খেলা ধুলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খেলা ধুলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

আবারো ইনজুরিতে মাহমুদউল্লাহ

আবারো ইনজুরিতে মাহমুদউল্লাহ



ইনজুরি যেনো পিছুই ছাড়ছে না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ভারতের সঙ্গে কলকাতা টেস্টে চোট পেয়ে বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি। পরে মাঠে ফিরলেও আবারো চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে যান। এরপর গত ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে ম্যাচে ফের ইনজুরিতে পরেন জাতীয় দলের এই অলরাউন্ডার। এই ইনজুরিতে বিপিএলেরর সিলেটপর্বে খেলা হচ্ছে না তার।
রোববার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, মাহমুদউল্লাহ সিলেট পর্বের ম্যাচেও খেলতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে।
সোমবার থেকে রানিং শুরু করবেন মাহমুদউল্লাহ। তবে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ককে নিয়ে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি। তাই তাকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চায় না বলে জানিয়েছেন বিসিবি চিকিৎসক।
এদিকে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের কোচ পল নিক্সন রোববার দলেরর অনুশীলন শেষে জানান, মাহমুদউল্লাহর মাঠে ফিরতে আরও সময় প্রয়োজন।
নিক্সন বলেন, ‘আমার মনে হয়, সে পরবর্তী ম্যাচ খেলবে না। তার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি আছে, যেটা তার আগেই ছিলো। সে শতভাগ ফিট নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার শরীরের ওপর চাপ গেছে, পাঁচদিনের মধ্যে চারটা ম্যাচ খেলেছে সে, এটা মনে রাখতে হবে। বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে হবে। আর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগবে রিয়াদের মাঠে ফিরতে।’
গুনারত্নেকে দলে ভেড়ালো চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স

গুনারত্নেকে দলে ভেড়ালো চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স



চলমান বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) সপ্তম আসরের এখন মাঝপথে। এরই মাঝে নতুন করে শ্রীলঙ্কার আসিলা গুনারত্নেকে দলে ভেড়ালো চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। লঙ্কান এ ব্যাটিং অলরাউন্ডারকে দলে নেয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স কর্তৃপক্ষ।
এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই জয়লাভ করেছে তারা। ১২ পয়েন্ট নিয়ে ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের শেষ চারে এক পা দিয়ে রেখেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। দলকে আরও শক্তিশালী করতে এবার গুনারত্নেকে দলে নিয়েছে তারা। গুনারত্নেকে দলে নেয়ার তথ্যটি নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জানিয়েছে চট্টগ্রাম কর্তৃপক্ষ।
গুনারত্নে এবারই প্রথম বিপিএল খেলছেন। তবে ঢাকার ঘরোয়া ক্রিকেট তার জন্য নতুন নয়। এর আগে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের গত আসরে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন তিনি।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও পারদর্শী গুনারত্নে। ৩৩ বছর বয়সী এ পেস বোলিং অলরাউন্ডার শ্রীলঙ্কার জার্সিতে ৬টি টেস্ট ও ৩১টি ওয়ানডের পাশাপাশি ১২টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন।
এ বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯

