Showing posts with label ঘটনা-দুর্ঘটনা. Show all posts
Showing posts with label ঘটনা-দুর্ঘটনা. Show all posts

Tuesday, 28 January 2020

চীন থেকে ফিরতে ইচ্ছুকদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

চীন থেকে ফিরতে ইচ্ছুকদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চীনে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের কেউ ফিরতে চাইলে তাদের ফেরানোর ব্যবস্থা নেবার নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এমন নির্দেশনা জারির খবর ফেসবুকের ভেরিফায়েড পাতায় লিখেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
গণপরিহণ বন্ধ করে দেয়ায় উহানসহ চীনের কয়েকটি শহরে বাংলাদেশি নাগরিকদের আটকে পড়ার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন নির্দেশণা দেবার খবর এলো।
উহান শহর থেকেই আলোচিত রহস্যময় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়।
উহান শহরটিকে কার্যত এখন বন্ধ করে রেখেছে চীনের কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে কাউকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। কাউকে ঢুকতেও দেয়া হচ্ছে না।
অথচ ই উহানের একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা রয়েছেন, যারা এখন সেখানে অবস্থান করছেন।
গত শনিবারই উহানে দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করা শামিমা সুলতানা বিবিসিকে বলেছিলেন, বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ থাকলে এক মুহূর্তও এখানে থাকতাম না"।
সোমবার ফেসবুক স্ট্যাটাসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নাগরিক যারা চীন থেকে ফিরতে চাইবেন তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, "আমরা চীন সরকারের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছি। কি প্রক্রিয়ায় এটি করা হবে তা বাস্তবতার নিরিখে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সম্মতির ভিত্তিতে করা হবে।"
আলম আরো লিখেছেন, "আমাদের দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই বিষয়ে আজকের দিনের শেষে একটি প্রাথমিক নির্দেশনা জারি করা হবে যার মূল উদ্দেশ্য থাকবে আগ্রহীদের তালিকা প্রণয়ন।"
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে এ পর্যন্ত ৮০ জন মারা গেছেন, অসুস্থ হয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশটিতে সরকারী ছুটি আরো তিনদিন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
চীনের উহান এবং এর আশেপাশর কয়েকটি শহরে ইতিমধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে, চীনের কয়েকটি শহরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কেউ কেউ বাংলাদেশে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, তাদের অনেকে বিবিসিকে জানিয়েছেন দেশটির সরকার সেখানকার সব ধরণের গণপরিবহনে চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় এক রকম ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
চীনে বসবাসরত প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে প্রায় তিনশ জনের বসবাস উহান এবং এর আশেপাশের শহরগুলোয়।
চীনের বাংলাদেশ দূতাবাস বিবিসিকে জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশি নাগরিকদের যেকোনো সহায়তা চাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে দূতাবাসের এমন একটি হটলাইন নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।
চীনে বাংলাদেশি দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অফ মিশন মাসুদুর রহমান বিবিসিকে বলেছেন, আতঙ্ক দূর করতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে দূতাবাস যৌথভাবে কাজ করছে।
এছাড়া চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, কোন শিক্ষার্থীর যদি, জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, সর্দি বা বুকে ব্যথা হয়- অর্থাৎ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলে সাথে সাথে ডর্মেটরির সুপারভাইজারকে জানাতে হবে।
যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের কিভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে
চীনের বাংলাদেশ দূতাবাস অবশ্য এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে যোগাযোগ করে তাদের নানাবিধ সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
উহানের একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, উহান শহরে বসবাসরত অন্যান্য শিক্ষার্থীরা শুরুতে ভাইরাসের আতঙ্কে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদেরকে সব ধরণের সহযোগিতা দেয়ার কথা আশ্বাস দেয়ায় উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
কিন্তু চীনা সরকারের নির্দেশনা মানতে গিয়ে এক রকম আটক অবস্থায় সতর্ক হয়ে চলতে হচ্ছে তাদের।
আহমেদ বলেন, "দূতাবাস থেকে আর ইউনিভার্সিটি থেকে সব সময় আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখছে। ইউনিভার্সিটি থেকে বলেছে যেন আমরা প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হই। সব সময় যেন মাস্ক পরি, তারা ওই মাস্ক দিয়েছে। বারবার হাত ধুতে বলেছে, প্রচুর পানি খেতে বলেছে। মানে যতভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন - তারা রুমে রুমে এ সংক্রান্ত নোটিশ দিয়ে গেছে।"
শিক্ষার্থীরা যেন তাদের প্রয়োজনীয় বাজার সেরে নিতে পারে এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা বাস সপ্তাহে দুই দিন এই শিক্ষার্থীদের ডর্মেটরি থেকে পাশের সুপার শপে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
এছাড়া কোন শিক্ষার্থীর যদি, জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, সর্দি বা বুকে ব্যথা হয়- যেগুলো কিনা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ। তাহলে সাথে সাথে এই তথ্য ডর্মেটরির সুপারভাইজারকে জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আহমেদ বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ নেয়া হচ্ছে যে আমরা ঠিক আছি কিনা। তারপরও যদি কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যায় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে। আসলে সাবধানে থাকা আর নির্দেশনা মেনে চলা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।"
চীনের বাংলাদেশ দূতাবাস কিভাবে সাহায্য করছে
চীনে বসবাসরত প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে প্রায় তিনশ জনের বসবাস উহান এবং এর আশেপাশের শহরগুলোয়।
করোনাভাইরাসের এই বিস্তারকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলার কথা জানিয়েছে চীনের বাংলাদেশ দূতাবাস।
বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে উহানে বসবাসরত দুই শতাধিক বাংলাদেশি ইতোমধ্যে এক হয়ে তাদের সমস্যাগুলোর কথা দূতাবাসকে অবহিত করেছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকেও সব বাংলাদেশি নাগরিককে জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সহায়তা চাওয়ার জন্য সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টার একটি হটলাইন নম্বরে যোগাযোগের জন্য বলেছে।
বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হলে দূতাবাসের পক্ষ থেকেই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।
যদিও এখন পর্যন্ত কোন বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিকের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
মানুষের আতঙ্ক দূর করতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে দূতাবাস যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানান চীনে বাংলাদেশি দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অফ মিশন মাসুদুর রহমান।
"আমরা বুঝতে পারছি যে, উহানের বাংলাদেশিরা যে একপ্রকার আটক হয়ে অসহায় অবস্থায় আছে। চীনা সরকার এখনও যেহেতু কাউকে সরিয়ে নেয়ার কোন নির্দেশনা দেয়নি, তাই আমরা সেটা করতে পারছি না। এখন চীনা স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতর বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে যে পরামর্শ দিচ্ছে সেগুলো মেনে চলতে বলছি।"
"এছাড়া আমরা যে হটলাইন নম্বর চালু করেছি, সেখানে প্রতিদিন প্রচুর ফোন আসে। কারো বাসায় বাজার নেই, সে কিভাবে যাবে। কিন্তু কেউ আক্রান্ত হয়েছে এমন খবর আমরা পাইনি।" বলেছেন মি. রহমান।
চীনা মন্ত্রণালয়ের সাথে দূতাবাসগুলো কিভাবে কাজ করছে
তবে চীনা নববর্ষের কারণে দেশটির সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে এক ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন বাংলাদেশের দূতাবাস কর্মকর্তারা।
এমন অবস্থায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, চীনে থাকা দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে একজন কর্মকর্তাকে নিযুক্ত করেছে।
এই ভাইরাসকে ঘিরে বিদেশি নাগরিকরা তাদের আতঙ্ক বা অভিযোগগুলোর কথা তাদের দেশের দূতাবাসকে অবহিত করছেন।
এবং দূতাবাস সেগুলো জানাচ্ছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তাকে।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যেমন বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য সেবা অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।
সূত্র : বিবিসি

