অথনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অথনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২০

বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি নিজেদের উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি নিজেদের উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমদের যে গ্যাস আছে তা আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করব।’
রাশিয়ার গাজপ্রমের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সংসদ ভবন কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাত শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে এবং পরে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘রাশিয়া সব সময় আমাদের সহায়তা করেছে, তারা মুক্তিযুদ্ধের পর চট্টগ্রাম বন্দরের চ্যানেল নৌযান চলাচলের জন্য খুলে দিতে মাইন অপসারণে তাদের নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করেছিল। মাইন অপসারণ করতে গিয়ে রাশিয়ান নৌবাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছিলেন।’ 
শেখ হাসিনা বলেন, রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশ রূপপুরে নিজেদের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী গাজপ্রম প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মাধ্যমে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শুভেচ্ছা জানান।
সরকারি ঋণ দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা চাপে পড়বে বেসরকারি খাত

সরকারি ঋণ দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা চাপে পড়বে বেসরকারি খাত

ছয় মাস ১২ দিনে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে ৫১ হাজার কোটি টাকা। যেখানে পুরো বছরের ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাস ১২ দিনেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চার হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যেভাবে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিচ্ছে, এটা অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ ছেড়ে যাবে এ ব্যাংক ঋণ। এতে চাপে পড়ে যাবে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারের ব্যয়ের প্রবণতা বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে নানা খাতে ব্যয়। কিন্তু ব্যয় অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রায় নির্ধারিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না।
অপর দিকে বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীও আর আগের মতো বিদেশী ঋণ অবমুক্ত করছে না। পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকেও আগের মতো সরকার ঋণ পাচ্ছে না। সবমিলিয়ে বাজেট ঘাটতি বেড়ে গেছে। আর এ ঘাটতি মেটানোর জন্যই ব্যাংক থেকে অতিমাত্রায় ঋণ নিতে হচ্ছে।
সাবেক এ গভর্নরের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে ঋণ নিলে সরকারের জবাবদিহিতা কম করতে হয়। কিন্তু দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে ঋণ নিলে নানা জবাবদিহিতা করতে হয়। সবমিলিয়ে সরকার স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ওপরই নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ব্যাংকব্যবস্থা থেকে অতিমাত্রায় ঋণ নেয়ায় বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ চাপে পড়ে যাবে বলে ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ মনে করেন।
তিনি বলেন, যে হারে সরকার ঋণ নিচ্ছে তাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো সরকারের ঋণের জোগান দিতেই হিমশিম খেতে হবে। বেসরকারি ঋণ দেয়ার মতো অর্থ তাদের হাতে থাকবে না। কারণ মানুষ ব্যাংকে আমানত রাখা এর মধ্যে কমিয়ে দিয়েছে। অপর দিকে ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণে ব্যাংকগুলোও সমস্যায় পড়ে যাবে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে অবাক হওয়ার বিষয় হলো, সরকারের এ ব্যাংকব্যবস্থা থেকে অতিমাত্রায় ঋণ নেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকও সাপোর্ট করছে। ইতোমধ্যে মুদ্রানীতি সংশোধন করে সরকারের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে, যা মোটেও ঠিক হয়নি। এটা অর্থনীতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না বলে মনে করছেন সাবেক এ গভর্নর।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক তার এক বছরমেয়াদি মুদ্রানীতিতে সরকারের ঋণের লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। সম্প্রতি এ মুদ্রানীতি পরিবর্তন করে জানানো হয়, মুদ্রানীতিতে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তা বাড়িয়ে আগামী জুন শেষে ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
যদিও ডিসেম্বর শেষে সরকারের ঋণ বেড়েছে আগের বছরের চেয়ে ৬০ শতাংশ। তবে বেসরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ বেসরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ দশমিক ৮ শতাংশেই রাখা হয়েছে। যদিও ডিসেম্বর শেষে তা বাস্তবায়ন হয়েছে ১০ শতাংশের কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিমাত্রায় ঋণ নেয়ার অন্যতম কারণ হলো সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণগ্রহণ অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়া। চলতি বছরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সাথে আরো কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহক আর আগের মতো সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন না।
যেমন সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২১ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণগ্রহণ কমেছে ৭৩ শতাংশ।
দ্বিতীয় কারণ হলো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। যেমন- চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ, যেখানে আগের বছরে ছিল প্রায় ৮ শতাংশ। অপর দিকে কাঙ্খিত হারে বিদেশী ঋণ অবমুক্ত হচ্ছে না। কিন্তু সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে ব্যয় বেড়ে গেছে। এ ব্যয় নির্বাহের জন্যই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বেশি মাত্রায় ঋণ নিতে হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অর্থাৎ ছয় মাস ১২ দিনে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ৫১ হাজার কোটি টাকা। এ ঋণ নেয়ার পরিমাণ দিন দিন বেড়ে চলছে। এভাবে ঋণ নেয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এতে চাপে পড়ে যাবে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ।
ইতোমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না। সামনে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনিতেই ব্যাংকগুলোতে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। বেশির ভাগ ব্যাংকেই নগদ টাকার সঙ্কট চলছে।
এ ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণের জোগান দিতে হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করার মতো তহবিল তাদের হাতে থাকবে না বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপো ও বিশেষ রেপোর মাধ্যমে ধার করে চলছে। সামনে এ সঙ্কট আরো বেড়ে যাবে।
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে গেলে কাঙ্খিত হারে কর্মসংস্থানও বাড়বে না। এতে বেকারত্বের হার আরো বেড়ে যাবে। সবমিলিয়ে জাতীয় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