চট্টগ্রামের ২৩৮ রানের পাহাড় ডিঙাতে ব্যর্থ কুমিল্লা

চট্টগ্রামের ২৩৮ রানের পাহাড় ডিঙাতে ব্যর্থ কুমিল্লা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাদউইক ওয়ালটন ও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রানের পাহাড় গড়ে জয় তোলে নেয় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। চট্টগ্রাম ১৬ রানের জয় পায়।
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ১৪তম ম্যাচে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৮ রানের পাহাড় গড়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ওয়ালটন ২৭ বলে অপরাজিত ৭১ ও ইমরুল ৬২ রান করেন। আর কুমিল্লা ওয়ারিয়ার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২২২ রান সংগ্রহ করে।
২৩৯ রানের লক্ষে ব্যট করতে নেমে শুরুতেই হোচট খায় কুমিল্লা। সৌম্য সরকার ও ভানুকা রাজাপক্ষ ওপেন করেত নেমে ২.২ ওভারে ১৫ রানে সাজ ঘরে ফেরেন সৌম্য। একই ওভারে আউট হন রাজাপক্ষ।
আর সাব্বির রহমান ফিরেন ৪.৩ ওভারে। কুমিল্লার পক্ষে ডেভিড মালান সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন ৩৮ বলে। ইয়াসির আলী ২১, দানোস সানাকা ৩৭ আর মাহিদুল ইসলামের ১৩ রানে সাজ ঘরে ফেরার পর সুমন খান আর আবু হায়দার রনি শেষ পর্যন্ত ব্যাট করেন।
চট্টগ্রামের হয়ে মেহেদী হাসান রানা ৪ উইকেট সংগ্রহ করেন। আর রুবেল হোসেন, ক্যাস্রিক উইলিয়ামস ও মুক্তার আলী একটি করে উইকেট নেন।
নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ায় চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে স্বাগতিক দলের পক্ষে টস করতে নামেন ইমরুল। চট্টগ্রাম পর্বে তার খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়ায়। আজও মাহমুদুল্লাহকে ছাড়া খেলতে নামতে হয় চট্টগ্রামকে। একই ইনজুরির কারনে প্রথম দু’ম্যাচেও মাহমুদুল্লাহকে পায়নি চট্টগ্রাম।
তবে এ ম্যাচে ইমরুলের বিপক্ষে টস ভাগ্যে জিতেন কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক শ্রীলংকার দাসুন শানাকা। প্রথমে চট্টগ্রামকে ব্যাটিং-এ পাঠান শানাকা। দলীয় ২১ রানে প্রথম উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ওপেনার লেন্ডন সিমন্স ৭ বলে ২টি চারে ১০ রান করে আফগানিস্তানের মুজিব উর রহমানের বলে কাটা পড়েন।
এরপর আরেক ওপেনার শ্রীলংকার আবিস্কা ফার্নান্দোকে নিয়ে মাত্র ৪৯ বলে ৮৫ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক ইমরুল। এর মধ্যে ২০ বলে ৩৮ রান ছিলো ফার্নান্দোর। আর ইমরুলের ছিলো ২৯ বলে ৪৪ রান। বিধ্বংসী রুপে থাকা ফার্নান্দো-ইমরুলের জুটি ভাঙ্গেন কুমিল্লার সৌম্য। ৩টি করে চার-ছক্কায় ২৭ বলে ৪৮ রান করে সৌম্যর বলে আউট হন ফার্নান্দো।
ফার্নান্দো ব্যর্থ হলেও, হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ইমরুল। ৩৪তম বলে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ৬২ রানে আউট হন ইমরুল। ৪১ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ১টি ছক্কা হাকিয়ে শানাকার শিকার হন তিনি। ইমরুলের বিদায়ে উইকেটে গিয়ে নিজের ব্যর্থতা অব্যাহত রাখেন নাসির। ৩ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।
ইনিংসের ৩৪ বল বাকী থাকতে দলীয় ১৩৯ রানে নাসিরের বিদায় ঘটে। এরপর জুটি বাঁধেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ালটন ও উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান। শেষ ৩৪ বলে অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রান যোগ করেন তারা। জুটিতে ওয়ালটন ১৯ বলে ৬০ ও নুরুল ১৫ বলে ২৯ রান করেন। ১৬ থেকে ২০ ওভার পর্যন্ত ওয়ালটন-নুরুলের রান ছিল যথাক্রমে ১০, ১০, ১৮, ২৯ ও ২৫। শানাকার ওভারে ১৮, সৌম্যর ওভারে ২৯ ও আবু হায়দারের ওভারে ২৫ রান নেন তারা। ফলে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৮ রানের পাহাড় গড়ে চট্টগ্রাম। বড় স্কোর গড়ে আক্ষেপ থাকলো চট্টগ্রামের। মাত্র ২ রানের জন্য বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড গড়তে পারলো না তারা। বিপিএলের ইতিহাসে গেল আসরে ৪ উইকেটে ২৩৯ রানের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিলো রংপুর রাইডার্স। এবারের আসরে আগের ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২২১ রান করেছিলো চট্টগ্রাম। আজ নিজেদের রেকর্ড ভেঙ্গে চলতি আসরে সর্বোচ্চ দলীয় রান সংগ্রহ করে চট্টগ্রামই।
২৭ বলে ৫টি চার ও ৬টি ছক্কায় ওয়ালটন অপরাজিত ৭১ রান করেন এবং ১৫ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় অপরাজিত ২৯ রান করেন নুরুল। কুমিল্লার সৌম্য ৪৪ রানে ২টি উইকেট নেন।

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

বিপিএলের ঢাকা পর্ব যেমন কাটল দেশের ক্রিকেটারদের

বিপিএলের ঢাকা পর্ব যেমন কাটল দেশের ক্রিকেটারদের


 

