দেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০

বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতা দিবস

বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতা দিবস

বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে বৃহস্পতিবার। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে এবছর স্বাধীনতা দিবসের সকল কর্মসূচি বাতিল করেছে সরকার।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরস্ত্র বাঙালির বিরুদ্ধে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের পর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
৩০ লাখ মানুষের প্রাণ এবং ২ লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ।
দিবসটির প্রাক্কালে পৃথক বাণীতে দেশ-বিদেশে থাকা সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, নানা ষড়যন্ত্র করেও বাঙালির মুক্তিসংগ্রামকে প্রতিহত করতে না পেরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙালিদের নিশ্চিহ্ন করতেই ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি হানাদারেরা এ দেশের গণমানুষের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।
তিনি বলেন, সব বাধা পেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ আজ উন্নতি আর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যহীন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এবছর জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রূপকল্প-২০২১’ ও ‘রূপকল্প-২০৪১’ ঘোষণা করেছেন। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানাই, বলেন রাষ্ট্রপতি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ভিশন-২০২১, ভিশন-২০৪১ এবং ডেল্টা প্লান-২১০০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
বাণীতে, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে জাতীয় দৈনিকগুলো। এছাড়া বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি রেডিও স্টেশন এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলো স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।
তবে সরকার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- ডব্লিউএইচ’র নির্দেশনা অনুসরণ করে জনসমাগম এড়াতে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিজেদের সকল কর্মসূচি স্থগিত করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাদার সংগঠন।  সূত্র : ইউএনবি

শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯

এবার নতুন নেতৃ‌ত্বের‌ জন্য অ‌পেক্ষা

এবার নতুন নেতৃ‌ত্বের‌ জন্য অ‌পেক্ষা

এবার নতুন নেতৃ‌ত্বের‌ জন্য অ‌পেক্ষা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন বিকাল ৫ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। তার আগে বক্তব্য রাখেন- দলটির বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্মেলন মঞ্চে চলছে এখন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।‌ শনিবার সকাল দশটার সময় ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর‌দের নি‌য়ে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নির্ধারিত হবে দলটির আগামী নেতৃত্ব।
দল‌টির সূত্রে জানা যায়, সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক ব্য‌ক্তির নাম আলোচনায় থাকলেও সদ্য বিদা‌য়ী সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পুনরায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ত‌বে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দল‌টির সভাপ‌তি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা।
এর আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকাল তিনটার সময় সম্মেলনস্থ‌লে উপস্থিত হয় জাতীয় সংগীত পাঠ, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা উড়িয়ে ২১তম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করেন।
এবারের জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের স্লোগান হচ্ছে, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ, এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ’।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আহমদ রেজা নামের একজন কাউন্সিলর বলেন, আগামীর নেতৃত্বে কে আসছেন তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী জানেন। তিনি যাকে যোগ্য ও দলের জন্য উপযুক্ত মনে করবেন তার হাতে আগামীর নেতৃত্ব তুলে দিবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী মানুষের চাওয়া পাওয়া এবং নেতাকর্মীদের স্বপ্ন যাতে বাস্তব রূপ লাভ করতে পারে সেটাই প্রত্যাশা থাকবে আগামী'র নেতৃত্বের উপর।
দলটির সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে প্রায় ৭ হাজার কাউন্সিলর অংশ নেন। সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে জন্ম আওয়ামী লীগের। এখন ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বয়স ৬৭ বছর। এ পর্যন্ত দলটির ২০টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে দুই দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ আর নেই