ব্যাংক থেকে দেদারসে ঋণ নিচেছ সরকার, পরিণতি কী?

ব্যাংক থেকে দেদারসে ঋণ নিচেছ সরকার, পরিণতি কী?

বাংলাদেশ সরকারের চলতি অর্থবছরের অর্ধেকও এখনো পার করতে পারেনি। তবে এরই মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে পুরো বছরের জন্য সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ছুঁই ছুঁই করছে।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার অভ্যন্তরীণ খাত থেকে মোট ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে ঠিক করে।
এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার কথা।
কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পাক্ষিক প্রধান অর্থনৈতিক সূচকে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ০১ জুলাই থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ৪১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়েছে।
অর্থাৎ পাঁচ মাসের মধ্যেই সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বাজেটে টার্গেটের সিংহভাই নিয়ে বসে আছে। দ্রুতই হয়তো পুরো বছরের ঋণের লক্ষ্যমাত্রার পুরো টাকাটাই হয়তো নিয়ে ফেলবে।
অর্থনীতিবিদরা সরকারের ঋণ নেয়ার এই প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অর্থনীতিবিদ ফারিয়া নাইম বলেন, এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অর্থনীতির দুর্বলতাগুলো আরো বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
‘ঘাটতি মেটাতে এক বার দুবার ঋণ নেয়া যায়, বার বার নেয়া যায় না,’ বলেন তিনি।
ফারিয়া নাইম আরও বলেন, সরকারের ঋণ বেড়ে গেলে আরো যে সমস্যাটি প্রবল হয়ে দাঁড়ায় তা হলো ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের তহবিল পেতে সমস্যা হয়। ফলে বিনিয়োগ বাড়ে না। আর বিনিয়োগ না বাড়লে উৎপাদনও বাড়ে না। যার ফলে বাধাগ্রস্ত হয় সামগ্রিক অর্থনীতি।
‘বিনিয়োগের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে।’
আর বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমার ঝুঁকি তৈরি হয়।
কেন এত বেশি সরকারি ঋণ
অর্থনীতিবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, জিডিপিতে ৫ শতাংশ হারে ঘাটতি হতে পারে এমনটা ধরে নিয়েই সাধারণত সরকারের বাজেট ঘাটতি হিসাব করা হয়।
তিনি বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে বাজেটেও ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অবশ্য বলা হচ্ছে যে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কর আদায় হয়েছে ৪৭ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকারও বেশি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৫৮ ভাগ বেশি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অনেক সময় সরকারের মেগা প্রকল্প এবং নানা ধরণের উন্নয়ন প্রকল্প কাট-ছাট করা সম্ভব হয় না, ফলে অভ্যন্তরীণ ঋণের দিকে ঝুঁকে পড়তে সরকারকে বাধ্য হতে হয়।
ড. সায়মা হক বিদিশা মনে করছেন, চলতি বছর আগে ভাগেই সরকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ফেলেছে বা আর কয়েক দিনের মধ্যেই পূরণ করে ফেলবে, ফলে বাজেট ঘাটতি পূরণে পরিকল্পনার চেয়ে আরো বেশি ঋণ নেয়া সরকারের দরকার হবে।
‘এ অবস্থায় ব্যয় কাট-ছাট করা ছাড়া উপায় থাকবে না। আর এ কারণে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ পড়ে যেতে পারে’।
এছাড়া, সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বেশি টাকা নিয়ে নিলে ব্যক্তিগত খাতে ঋণের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ না পেলে অনেক সময় সরকারকে চড়া সুদে বিদেশি উৎস থেকেও ঋণ নিতে হয় যা পরবর্তীতে চাপ তৈরি করে। কারণ সেটা পরিশোধ আসলে দেশ এবং দেশের মানুষকেই করতে হয়।
একই ধরণের ঘটনা ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতেও দেখা যায় বলে উল্লেখ করেন ড. হক। অতিরিক্ত ঋণ সেসব দেশের আর্থিক খাতকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে থাকে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়া, সরকারি রিজার্ভে বড় ধরণের ধ্বস নামা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রার মূল্যমানে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে যা করতে হবে তা হলো সরকারের আয় বাড়াতে হবে, বলেন ড. বিদিশা। সূত্র : বিবিসি