বিপিএলের ঢাকা পর্ব যেমন কাটল দেশের ক্রিকেটারদের

নাসির হোসেন, সাব্বির হোসেন সংগ্রাম করছেন নিজেদের ফিরে পেতে। এখন পর্যন্ত আলোর রেখা দেখা যায়নি দুই তরুণের ব্যাটিংয়ে। ভুগছেন মুস্তাফিজুর রহমানও। বাঁহাতি এই পেসারের বোলিং নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন হাবিবুল বাশার।
ঢাকা পর্ব শেষে ছয় ব্যাটসম্যানের রান ছুঁয়েছে তিন অঙ্ক। তাদের পাঁচ জনই স্থানীয়। ১১৭ রান করে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন চাডউইক ওয়ালটন। শীর্ষ আটে তিনিই একমাত্র বিদেশি।
একশ বা এর বেশি রান করেছেন মোহাম্মদ মিঠুন, তামিম ইকবাল, মোসাদ্দেক হোসেন ও এনামুল হক। রান সংগ্রাহকদের সেরা আটে আছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও লিটন দাস।
সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসটি মিঠুনের। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ৪৮ বলে করেছিলেন অপরাজিত ৮৪ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি খেলেন নাঈম। তরুণ এই ওপেনার চট্টগ্রামের বিপক্ষে করেন ৭৮ রান।
৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত আসরের সেরা বোলিং ফিগার থিসারার। ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে লঙ্কান অলরাউন্ডারের পরে আছেন আল আমিন হোসেন। অলক কাপালী ৩ উইকেট নিয়েছেন ১৭ রানে।
লঙ্কান অলরাউন্ডার দাসুন শানাকার (৭৫*) পরেই আছেন তামিম। গত বিপিএলের ফাইনালের সেঞ্চুরিয়ান খেলেছেন ৭৪ রানের ইনিংস। স্থানীয়দের মধ্যে ফিফটি করেছেন এনামুল, ইমরুল ও মোসাদ্দেক। ঢাকার বিপক্ষে খেলা মোসাদ্দেকের অপরাজিত ৬০ তরুণ এই অলরাউন্ডারের ক্যারিয়ার সেরা। 
সবে টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে, এখনই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সময় আসেনি বলে মনে করেন মাহমুদউল্লাহ।
“আমাদের দলে ইমরুল খুব ভালো ব্যাটিং করছে, মুস্তাফিজকে যখন খেলছিলাম সে ভালো বোলিং করেছে। ওর সঙ্গে কথাও হয়েছে, ও কঠোর পরিশ্রম করছে। তামিম রান পেয়েছে, মুশফিক রান পাচ্ছে। নাঈম ভালো ব্যাটিং করেছে, দারুণ একটি ইনিংস খেলেছে। আমার মনে হয়, আমরা সঠিক পথে আছি।”
বঙ্গবন্ধু বিপিএলে একমাত্র স্থানীয় কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। স্থানীয় খেলোয়াড়দের বেশ কিছু ইতিবাচক ব্যাপার তার চোখে ধরা পড়েছে।
“আমার মনে হয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়রা খুব ভালো রান করছে। আপনারা দেখেন যে প্রথম দুটি ম্যাচে স্থানীয় ব্যাটসম্যানরা রান করেছে। আমার মনে হয়, সিলেটে ওরা রান করবে। তারা ভালো বোলিংয়ের বিরুদ্ধেও রান করছে এবং এই ধরনের (ভালো) উইকেটে খেললে আমাদের খেলোয়াড়দের শট আরও বাড়বে।”
“এর আগে আমরা চিন্তা করতাম যে, বল মারলে কি পার হবে কিনা, এই চিন্তাটা সবসময় থাকতো। কিন্তু দেখুন এখন লিটন অনেক সেনসিবল ব্যাটিং করছে। যেমন উইকেটে যেভাবে ব্যাটিং করা দরকার সেটাই সে করছে। আর ইমরুল ভালো ব্যাটিং করেছে, মিঠুন প্রথম ম্যাচে ভালো করেছে, তামিম ভালো করেছে। আমাদের স্থানীয় ক্রিকেটাররা কিন্তু ভালো ব্যাটিং করছে।”
স্থানীয় ক্রিকেটারদের রান পাওয়ার পেছনে ভালো উইকেটের অবদান দেখেন ঢাকা প্লাটুন কোচ সালাউদ্দিন।
“আমার মনে হয়, এই উইকেটের সঙ্গে যদি তারা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে তাহলে তাদের আত্মবিশ্বাস আসবে এবং শটের রেঞ্জও বাড়বে আস্তে আস্তে।”
চট্টগ্রামেও বিপিএল টিকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ২০০ টাকা

চট্টগ্রামেও বিপিএল টিকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ২০০ টাকা

আগামী মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বের খেলা। শহরের দুটি জায়গায় পাওয়া যাবে টিকেট, এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন টিকেট বুথ ও সাগরিকায় বিটেক মোড়ের বুথে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কেনা যাবে টিকেট।
২০০ টাকায় মিলবে ইস্টার্ন স্ট্যান্ডের টিকেট। ওয়েস্টার্ন স্ট্যান্ডের টিকেটের মূল্য ৩০০ টাকা, ক্লাব হাউজ ও ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ড ৫০০ টাকা ও রুফ টপের টিকেট ১ হাজার টাকা। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের মূল্য অবশ্য চট্টগ্রামে কম, ১ হাজার ৫০০ টাকা। মিরপুরে যেটি ছিল ২ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

