প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ‘সফলভাবে পরীক্ষা’ করেছে রাশিয়া

বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ‘সফলভাবে পরীক্ষা’ করেছে রাশিয়া

বিশ্বের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে শুধুমাত্র রাশিয়ার ভেতরে কাজ করবে - এমন এক 'বিকল্প ইন্টারনেট' চালু করার পরীক্ষা 'সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে রাশিয়া।
এটিকে বলা হচ্ছে 'আনপ্লাগড ইন্টারনেট'।
এই পরীক্ষার বিস্তারিত এখনো পরিষ্কার নয় - তবে দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এ পরীক্ষার সময় কোন ধরনের পরিবর্তন টের পাননি।
এখন এই পরীক্ষার ফল প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
যেভাবে কাজ করবে এই ভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক
এখন বিভিন্ন দেশ সমুদ্রের তলদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া তারের মাধ্যমে বৈশ্বিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত। যার বিভিন্ন জায়গায় গ্রন্থির মতো এক ধরনের সংযোগস্থল রয়েছে। সেখান থেকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ডাটা বা উপাত্ত স্থানান্তর হয়।
কিন্তু রাশিয়া যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে তাতে বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সাথে সেই সংযোগস্থলগুলোকে বন্ধ করে অথবা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিদেশি ডাটার আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে রাশিয়া।
সেজন্যেই একটি 'বিকল্প ও স্বতন্ত্র' আভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে তাদের। এর মাধ্যমে দেশটির নাগরিকেরা কোন ধরনের ওয়েবসাইটে যেতে পারবে সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে রাশিয়া।
"সেজন্যে 'ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস' এবং টেলিকম কোম্পানিগুলোকে দেশের সীমানার মধ্যে ইন্টারনেট পুনর্বিন্যাস করতে হবে।", বলছিলেন যুক্তরাজ্যের সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কম্পিউটার প্রকৌশলী অ্যালান উডওয়ার্ড।
বিকল্প ইন্টারনেট তৈরি করতে হলে দেশের অভ্যন্তরে 'ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস' কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাপক সমন্বয় দরকার হবে। বরং কয়েকটি হাতে গোনা কোম্পানি এই নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত থাকলে বিষয়টি সহজ হবে।
রাশিয়া চাইছে, তারা একটি নিজস্ব উইকিপিডিয়া তৈরি করবে, এবং ইতোমধ্যেই দেশটির পার্লামেন্ট এক আইন পাশ করেছে - যাতে যেসব স্মার্টফোনে রাশিয়ায় তৈরি সফটওয়ার আগে থেকে ইন্সটল করা নেই সেগুলোর বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা আছে।
একজন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এসব নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণে সরকারকে সহায়তা করতে পারে, তবে এতে যে তারা সফল হবেই এমন কোন কথা নেই।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জাস্টিন শেরম্যান বিবিসিকে বলেন, "এর আগে এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের বার্তার উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে দেশটিকে। তবে ঠিক কী ধরনের সফল পরীক্ষা দেশটি চালিয়েছে তার বিস্তারিত না আসা পর্যন্ত রাশিয়া কতদূর অগ্রসর হয়েছে সেটি বোঝা মুশকিল।"

অন্য কয়েকটি দেশ যা করছে

ইরানে দেশটির 'ন্যাশনাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক' বাইরে থেকে আসা সকল 'ইন্টারনেট কনটেন্টের' উপর নজরদারি করে, তথ্যের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করে।
এক্ষেত্রে নজরদারি পাশ কাটিয়ে কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য যে 'ভিপিএন' মানুষজন ব্যবহার করেন সেগুলো কাজ করবে না।
চীনে যে ব্যবস্থা রয়েছে তাকে বলা হয় 'দা গ্রেট ফায়ারওয়াল অফ চায়না'। সেখানে গুগল, ফেসবুক সহ বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায় না। এর ফলে দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো খুব লাভবান হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

অনেক বিশেষজ্ঞের ভাষায় বিশ্বের ইন্টারনেট ভেঙে ফেলতে চাইছে রাশিয়া। অধ্যাপক অ্যালান উডওয়ার্ড বলছেন, "দিনকে দিন অনেক কর্তৃত্ববাদী দেশ তাদের নাগরিকরা (ইন্টারনেটে) কী দেখে সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। ইরান ও চীন যা ইতিমধ্যেই করছে।"
তিনি বলছেন, "এর অর্থ হচ্ছে নিজেদের দেশ সম্পর্কে কী ধরনের আলাপ হচ্ছে সেটি জনগণ জানতে পারবে না।"