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

সেই বাড়তি দামেই কেনা হচ্ছে পাসপোর্ট

সেই বাড়তি দামেই কেনা হচ্ছে পাসপোর্ট

এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ভুল হিসাবের ভিত্তিতে ওই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তারা।
গত ২৭ নভেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বৈঠকে এ প্রস্তাব ফেরানোর পক্ষে কারণ দেখিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, “আইডি গ্লোবাল সলিউশনস লিমিটেডের প্রস্তাবিত দর আগেরবারের খরচের চেয়ে ৬৭ শতাংশ বেশি, প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
ওই সভা শেষে জানানো হয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগকে আরও চার-পাঁচটি কোম্পানির সঙ্গে দর কষাকষি করে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ দর নির্ধারণ করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।
লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি বাড়ছে

লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি বাড়ছে

জুলাই-অক্টোবর সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অথচ অগাস্ট মাস শেষেও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ২৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। সেপ্টেম্বর শেষে ঘাটতিতে পড়ে বাংলাদেশ।
চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ঘাটতি ছিল ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) তা বেড়ে হয়েছে ১৩০ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
গত বছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ঘাটতি ছিল ২০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, রপ্তানি আয়ে ধস নামার কারণে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি বাড়ছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, গত দুই অর্থবছরে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ঘাটতি নিয়ে বছর শেষ হয়েছিল। কিন্তু এবার অর্থবছর শুরু হয়েছিল ‘স্বস্তির’ মধ্য দিয়ে ২৪ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত নিয়ে। অগাস্ট পর্যন্ত সেই উদ্বৃত্ত ধরে রাখা গিয়েছিল।
“কিন্তু রপ্তানিতে বড় ধাক্কার কারণে সেটা আর ধরে রাখা যায়নি। গত দুই বারের মতো এবারও মনে হচ্ছে বড় ঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কেননা, সহসা রপ্তানি আয় ভালো হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।”
“উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, গত অর্থবছরে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালান্সে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঘাটতি থাকলেও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে (ওভারওল ব্যালান্স) উদ্বৃত্ত ছিল। এবার ঘাটতি নিয়েই বছর শেষ করতে হবে বলে মনে হচ্ছে।”
জুলাই-অক্টোবর সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। জুলাই-অগাস্ট সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।গত বছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ঘাটতি ছিল ৪৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
তবে আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এই উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ২২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৪ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।অগাস্ট শেষে উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ২৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
চলতি হিসাবের ভারসাম্য ৫২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বড় ঘাটতি (ঋণাত্মক) নিয়ে শেষ হয়েছিল গত ২০১৮-১৯ অর্থবছর।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল আরও বেশি ৯৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হল, নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।
এফডিআই বেড়েছে ৫.৩৬%
তবে গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
গত বছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ১৫৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশে। এই বছরের একই সময়ে এসেছে ১৬৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।
এ হিসাবে চার মাসে এফডিআই বেড়েছে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
এই চার মাসে বাংলাদেশে নিট এফডিআই এসেছে ৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের বছরে একই মাসে এসেছিল ৮৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট যে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আসে তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ দেশে নিয়ে যাওয়ার পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকেই নিট এফডিআই বলা হয়ে থাকে।
পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগে খরা
পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) প্রবাহের গতি গতবারের মতোই হতাশাজনক।
২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে মাত্র ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল আরও কম; ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
জুলাই-অক্টোবর সময়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বাবদ বাংলাদেশে এসেছে ১৩৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত বছরের এই চার মাসে এসেছিল ১৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

