছনে টাকা দিতো ,তখন
বলে দিতো তোর মা যাতে না জানে।
পেয়ারা বেগম ঃ বাপ ছেলের কি ঢং মনে হয় দুবাই থেকে রুজি আনি দিবে।
এই বলে পেয়ারা বেগম সেখান থেকে চলে গেল
। রাতে পরীক্ষার জন্য পড়তেছি,পেয়ারা বেগম শুয়ে
আছে,রাত ৯টা বাজের ।
পেয়ারা বেগম ঃ খালি মাছির মতো ভ্যান ভ্যান করতেছে,শান্তি মতো
ঘুমাতে ও পারছি না।বাতির সব কেরোসিন শেষ করে ফেলতেছে
ফু দিয়ে বাতিটা নিভীয়ে দিলো।কিছু করার নাই সৎ মা বলে কথা।
ফারুক ঃ আব্বু মা আমার পড়ার সময় বাতি নিভীয়ে দিয়েছে,
আমি নাকি রাত জেগে সব কেরোসীন শেষ করে ফেলতেছি।
পেয়ারা বেগম ঃ শুনছো তোমার বড় পোলার কথা,আমি
নাকি ওকে পড়তে দিই নাই।আমি ওদের সৎ মা
বলে আপন মা হতে পারি নাই।আবদুল হকের কিছু করার নাই,
কারন বৌয়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সেই সাহস তার নাই।
পরে আমার আপুর বান্ধবী রুমা আপা আমার জন্য
দুই কেজি কেরোসিন কিনে নিয়ে আসে।
এই দিকে আপুর আমাদের কে নিয়ে সৎ মায়ের সাথে ঝগড়া বিবাদ লেগে যেতো।
তাই সৎ মা চাইতো কিভাবে সতীনের এই মেয়ে কে বিদায় করা যায়।
আপু কে এমন সব ভাষা ব্যাবহার করতো,যেটা বলার মতো নাই।
অবেশষে পরিচিত এক আত্মীয় সাথে আপু বিয়ে হয়।
তবে বিবাহের দিন আমি ছিলাম না,এমন কি বো ভাতের দিন ও আমি যায় নাই।
কারন বিয়ের কিছু দিন আগে, সৎ মায়ের সাথে আমার খুব ঝগড়া হয়।
কিন্তু আপু আমার পক্ষ না নিয়ে ,সৎ মায়ের পক্ষে যায় সেই জন্য অবশ্যই
দুই দিন পরে যাই,বাডির সবাই চেচামেচি করতেছে
বড় ভাই হিসাবে আমাকে নাকি যেতেই হবে যেতেই না
যেতেই বড় আপু আমাকে বুকে জড়িয়ে কান্না শুরু করে দিলো।
ফারুক ঃ আব্বা আমার গাইড় কিনার টাকা দেন।
আবদুল হক ঃ কত টাকা লাগবে
ফারুক ঃ৫০০ টাকা।
আবদুল হক ঃ তোর আম্মু কে বলি দেখি ও কি বলে।
আবদুল হক ঃ এই শুনছো এই দিকে এসো।
পেয়ারা বেগম ঃ কিছু বলবে।
আবদুল হক ঃ ছেলেটার গাইড় কিনার জন্য ৫০০ টাকা দাও।
পেয়ারা বেগম ঃ ও ছেলের জন্য এতো দরত উতলিয়ে পড়ছে।
আমার মাথার তেল নাই,মেয়েটার পরনের জামা নাই
। সেই দিকে তোমার কোন খেয়াল আছে,ও এতোবড় হয়েছে
নিজের গাইড় নিজে কিনতে পারে না,সতীনের সংসারে
এসে আমার হয়েছে যতো জ্বালা কালেই
আমি বাপের বাডিত চলে যাবো।
আবদুল হক ঃ শুনছোস তোর মা কি বলেছে।আমি আর একটা
কথাও বললাম না মাথা নিচু করে চলে আসলাম।
আজ আমার কাছে বাপ থাকা ,আর না থাকা দুটো এক মনে হয়।
আলা উদ্দীন ঃ কিরে আজ তোর মন খারাপ কেন।
ফারুক ঃআব্বুকে বলেছি গাইড় কিনার জন্য ৫০০ টাকা
দিতে কিন্তু আম্মুর বাড়াবাড়িতে আর দেয় নাই।
আলা উদ্দীন ঃ আমার সাথে কাজে যাবি তাহলে গাইড় কিনতে পারবি।
ফারুক ঃ কি কাজ।
আলা উদ্দীন ঃ রাস্তার কাজ অনেক টাকা পাবি।
ফারুক ঃ তাহলে চল।ভ্যাগের কি পরিহাস যে ,