মাশরাফি-তামিমদের উড়িয়ে রাজশাহীর শুরু

মাশরাফি-তামিমদের উড়িয়ে রাজশাহীর শুরু

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে দ্বিতীয় দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী রয়্যালস।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ঢাকাকে ১৩৪ রানে আটকে রেখে রাজশাহী জিতে ১০ বল বাকি রেখেই।
উইকেটে ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন কিছু ছিল না। রাজশাহীর ইনিংসেই প্রমাণ মিলে সেটির। ঢাকা ডুবেছে ব্যাটসম্যানদের বাজে শটের মহড়ায়।
এই ম্যাচ দিয়েই ৫ মাস পর মাঠে ফেরেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যাট হাতে খেলেন ক্যামিও। বোলিংয়ে উইকেট না পেলেও একদম খারাপ করেননি। তবে দল বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় ফেরার ম্যাচটি থেকে সব মিলিয়ে পাননি মনে রাখার মতো খুব বেশি কিছু।
তামিম ইকবালের জন্যও ছিল একরকম মাঠে ফেরার ম্যাচ। পারিবারিক কারণে কিছুদিন ছিলেন ক্রিকেটের বাইরে। গত বিপিএলের ফাইনালে ১৪৫ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যান এবার বিপিএল শুরু করলেন ৫ রানে আউট হয়ে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা দ্বিতীয় ওভারেই বড় ধাক্কা খায় তামিমকে হারিয়ে। তিনে নামা লরি ইভান্স পারেননি ইনিংস বড় করতে। জাকের আলি খেলছিলেন ভালোই, কিন্তু রান আউট হয়ে যান ১৯ বলে ২১ রান করে।
তামিমের সঙ্গে ইনিংস শুরু করা এনামুল হক ছিলেন এক পাশে। দুটি ছক্কা মেরে ভালো ইনিংসের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি বড় করতে। আউট হয়ে যান ৩৩ বলে ৩৮ করে।
মিডল অর্ডারে থিসারা পেরেরা, আরিফুল হকরা ব্যর্থ। শহিদ আফ্রিদি আউট প্রথম বলেই।
ধুঁকতে থাকা দলকে শেষ দিকে কিছুটা দ্রুত রান এনে দেন ওয়াহাব রিয়াজ ও মাশরাফি। ১২ বলে ১৯ রান করেন ওয়াহাব। ২ ছক্কায় ১০ বলে ১৮ রান করেন মাশরাফি। আবু জায়েদের করা ইনিংসের শেষ ওভার থেকে আসে ২০ রান।
মাঝ বিরতিতে মনে হচ্ছিল, ওই রানে অন্তত লড়াই করতে পারবে ঢাকা। কিন্তু হজরতউল্লাহ জাজাই ও লিটন দাস জমতেই দেননি লড়াই। উদ্বোধনী জুটিতেই অনেকটা নিশ্চিত করে দেন ম্যাচের ভাগ্য।
লিটন খেলেন দৃষ্টিনন্দন সব শট। জাজাই খেলেন বল বুঝে, লক্ষ্য বড় ছিল না বলে খুব তাড়াহুড়ো করেননি। জুটি এগোয় অনায়াসেই।
দুজনের ৬২ রানের জুটি ভাঙে লিটনের বিদায়ে। মেহেদি হাসানের অফ স্পিনে দারুণ এক ছক্কার পর আবার বড় শট খেলতে গিয়ে আউট লিটন। করেন ২৭ বলে ৩৯।
এরপর জাজাই ও অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক মিলে ম্যাচ শেষ করে ফেরেন। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১০ ওভারে আসে ৭৪ রান।
৪৭ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে যান জাজাই, মালিক ৩৬ বলে ৩৬।
১৯তম ওভারে জয় এলেও ম্যাচের উত্তেজনা শেষ হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। রান রেটের চাপ ছিল না, দুজনের কাউকেই খুব ঝুঁকি নিতে হয়নি। তুমুল লড়াইয়ের আবহ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হয়েছে ম্যাড়ম্যাড়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ঢাকা প্লাটুন: ২০ ওভারে ১৩৪/৯ (তামিম ৫, এনামুল ৩৮, ইভান্স ১৩, জাকের ২১, থিসারা ১, আরিফুল ৫, আফ্রিদি ০, মেহেদি ৬, ওয়াহাব ১৯, মাশরাফি ১৮*, হাসান; রাসেল ৩-০-৮-০, আবু জায়েদ ৪-০-৪৩-২, তাইজুল ৩-০-২৩-১, ফরহাদ ২-০-১৪-১, অলক ৪-০-১৮-১, মিনহাজুল আফ্রিদি ১-০-১২-০, বোপারা ৩-০-১৫-১)।
রাজশাহী রয়্যালস: ১৮.২ ওভারে ১৩৬/১ (জাজাই ৫৬*, লিটন ৩৯, মালিক ৩৬*; মাশরাফি ৩-০-১৮-০, হাসান ৪-০-৩৫-০, মেহেদি ৪-০-২৩-১, ওয়াহাব ৩.২-০-২৬-০, আফ্রিদি ৩-০-২৫-০, থিসারা ১-০-৬-০ )।
ফল: রাজশাহী রয়্যালস ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: রবি বোপারা
মুশফিকদের দাপুটে শুরু

মুশফিকদের দাপুটে শুরু

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবারের দ্বিতীয় ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতেছে খুলনা। ১৪৫ রানের লক্ষ্য ৩৭ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় মুশফিকুর রহিমের দল।  
ভালো শুরু কাজে লাগাতে পারেননি চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের সবাই ফিরেন থিতু হয়ে। ইনিংসে চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরা খেলেন ৫৬টি ডটবল! দিতে হয় তারই মাশুল। উইকেটে যে ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন কিছু ছিল না সেটা বেশ বোঝা গেছে খুলনার ব্যাটিংয়ের সময়।
দলের সহজ জয়ের পথে বিপিএলের ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি করেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। 
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে চট্টগ্রাম। চাডউইক ওয়ালটনকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন লেন্ডল সিমন্স। বেরিয়ে এসে শফিউল ইসলামকে ওড়ানোর চেষ্টায় ক্যারিবিয়ান এই ওপেনার বোল্ড হলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
এরপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে চট্টগ্রাম। শুরুর জুটিই শেষ পর্যন্ত তাদের সেরা জুটি। আগের ম্যাচে ঝড় তোলা ওয়ালটনকে থামান শহিদুল ইসলাম।
প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামের জয়ের নায়ক ইমরুল কায়েস যেতে পারেননি বেশিদূর। রান আউট হওয়ার আগে এক ছক্কায় করেন ১২ রান। রান আউট হয়ে ফিরেন নুরুল হাসান সোহানও।
অনেকটা সময় ক্রিজে থাকলেও সময়ের দাবি মেটাতে পারেননি নাসির হোসেন। লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলামকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
শেষের দিকে বোলারদের ওপর চড়াও হন মুক্তার আলী। চার ছক্কায় এই অলরাউন্ডারের অপরাজিত ২৯ রানের ওপর ভর করে দেড়শর কাছে যায় চট্টগ্রামের স্কোর।
রান তাড়ায় শুরুতেই নাজমুল হোসেন শান্তকে হারায় খুলনা। বোলারদের ওপর চড়াও হন আরেক ওপনার গুরবাজ। ভাগ্য ছিল সঙ্গে, ব্যাটের কানায় লেগেও পান চার-ছক্কা। তার ব্যাটে ম্যাচের ফল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।
১৮ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন গুরবাজ। বিপিএলে এরচেয়ে কম বলে ফিফটি আছে কেবল একটি। ২০১২ সালে প্রথম আসরে ১৬ বলে ফিফটি করেছিলেন আহমেদ শেহজাদ।
পরের বলেই ফিরে যান গুরবাজ। ১৯ বলে খেলা তার ৫০ রানের বিস্ফোরক ইনিংস গড়া পাঁচ ছক্কা ও চার চারে।
ততক্ষণে শট খেলতে শুরু করেছেন রাইলি রুশো। শুরু থেকে আস্থার সঙ্গে খেলেন মুশফিক। দুই জনের ব্যাটে বাকিটা সহজেই সারে খুলনা। ৩৮ বলে সাত চার ও দুই ছক্কায় ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন রুশো। বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করে দেওয়া মুশফিক করেন ২৮ রান।     
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ২০ ওভারে ১৪৪/৬ (সিমন্স ২৬, ওয়ালটন ১৮, ইমরুল ১২, নাসির ২৪, সোহান ১৯, মুক্তার ২৯*, এমরিট ১, রুবেল ৬*; আমির ৪-০-৩৩-০, ফ্রাইলিঙ্ক ৪-০-২১-১, শফিউল ৪-০-৩০-১, শহিদুল ৪-০-৩২-১, আমিনুল ৪-০-২৫-১)     
খুলনা টাইগার্স: ১৩.৫ ওভারে ১৪৬/২ (শান্ত ৪, গুরবাজ ৫০, রুশো ৬৪*, মুশফিক ২৮*; নাসুম ২-০-১৮-১, নাসির ২-০-১৬-০, রুবেল ৩-০-৩১-০, এমরিট ১-০-১৮-০, মুক্তার ১-০-২০-১, উইলিয়ামস ২.৫-০-২৭-০, এনামুল জুনিয়র ২-০-১৬-০)
ফল: খুলনা টাইগার্স ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: রাইলি রুশো