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ আর নেই

বিশ্বের শীর্ষ বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শুক্রবার রাত ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরার অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত অবস্থায় অ্যাপোলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ব্র্যাকের পরিচালক (কমিউনিকেশন) মৌটুসী কবীর তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলে এবং তিন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন।
আগামী রোববার (২২শে ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত তার লাশ ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। দুপুর সাড়ে বারোটায় আর্মি স্টেডিয়ামেই তার জানাজার নামাজ সম্পন্ন হবে। জানাজার পর ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
ব্র্যাক গ্লোবাল বোর্ডের চেয়ারপারসন আমিরা হক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ফজলে হাসান আবেদের আত্মনিবেদন, কর্মনিষ্ঠা এবং সুদৃঢ় নৈতিক অবস্থান তাকে ব্র্যাক পরিবারের সকলের কাছে শ্রদ্ধেয় ‘আবেদ ভাই’ করে তুলেছে। মানুষকে মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি ছিল তার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ব্র্যাকের পরিচিতি যখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে তখনও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নই তার অগ্রাধিকার ছিল। সততা, বিনয় এবং মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত ছিলেন তিনি। তার এসকল গুণাবলিই ব্র্যাকের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠার ভিত্তি রচনা করেছে।’
ফজলে হাসান আবেদের বর্ণাঢ্য জীবন
ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন একজন ভূস্বামী। তার মায়ের নাম সৈয়দা সুফিয়া খাতুন। তার পূর্বপুরুষরা ছিলেন ঐ অঞ্চলের জমিদার। আবেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে ও পরে ব্রিটেনের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি শেল অয়েল কোম্পানীতে অর্থনৈতিক কর্মকর্তা হিসাবে যোগ দেন।
ফজলে হাসান আবেদের শিক্ষাজীবন শুরু হয় হবিগঞ্জে। হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণী থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরবর্তীতে দেশভাগের ঠিক আগে তার বাবা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে হবিগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়ি বানিয়াচংয়ে চলে আসেন। পরবর্তীতে তিনি চাচার চাকুরীস্থলে কুমিল্লা জেলা স্কুলে ভর্তি হন। সপ্তম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানেই লেখাপড়া করেন। এরপর চাচা জেলা জজ হিসেবে পাবনায় বদলি হওয়ায় তিনিও চাচার সাথে পাবনায় চলে যান এবং পাবনা জেলা স্কুলে ভর্তি হোন। সেখান থেকেই ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৫৪ সালে এইচএসসি পাস করেন নটরডেম কলেজ থেকে। সে বছরই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্স বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালের অক্টোবর মাসে তিনি স্কটল্যান্ডে গিয়ে গ্লাসগো ইউনিভার্সিটিতে নেভাল আর্কিটেকচারে ভর্তি হন। নেভাল আর্কিটেকচারের কোর্স ছিল চার বছরের। দুবছর লেখাপড়া করে কোর্স অসমাপ্ত রেখে ১৯৫৬ সালে গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি ছেড়ে লন্ডন চলে যান এবং সেখানে ভর্তি হন অ্যাকাউন্টিংয়ে। এখানে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিংয়ের উপর চার বছরের প্রফেশনাল কোর্স পাশ করেন ১৯৬২ সালে। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৪ সালে কানাডার কুইনস ইউনিভার্সিটি থেকে 'ডক্টর অব ল' এবং ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে 'ডক্টর অব এডুকেশন' ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবন
চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিংয়ে পড়াকালীন সময়ে ১৯৫৮ সালে ফজলে হাসান আবেদের মায়ের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে তিনি লন্ডনে চাকরিতে যোগদান করেন। কিছুদিন চাকরি করার পর চলে যান কানাডা। সেখানেও একটি চাকরিতে যোগ দেন। পরে চলে যান আমেরিকা। ১৯৬৮ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে তিনি শেল অয়েল কোম্পানির হেড অব ফাইন্যান্স পদে যোগদান করেন। এখানে চাকরির সময় সত্তরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হয়। ফজলে হাসান আবেদ উপদ্রুত এলাকা মনপুরায় গিয়ে ত্রাণকাজ পরিচালনা করেন। এর চারমাস পর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে তিনি আর চাকরিতে ফিরে যাননি।
ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা
১৯৭০ সালে ফজলে হাসান আবেদ বাংলাদেশের ভয়াবহ ঘূর্ণীঝড়ে আক্রান্ত দুঃস্থ মানুষের সাহায্যে ত্রাণ কর্মকাণ্ডে জড়িত হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্র্যাকের জন্ম। যুদ্ধের পর সিলেটের শাল্লায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাসরত লোকজনকে দেখতে গেলেন। সেখানে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি শাল্লায় কাজ করবেন। এভাবেই স্বাধীন বাংলাদেশের দরিদ্র, অসহায়, সব হারানো মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসনকল্পে শুরু করলেন 'Bangladesh Rehabilitation Assistance Committee' সংক্ষেপে যা 'BRAC' নামে পরিচিত। ১৯৭৩ সালে সাময়িক ত্রাণকার্যক্রমের গণ্ডি পেরিয়ে ব্র্যাক যখন উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ শুরু করে, তখন 'BRAC'-এই শব্দসংক্ষেপটির যে ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়, সেটি হল 'Bangladesh Rural Advancement Committee'। বর্তমানে ব্যাখ্যামূলক কোনো শব্দসমষ্টির অপেক্ষা না রেখে এই সংস্থা শুধুই 'BRAC' নামে পরিচিত।
কবি বেগম সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, কাজী ফজলুর রহমান, আকবর কবীর, ভিকারুল ইসলাম চৌধুরী, এস আর হোসেন এবং ফজলে হাসান আবেদ, এই সাতজনকে নিয়ে ১৯৭২ সালে ব্র্যাকের গভর্নিং বোর্ড গঠিত হয়। বোর্ড ফজলে হাসান আবেদকে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করে। কবি বেগম সুফিয়া কামাল হলেন ব্র্যাকের প্রথম চেয়ারম্যান। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন ব্র্যাকের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন শেষে গত আগস্ট মাসে তিনি ওই পদ থেকে সরে যান। তার ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তবে চেয়ারপারসনের পদ ছাড়লেও সংস্থাটির সম্মানসূচক 'চেয়ার এমিরেটাস' পদে ছিলেন আবেদ।
পুরষ্কার
ফজলে হাসান আবেদ তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনে অনেকগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কারে ভুষিত হন। তার মধ্যে অন্যতম হলো-সামাজিক নেতৃত্বে জন্য র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরষ্কার (১৯৮০), ইউনেস্কা নোমা পুরষ্কার (১৯৮৫), এ্যালান শন ফেইনস্টেইন ওয়ার্ল্ড হাঙ্গার পুরষ্কার (১৯৯০)ইত্যাদি।
এছাড়া নেদারল্যান্ডসের রাজার পক্ষ থেকে নাইটহুড ‘অফিসার ইন দ্য অর্ডার অফ অরেঞ্জ-নাসাউ’ খেতাবেও ভূষিত হন তিনি।
তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল

তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল

তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল

সারাদেশে দুর্বিসহ শীত। ঠান্ডা বাতাসে কাবু দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল। সকাল বেলা দাঁতে দাঁতে ঠুকাঠুকি শুরু হয়ে মানুষের। কষ্ট হয় কথা বলতে। শীতের কামড় থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে যেতে চাচ্ছে না মানুষ। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে জেঁকে বসেছে শীত। হিমের হাওয়ার সাথে দেশ ব্যাপি মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা শীতের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
কুয়াশার কারণে গত বুধবার থেকে সূর্য দেখা যায় না। ফলে পরিবেশও উষ্ণ হচ্ছে না। বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ এতো বেশি যে পরিবেশে যতটুকু উষ্ণতা ছিল তাও শুষে নিচ্ছে। দেশব্যাপি বয়ে চলা প্রচন্ড শীতের এটাও একটি অন্যতম কারণ।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ থেকে পরিবেশ ধীরে ধীরে উষ্ণ হতে থাকবে। আজও সূর্যের কিরণও পাওয়া যাবে অপেক্ষাকৃত একটু বেশি। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে ঠান্ডা বাড়লেও এটা কুয়াশার পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। কুয়াশা কমে গেলে সূর্য কিরণ স্পষ্ট করে পাওয়া যাবে। এভাবে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।
খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের মধ্যে কেবল রাজশাহী, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে মৃদু শৈত্য প্রবাহ থাকবে। গত বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অফিস শৈত্য প্রবাহের আওতা বাড়ার পূর্বাভাস দিলেও গতকাল শুক্রবার হঠাৎ পরিবর্তন আসে এবং শৈত্য প্রবাহ কমে গিয়ে রাজশাহী, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা পর্যন্ত আটকে আছে। তাপমাত্রা কিছু বাড়লে হয়তো কাল কোনো শৈত্য প্রবাহ নাও থাকতে পারে।
শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজধানী ঢাকায় সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সন্ধ্যা ৬টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ শুক্রবার সারাদেশেই আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমান নিম্ন তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটবে আগামী সোমবার থেকে। সোমবার থেকে শীতটা চলে আসতে পারে সহনীয় মাত্রায়।
মূলতঃ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ঠান্ডা আসে বিহারের ওপাশ থেকে হিমালয় অঞ্চল থেকে। সাইবেরিয়া অঞ্চলের শূণ্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের হিমেল হাওয়া আসতে থাকে পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে। এটা এসে হিমালয়ের পর্বত শ্রেণীতে বাধা প্রাপ্ত হয়। এর সামান্য একটু অংশ ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এতেই এখানে অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে।
আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ ৮
রংপুর অফিস জানায়, গত ৫ দিন থেকে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৩ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। ফলে রোদের নাগাল পাচ্ছেন না এ অঞ্চলের মানুষ। এতে নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের লোকজন। দেখা দিয়েছে নিউমোনিয়া, সর্দি জ্বরসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র জুটছে না শীতার্তদের। এই অবস্থা আরো চার-পাঁচ দিন থাকার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। অন্যদিকে গত কয়েকদিনে শীত থেকে বাঁচতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন এক অন্তঃসত্ত্বাসহ আটজন। অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে রংপুরের ৪ জন, ঠাকুরগাঁওয়ের ৩ জন এবং দিনাজপুরের একজন রয়েছেন। এদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা খারাপ। তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ঠান্ডায় বিপর্যস্ত রাজশাহীর জনজীবন
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাজশাহীতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষ। সেইসঙ্গে শীতজনিত রোগী বাড়ছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, মেডিসিন, শিশু ও চর্ম বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন। মেডিসিনের চারটি ইউনিটে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২০০ জন। যাদের বেশিরভাগই জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, হাঁপানিতে আক্রান্ত। শিশু ওয়ার্ডের তিনটি ইউনিটে পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। শিশুরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত।
নওগাঁয় শীতজনিত রোগের আক্রমণ
নওগাঁ সংবাদদাতা জানান, নওগাঁয় বুধবার সন্ধ্যা থেকে শীতের প্রকোপ তীব্র হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জেলায় সবর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিলো নয় দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে জেলার দরিদ্রসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোজনকে। এ দিকে গত কয়েকদিন ধরে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ডায়রিয়া, আমাশয়, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত নানারোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন নওগাঁ সদর ও জেলার উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে ভর্তি হচ্ছেন নারী, শিশু, বয়স্ক লোকজন। এদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই অধিক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় শীতকষ্ট পোহাতে হচ্ছে দিনমজুর ও কর্মজীবী লোকজনকে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় ব্যাপকভাবে শীত বস্ত্র বিতরণ শুরু না ছিন্নমুল লোকজনের শীতে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
পঞ্চগড়ে দেখা মেলেনি সূর্যের
পঞ্চগড় সংবাদদাতা জানান, পঞ্চগড়ে গতকাল শুক্রবার দিনভর মেঘাচ্ছন্ন আকাশে দেখা মেলেনি সূর্যের। সেইসাথে দিনভর বইছে উত্তরের কনকনে শীতল বাতাস। এ অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হয়নি। দিনভর খড়কুটো অথবা কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করেছে নি¤œ আয়ের মানুষজন। শীত বাড়ার সাথে সাথে ভিড় বেড়েছে পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ৯টায় এখানে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শনিবার তাপমাত্রা আরো কিছুটা কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস।
কুড়িগ্রামে শৈত্য প্রবাহের শঙ্কা
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান, গত চার দিন ধরে কুড়িগ্রামে টানা শৈত্য প্রবাহে শীতের তীব্রতা বাড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান শুক্রবার সকালে তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সারাদিনই কুয়াশার চাদরে আবৃত ছিল কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলসহ পুরো জনপদ। সূর্যের মুখ দেখা যায়নি সারাদিনও। ভেজা আবহাওয়া ও হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নদ-নদীর অববাহিকায় ঘন কুয়াশা সহ শীতের তীব্রতা বেশি অনুভুত হচ্ছে। নৌ-পথ ও সড়কপথে যানচলাচল করছে ধীর গতিতে। দু’একদিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরো হ্রাস পেয়ে জেলায় শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং ২৪ কিংবা ২৫ ডিসেম্বর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
শীতে স্থবির নীলফামারীর জনজীবন
নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, গত চার দিন ধরে নীলফামারীতে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শৈত্য প্রবাহের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে এ জেলার জনজীবন। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষজন। তারা কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে কাজে বের হতে পারছে না। বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গত কয়েকদিনে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছে।
শীতে দুর্ভোগ বেড়েছে দৌলতপুরে
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান, সারা দেশের মতো কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলাতেও জেঁকে বসেছে শীত। ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশা আর মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে সাধারন মানুষ জীবন। ঘন কুয়াশার কারণে গত দু’দিন এখানে সূর্যের তেমন দেখা মেলেনি। প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না। প্রচন্ড শীতে ঠান্ডাজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষ ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। দরিদ্র মানুষ ও শ্রমজীবীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড় পর্যন্ত কিনতে পারছে না। শীত বেড়ে যাওয়ায় বোরো ধানের বীজতলা প্রস্তুত ও জমি চাষবাদ করতে বেগ পেতে হচ্ছে কৃষকদের

বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

ভারতে তথ্য পাচার, যশোরে পুলিশ সদস্য ৫ দিনের রিমান্ডে

ভারতে তথ্য পাচার, যশোরে পুলিশ সদস্য ৫ দিনের রিমান্ডে

যশোরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভারতে পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ সদস্য দেব প্রসাদ সাহাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দিন হুসাইনের আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এর আগে, গত ১৭ ডিসেম্বর দেব প্রসাদকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর যশোরে নিয়ে আসে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। পরে আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়। দেব প্রসাদ খুলনার তেরখাদা উপজেলা সদরের সুরেন্দ্রনাথ সাহার ছেলে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেবপ্রসাদ সাহার নামে গত ১৫ ডিসেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়।’
২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বেনাপোল ইমিগ্রেশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া দেব প্রসাদ সাহা। সেখানে  কর্মরত অবস্থায় তিনি বিভিন্ন সময় সীমান্তরেখা অতিক্রম করে ভারতে যাওয়া আসা করতেন।
বেনাপোলে দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ বাহিনীর দুই সদস্যের সাথে তার সম্পর্ক হয়। ওই দু’জন মাঝে মধ্যে বেনাপোলে গিয়ে ভারতের এস চক্রবর্তী ও পিন্টু নামে দুই জনের কাছে বাংলাদেশের গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন।
২০১৮ সালে শেষের দিকে দেব প্রসাদ সাহা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংবলিত একটি পেনড্রাইভ ভারতে পাচার করেন। এর ১৫ দিন পর বিশেষ বাহিনীর এক সদস্যের কাছ থেকে এনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংবলিত পেনড্রাইভ ভারতের এস চক্রবর্তী ও পিন্টুর কাছে হস্তান্তর করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ অক্টোবর ঢাকার কমলাপুরের এক হোটেল থেকে ডিজিএফআই ও র‌্যাবের হাতে শাহানেওয়াজ শাহিন নামে এক সৈনিক আটক হন। এসময় তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি ভারতের কাছে তথ্য পাচারের বেশ কিছু তথ্য দেন।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ সদর দপ্তর। তদন্তে, অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট থেকে ভারতে বাংলাদেশের তথ্য পাচারের বিষয়টি উঠে আসে। এরপরই দেব প্রসাদের নামে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা দায়ের ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্র : ইউএনবি

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

রাজাকারের তালিকায় নাম নেই নিজামী-মুজাহিদ-সাকা চৌধুরীদের

রাজাকারের তালিকায় নাম নেই নিজামী-মুজাহিদ-সাকা চৌধুরীদের

রাজাকারের তালিকায় নাম নেই নিজামী-মুজাহিদ-সাকা চৌধুরীদের 
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর প্রথম ধাপে একাত্তরে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও স্বাধীনতাবিরোধী ১০ হাজার ৭৮৯ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কিন্তু এই তালিকা জন্ম দিয়েছে বিতর্কের। জীবনের মায়া ত্যাগ করে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এমন অনেকেরই নাম রয়েছে এই তালিকায়। আবার একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বা দণ্ডপ্রাপ্ত এমন আলোচিতদের নামই নেই এ তালিকায়। 
গত ১৫ ডিসেম্বর রাজাকারের এই তালিকায় প্রকাশ করা হয়। প্রথম ধাপের এই তালিকায় যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাসেম আলী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ আলোচিত অনেকে।
অথচ এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধার খোঁজ মিলেছে, যারা একাত্তরে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। এর বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে পরিচিত বেশ কিছু আওয়ামী লীগ নেতার এসেছে। এছাড়া নারী রাজাকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন ৩৮ জন। হিন্দুধর্মাবলম্বীর ৯২ জনের নামও এসেছে তালিকায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডারের নামও যুক্ত হয়েছে রাজাকারের   তালিকায়।
ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তালিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন নেটিজেনেরা। আরও ভালো করে যাচাই বাছাইয়ের পর এটা প্রকাশ করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন তারা
বাংলাদেশী ভোটারের নাম 'আয়েশা জোয়াং জিং আক্তার

বাংলাদেশী ভোটারের নাম 'আয়েশা জোয়াং জিং আক্তার

প্রবাসে বাংলাদেশীকে বিয়ে করে ফেনীতে আসা ‘আয়েশা জোয়াং জিং আক্তার’ নামে এক চীনা নারী ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন পাঁচ বছর আগে। বিষয় ধরা পড়ার পর ওই নারীকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে তার এনআইডি বাতিল করেছে ইসি। সেই সঙ্গে জোয়াং জিং নামের ওই চীনা এবং যারা তাকে জালিয়াতিতে সহায়তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফেনী সদর নির্বাচন কর্মকর্তাকে সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন ইসির সহকারী সচিব মোশাররফ হোসেন।
সম্প্রতি ইমিগ্রেশনে সন্দেহ হলে তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়, তখনই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। ইতোমধ্যে তার নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে তার জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল করা হয়েছে।
ফেনী সদর থানা নির্বাচন কর্মকর্তা আফরোজা পারভীন বলেন, জোয়াং জিং বর্তমানে কোথায় রয়েছেন সে বিষয়ে আমরা অবগত নই। তার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি স্বামী বছরখানেক আগে দেশে এসেছিলেন। তারা দুজনই প্রবাসী। ইসির নির্দেশনা পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ‘আয়েশা জোয়াং জিং আক্তার’ নামে জন্মসনদ ও নাগরিক সনদ সংগ্রহ করেছিলেন ওই চীনা নারী। সনদ সরবরাহে জড়িত সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, নিবন্ধন ফরমে সনাক্তকারী ও যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষরকারী/সহায়তা প্রদানকারীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জোয়াং জিং নামের ওই চীনা নারী প্রবাসে এক বাংলাদেশিকে বিয়ে করে এ দেশে আসেন। পরে ২০১৪ সালের হালনাগাদ তালিকায় ভোটার তালিকাভুক্ত হন।