ছেলেটি এক গ্লাস পানি ঢেলে খাইতো না।
সেই আজ রাস্তার কাজ করতেছে।
আলা উদ্দীনের সাথে কাজে গিয়ে কাজ করতে করতে
হাতে ফুসকা ওঠে মাথা জিম জিম করতেছে।
যখন আমার সহপাঠীরা আমাকে কাজ করা অবস্থায় দেখলো,
তখন লজ্জা আমার দুই চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগলো।
কিছু করার নাই ,কপালের লিখন কেউ বদলাতে পারে না।
কয়েক দিন এই ভাবে কাজ করে কিছু টাকা জমা করলাম।
সেই টাকা দিয়ে সৎ বোনের জন্য এক ডজন চুরি,একটা জামা ,
আর নিজের জন্য স্কুলের গাইড় কিনলাম।
আজ সৎ মা খুব খুশি,বাবা ও খুশি।
ফারুকের আদরের আজ কোন কমতি নেই।
কারন সেই আজ অর্থ উর্পাজন করে।
পৃথিবীর সব মানুষ সব ভালো ভাষা মায়া মমতা সব
যেন টাকার কাছে বন্ধি সেটা বুঝতে আর বাকি থাকলো না।
আমি যখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম,
তখন আমাকে তিনটা ছাত্রের টিউশন
করতে হতো।তাছাডা অন্যের বাডিতে
নারকেল সুপারি টাকার বিনিময়ে পেরে
দেওয়া ধীরে ধীরে শখে পরিনতো
হলো।এতে কেউ টাকা
দিতো,কেউ নারকেল দিতো।তবে কিছু
টাকা চুরি করে রেখে দিতাম।সেই
টাকা দিয় আনন্দ উল্লাস করতাম।
বিশেষ করে সাইকেল চালানোর
মজাইটা আলাদা ছিলো।ক্রিকেট ফুটবল
কোন খেলার কমতি নাই।অপর দিকে
আমার ছোট ভাই বোনেরা জেল
খানার কয়দির মতো বন্ধী
আবদুল হক ঃ খালি স্কুল আর খেলা ধুলা ছাড়া ,
তোর আর কোন কাজ নাই।
ফারুক ঃ কি কাজ করবো,আমি মেয়ে নাকি
যে উনার দাসী গিরি করবো।
উনার দাসী গিরি করার জন্য
আমার বোনেরা তো আছে।
আবদুল হক ঃ ঠাস নিজের মায়ের সাথে কিভাবে
কথা বলতে হয় শিখছ নাই।তুই
ওকে তো দাম দেয়ছ না,আমাকে ও
দেখছি দাম দেয়ছ না।স্কুলে কি এই
গুলো স্বীকায়,কাল থেকে স্কুলে
যাওয়ার কোন দরকার নাই। এই কথা বলে ,
আমার সব বই খাতা নিয়ে নিলো
ফারুক ঃ আমি যাবো,আমি কি আপনাদের
ঃ টাকা দিয়ে লেখা পড়া
ঃ করি,আপনারা তো,আমার পরীক্ষার ফ্রি গুলো ও দিতে পারেন না। আপনাদের কে শুধু টাকা রুজি করে
দিতে পারলে সেটাই ভাল হতো।
পেয়ারা বেগমঃ শুনছো,তোমার গুনধর ছেলের কথা,সেই তোমাকে
বাপ বলে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে, এই ছেলে তোমাকে খাবাবে
তো দূরে থাক,তুমি মরলে তোমার কবরে প্রসাব ও করবেন না।
আবদুল হক ঃ আজকে ওর এক দিন কি,আমার এক দিন।ধুম ,ধুম, ধুম,,
আমাকে মারতে দেখে,বড় আপু আসলো তাকেও মার।
বাড়ীর নানা জনে নানা কথা বলতেছে কিন্তু কারো কথা
কানে শুনতেছে না।পরের দিন সকালে খালার বাডিত
চলে গেলাম হেটে হেটে।
খালা ঃ কিরে তুই কোথায় থেকে এসেছোস,তোর পায়ে এতো ধূলাবালি কেন।
ফারুক ঃ এই দেখেন আমাকে আব্বা মেরেছে।
খালা ঃ আহারে মানুষ কে মানুষ এইভাবে মারে।
এই বলে খালার অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।