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

ক্যারিবিয়ান ঝড়ে উড়ে গেল ভারত

ক্যারিবিয়ান ঝড়ে উড়ে গেল ভারত


প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান পাহাড় টপকে গিয়েছিল ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচে রান তাড়ায় সফরকারীরা জিতল প্রবল প্রতাপে। তিন ম্যাচ সিরিজে এখন ১-১ সমতা।
থিরুভানান্তাপুরামে রোববার ভারতকে ১৭০ রানে আটকে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ৯ বল বাকি রেখে।
খানিকটা মন্থর উইকেটে ১৭১ রান তাড়া হতে পারত কঠিন। কিন্তু দাপুটে ব্যাটিংয়ে সেটিকেই অনায়াস বানিয়ে ছেড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অনেকটা এগিয়ে দেয় উদ্বোধনী জুটি। এভিন লুইস ও লেন্ডল সিমন্স তোলেন ৭৩ রান।
জুটি অবশ্য আগেই ভাঙতে পারত। ভুবনেশ্বর কুমারের এক ওভারেই জীবন পান সিমন্স ও লুইস। সিমন্স তখন ছিলেন ৬ রানে, লুইস ১৬। দুজনই পরে ভুগিয়েছেন ভারতকে।
তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৩৫ বলে ৪০ করে থামেন লুইস। তাতে থামেনি ক্যারিবিয়ানদের তাণ্ডব। তিনে নেমে শিমরন হেটমায়ার তিন ছক্কায় করেন ২৩।
লং সীমানায় অনেকটা দৌড়ে দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে হেটমায়ারকে ফেরান কোহলি। ভারতের ভাগ্য ফেরেনি তাতেও। এক প্রান্তে সিমন্স খেলেছেন দারুণ। চারে নেমে তাণ্ডব চালান নিকোলাস পুরান। দুজনের ২৯ বলে ৬১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি শেষ করে দেয় ম্যাচ।
ওপেনিংয়ে নেমে চারটি করে চার ও ছক্কায় ৪৫ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন সিমন্স। বল টেম্পারিংয়ের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে পুরান অপরাজিত থাকেন ১৮ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে।
ম্যাচের শুরুটা ভারতের খারাপ ছিল না। রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল ৩ ওভারে তোলেন ২৪ রান। তবে ঝড়ো শুরুর সেই ইঙ্গিত পায়নি পূর্ণতা। রাহুল ফেরেন ১১ রানে।
ভারত চমকে দেয় এরপরই। তিন নম্বরে বিরাট কোহলি নন, ব্যাটিংয়ে নামেন তরুণ অলরাউন্ডার শিবম দুবে!
বাঁহাতি দুবে শুরুতে ধুঁকছিলেন টাইমিং পেতে। এক পর্যায়ে রান ছিল ১৪ বলে ১২। ডানা মেলতে পারেননি এ দিন রোহিতও। স্বভাববিরুদ্ধ স্কুপ শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি ১৮ বলে ১৫ করে।
শুরুর নড়বড়ে ভাব কাটিয়ে জেগে ওঠেন দুবে। খেলতে থাকেন দারুণ সব শট। উইকেটের আরেকপ্রান্তে কোহলি তখন স্রেফ দর্শক।
পুল শটে তিনটি ছক্কা মারেন দুবে, এক্সট্রা কাভার দিয়ে আরেকটি। ২৭ বলে স্পর্শ করেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটি। অতি আগ্রাসনের খেসারত দিয়েই তার ইনিংস শেষ হয় ৫৪ রানে।
লেগ স্পিনার হেইডেন ওয়ালশ ও পেসার কেসরিক উইলিয়ামস এরপর আটকে রাখেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। কোহলি থামেন ১৭ বলে ১৯ করে। ঝড় তুলতে পারেননি শ্রেয়াস আইয়ার, রবীন্দ্র জাদেজা। শেষ দিকে দ্রুত রান করেন কেবল রিশাভ পান্ত (২২ বলে অপরাজিত ৩৩)। ভারত তাতে যেতে পারে ১৭০ পর্যন্ত।
ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং জ্বলে উঠলে, ওই লক্ষ্য তো আর এমন কিছু নয়!
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৭০/৭ (রোহিত ১৫, রাহুল ১১, দুবে ৫৪, কোহলি ১৯, পান্ত ৩৩*, শ্রেয়াস ১০, জাদেজা ৯, সুন্দর ০, চাহার ১*; কটরেল ৪-০-২৭-১, পিয়ের ২-০-১১-১, হোল্ডার ৪-০-৪২-১, উইলিয়ামস ৪-০-৩০-২, পোলার্ড ২-০-২৯-০, ওয়ালশ ৪-০-২৮-২)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.৩ ওভারে ১৭৩/২ (সিমন্স ৬৭*, লুইস ৪০, হেটমায়ার ২৩, পুরান ৩৮*; চাহার ৩.৩-০-৩৫-০, ভুবনেশ্বর ৪-০-৩৬-০, সুন্দর ৪-০-২৬-১, চেহেল ৩-০-৩৬-০, দুবে ২-০-১৮-০, জাদেজা ২-০-২২-১)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা
ম্যান অব দা ম্যাচ: লেন্ডল সিমন্স
পর্দা উঠল বঙ্গবন্ধু বিপিএলের

