বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ভয়নষ্কর সেই রাত


 

ভয়নষ্কর সেই রাত

ওমর ফারুক

তখন 1971 সাল বাংলায় –

নব জাগরনের জোয়ার বইছে ।

আজ নিজ অধিকার আদায়ে ,,

    বাংলার মানুষ  মরিয়া ।

এর মধ্যে শেখ মজিব –

    স্বাধীনতার ডাক দিলেন ।

এই বারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম ,,

এই বারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ,,

তোমাদের কাছে যা কিছু আছে ,,

   তা নিয়ে শএুর মোকাবেলা করবে জয়  বাংলা।

এর পর পাক হানাদার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় ।

1971 সাল পঁচিশে মার্চ ,,

চার দিকে ঘোর অন্ধকার ।

গ্রামের পরিবেশের সাথে –

  শহরের পরিবেশ ও খাপ খাইয়েছে ।

  কোথাও জন মানবের চিহ্ন নাই ।

আমার পরিবারে আমরা সাত জন ।

মা-বাবা,আমি ভাই –ভাবি বোন ভগ্নীপতি ।

আমি তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন 

ঘুমের রাজ্যে দানবেরা এসে –

      আমাকে শাসাতে লাগলো ।

চার দিকে চিৎকার চেচামেচি কান্নার শোরগোল ।

আগুনের র্স্পশে আমার ঘুম বাঙ্গলো ।

চোখ মেলতে মা-বাবার লাশ ,,

বামে তাকালে সিংহের খপ করে দিদির দেহ ।

শুকুনেরা তখনো বোদির সাথে –

    কুসতি লড়তে লাগলো ।

বোদির ছেলেটি ছিল –

    পশুদের পদ তলে ।

আমি কান্না জড়িত কণ্ঠে –

 এই দিক সেই দিক –

ঘুরাঘুরী করতে লাগলাম দেখলাম !

এই দৃশ্য আমার একার নয় –

বাংলার প্রতিটি মানুষের !

    বাংলার প্রতিটি গৃহে –

শুকুনেরা হানা দিয়েছে ।

আগুনের লেলিহান শিখা ,,

 দানবের চেহারা ফুটিয়ে তুলছে ।

বৃষ্টি হয়ে ঝরছে –

        বন্ধুকের গুলি ।

গ্রামের পর গ্রাম মাঠের পর মাঠ

  শহরের অলি গলি ভূতুড়ে পরিবেশ ।

ভোর হতে দেখি লাশের পর লাশ ।

কোনটার দেহ আছে মাথা নাই ।

কোনটা মুখ থুবড়ে গেছে ,

কোনটার চিহ্ন বিচিহ্ন দেহ ।

যে কুকুর গুলো খাবারের জন্য –

ঘেউ ঘেউ করতো ,

   তারা ও আজ নিরুদ্দেশ ।

লাশ গুলো বাংলা আনাসে কানাসে –

ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলো ।

মানুষ প্রাণের ভয়ে আত্মীয় স্বজন ছেড়ে-

ভিন দেশে চলে যাচ্ছে ।

বেচে থাকলে তাদের খোজ নিবে ।

ভয়নষ্কর সেই রাত –

এখনো চোখ মুদালেই ভেসে ওঠে ।

শেয়ার করুন