বড় খালার আবার চারটা ছেলে, কোন মেয়ে নাই।
বড় জামসেদ,মেজো মাসুদ,সেজো ফারুক,ছোট ছেলে খোকন।
আর খালতো ভাইয়ের বৌয়েরা আমাকে নিজের ভাইয়ের মতো আদর করতো।
কয়েক দিন পর আবদুল হক ও পেয়ারা বেগম আসলো আমাকে নেয়ার জন্য।
আমি তাদের দেখে পালিয়ে গেলাম।
আবদুল হক ঃ কিরে মাস্টার পালিয়েছে কেন।আপা আমি
ফারুক কে নিতে এসেছি।
খালা ঃ আগে ভাত পানি খান,আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো।
পরে খালা আমাকে অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে আব্বুর সাথে পাঠালো।
আমি চলে আসলাম,সমবয়সীরা আমাকে দেখে খুশি।
স্কুল থেকে আসার পর খেলাধূলা, নয় তো, বা চা দোকানে আড়্ড়া দেওয়া।
এই ভাবে কিছু দিন আরাছে কেটে গেল। আমি যখন পঞ্চম শ্রেণীতে
ছিলাম তখন আমার রোল ছিল ছয়।ক্যাপন্টেন
র্নিবাচনে আমি ক্যাপন্টেন হতে চাইনি,তবুও ছেলেরা
আমাকে ক্যাপন্টেন বানিয়ে দিলো।আমাদের সময় মাস্টারা
ছেলেকে দিয়ে মেয়ের কান, মেয়েকে দিয়ে ছেলের কান ধরাতো,
আর বিভিন্ন প্রকারের শাস্তি তো আছেই।
আমি লেখাপড়া খুব ভাল ছিলাম।বিরতির সময় সবাই যখন খেলা
ধূলা করতো,আমি তখন ক্লাসে বসে
শিক্ষকদের পড়া মুখছস্ত করতাম।আমার এই আচরণ অনেক
শিক্ষকদের কাছে পছন্দনীয় হয়ে ওঠলো।
ক্যাপন্টেন হিসাবে আমি তেমন দায়িত্ব পালন করতাম না।ব
রং যেই ছেলেগুলো মেয়েদের কাছে হিরো হতে চাইতো তাদের কে দায়িত্ব দিতাম।
আমি যখন পঞ্চম শ্রেণীতে ছিলাম ,তখন এক মেয়ে আমাকে অপার দিয়েছে
,নাম নাদিয়া সুলতানা নিঝুম।দেহের গড়ন চিকন,গায়ের রং
শ্যামলা লেখা পড়া ও ভাল ছিল পছন্দ করার মতো।
আমি ফ্লোরে দাঁডিয়ে আছি এমন সময় কামরুন নাহার
এসে আমাকে বললো,ফারুক ভাই নিঝুম না কি আপনার বৌ।
ফারুক ঃ নিঝুম কোথায়।
কামরুন নাহার ঃ পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ফারুক ঃ তুমি কামরুন নাহার কে কি বলেছো, তুমি না কি আমার বৌ।
নিঝুম ঃ চুপচাপ কোন কথা নাই।
ফারুক ঃ এইবার দিলাম লাথি।অল্পের জন্য পানিতে পড়ে নাই।
এইটা আমাদের র্ধমীয় শিক্ষক দেখেছে।
পরে উনার ঘন্টার সময় আমাদের দুই জনকে জিজ্ঞাস করেছে।
স্যার কিরে কেন ওকে লাথি মেরেছোস।
ফারুক ঃ ও আমার মা কে গালি দিয়েছে।
স্যার ঃ ওর মাকে কেন গালি দিয়েছোস।
নিঝুম ঃ চুপচাপ, এই স্যার দুই জনকে মারলো।ওকে আমি পছন্দ
করতাম তা নয়, আমি নিজে ও পছন্দ করতাম।
ছুটির পর ওদের পিছু পিছু সাইকেল চালাতাম।
কিন্তু আমার মনের কথা বলতে পারতাম না।
কারন ঘরে সৎ মা,সব সময় আমার দোষ খুজে বেড়ায়।
তিন বেলা তিন মুঠ খেতে পারি না, তার আবর প্রেম।
অন্য দিকে ওর মামাদের সাথে ,আমাদের বিকাল বেলা আড়্ড়া চলে।
আর অর্থের দিক দিয়ে আকাশের চাঁদের মতো।ওকে ভাল বাসা আমার