পর্দা উঠল বঙ্গবন্ধু বিপিএলের

রোববার সন্ধ্যায় মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর সরকারি আয়োজনেরও শুরু হল বিপিএলের উদ্বোধন দিয়ে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই আতশবাজির আলোয় রঙিন হয়ে ওঠে রাতের আকাশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা উপস্থিত আছেন, সকলকে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আগামী দিনে এই অনুষ্ঠান স্বার্থক হোক, সফল হোক এবং আজকের অনুষ্ঠান আপনারা সবাই ভালোভাবে উপভোগ করুন, সেই কামনা করে আমি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগ ২০১৯ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।”
নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় আধ ঘণ্টা দেরিতে ‘ডিরকস্টার’ খ্যাত শিল্পী শুভর পরিবেশনায় শুরু হয় কনসার্ট। এরপর গান পরিবেশন করেন রেশমি মির্জা।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মঞ্চে ওঠেন জেমস। তার প্রথম গানের পরপরই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন ঘোষণা এবং আতশবাজির পর আবারও পরিবেশনা শুরু করেন জনপ্রিয় এই ব্যান্ডশিল্পী।
এরপর মঞ্চে আসেন ভারতের সংগীত শিল্পী সনু নিগাম। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন বলিউড তারকা ক্যাটরিনা কাইফ ও সালমান খান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের কথা বলতে দেখা যায়।
সনু নিগমের পর কৈলাস খের গান শোনান উপস্থিত দর্শকদের। রাতে ক্যাটরিনা কাইফ আর সালমান খানের পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। 
গাজী টিভি, মাছরাঙা ও নিউজ ২৪ এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করছে। পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করে বিসিবি।
বঙ্গবন্ধু বিপিএলের মাঠের ক্রিকেট শুরু হবে আগামী বুধবার। মিরপুরেই উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও সিলেট থান্ডার। প্রথম দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দুই প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রেঞ্জার্স।
বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী মার্চে ঢাকায় বিশ্ব একাদশ ও এশিয়া একাদশের দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেরও আয়োজন করেছে বিসিবি।