Friday, 3 January 2020

 রিপন হত্যার আসামি এমদাদ নিহত

রিপন হত্যার আসামি এমদাদ নিহত

এমদাদ হিত
শুক্রবার ভোরে বায়েজিদ বোস্তামি থানার মাঝের ঘোনা এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে বায়েজিদ থানার ওসি প্রিটন সরকারের ভাষ্য।
নিহত এমদাদের (৩৮) বাসা বয়েজিদ বোস্তামি থানার শের শাহ এলাকায়। তার বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা থাকার তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
ওসি প্রিটন সরকার বলেন, রিপন হত্যা মমালার এজাহারে আসামি হিসেবে এমদাদের নাম ছিল ৫ নম্বরে।
“বৃহস্পতিবার রাতে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোরের দিকে পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে বের হয়।” 
ওই অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (বায়েজিদ জোন) পরিত্রাণ তালুকদার বলেন, “মাঝেরঘোনা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। পুলিশও তখন পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তখন এমদাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সেখানে পড়ে থাকতে দেখা যায়।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এমদাদকে মৃত ঘোষণা করেন বলে পরিত্রাণ তালুকদার জানান। 
গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে শের শাহ বাজার সংলগ্ন ফরিদ কমিশনারের বাড়ির পেছনে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ২৮ বছর বয়সী রিপন। তার সঙ্গে থাকা আল আমিন (৩২) নামে আরেক যুবক সেদিন হামলায় আহত হন।
ওসি প্রিটন সরকার সেদিন বলেছিলেন, রিপন ও আল আমিন মেজবান খেয়ে রাতে বাসায় ফিরছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে একদল যুবক তখন তাদের ওপর হামলা চালায়।
ছুরিকাঘাতে আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিপনকে মৃত ঘোষণা করেন।