কাছে কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।ছষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির সময় ও এক স্কুলে
আমি আরেক স্কুলে ভর্তির হলাম।ও মাঝে মাঝে আমাদের স্কুলে আসতো
,আমাদেরকে দেখতে, আমি ওর সাথে কথা বলতাম না।
এইভাবে দুই বছর কেটে গেল,অষ্টম শ্রেনীতে পরীক্ষা।
এই টিউশনি অন্য দিকে ছোট বোনকে স্কুলে ভর্তির জন্য নাম শিখাতে হবে।
ফারুক ঃ মোমেনা এই দিকে আয়।
মোমেনা ঃ জ্বী ভাইয়া বলুন।
ফারুক ঃ লেখতে বস এটা লেখ ,ঐটা লেখ , ঊ হচ্ছে না ধুম ধুম।
আবদুল হক ঃ কিরে ওকে মারছ কেন?
মানুষের ছেলে মেয়েকে,শিকাতে পারছ ।তোর শিকাতে হবে না,
আমি ওর জন্য মাস্টার রাখবো।
ফারুক ঃ রাখেন আমি মানা করছি না কি।
আবদুল হক ঃ এখন অনেক বড় হয়ে গেছিস তোর যেই দিকে মন চায়
,সেই চলে যায়। আর পারছি না, সেই সাথে বোনাস মুখে যা আসে
তাই বলতে লাগলো হিসাবে মারতো আছে।আজ আপু শুশুর বাড়ি,
থেকে আমদের বাড়িত বেড়াতে এসেছে।কিন্তু আমার মায়ের মতো,বোন
আমার বিরুদ্ধে গেল।আমি আর এখানে থাকবো না।
তাই বোনের কাপড়ের ব্যাগ থেকে 40 টাকা চুরি করে, নিয়ে নিলাম।
রাতের বেলা একটা চুরি একটা শাট প্যান্ট নিয়েছি।
মোমেনা কে কিছু উপদেশ দিলাম।তোদের কাউকে কিছু বলবো না,
আমাকে মাপ করে দেয়।রাতে আব্বু এসে আমাকে ঘুম
থেকে তুলে তরমুছ কেটে আমাকে খেতে দিলো।
আমি তা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠে
মেইন রাস্তার কাছে চলে আসলাম।তারপর কেউ যাতে না দেখে,
সুযোগ বুঝে ফেনী দর গাড়িতে ওঠলাম।20টাকা দিয়ে চট্টগ্রামের
একটা টিকেট নিলাম।আমি কখনো চট্টগ্রাম আসি নাই।
তাই মানুষকে জিজ্ঞাস করলাম চট্টগ্রামের ট্রেন কোন দিক দিয়ে আসবে।
তারপর ট্রেনে উঠলাম সিট নাই,দাড়িয়ে আছি,দুপুর একটার দিকে চট্টগ্রাম পোঁছলাম। একে একে সবাই নেমে যাচ্ছে,আমি নেমে ষ্টিশনে বসে কান্না শুরু করে দিলাম।
কোথায় যাবো কি করবো কিছুই জানি না।
এই দিকে খেদে পেটের ভিতর বাজনা বাজছে।পকেটে বিশটা টাকা আছে।
বসে কাদতেছি।এমন সময় একটা লোক আমাকে জিজ্ঞাস করলো
জনৈক ঃ তুমি কাদছো কেন?
ফারুক ঃ আমার ঘরে সৎ মা,সেই আমাকে দেখতে পারে না।
আব্বু সব সময় সৎমায়ের কথা মতো চলে, আমার
যাওয়ার কোথাও জায়গা নাই,আমি শহরের কিছু
ছিনি না, আপনি আমাকে একটা কাজ দেবেন।
জনৈক ঃ আমার সাথে চলো।
ফারুক ঃ চলেন।
জনৈক ঃ নানা একটা কাজের লোক পাইছি, ছেলেটার ঘরে ,
সৎমা, ওর কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। ওকে রেখে দেন।
দোকানদার ঃ তোমার কে কে আছে।
ফারুক ঃ দুই ভাই,তিন বোন সৎ মা আমাদের দেখতে পারে না,
বাবা আমাকে ঘর থেকে ভের করে দিয়েছে।
মালিক ঃতুমি এই খানে কত দিন কাজ করবে।
ফারুক ঃ আপনি যত দিন চাইবেন তত দিন।
মালিক ঃপালাবে না তো।
ফারুক ঃ পালাবো কেন?