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

মেয়ের মৃত্যু ও একজন ধর্মপ্রচারক সাইদ আনোয়ার

মেয়ের মৃত্যু ও একজন ধর্মপ্রচারক সাইদ আনোয়ার



পারিবারিক বিপর্যয়ে সম্পূর্ণ পাল্টে যায় তার জীবনের গতিপথ। বিদায় জানাতে হয় ক্রিকেটকেও। বিক্ষিপ্ত ক্যারিয়ার সত্ত্বেও সাইদ আনোয়ারকে বলা হয় পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ ওপেনার।
১৯৬৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, পাকিস্তানের করাচিতে তার জন্ম । বাবা ক্লাবস্তরের ক্রিকেটার ছিলেন। তবে তিনি ক্রিকেটকে পরে পেশা হিসেবে নেননি। তিনি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার।
বাবার কাজের জন্য আনোয়ারের শৈশব কেটেছে বিভিন্ন দেশে। ভাগ্যের সন্ধানে তার বাবা পাকিস্তান থেকে সপরিবারে ইরানের তেহরানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সৌদি আরব। তখন আনোয়ারকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল করাচিতে, দাদুর কাছে।
করাচিতেই ক্রিকেটে হাতেখড়ি আনোয়ারের। তবে তার ক্রিকেটার হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
করাচির এনইডি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক পাশ করেন সাইদ আনোয়ার। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা যাবেন বলে ভেবেছিলেন তিনি।
পড়াশোনা এবং ঘরোয়া ক্রিকেট চলছিল একসঙ্গে। শেষ অবধি পাল্লা ভারী হল ক্রিকেটেরই। আমেরিকা আর গেলেন না। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে জাতীয় দলে ডাক পেলেন সইদ আনোয়ার। ব্যাটিং-এর পাশাপাশি তিনি পার্ট টাইম বাঁহাতি স্পিনারও ছিলেন। পরে তিনি মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে যান।
ও ১৯৮৯-র জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক। প্রায় দু’বছর পরে ১৯৯০-এর নভেম্বরে টেস্ট অভিষেক।
মোট ৫৫ টেস্টে সইদ আনোয়ারের রান ৪০৫২। ৪৫.৫২ গড় নিয়ে সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ১৮৮। ২৪৭টি ওয়ান ডে ম্যাচে মোট সংগ্রহ ৮৮২৪ রান। ৩৯.২১ গড় সমেত সর্বোচ্চ রান ১৯৪। উইকেট পেয়েছেন ৬টি।
অসুস্থতার কারণে বারবার তার কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার জেরে তিনি ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলে থাকতে পারেননি। ১৯৯০-এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৩-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি মাত্র পাঁচটি ওয়ানডে খেলেছিলেন। তার মধ্যে একবারও দুই অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি।
১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন সইদ আনোয়ার। স্ত্রী লুবনা একজন চিকিৎসক। সে বছরও অসুস্থতায় ব্যাহত হয় তার পারফরম্যান্স। আনোয়ারের চিকিৎসা করেছিলেন তার স্ত্রী।  কী অসুস্থতায় ভুগছিলেন তা  জানা যায়নি। সুস্থ হয়ে অবশ্য দুরন্ত ফর্মে বাইশ গজে ফিরে আসেন সইদ আনোয়ার।
পেপসি ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে ১৯৯৭ সালের ২১ মে ভারতের বিরুদ্ধে ১৯৪ রান করেন সইদ আনোয়ার। প্রচণ্ড গরমে তাঁর পায়ে ক্র্যাম্প ধরে গিয়েছিল। তিনি রানার নিয়ে ইনিংস শেষ করেন। ওই ম্যাচে পাকিস্তানের আর কোনো ব্যাটসম্যান সেভাবে রান করতে পারেননি। পাকিস্তানের মোট রান ছিল ৩২৭। জবাবে, রাহুল দ্রাবিড়ের লড়াকু ১০৭ রান সত্ত্বেও ওই ম্যাচে ভারত ৩৫ রানে পরাজিত হয়।
১৩ বছর ধরে সইদ আনোয়ারের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড অক্ষত ছিল। জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেন্ট্রি-ও এই স্কোর করেন। তাদের যুগ্মরেকর্ড ভেঙে যায় শচীন টেন্ডুকরের ব্যাটে। ২০১০-এ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০ রানে অপরাজিত থাকেন শচীন।
ভারত-বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সইদ আনোয়ারের পারফরম্যান্স বরাবর অসাধারণ। সব ধরনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তার গড় ৬৪.৩৩, ভারতের বিরুদ্ধে ৪৪.৯২ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৭.৯৫। তার ৩১টি আন্তর্জাতিক শতরানের মধ্যে ১৫টি এসেছে এই তিন দেশের বিরুদ্ধে খেলে। ১৯৯৭ সালে তিনি উইজডেন পত্রিকার বিচারে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন।
২০০১ সালে মুলতানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়। এই টেস্টের শেষ দিনে এক পারিবারিক বিপর্যয়ে এলোমেলো হয়ে যায় সইদ আনোয়ারের জীবন। দীর্ঘ অসুখের পরে মারা যায় তার তিন বছরের শিশুকন্যা, বিসমাহ। এরপর থেকে সইদ আনোয়ারের কাছে জীবনের অর্থই পাল্টে যায়।
ক্রিকেট ছেড়ে সইদ আনোয়ার মন দেন ধর্মপ্রচারে। তাঁর একমাত্র সঙ্গী হয় ধর্মপুস্তক। সন্তানশোক ভুলতে ধর্মের বাণীতেই সান্ত্বনার আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি।
২০০৩ সালে আবার ক্রিকেটে ফিরেছিলেন সইদ আনোয়ার। খেলেছিলেন বিশ্বকাপ। তার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে সইদ আনোয়ারের স্কোর ছিল ৪০ রান। তার আগের ম্যাচ ছিল ভারতের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে‌ পাকিস্তান ৬ উইকেটে হারলেও শতক করেছিলেন সাইদ আনোয়ার। সেই রান তিনি উৎসর্গ করেছিলেন মেয়ে বিসমাহর স্মৃতিতে।
১৯৯৬, ১৯৯৯ এবং ২০০৩। তিনটি বিশ্বকাপেই সইদ আনোয়ারের দু্র্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল। বিশ্বকাপের ২১টি ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল ৯১৫ রান। গড় ৫৩.৮২।
সাতটি টেস্ট এবং এগারোটি ওয়ানডেতে অধিনায়কত্বও করেছেন সইদ আনোয়ার। তবে অধিনায়ক হিসেবে তিনি সেভাবে সাফল্য পাননি। এখনও অবশ্য সাফল্য-ব্যর্থতা-পরিসংখ্যান থেকে বহু দূরে ধর্মপ্রচারক হিসেবে দিন কাটাচ্ছেন অতীতের এই বিধ্বংসী ওপেনার।
পেছালো বিপিএলে ম্যাচ শুরুর সময়

