শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বাল্য বিবাহ








 

 

 বাল্য বিবাহ

ওমর ফারুক

ঘটক সাহেব ডাক দিয়া কয় –

   রহিম মিয়ারে !

মেয়ে তোমার ডাঙ্গর হইছে –

   বিবাহ দিবা না তারে

আমার কাছে পাত্র আছে ,

 বিরাট বড় লোক –

তোমার মেয়ে সুখে থাকবে ,

এই কামনা হোক ।

রহিম মিয়া ডাক দিয়া কয় ,

মেয়ে আমার আইজ ছোট ,

  সবে ক্লাস পাইভে ,

এই বয়সে কেমনে বিয়া দিমু তারে ,

আমার ইচ্ছা ছিলো তারে ,

 লেখা পড়া শিখামু !

ওরে আমি বড় করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার  বানামু।

ঘটক সাহেব বড়ই পাজি,

বুদ্ধি তার খেক শিয়ালি ,

তোমার ঘাড়ে ভূত চেপেছে ,

  মেয়ে মানুষ সমাজের কি উপকারে আসে ।

  ওদের কাজ রান্না বান্না ঘরের ভিতর থাকা ,

     শুশুর শাশুড়ির যত্ন নেবে ।

  ‍গুরুজনদের করবে আদব,

     স্বামীর করবে সেবা ।

       নইলে তাদের ইহকাল পরকাল ,

সব যাবে ব্যাথা ।

নানান জনে নানান কথা ,

  যখন তোমায় বলবে ,

মেয়ের জন্য চুন কালি ,

  মুখ তোমার পুড়বে ।

রহিম মিয়া চিন্তা করলো ,

 আসলে তো ঠিক ,

মাইয়া মানুষ ধরে রাখলে সমাজের ক্ষতি ,

  মেয়ের সাথে কথা বলে দেখবো আমি ।

পাত্র আমার চেনা জানা দেখার কিছু নাই ।

রাজী থাকলে বলো আমায় ,

  আগামী জুমাই আয় ।

ঐখানে সব কিছু বলি  ।

রহিম মিয়া ঠিক আছে ,

   তুমি যা বুঝো ।

মেয়ে আমার একটা ,

 বুঝে শুনে করো ।

তোমার মেয়ে আমার মেয়ে তপাত কিছু নাই ।

পরের হাতে তুলে দিলে শান্তি খুঁজে পাই ।

রহিম মিয়া ঘরে গেল ,

ডাকলো মেয়েরে ।

তোমার জন্য পাত্র দেখলাম ,

   বিরাট বড় লোক ,

দাবি দাওয়া নাই তাদের ,

সুন্দরী আর সামাান্য লেখাপড়া জানা হোক ।

বাবা আমি এখন করবো না তো বিয়া ,

পাড়ার লোকে আমায় যত করুক রিয়া ।

আমি এতো কথা শুনতে নাহি চাই ।

কথা আমার একটা ,

   তোমার বিয়ে ঐ ছেলের সাথে ,

জবান আমার পাক্কা ।

ঘটক সাহেব সব কিছু ঠিক ঠাক করে ,

  বিবাহের দিন ধার্য্য করে ।

মেয়ের বয়সের চাইতে তিন গুন ,

  পাত্রে কাছে বিয়ে দেয়  ।

মেয়েদের চাওয়া পাওয়ার কোন দাম নাই ,

টাকার কাছে মূর্খ সমাজ ,

মেয়েরা সর্বদা অসহায় ।

 

 

  

শেয়ার করুন