মালিক ঃ কিছু খেয়েছো।
ফারুক ঃ না,কিছু খাই নাই।
মালিক ঃ লোকমান এই দিকে আয়,(আমাকে যে লোক নিয়ে
গিয়ে ছিলো তার নাম লোকমান।
লোকমান ঃ নানা বলুন।
দোকানদার ঃ ওকে ভাত খেতে দেয়।
লোকমান ঃ ফারুক এই দিকে আয়,ভাত খেতে বস।আমি ভাত
খাওয়া শেষ করে নানার কাছে আসলাম।
বয়স্ক বিধায় সবাই উনাকে নানা ড়াকে।
দোকানদারঃ হুমায়ন এই দিকে আয়,হুমায়ন হচ্ছে গ্লাস বয়দের লিডার।
হুমায়ন ঃ জ্বী নানা বলুন।ছেলেটকে কাজ শিখাবী,ছেলেটা
নতুন ও শহরের কিছু ছিনে না,জানেনা।
যে হাত গুলো,দুষ্টামীতে ভরপুর ছিলো ,সেই হাত গুলো
আজ টেবিল মুছার কাজে ব্যাস্ত।
এই ভাবে এক সপ্তাহ কেটে গেল,তারপর নাইট ডিউটি।বার ঘন্টা করে ডিউটি।
দিন রাত ২৪ঘন্টা ডিউটি।দুই চোখ বেয়ে কষ্টের অশ্রু গডিয়ে পডছে।
সারা রাত জেগে কিভাবে কাজ কবরো।
তার পর ও এই ভেবে শান্তি পাচ্ছি,আজ আমাকে খাবার নিয়ে খোটা শুনতে হচ্ছে না। চোখের সামনে ভাই বোনদের অত্যাচার সর্হ্য করতে হচ্ছে না।
আমি নাইট সর্হ্য করতে পারি নাই বিধায়,
আমাকে মালিকের মুরাদ পুর আরেকটা হোটেলে পাঠিয়ে দিয়েছে।
সেখানে ৮ ঘন্টা করে ডিউটি নাইট করতে হয় না।
আমাদের বাড়ীর দূর সর্ম্পকের এক আত্মীয় সাথে পরিচয় হলো।
কিছু দিন যাওয়ার পর এক গ্রার্মেন্ট শ্রমিক তার ভাতের,
ফ্যাছের গরম পানি, ভূল বসত আমার হাতের ওপর ঢেলে দেয়।
সঙ্গে সঙ্গে হাত ফুলে গেছে,মালিক আমাকে অনেক ওষুধ কিনে দিলো,
এক সপ্তাহের ছুটি দিতে চাইলো কিন্তুআমি নিলাম না।
ব্যাথার যন্ত্রনায়,ছট পট করতেছি তবু ও বাডিত গেলাম না।
মাস খানেক লাগলো,হাত ভাল হতে।এক হাতে সমস্ত কাজ করেছি।
এরপর সুস্থ্য হয়ে য়াই।কয়েক মাস চাকরি করার পর দেখতেছি চাকরিটা পেটে ভাতে। তাই সেখান থেকে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যাই।
আরেকটা হোটেলে ক্যাফে শাহাজালাল।
এখানে মাসে ৩০০ টাকা ধরে চাকরি নিই।
কয়েক মাস চাকরী করার পর আমার বাবা সোহেল কে নিয়ে চট্ট গ্রাম আসে।
সুমনের মাধ্যমে সেই আমাদের বাড়ীর দূর সর্ম্পকের আত্মীয়।
যার সাথে আমার মুরাদ পুর পরিচয় হলো।
আবদুল হক ঃ ওরে বাপ তুই কেমন আছোস,কান্না কণ্ঠে।
তোকে কত না,জায়গা খুঁজছি।তুই যা চাছ তোকে
তা দিবো,আমার সাথে চল।
ফারুক ঃ আমি যাবো না,আমি তো খারাপ আমি
আপনাদের সবাইকে বিরক্ত করি।
আমি আমার মতো আছি,আমাকে
আমার মতো থাকতে দিন কান্না কণ্ঠে।
পরে দুই জনকে ভাত খাইয়ে,দোকানদার থেকে পাওনা টাকা বুঝে নিয়ে,
আব্বুর হাতে দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রনা দিলাম।
কিছু দূর যাওয়ার পর আবার পালিয়ে গেলাম।