পেঁয়াজ গাছে ঝুলিয়ে রেখে ঝালমুড়ি বিক্রি

পেঁয়াজ গাছে ঝুলিয়ে রেখে ঝালমুড়ি বিক্রি


আজ রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে খাবার খেয়ে কলা ভবনের সামনে দিয়ে স্যার এ. এফ. রহমান হলে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার সময় চোখে পড়ে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা তার সামনের গাছে একটি বড় পেঁয়াজ ঝুলিয়ে রেখেই মুড়ি বিক্রি করছেন। কৌতূহলবশত তার সামনে এগিয়ে গেলাম। সালাম দিয়ে নাম জানতে চাইলাম।
তিনি জানালেন, তার নাম মোহাম্মদ জসিম। মধ্য বয়সী যুবক। বয়স ৩৭-৩৯ বলে দাবি তার। জসিমের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর। জীবিকার তাগিদে পরিবার নিয়ে থাকেন পুরান ঢাকায় জিনজিরা এলাকায়। তার ছোট পরিবারে আছেন তিনি, তার স্ত্রী ও দুই কন্যা। দুই কন্যার জনক জসিমের বড় মেয়ে প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আর ছোট মেয়ের বয়স মাত্র দেড় বছর। এই ছোট পরিবারের পরিচালনা ব্যায় জোগান দিতে তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করেন।
কুশল বিনিময়ের পর ঝালমুড়ি বিক্রেতার কাছে তার সামনে বড় পেঁয়াজটি ঝুলিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে লোক মুড়ি খেতে আসে সেই লোকই পেঁয়াজ চায়। কিন্তু পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় আমার পক্ষে পেঁয়াজ দেয়া সম্ভব না। তাই এখানে ৬৫ টাকায় কিনে আনা বড় পেঁয়াজটি ঝুলিয়ে রেখেছি। কেউ পেঁয়াজ চাইলে তাদের এটা দেখিয়ে বলি দাম কমলে ইনশাআল্লাহ ঝালমুড়িতে আবার পেঁয়াজ ব্যবহার করবো।
ঝালমুড়ি বিক্রি করে মাসে কত টাকা আয় হয় এমন প্রশ্নের জবাবে জসিম উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন, সকল খরচ বাদ দিয়ে মাসে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় তার বেচা-কেনায় প্রভাব পরেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, অনেক ক্রেতা পেঁয়াজ ছাড়া ঝালমুড়ি খান না। তাই আগের চাইতে বিক্রয় কম হওয়ায় তার আয়ে যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে তার প্রভাব পড়ছে এই দরিদ্র ঝালমুড়ি বিক্রেতার পরিবারে।
পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কি রকম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে জসিম বলেন, আমার পরিবার ও দোকানে মাসে ২৫ কেজি পেঁয়াজ লাগে। আগে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থাকায় আমি মাত্র এক হাজার টাকায় ২৫ কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারতাম। কিন্তু এখন পেঁয়াজের মূল্য হঠাৎ ২৫০ টাকা হয়ে যাওয়ায় ২৫ কেজি পেঁয়াজের দাম কিনতে প্রয়োজন ছয় হাজার টাকার উপরে। এই যে হঠাৎ বাড়তি পাঁচ হাজার টাকা মূল্য বৃদ্ধি হলো, কিন্তু আমার আয় কিন্তু এক টাকাও বাড়েনি। তাই পেঁয়াজ ছাড়াই পরিবার ও দোকান চালাচ্ছি।
এ পরিস্থিতিতে কী করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করেন এমন এক ব্যবসায়ীর সাথে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ৪৫ টাকা কেজি দরে আমাকে পেঁয়াজ দিবেন। বিনিময়ে প্রতি কেজিতে তাকে ১০ টাকা বেশি করে দিতে হবে। এখন যদি তিনি আমাকে পেঁয়াজ দেন তবে আমি আবার ঝালমুড়িতে পেঁয়াজ ব্যবহার করব। তাতে হয়তো আমার আবার বেচাবিক্রি স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে। এতে হয়তো পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে চলতে পারবো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান বলেন, পেঁয়াজ ছাড়া ঝালমুড়ি তেমন ভালো লাগে না। তবে এখন প্রায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা পেঁয়াজের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই আগের মতো ঝালমুড়ি খাওয়া হয় না।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীকে জুই আক্তার বলেন, পেঁয়াজ ছাড়া কিভাবে ঝাল মুড়ি তৈরি হয়? আমার কাছে পেঁয়াজ ছাড়া ঝালমুড়ি একদমই ভালো লাগে না। তাই এখন আপাতত ঝাল মুড়ি খাচ্ছি না।
উচ্চাভিলাষী চিন্তা থেকে পিছু হটছে সরকার