পেছালো বিপিএলে ম্যাচ শুরুর সময়

আসন্ন বিপিএল টুর্নামেন্টও কয়েকদফা পেছানো হয়েছিলো। এবার পেছানো হলো  বিপিএলের ম্যাচ শুরুর সময়। বিপিএলে ম্যাচের সময় পরিবর্তন যাওয়া নতুন কিছু নয়। কখনও দর্শক টানতে, কখনও রাতের শিশিরের কারণে আগের আসরগুলোয় বদলেছে সময়। এবার তবু একটু ব্যতিক্রম। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এক দফায় বদলে গেল ম্যাচ শুরুর সময়।
শুক্রবারের ম্যাচগুলোর শুরুর সময় অবশ্য বদলায়নি। আগের মতোই দিনের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ২টায়, পরের ম্যাচ সন্ধ্যা ৭টায়। তবে শনিবারসহ অন্যান্য দিনে প্রথম ম্যাচ শুরুর নতুন সময় দুপুর দেড়টা, দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।
আগের সূচি অনুযায়ী, দিনের প্রথম ম্যাচের শুরুর সময় ছিল দুপুর সাড়ে ১২টা, পরের ম্যাচ বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে।
এবার বিপিএলের খেলা হবে পাঁচ ধাপে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ৮ ডিসেম্বর, খেলা শুরু ১১ ডিসেম্বর। ১১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর প্রথম ধাপ হবে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। দুই দিন বিরতি দিয়ে ১৭ ডিসেম্বর থেকে খেলা চট্টগ্রামে।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে খেলা হবে ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর, ২০ ও ২১ ডিসেম্বর, ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর। মাঝে ১৯ ও ২২ ডিসেম্বর থাকবে বিশ্রাম।
২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর আবার দুই দিনের বিরতি। ২৭ ডিসেম্বর থেকে ফের শুরু হবে মিরপুর পর্ব। চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
সিলেটে খেলা হবে তিন দিন, ২ থেকে ৪ জানুয়ারি। আবার মিরপুর পর্ব শুরু ৭ জানুয়ারি।

টুর্নামেন্টের এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফায়ার হবে ১৩ জানুয়ারি। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ১৫ জানুয়ারি। ফাইনাল ১৭ জানুয়ারি। শেষ চারের লড়াই ও ফাইনালের জন্য রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯

‘আগে দেখা করতে চাই’, জুয়াড়িকে বলেছিলেন সাকিব

‘আগে দেখা করতে চাই’, জুয়াড়িকে বলেছিলেন সাকিব



আইসিসির তদন্ত ও সাকিবের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে যতটুকু নিশ্চিত হতে পেরেছে আইসিসি, তা প্রকাশ করা হয়েছে বিস্তারিত।
২০১৭
সেই বছরের নভেম্বরে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে বিপিএল খেলছিলেন সাকিব। সে সময় তার পরিচিত একজন আগারওয়ালকে সাকিবের ফোন নম্বর দেন। ওই ব্যক্তির কাছে বিপিএলে খেলা আরও ক্রিকেটারদের ফোন নম্বরও চেয়েছিলেন আগারওয়াল।
মধ্য নভেম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে সাকিবের সঙ্গে দেখা করতে বারবার জোর করেন আগারওয়াল।
জানুয়ারি ২০১৮
এই বছরের জানুয়ারিতে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। ওই টুর্নামেন্টের সময় আবার আগারওয়ালের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকবার আলোচনা হয় সাকিবের।
১৯ জানুয়ারির ম্যাচে সাকিব সেরা খেলোয়াড় হন। সেদিন সাকিবকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান আগারওয়াল। পাশাপাশি এটাও বলেন, “আমরা কি এখানে কাজ করব নাকি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করব?”
‘কাজ’ বলতে এখানে দলের ভেতরের খবর বোঝানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইসিসি। এই যোগাযোগের কথা সাকিব আইসিসি বা বিসিবি বা কোনো ধরনের দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষকে জানাননি।
চার দিন পর আবার আগারওয়াল বার্তা পাঠান সাকিবকে, “ব্রো, এই সিরিজে কিছু হবে?”
সাকিব জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, কিছু হওয়া বলতে বোঝানো হচ্ছিল দলের ভেতরের খবর জানিয়ে দেওয়াকে।
যথারীতি এই ঘটনাও সাকিব সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে জানাননি।
এপ্রিল ২০১৮
২৬ এপ্রিল আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলেন সাকিব। আগারওয়াল এবার একজন ক্রিকেটারের ব্যাপারে জানতে চান যে সে ওই ম্যাচে খেলছে কিনা। আবারও জানতে চান দলের ভেতরের খবর।
সেখানেই না থেমে সাকিবের সঙ্গে বিটকয়েন, ডলার অ্যাকাউন্ট নিয়ে কথা বলেন আগারওয়াল। জানতে চান সাকিবের ডলার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত। এই আলোচনার সময়ই সাকিব বলেন, যে তিনি ‘আগে’ দেখা করতে চান আগারওয়ালের সঙ্গে।
সেদিনের বেশ কিছু বার্তা সাকিব মুছে ফেলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব জানান, সেগুলো ছিল দলের ভেতরে খবর জানতে চাওয়ার কথা।
আইসিসি জানিয়েছে, ওই আলোচনার পরই আগারওয়ালকে নিয়ে সাকিবের ভাবনা হতে থাকে। আগারওয়াল একজন জুয়াড়ি হতে পারেন ভেবেও সাকিবের ধারণা হয়। তবে সেদিনের কথাও সাকিব সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে জানায়নি।
এরপর
তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২৩ জানুয়ারি ও ২৭ অগাস্ট সাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব জানান যে, আগারওয়ালের কাছ থেকে কয়েকবার প্রস্তাব পেয়েও তিনি তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাননি। এটাও বলেন যে, তিনি জানতেন প্রস্তাব পেয়েও না জানানো মানে আইসিসির বিধি ভঙ্গ করা।
আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের কাছে সাকিব দাবি করেছেন, আগারওয়ালের অনুরোধে সাড়া দিয়ে কোনো তথ্য তিনি জোগান দেননি। আগারওয়ালের কাছ থেকে অর্থ বা উপঢৌকন নেননিও বলে দাবি করেছেন।
তিনবার প্রস্তাব পেয়েও কর্তৃপক্ষকে না জানানোর কথা যেহেতু প্রমাণিত হয়েছে, ধারা অনুযায়ী শাস্তি পেয়েছেন সাকিব।