Sunday, 29 December 2019

একদিনে দেশের ৩ স্থানে ট্রেন দুর্ঘটনা

একদিনে দেশের ৩ স্থানে ট্রেন দুর্ঘটনা

দেশের তিন জেলা কুমিল্লা, গাইবান্ধা ও মৌলভীবাজারে রোববার পৃথক ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার কারণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
ইউএনবির কুমিল্লা প্রতিনিধির পাঠানো খবর অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় একটি আন্তনগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কুমিল্লা রেল স্টেশনের সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী মজুমদার জানান, নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা এক্সপ্রেস’ ট্রেন রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল রেল স্টেশনে পৌঁছলে ইঞ্জিনসহ এক ‘লাগিজ ভ্যান’ লাইনচ্যুত হয়।
পরে কুমিল্লার লাকসাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করলে ৭ ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয় বলে জানান তিনি।
এর আগে, বগি লাইনচ্যুতির পর কুমিল্লা রেল স্টেশনে আটকা পড়ে ঢাকাগামী ‘তূর্ণা নিশিতা’ ও ‘ঢাকা মেইল’। দীর্ঘসময় অপেক্ষমান থাকায় ট্রেনগুলোতে থাকা যাত্রীদের তীব্র শীতের রাতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
এদিকে মৌভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচালে রবিবার সকাল ১০টার দিকে মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হলে সিলেটের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে উদ্ধার কাজ শেষ হলে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয় বলে জানান কুলাউড়া স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে সিলেটগামী মালবাহী একটি ট্রেন বরমচাল স্টেশনে প্রবেশের আগে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। ট্রেনের মধ্যখানের ওই বগিসহ পেছনের প্রায় ১০/১২টি বগি টেনে হিঁচড়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এতে রেললাইনের ২৫০ থেকে ৩০০টি স্লিপার এবং অর্ধ সহস্রাধিক ক্লিপ ভেঙে যায়। এক পর্যায়ে ট্রেন চালক ইঞ্জিন বন্ধ করেন।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সহস্রাধিক যাত্রী রবিবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
গাইবান্ধা রেল স্টেশনের কর্তব্যরত মাস্টার বীরেন চন্দ্র জানান, ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে গাইবান্ধার কামারপাড়া রেল স্টেশন ছেড়ে গাইবান্ধার দিকে আসছিল ট্রেনটি। পথিমধ্যে গাইবান্ধার ভেড়ামারা ব্রিজের কাছে ট্রেনের ১২টি বগির হুক ভেঙে আলাদা হয়ে যায়। পথিমধ্যে আটকা পড়ে যাত্রীসহ ১২টি বগি।
বগিগুলো উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে বাধ্য হয়ে ট্রেনটি ৪টি বগি নিয়ে গাইবান্ধা রেল স্টেশনে পৌঁছায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইঞ্জিনসহ ট্রেনের ৪টি বগি গাইবান্ধা স্টেশন থেকে আবারও ভেড়ামারায় বগিগুলো আনার জন্য রওনা হয় এবং রাত ৮টার পর বগিগুলো স্টেশনে পৌঁছে বলে জানান তিনি। সূত্র : ইউএনবি

Wednesday, 25 December 2019

বগুড়ায় কভার্ড ভ্যান ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে’ ঘরে, গৃহবধূ নিহত

বগুড়ায় কভার্ড ভ্যান ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে’ ঘরে, গৃহবধূ নিহত

জেলার শেরপুর থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবীর জানান, উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কাজলী খাতুন (৪০) ওই গ্রামের গহর আলীর স্ত্রী।
জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা রতন হোসেন বলেন, বুধবার সকাল ৮টার দিকে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী একটি কভার্ড ভ্যানের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি গহর আলীর ঘরে ঢুকে যায়। এ সময় গহরের স্ত্রী কাজলী সেখানে রান্না করছিলেন। দুর্ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
ঘটনার পর পুলিশ গিয়ে কভার্ড ভ্যানটি আটক করলেও চালক বা তার সহকারী কাউকে ধরতে পারেনি।
কেরাণীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় বাইক আরোহী ২ বন্ধু নিহত

কেরাণীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় বাইক আরোহী ২ বন্ধু নিহত

দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিকুজ্জামান জানান, উপজেলার ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ঢাকা- মাওয়া সংযোগ সড়কে বুধবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের নাম মো. রাসেল (২২) ও রাব্বি (২৩) বলে জানালেও পুলিশ তাদের ঠিকানা বলতে পারেনি পুলিশ।
পরিদর্শক আশিকুজ্জামান স্থানীয়দের বরাতে বলেন, দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে করে কেরাণীগঞ্জ কারাগারের দিকে যাওয়ার সময় সড়ক মেরামতের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। দুই বন্ধু ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন বলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