উচ্চাভিলাষী চিন্তা থেকে পিছু হটছে সরকার

আগামী অর্থবছরে উচ্চাভিলাষী এডিপি প্রণয়ন থেকে পিছু হটছে সরকার। বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাউস সাইজের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) নির্ধারণ করা হয়; কিন্তু বছর শেষে সেই এডিপি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। এমনকি সংশোধিত এডিপিও বাস্তবায়ন করা যায় না।
এই বাস্তবতা এবং রাজস্ব আয়ের শ্লথগতির কারণে আগামী অর্থবছরের জন্য তেমন বড় কোনো ধরনের এডিপি প্রণয়ন করতে ইচ্ছুক নয় অর্থ মন্ত্রণালয়। ফলে আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এডিপির আকার প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হচ্ছে দুই লাখ ২৯ হাজার ৯১০ কোটি টাকা; যা কিনা চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের চেয়ে মাত্র ১৩ শতাংশ বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রাবিনিময় হারসংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল ও বাজেট বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে যে এডিপি হাতে নেয়া হয়েছে তার আকার জিডিপির প্রায় ৭ শতাংশ। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার রয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা।
সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের এডিপি থেকে আসছে বছরের বাজেটের এডিপি ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে উত্থাপনের সময় এডিপির আকার কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। তবে সেটিও নির্ভর করবে রাজস্ব আদায়ের গতি ও বৈদেশিক সাহায্য কতটুকু পাওয়া যাবে তার ওপর।
আগামী অর্থবছরের এডিপির আকার সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, আমাদের যে অর্থনীতি তাতে এডিপির আকার হওয়া প্রয়োজন প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার মতো; কিন্তু তা আমরা পারছি না। কারণ রাজস্ব আদায়ে হতাশাজনক পরিস্থিতি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা যে সোয়া তিন লাখ কোটি টাকা করা হয়েছে তা বছর শেষে কোনোভাবে আদায় করা সম্ভব হবে না।
এমনকি এর ধারেকাছেও যাওয়া যাবে না। আমরা প্রাথমিকভাবে হিসাব করেছি বর্তমানে রাজস্ব আদায়ের যে গতি তাতে লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করা হলেও ঘাটতি থাকবে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কারণ চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ, যা গতবারের চেয়ে কম, ফলে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। যদি কাঙ্খিত মাত্রায় রাজস্ব আদায় না হয় তবে এডিপির জন্য যে পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন তা জোগান দেয়া সম্ভব হবে না। এই বিবেচনায় আগামী অর্থবছরে এডিপির আকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে না। তবে চূড়ান্ত হিসাবে তা কিছুটা বাড়তে পারে।
এ দিকে,নতুন এডিপিতে চলমান প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিশেষ করে অবকাঠামো খাতে যেসব প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান সেগুলোর প্রাধান্য থাকবে বেশি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের মতো প্রকল্প। এ ছাড়াও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে থাকবে বিশেষ বরাদ্দ। শিক্ষা, মানবসম্পদে প্রয়োজন অনুসারে বরাদ্দ দেয়া হতে পারে।
জানা গেছে, নতুন এডিপিতে মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর ব্যয়সীমা নির্ধারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে বছরভিত্তিক ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ বা এর বেশি, মধ্যম প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে ৮ থেকে ৯ শতাংশ এবং সাধারণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ শতাংশ ব্যয় প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাবে প্রতি বছরই মূল বাজেটের এডিপি কাটছাঁট করে সংশোধিত এডিপি প্রণয়ন করা হয়। সংশোধিত এডিপিও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না। চলতি অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯

আলোচনা হল, ডলারের বিকল্প মিলল না

আলোচনা হল, ডলারের বিকল্প মিলল না



বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে ‘বৈদেশিক বাণিজ্যে ডলারের ব্যবহার : কোনো বিকল্প আছে কী?’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনা হয়।
এতে মূল প্রবন্ধে বিআইবিএম অধ্যাপক ড. আহসান হাবিব বলেন, বিশ্ববাণিজ্যের বিনিময় মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলারের আশে পাশে কোনো মুদ্রা নেই। পৃথিবীর মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের ৯০ শতাংশই ডলারে বিনিময় হয়। ডলারের পরের মুদ্রার অবস্থান হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশে ডলারের ওপর চাপ বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই চাপ কমাতে হলে আঞ্চলিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
“বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে একটি অভিন্ন মুদ্রা গড়ে তুলতে পারলে আমাদের আমদানি বিলের একটা অংশ অন্তত ডলার ছাড়া অন্য একটি বিনিময় মাধ্যমে করা সম্ভব হত। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যে আমদানি-রপ্তানি হয়, তৃতীয় কোনো অভিন্ন মুদ্রা প্রবর্তন করা সম্ভব হলে আমাদের রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হত।”
কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তা যে সম্ভবপর নয়, তা উঠে এল তার কথায়।
বিশ্বে বাণিজ্যিক লেনদেন মুদ্রা হিসেবে ৩৫টি মুদ্রা থাকলেও বিশ্বববাণিজ্যে ৯৮ শতাংশই ডলারে পেমেন্ট নিতে চায়। এই আস্থাহীনতার কারণে বাণিজ্যিক লেনদেন মুদ্রা এখন ৩৫ থেকে ২১টিতে নেমে এসেছে। বিশ্ববাণিজ্যে ডলার এত বেশি শক্তিশালী যে অন্য মুদ্রাগুলোর উপর ব্যবসায়ীরা আস্থা রাখতে পারেন না। যেমন বিশ্বের মোট রিজার্ভের ৬২ শতাংশই ডলার। বাকি সকল মুদ্রা এবং স্বর্ণ মিলে বাকিটা।”
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জমান বলেন, “বৈদেশিক বাণিজ্যে ডলারের বিপরীতে অন্য কোনো মুদ্রা না থাকায় আমাদের সমস্যা হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত ডলারের উপর চাপ বাড়ে।
“আমাদের বড় একটা রপ্তানি বিল পরিশোধ করতে হয় এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিটের (আকু) মাধ্যমে। এই বিল পরিশোধ অন্য মুদ্রায় করতে গেলে নানা রকম শুল্ক ও অশুল্ক বাধায় পড়তে হয়।”
তিনি বলেন, “ডলারের বিপরীতে অন্য কোনো মুদ্রার ওপর এতটাই আস্থানহীতা রয়েছে যে কেউই রপ্তানি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে অন্য কোনও মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থায় আস্থা রাখেন না।”

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আগামী তিন বছরে ৫০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

আগামী তিন বছরে ৫০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে এডিবির আবাসিক প্রতিনিধি মনমোহন পারকাশ এ তথ্য জানান বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মনমোহন বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত উন্নয়ন কর্মসূচি শেখ হাসিনার সামনে তুলে ধরেন। এডিবি প্রতিনিধি ২০২০-২২ মেয়াদে নতুন কান্ট্রি বিজনেস প্লান প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।
“এই পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি। ‘স্ট্যান্ডবাই’ হিসেবে আরও ৪৯০ কোটি ডলারের প্রকল্প পাইপলাইনে রয়েছে।”
প্রস্তুতির উপর ভিত্তি করে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করবে এডিবি। সরকারের সপ্তম পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনা, এডিবি কৌশলপত্র ২০৩০ ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের সমান্তরাল চলবে কান্ট্রি বিজনেস প্লান।
তথ্য প্রযুক্তির উপর জোর দিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও উচ্চস্তরের শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবে এ অর্থায়ন। দক্ষিণ এশিয়া উপ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) এবং এর বাইরেও আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং সংহতি জোরদারের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেবে।
ঋণ পাওয়ার প্রতিবন্ধকতা দূর করে এবং স্থানীয় মুদ্রায় বন্ড বাজার উন্নয়নের মাধ্যমে এ পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াবে।
এর আওতায় বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে- ঢাকা-সিলেট সড়ক,  জয়দেবপুর-এলেঙ্গা-রংপুর-বুড়িমারী-বাংলাবান্ধা সড়ক, ফরিদপুর-বরিশাল সড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের ডুয়াল গেজিং, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন, ঢাকা এমআরটি লাইন ৫ (গাবতলী-পান্থপথ-আফতাবনগর) ), কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা প্রকল্প, কম্পিউটার এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং উচ্চ স্তরের শিক্ষা প্রকল্প, ঢাকা নর্দমা ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহ প্রকল্প এবং খুলনা নর্দমা ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প।
এছাড়া রাজস্ব প্রশাসনের স্বয়ংক্রিয়করণ, বন্ড বাজার উন্নয়ন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং সেচ, গ্রামীণ সংযোগ এবং বিদ্যুতায়ন উন্নয়নের প্রকল্পও এতে আছে।