এরপর বড় দীঘির পাড় চলে আসলাম,সেখানে মেছিয়ার হিসাবে চাকরী নিলাম।
আব্বু আবার ও খোঁজ পাইলো,এইবার শাহ আলম নামে এক ভাইকে নিয়ে আসলো।
দুই জনকে ভাত খাইয়ে মালিক থেকে আমার পাও না, বুঝে নিয়েছি।
এইবার আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তেমন জোরাজোর করলো না।
তবে যাওয়ার সময় আমাকে মালিকের হাতে তুলে দিলো।
এরপর দোকানদার আমি যে দিকে যাইতাম, আমার কাছে জবাব চাইতো।
কয়েক মাস চাকরি করার পর, মালিক থেকে চাকরির অবসর চাই।
তারপর এক বন্ধুর মাধ্যমে সরকার হাট চলে যাই।
এখানে ও বাবা আমার খোজ জানতে পেরে যায়।
সেখানে কিছু দিন চাকরি করার আবারো পালিয়ে পর মদন হাট আসি।
এখানে আরামছে চাকরি করতে থাকি।
দোকাদারের নাম আজম খুব ভাল মানুষ ছিলেন।
কয়েক মাস চাকরি করার পর,প্রতি মাসের টাকা উনার কাছে জমা রাখি। এবার সিদধান্ত নিই হোটেলের চাকরি আর করবো না।
অন্য কিছু করবো, উনি ও হাসি মুখে আমার পাও না বুঝিয়ে দিলেন।
হাসি মুখে উনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, চলে আসলাম শেরশাহ ।
এখানে এসে থাকার মতো একটা বাসা খুজছি।
অবশেষে ছকিনা নামের একজনের কাছে ব্যাচার হিসাবে থাকলাম।
এইবার একটা চাকরি দরকার।
বড দীঘির এক মেছিয়ারের মাধ্যমে নতুন পাড়া গ্রার্মেন্টছে একটা চাকরি পাই।
কিছু দিন চাকরি করার পর সেই চাকরি ছেড়ে দিই।
এইবার নাইম গ্রার্মেন্টছে ইমব্রড়ারিতে একটা চাকরি পাই।
ছকিনার স্বামির সাথে ঝগডা করে চলে যায় বায়োজিদ।
ম্যাছ গ্রার্মেন্টছে হেলাল নামে একজনের সাথে আমার পরিচয় হয়।
তার খালার কাছে ব্যাচালার হিসাবে রইলাম।
নাইম গ্রার্মেন্টছ থেকে চাকরি ছেডে দিয়ে ম্যাস গ্রার্মেন্টছে একটা চাকরি নিলাম।
ওর খালাকে আপু বলে ডাকতাম,এখানে অনেকের সাথে আমার ভাল সর্ম্পক হয়,
এক সময় হেলালের গ্রামের বাডি গাইবান্ধা বেডাতে যাই।
গ্রামের বাডির সবাই আমাকে অনেক আদর করলো।
আমাকে উনার এক মেয়ে বিবাহ করার জন্য বললো,
কারন আমার যে মা নাই সেটা উনারা জানে।
তবে করি নাই,কয়েক মাস পর উনার পুরো ফ্যামেলি গ্রামের বাডিত চলে যায়।আবারো ছকিনা আন্টির বাসায় চলে আসলাম।
একবার উনাদের সাথে উনাদের গ্রাম কুমিল্লা নাঙ্গলকোট গেলাম।
সেখানে উনার আত্মীয়দের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিলো।
আসার পথে উনারে সবাই ট্রেনে এক কারায় ওঠলো,আর আমি আরেক কামরায়।
এতে উনার দুই মেয়ে,আইরিন ও রোকসানা কান্না শুরু করে দিলো।
ওরা মনে করছিলো আমি ট্রেনে ওঠতে পারি নাই।
পরে যখন আরেক ষ্টিশনে এসে ট্রেন থামলো,