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ

নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ

দুই যুগের পাকিস্তানি শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল যে বাংলাদেশ, তা পার করল ৪৮ বছর।
সেই বিজয়ের বার্ষিকীতে সোমবার সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে এ মাটির মুক্তির জন্য প্রাণ দেওয়া ৩০ লাখ শহীদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে দেশবাসী।
সরকারি-বেসরকারি সব ভবনে উড়বে জাতীয় পতাকা, সাভার স্মৃতিসৌধসহ দেশের সব শহীদ বেদীগুলো ভরে উঠবে শ্রদ্ধার ফুলে। বিজয়ের শোভাযাত্রায় মুখর হবে রাজপথ। 
বাঙালির মুক্তি এসেছিল অনেক রক্ত ঝরিয়ে, শোষণ-বঞ্চনা আর যন্ত্রণার শেষে লাখো মানুষের আত্মাহুতি ও বাংলা মায়ের আত্মদানের বিনিময়ে।
স্বাধীনতার পর ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যায়িত করে যারা অপমান করেছিল, সেই তাদের কণ্ঠেই এখন বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা। দারিদ্র্য আর দুর্যোগের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পথে।
বিজয়ের এই মাহেন্দ্রক্ষণে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সেই অগ্রযাত্রার কথাই ধ্বনিত হয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণীতে।
দেশবাসী ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে তারা বিজয়ের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি গত কয়েক বছরে অর্জন করেছে, উন্নয়নের সেই ধারা অব্যাহত রাখতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সবার প্রতি।
দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও তা যে টিকবে না তা আঁচ করেছিলেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক, তারপর নিপীড়ন-নির্যাতন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের স্বাধিকার এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে প্রবল করে তোলে।
পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের স্বাধিকারের চাওয়াকে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ১৯৭১ সালে অস্ত্রের মুখে রুদ্ধ করতে প্রয়াস চালিয়ে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল এই ভূখণ্ডের মানুষের উপর।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সেই প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এই বাংলার মানুষ। ন‌্যায‌্য অধিকারের সশস্ত্র সেই সংগ্রামে সহায়তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছিল প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
এরপর ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স (এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে মুক্তিবাহিনী ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের যৌথ নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি বাহিনী; লাল সবুজ পতাকা ওড়ে স্বাধীন ভূমিতে, নতুন দেশে।
স্মরণে-উদযাপনে
বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে। তার পরের কর্মসূচি আবর্তিত হবে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
ভিআইপিদের শ্রদ্ধা জানানোর পর স্মৃতিসৌধ সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধার ফুলে ভরে উঠবে স্মৃতিসৌধ।
স্মৃতিসৌধের অনুষ্ঠান চলার মধ্যেই রাজধানীতে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শুরু হবে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। এই কুচকাওয়াজের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন মহড়া চলবে, যার প্রস্তুতি চলছে গত কয়েকদিন ধরে।
রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম নেবেন। প্রধানমন্ত্রীও এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
বিজয় দিবস সরকারি ছুটির দিন। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়েছে আগের রাতেই। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপও সাজানো হয়েছে পতাকায়।
সোমবার সকালে সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে তোলা হবে জাতীয় পতাকা। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন বাহিনীর বাদক দল বাদ্য বাজাবেন।
বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। টেলিভিশন ও বেতারে থাকবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন  সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে।
এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। নৌ-বাহিনীর বেশ কিছু জাহাজ সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় উপাসনালয়ে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু বিকাশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের সকল শিশু পার্ক ও জাদুঘর থাকবে উন্মুক্ত।
রাষ্ট্রপতির বাণী
বিজয় দিবসের বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশে আজ মুক্তিযুদ্ধের পতাকাবাহী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজকে পরিপূর্ণতা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভিশন ২০২১’, ‘ভিশন ২০৪১’ এবং শতবর্ষ মেয়াদি  ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ নিয়েছেন। 
জাতিসংঘ ঘোষিত ‘টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট ২০৩০’ অর্জনসহ ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা এসব মহাপরিকল্পনার উদ্দেশ্য। দেশের জনগণ ইতোমধ্যে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল পেতে শুরু করেছে। ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
“উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ। তবে উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন জনগণের আচার-আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।”
রাষ্ট্রপতি বলেছেন, লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।
“তাই আসুন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরো বেশি অবদান রাখি এবং দেশ ও জাতিকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেই। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হোক, মহান বিজয় দিবসে-এ আমার প্রত্যাশা।”
প্রধানমন্ত্রীর বাণী
বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি দীর্ঘ তেইশ বছর রাজনৈতিক সংগ্রাম ও নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
“বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে দেশ, গণতন্ত্র ও সরকারবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের এই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এ বিজয় দিবসে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
“বিগত প্রায় ১১ বছরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কূটনৈতিক সাফল্যসহ প্রতিটি সেক্টরে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তৃণমূলের জনগণ আজ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে।”
বিরোধীদলীয় নেতা
দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এক বাণীতে বলেন, বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে আনন্দের ও গৌরবের দিন মহান বিজয় দিবস।… বাঙালি জাতি যত দিন বেঁচে থাকবে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গৌরব করবে, অহংকার করবে।
“রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং শ্রেণি বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। বিজয়ের চার দশক পার হলেও মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য পরিপূর্ণরূপে এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।”
দলমত নির্বিশেষে তা বাস্তবায়নে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।   

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

বাংলাদেশে এতো মামলা কেন ঝুলে রয়েছে?

বাংলাদেশে এতো মামলা কেন ঝুলে রয়েছে?