Tuesday, 24 December 2019

খুলনায় সেনাবাহিনীর ট্রাক পুকুরে পড়ে ১ সদস্য নিহত

খুলনায় সেনাবাহিনীর ট্রাক পুকুরে পড়ে ১ সদস্য নিহত

ডুমুরিয়ায় সেনাবাহিনীর একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে এক সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বালিয়াখালি সেতু সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেনা সদস্যের নাম ল্যান্স কর্পোরাল শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক (৪২)।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- সার্জেন্ট আতিকুর রহমান, কর্পোরাল আজিজুল হক এবং সৈনিক নাদিম, সুমন, ইমরান, তরিকুল, রাসেল, ফয়সাল, আফজাল, রাজু ও আরিফ।
আহতদের প্রথমে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে আহত ছয়জনকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হয় বলে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
খর্ণিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ বলেন, ‘সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়া উপলক্ষে বরিশাল থেকে সাতক্ষীরায় ট্রাক যোগে একটি দল যাচ্ছিল। ট্রাকটি ডুমুরিয়ার বালিয়াখালি সেতুতে উঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মৎস্য ঘেরে পড়ে যায়। ওই গাড়িতে ২৭ সেনা সদস্য ছিলেন।’ 
সূত্র : ইউএনবি
কুষ্টিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে এক পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫

কুষ্টিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে এক পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫

কুষ্টিয়ায় ট্রাকের সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কে ষোলদাগ পাওয়ার হাউজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- অটোরিকশার যাত্রী মেজবাউল আলম (৩০), তার মা মাহমুদা খাতুন (৫৫), স্ত্রী শিরিন সুলতানা (২৫) ও আট মাস বয়সী ছেলে ইব্রাহিম মিহাত। নিহত অটোরিকশা চালকের পরিচয় জানা যায়নি।
ভেড়ামারা থানার ওসি শুভ প্রকাশ ফারুক জানান, মেজবা তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঝিনাইদহের শ্বশুরবাড়ি থেকে রাজশাহীর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হলে অটোরিকশার চালকসহ তিনজন ঘটনাস্থলে নিহত হন। এছাড়া আহত আরো দুইজনকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তারাও মারা যান।’
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ট্রাকটি আটক করেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন বলে তিনি জানান।

Friday, 20 December 2019

কেরানীগঞ্জে কারখানায় আগুন: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

কেরানীগঞ্জে কারখানায় আগুন: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

কেরানীগঞ্জে কারখানায় আগুন: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরির কারখানায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে রবিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টার দিকে আসাদ (১৪) নামে এক কিশোর মারা গেছেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হিজলতলা এলাকায় গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানার আহত শ্রমিকরা জানান, প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম গ্লাস তৈরির সময় হঠাৎ একটি গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটলে মুহূর্তেই কারখানার ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সূত্র : ইউএনবি
দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয়

দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয়

দূষিত বাতাসের নগরীর তালিকায় মঙ্গলবার সকালে রাজধানী ঢাকা দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ঢাকার স্কোর ছিল ২১০। যার অর্থ হচ্ছে এ শহরের বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’।
আর এ তালিকায় ৩০০ স্কোর নিয়ে প্রথমে স্থানে আছে পাকিস্তানের লাহোর এবং ২০৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে আফগানিস্তানের কাবুল।
প্রসঙ্গত, একটি নির্দিষ্ট শহরের প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা হয় এই একিউআই সূচক। যার মাধ্যমে একটি শহরের বাতাস কতটুকু বিশুদ্ধ বা দূষিত সে সম্পর্কে তথ্য দেয় এবং সেই সাথে ওই পরিস্থিতিতে কোন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা জানিয়ে দেয়।
একিউআই মান ২০১ থেকে ৩০০ হলে, স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ জরুরি অবস্থা হিসাবে বিবেচিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুরো জনগোষ্ঠরি ওপর প্রভাব পরার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
এ অস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের ভেতরে থাকার এবং বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।
অপরদিকে, একিউআই সূচকে ৫০ এর নিচে স্কোর থাকার অর্থ হলো বাতাসের মান ভালো। সূচকে ৫১ থেকে ১০০ স্কোরের মধ্যে থাকলে বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেয়া হয়। আর সূচকের স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হওয়ার অর্থ হচ্ছে বাতাসের মান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য তা অস্বাস্থ্যকর।
মাত্রাতিরিক্ত মানুষের বসাবাসের নগরী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বাতাসে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। বর্ষাকালে কিছুটা উন্নতি হতে দেখা গেলেও গ্রীষ্মকালে শহরটিতে বায়ু দূষণ মাত্র বেড়ে যায়। ইউএনবি।