তখন তাদের কামরায় চলে আসলাম।
এতে ওরা কিছুটা শান্তনা পেল।তবে ম্যাস গ্রার্মেন্টছে কয়েক জনের সাথে আমার ভাল সর্ম্পক হয়।তার মধ্যে শাহ আলম অন্যতম। এবার ম্যাস থেকে চাকরি ছেডে দিয়ে KDS চাকরি।তবে উনার সাথে প্রায় সময় যোগায়োগ হতো।কয়েক মাস পর শাহআলম এর মাধ্যমে তার খালা শাশুডি শামসুর নাহার এর বাসায় চলে আসলাম। এখানে ও কয়েক মাস থাকার পর ।
হেলালের মাধ্যমে সেনা বাহিনীর ক্যান্টিনের চাকরি নিলাম।
সেখানে আমার পরিচয় জানতে চাইলো,সেই সাথে
ছবি আমি সব কিছু সঠিক দিয়ে ছিলাম।
পরে এই গুলো তদন্তের জন্য আমাদের গ্রামের বাডিত থানা থেকে পুলিশ পাঠালো,
পরে পুলিশ রির্পোট দিলো আমি যেই ঠিকানা দিয়েছি সেটা না কি ভূয়া।
এতে মেজর,জেওসি ,সবাই আমার প্রতি গরম হয়ে যায়।
আমি তো জানি এটা কেন হয়েছে।
আমি পালিয়ে এসেছি সেটা তো উনারা জানে না,এমন কি হেলাল ও কিছু বললো না। তবে চাকরিটা আমার অপছন্দ কারণ প্রছুর কষ্ট করতে হতো।কোন ছুটি নাই।
কোন মতে কোসলে সেখান থেকে চলে আসলাম আবারো শামসুর নাহার বাসায়।এখানে থাকা কালিন কুমিল্লা হাসেম ,পুর ছিয়োড়া গ্রামে গেলাম উনার ছেলের বিয়েতে। সেখানে ও সবাই আমাকে পছন্দ করে বসে।
এখানে বছর খানেক থাকার পর ,উনার ছোট মেয়ে শিরীন এর কাছে চলে আসলাম। উনার এক মেয়ে কোন পুত্র সন্তান নাই।
তবে আমাকে নিজের ছেলের মতো মনে করতো।
উনার স্বামী হাসানের বাবা মারা যাওয়ার পর।লক্ষীপুর জেলা,
রাখালিয়া খিদের পুর গ্রামে গেলাম।
সেখানে অনেকে পছন্দ করলো,হাসানের এক চাচাতো বোন কে
বিবাহ করার জন্য বললো,কিন্তু করলাম নাই।
উনার ভাগ্নির বিবাহতে ও গেলাম।যথেষ্ঠ আদর সমাদর পেলাম।
আজ ও আমি চড়ুই পাখির বাসার মতো বাসা বাঁধি।জানি না এর শেষ কোথায়।তবে ঘুমের ভিতর আজ ও সেই স্মৃতি গুলো ভেসে বেড়ায়।আজ ও আমি একলা থাকতে পছন্দ করি।সৎ মা সারা জীবন সৎ মা হিসাবে থেকে যাবে।
সেই যাদের কষ্ট দিবে তারাই বদলিয়ে যাবে ।
সেই কেবল বর্তমান পেয়ে খুশি, ভবিষৎতে তার কি হবে সেটা সেই ভূলে যায়।
সৎ মা নিয়ে অনেক নাটক সিনামা হচ্ছে এবং ভবিষৎতে ও হবে।
এই সব নাটক সিনেমার শেষ আছে কিন্তু বাস্তবে যে সৎমা আছে ।
তার যে ঘৃণা ,লোভ লালসা আছে এর শেষ কোথায়,আজ আমি কালকে আরেক জন।


উপসংহার
আমি ঘৃনা করি, সেই সমস্ত মায়েরদের যারা

মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করে ।

কখনো মা হতে পারে না ।

ঘৃনা করি ঐ সমস্ত পুরুষদের,

যারা বৌয়ের ভয়ে কাচুমাচু

বৌয়ের ওপর কথা বলার সাহস যাদের নাই ।








শেয়ার করুন