শনিবার রাজধানীতে জাতীয় বিচার বিভাগের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
তবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ২০১৭-২০২২ সাল পর্যন্ত কৌশলগত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে যে, বিচার ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঝুলে থাকা বা বিচারাধীন মামলা।
তাদের হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশে ৩ দশমিক ১ মিলিয়ন বা ৩১ লাখ মামলা ঝুলে আছে। আর প্রতিনিয়তই এই সংখ্যা বাড়ছে।
তবে বেসরকারি একটি সংস্থা বলছে, ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা ৩৩ লাখেরও বেশি।

"গতিটা খুব স্লো আরকি"

বাংলাদেশে শীর্ষস্থানীয় লেখক হুমায়ুন আজাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
আক্রমণের ঐ ঘটনার পরপরই হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছিল লেখকের পরিবারের পক্ষ থেকে।
সেই বছর অগাস্ট মাসে জার্মানিতে মারা যান তিনি। তাঁর মৃত্যুর আট বছর পর ঢাকার একটি আদালত তাকে হত্যা অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
নিহত হুমায়ুন আজাদের মেয়ে এবং এই মামলার একজন সাক্ষী মৌলি আজাদ বলেন, মৃত্যুবার্ষিকী ছাড়া তাকে আর কেউ স্মরণ করে না। হামলার ১৫ বছর পরও এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে বলে জানান তিনি।
মৌলি আজাদ বলেন, "এটা তো সিআইডির হাতে আছে, আছে তো আছে, কোন কিছুই হয় না আরকি"।
"বিচারক বলছেন যে, সব সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়নি। তাই কিছু করা যাচ্ছে না। আবার এই মামলায় একাধিকবার বিচারক পরিবর্তন করা হয়েছে। এর গতিটা খুব স্লো," বলেন তিনি।
২০১৪ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর মিরপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে দুই ভাই ইশতিয়াক হোসেন জনি এবং ইমতিয়াজ হোসেন রকিকে আটক করে পুলিশ।
মিস্টার রকি অভিযোগ করেন, ওই রাতে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় মারা যান তার বড় ভাই ইশতিয়াক হোসেন জনি।
এ ঘটনায় মামলা করেন তিনি। তবে এখনো সেই মামলায় তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি বলে জানান মিস্টার রকি।
"২০১৪ সালে মামলাটা করেছি, ২০১৫ সালে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, ২০১৬ সালে বিচার শুরু হয়। কিন্তু ২০১৭ সালে হাইকোর্টে বিচার প্রক্রিয়া থামিয়ে দেয়া হয়," বলেন মিস্টার রকি।

মামলার প্রতিটা ধাপে দীর্ঘসূত্রিতা

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের কাছে মামলা ফাইল হওয়া থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি ধাপে এটি দীর্ঘসূত্রিতার মুখে পড়ে।
এছাড়া তদন্তে সময় নেয়া, ঠিক সময়ে সাক্ষী হাজির না হওয়া, অসংখ্যবার তারিখ নেয়া এবং আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়াও মামলা ঝুলে যাওয়ার পেছনে বড় কারণ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমীন।
বাংলাদেশে আইন অনুযায়ী, বিচার বা মামলার তদন্তের একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া থাকলেও খুব কম ক্ষেত্রে সেটি মান্য করা হয় বলে জানান তাসলিমা ইয়াসমীন।
তিনি বলেন, "অনেক সময় তদন্ত করতেই অনেক সময় নেয়া চলে যায়। সমনের প্রক্রিয়াই চলে অনেক দিন ধরে। আর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলে তাও দেখা যায় যে সেটি বছরের পর বছর ধরে চলছে।"
তার মতে, ক্রিমিনাল কেস বা ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা আরো বেশি পরিমাণ দেখা যায়।
"এসব মামলা রাষ্ট্র পক্ষ থেকে তৈরি করার বিধান থাকে বলে অনেক সময় মামলা প্রস্তুতিতে অনেক দুর্বলতা থাকে। যার জন্য আসামীরা জামিন পেয়ে যায় এবং মামলাটি ঝুলে যায়," তিনি বলেন।
এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি সম্ভব এমন অনেক ঘটনাও মামলায় গড়ায়। যা নিয়ন্ত্রণে সুষ্ঠু তদন্ত দরকার বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলার রায় হওয়ায় অনেকেই আশা করছেন যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে হয়তো ঝুলে থাকা মামলার নিষ্পত্তি হবে।
এমন আশার কথা জানিয়েছেন অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের মেয়ে মৌলি আজাদও।
তবে তাসলিমা ইয়াসমীন বলছেন, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে হলে বিচার বিভাগের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিতের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, আদালতের বাইরে অভিযোগের নিষ্পত্তি করার উপর জোর দেয়া গেলে মামলা ঝুলে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব।
এছাড়া বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিতও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

খালেদার মামলা ঘিরে তুমুল হট্টগোল সুপ্রিম কোর্টে

খালেদার মামলা ঘিরে তুমুল হট্টগোল সুপ্রিম কোর্টে

বৃহস্পতিবার তাদের হৈ চৈ আর স্লোগানের কারণে বিশৃঙ্খল এজলাসে আর কোনো মামলার শুনানি নিতে পারেননি প্রধান বিচারপতিসহ অন্য বিচারপতিরা।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, “সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার, বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার।”
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের আচরণকে ফ্যাসিবাদী বলেছেন। অন্যদিকে তাকেই দুষছেন বিএনপির আইনজীবীরা।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার।
জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় এদিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদার জামিন আবেদনের আদেশ হওয়ার কথা ছিল প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চে।
দুটি মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাবন্দি খালেদা এই মামলায় জামিন পেলেই মুক্ত হবেন বলে বিএনপির আইনজীবীরা বলে আসছেন। সেই আশায় আদালতে জড়ো ছিলেন দলটির অনেক আইনজীবী।
কারাবন্দি খালেদা চিকিৎসার জন্য গত এপ্রিল মাস থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে রয়েছেন, তার অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটেছে বলে বিএনপির দাবি।
খালেদার জামিন আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে গত ২৮ নভেম্বর তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ওই মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আদালতে আসার কথা ছিল।
কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে শুনানির শুরুতেই বলেন, খালেদা জিয়ার কিছু পরীক্ষা হয়েছে, কিছু পরীক্ষা বাকি আছে। সেজন্য সময় প্রয়োজন বলে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি এ সময় আগামী ১২ ডিসেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে তার আগেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এর সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির আইনজীবীরা শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার দাবিতে আদালত কক্ষের ভেতরে হৈ চৈ শুরু করেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মওদুদ আহমদ, মাহবুব উদ্দিন খোকন ও নিতাই রায় চৌধুরী এ সময় জুনিয়র আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে আদালত কক্ষে আটকা পড়েন।
অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন, আজমালুল হোসেন কিউসি, ফজলে নূর তাপস, কামরুল ইসলাম আটকা পড়েন আদালত কক্ষে।
কয়েকবার চেষ্টার পরও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা শান্ত না হওয়ায় বিচারকরা সকাল সোয়া ১০টার দিকে এজলাস থেকে নেমে যান। ফলে আপিল বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে।
কিছুক্ষণ পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উত্তর হলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্রিফিংয়ে আসেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন, আবদুল মতিন খসরু, ফজলে নূর তাপসসহ সরকার সমর্থক আইনজীবীরা।  তার আগে তারা প্রতিবাদ মিছিলও করেন।     
সরকার সমর্থক আইনজীবীদের এই ব্রিফিংয়ের সময়ও আপিল বিভাগের এজলাসের ভেতরে বিএনপি সমর্থকদের হৈ চৈ স্লোগান চলছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে ক্যান্ডি বিতরণ করেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন।
এর কিছুক্ষণ পর বিচারকরা এজলাসে ফিরে এলে আদালতের কর্মচারীরা কার্যতালিকার পরবর্তী মামলার নম্বরগুলো ডাকতে শুরু করেন।
বিএনপির আইনজীবীরা খালেদার জামিন শুনানি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা এখন আর অন্য কিছু শুনব না। সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার, বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার। এটা নজিরবিহীন। আমি এর আগে আদালতের এই পরিস্থিতি দেখিনি।”
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এ সময় ডায়াসের দিকে এগিয়ে গেলে তাকে থামিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্লিজ, টেইক ইয়োর সিট।”
জয়নুল আবেদীন তখন বলেন, “অনেক কথাই তো বলা যায়… সরকারপ্রধান বলেছেন, খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন… ।”
তাকে থামিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কে কী বললো, তা দেখে আমরা বিচার করি না। মামলার কাগজপত্র দেখে আমরা বিচার করব।”
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীনও যে বিভিন্ন মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনার বিরুদ্ধে কয়টা মামলা? কোর্ট থেকেই তো জামিনে আছেন। আবার কোর্টে এসেই শক্তি দেখাচ্ছেন। আমরা এটা নিয়ে আর কথা বলব না, অন্য আইটেম দেখব।”
খালেদার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব কথা বলতে চাইলে প্রধান বিচারপতি তাকে বলেন, “অর্ডার হ্যাজ বিন পাসড।”
এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনও। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, “মাই লর্ড, এক মিনিট, অর্ডারটা রিভিউ করেন, দয়া করেন।”
মাহবুবউদ্দিন খোকন এ সময় বলেন, “খালেদা জিয়া মারা যাচ্ছেন, অর্ডারটা রিভিউ করেন।”
প্রধান বিচারপতি বলেন, “সবাই বলছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের আগে শুনতে পারবেন না।… আমরা আর কোনো কথা শুনব না।”
বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এজলাস কক্ষ থেকে বের হতে চাইলেও জুনিয়রদের বাধার মুখে আবার আসনে ফিরে যান।
এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব আলম, আইনজীবী জমালুল হোসেন কিউসি, আবদুল মতিন খসরু, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ফজলে নূর তাপস এগিয়ে গিয়ে বিএনপির আইনজীবীদের বেরিয়ে যেতে অনুরোধ করেন।
কিন্তু তাতে সাড়া না দিয়ে স্লোগান, হৈ চৈ চালিয়ে যান খালেদা জিয়ার সমর্থকরা। তারা স্লোগান দেন- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘বেইল ফর খালেদা জিয়া’। আদালতকক্ষ থেকে বের হতে বা নতুন করে কাউকে ঢুকতে বাধা দেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা।
এর মধ্যে একটি মামলার শুনানি শুরুর চেষ্টা হলেও পরে তা মুলতবি করেন প্রধান বিচারক। খালেদা জিয়ার মামলার পর আর কোনো মামলার ‍শুনানিই এদিন চালানো যায়নি।
লম্বা সময় এজলাসে অপেক্ষা করেও বিশৃঙ্খলার কারণে বিচার কার্যক্রম চালাতে না পেরে বেলা সোয়া ১টার দিকে এজলাস ছাড়েন বিচারকরা। এরপর বিএনপির আইনজীবীরাও স্লোগান দিতে দিতে ধীরে ধীরে আদালত কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
ফ্যাসিবাদী আচরণ: অ্যাটর্নি জেনারেল
সর্বোচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে তার পক্ষের আইনজীবীরা যে আচরণ করেছেন, তাকে অভাবনীয় ও ফ্যাসিবাদী বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শুধু আপিল বিভাগে তালিকাভুক্ত আইনজীবীদেরই আদালত কক্ষে ঢুকতে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সকাল ৯টায় আদালত বসেছে। তাদের আইটেমটা যখন মুলতবি করা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত, তারপরে তারা যে আচরণ করেছেন, এটা অভাবনীয় এবং ফ্যাসিবাদী আচরণ।”
খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা আদালত কক্ষে বসে থেকে ‘এটা থামানোর চেষ্টা করেননি’ বলেও অভিযোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
খালেদার আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “তারা কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলার আপিল শুনানির ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের দুটি আপিলই রেডি। অথচ তারা আপিল শুনানির কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। নানা অজুহাতে এবং এই মামলাটিতে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন।”
 “একটা অপরাধী অপরাধ করেছেন, তার বিচার হবে। বিচারে আদালত যদি মনে করে জামিন দিবে বা জামিন দিবে না। কিন্তু আদালতের সামনে গিয়ে এ রকম শ্লোগান, হট্টগোল করে আদালতের কাজে বাধার সৃষ্টি করার মতো চরম ফ্যাসিবাদী কাজ আর হয় না,” বলেন মাহবুবে আলম।
সংবাদ সম্মেলনে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, “বিএনপি যে আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না আজকে তার প্রমাণ হয়েছে। আমি জীবনে বিশ্বাস করি নাই যে সুপ্রিম কোর্টের ভিতরে ঢুকে তারা এ ধরনের আচরণ করবে। তারা যে আচরণ করেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
“আমি এ আচরণকে ঘৃণা করি, আমরা সবাই ঘৃণা করি। মাননীয় আদালত থেকে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। আগামীতে এ ধরনের আচরণ হলে আমরা জানি এর জবাব কীভাবে দিতে হয়।” 
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস বলেন, “আজকে আদালতে যে ঘটনা ঘটেছে, তা বিচারকে প্রভাবিত করার জন্য। বিএনপি গোষ্ঠী জোরপূর্বক জামিন আদায়ের চেষ্টা নিয়েছে বা চেষ্টা তারা করেছে।
“এর মাধ্যমে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, বেগম খালেদা জিয়া আসলেই অসুস্থ না। তাদের এই ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে এটাই বোঝা যাচ্ছে, তিনি আসলে অসুস্থ না, জোরপূর্বকভাবে জামিন আদায় করবে বিচারলায় থেকে।”
সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের মালিক এই দেশের মানুষ। দেশের মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের পবিত্রতা, নিরপেক্ষতা, ভাবমূর্তি রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। সুপ্রিম কোর্টে তারা যে আচরণ করেছে, তারা সমস্ত সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ করে রেখেছে।
“তারা আদালতের কাজে বাধা দিয়ে আদালত অবমাননার অপরাধ করেছেন, এটা শাস্তিযোগ্য। মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করতে চাই, ভবিষ্যতে না, এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। না হলে ভবিষ্যতেও তারা এ রকম ধৃষ্টতাপূর্ণ কাজ করবে। আগামী তারিখে একই ঘটনা করবে।”
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম আমিন উদ্দিন বলেন, “আমি কোনো দিন এ ধরনের ঘটনা দেখিনি। এটা ন্যক্কারজনক, নিন্দনীয় ঘটনা। আদালতকে আদালতের কাজ পরিচালনা করতে বাধা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নিন্দনীয়ভাবে তারা কাজ করে গেছে। দুর্ভাগ্যজনক হল, যারা এ ধরনের কাজ করল তারা কিন্তু অধিকাংশই এই আদালতের আইনজীবী না। তারা বহিরাগত, তাদের নিয়ে আসা হয়েছে।”
অভিযোগ অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে
খালেদা জিয়ার জামিন প্রত্যাশী তার আইনজীবীরা আদালত কক্ষে তাদের পক্ষের আইনজীবীদের হট্টগোলকে ‘ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ বলছেন। তারা না থাকলে ‘আরও বড় কিছু হতে পারত’ বলেও মন্তব্য করেছেন একজন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনের পর সেখানেই সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা।
বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন না হওয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে দায়ী করে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “আজকে যে ঘটনা ঘটেছে তার সব দায়-দায়িত্ব অ্যাটর্নি জেনারেলের। কেননা এই মামলায় বেগম জিয়ার জামিনের জন্য মেডিকেল রিপোর্টের দরকার হয় না। এ মামলায় সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর। আদালত তাকে সাত বছরই দিয়েছে।”
এ ধরনের মামলায় অন্য আসামিদের জামিন হলেও ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে’ খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না বলে দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব।
অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “আজকে আমরা যদি না থাকতাম, তাহলে সেখানে আরও অনেক কিছু ঘটত। সেক্ষেত্রে আমাদের যুবক আইনজীবীরা ধৈর্য সহকারে শান্তিপূর্ণভাবে স্লোগান দিয়ে এসেছে। আমরা না থাকলে হয়ত আর কিছু হতে পারত।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ আদালতের সাত দিন সময় নেওয়াকে ‘অপ্রত্যাশিত’ মন্তব্য করে বলেন, “আমাদের আইনজীবীরা আজকে প্রচণ্ড প্রতিবাদ করেছে। তারা ন্যায়বিচার চান বলে দাবি করেছেন আদালত কক্ষে। ক্ষোভের থেকে করেছেন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে করেছেন। আমরা তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু এটা সম্ভবপর হয়নি। আমরা একই পরিবারের সবাই। তাদের সেই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সেখানে থাকতে হয়েছে। আমি পেশাগত জীবনে এ রকম ঘটনা দেখেনি।”
জয়নুল আবেদীন বলেন, “আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শুনে আগামী বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করে দিলেন। আমরা বলেছি, মাননীয় আদালত তার অবস্থা এখন এমনই যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তার শরীরের কী অবস্থা সৃষ্টি হয়, ডাক্তাররাও ভরসা করতে পারছেন না।
“আমরা আগামী রোববারের কথা বলেছি, আদালত আমাদের কথা শুনলেন না। আদালত তার আগের আদেশে অনড় রইলেন।”
‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী
আপিল বিভাগে আইনজীবীদের বিশৃঙ্খলার খবর শুনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গুলশানে নিজ কার্যালয়ে বিকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে, বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানকে অপমান বা অবমাননা করতে সরকার দেবে না।
“কারণ দেশের জনগণকে নিরাপদে থাকতে দেওয়ার জন্য দেশের আইনশৃখলা পরিস্থিতি রক্ষা করা এবং বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা আমাদের দ্বায়িত্ব। যারাই এরূপ আচরণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকার বাধ্য হবে।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আনিসুল হক বলেন,“অতীতেও আমরা দেখেছি যে, বিএনপিপন্থি আইনজীবী এবং বিএনপি সমর্থক বহিরাগতরা তাদের বিরুদ্ধে আদালত কোনো আদেশ বা রায় দিলে উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।
“বিএনপির এই কর্মকাণ্ডে পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বিএনপির আইনের শাসনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর তাদের কোনো আনুগত্য নেই এবং বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে নিরাপদ নয়।”