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

ফটোগ্রাফির উন্নয়নে স্টার্টআপ কিনলো অ্যাপল

ফটোগ্রাফির উন্নয়নে স্টার্টআপ কিনলো অ্যাপল


এখন পর্যন্ত চুক্তির তথ্য প্রকাশ করেনি কোনো প্রতিষ্ঠানই। তবে কোম্পানিজ হাউজ-এর নথিতে দেখা গেছে এখন কেমব্রিজের স্টার্টআপটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অ্যাপল-- খবর ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
ইতোমধ্যেই অ্যাপলের কর্পোরেট আইনজীবী পিটার ডেনউডকে স্পেক্ট্রাল এজ-এর পরিচালক করা হয়েছে। আর প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
চুক্তির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি অ্যাপল বা স্পেক্ট্রাল এজ কোনো প্রতিষ্ঠানই।
২০১৪ সালে স্পেক্ট্রাল এজ প্রতিষ্ঠা করেন ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট অ্যাংলিয়ার গবেষকরা। তারা এমন একটি মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি বানিয়েছেন যা রিয়েল-টাইমে ছবির মান উন্নত করতে পারে।
মূল ক্যামেরা লেন্সে তোলা ছবির সঙ্গে ইনফ্রারেড শটের ডেটা মিলিয়ে একটি ছবি তৈরি করে এই প্রযুক্তি। এতে ছবি রঙের মান অনেক উন্নত হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে স্পেক্ট্রাল এজ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টোফার সাইটেরা বলেন, “এটি ছবিতে বাড়তি কিছু খুঁটিনাটি বিষয় তুলে আনে, যা আপনি সাধারণ ক্যামেরায় দেখতে পাবেন না, কারণ ইনফ্রারেড ধোঁয়া এবং কুয়াশার মধ্যে দৃশ্যমান আলোর চেয়ে ভালো কাজ করে।
“এখানে গোপন কারসাজি হলো দৃশ্যমান আলোর সঙ্গে ইনফ্রারেড এমনভাবে মেলানো হয় যাতে ছবির মান সন্তোষজনক হয়। আগে দুইটি ছবি একত্রিত করতে অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করা হতো, কিন্তু এতে যে ছবি আসতো তা দেখতে ভালো হতো না।”
চলতি বছর এই নিয়ে যুক্তরাজ্যের দুইটি স্টার্টাপ কিনলো অ্যাপল। ফেব্রুয়ারিতে ডিজিটাল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান ডেটাটাইগার অধিগ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্পেক্ট্রাল এজ অধিগ্রহণের ফলে ক্যামেরা প্রযুক্তিতে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকবে প্রযুক্তি জায়ান্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যাপলের হাই-এন্ড আইফোনগুলোর মূল ভিন্নতা ছিলো ক্যামেরাতেই।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের আগে নতুন আইফোন উন্মোচন করবে না অ্যাপল। ফলে নতুন আইফোনগুলোতে স্পেক্ট্রাল এজ-এর প্রযুক্তি যোগ করতে অনেক সময় পাবে প্রতিষ্ঠানটি।
কানাডায় ৪জি, ৫জি সমাধানে স্যামসাং

কানাডায় ৪জি, ৫জি সমাধানে স্যামসাং

এবারই প্রথম দেশটিতে টেলিযোগাযোগের যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি পেয়েছে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানটি- খবর আইএএনএস-এর।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “২০২০ সালের শুরু থেকে কুইবেক এবং অটোয়াতে ৪জি এলটিই-এ সমাধান সরবরাহ করা হবে।”
“কানাডায় বাণিজ্যিকভাবে ৫জি নেটওয়ার্ক চালুর গতির সঙ্গে তাল মেলাতে ৫জি সেবার পরিধি আরও দ্রুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে স্যামসাং। ২০২০ সালের শেষ দিকে ৫জি নেটওয়ার্ক চালু হওয়ার কথা রয়েছে।”
বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান আইএইচএস মার্কিটের তথ্যানুসারে চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশের বাজারের ১১ শতাংশ ছিলো স্যামসাংয়ের দখলে। ২০১৮ সালের শেষ দিকের চেয়ে এই খাতে প্রতিষ্ঠানটির দখল ছিল পাঁচ শতাংশ।
এ বছর টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশের খাতে ৫২৯ কোটি মার্কিন ডলারের বিক্রির আশা করছে স্যামসাং, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯

নতুন মোবাইল প্রযুক্তি ৫জি কি টেলিভিশন সম্প্রচার শিল্পকে গিলে ফেলবে?

নতুন মোবাইল প্রযুক্তি ৫জি কি টেলিভিশন সম্প্রচার শিল্পকে গিলে ফেলবে?


মোবাইল ইন্টারনেট যুগের পঞ্চম প্রজন্মের যোগাযোগ ব্যবস্থা ফাইভ-জি (৫জি) নিয়ে এখন প্রযুক্তি বাজার থেকে শুরু করে বিশ্ব রাজনীতি পর্যন্ত সর্বত্রই নানান আলোচনা এবং অস্থিরতা চলমান। অন্য কোন মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এমন বিতর্ক সৃষ্টির নজির নেই।
এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় মাস ছয়েকের কিছু আগে সীমিত পরিসরে ৫জি চালু হয়েছে এবং পৃথিবীর আরও বেশ কিছু দেশে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রযুক্তি বিস্তৃত হওয়ার সাথে সাথে হুমকির মুখে পড়েছে প্রচলিত ব্যবস্থার টেলিভিশন সম্প্রচার শিল্প। সম্প্রচার জগতে আগামী দিনে টেলিভিশনের আধিপত্য কতটা টিকে থাকবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

৫জি কী কাজে লাগবে?

প্রচণ্ড শক্তিশালী ৫জি একটি ব্যাপক-ভিত্তিক তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রযুক্তি, যার গতি এতটাই বেশি যে এটা প্রায় একই সময়ে (Real Time) তথ্য পাঠানো এবং এর প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করতে সক্ষম। ফোর-জি (৪জি) যদি হয় এক লেনের একটি ভিড়ে ঠাসা সরু সড়ক, তাহলে ৫জি হচ্ছে দশ লেনের এক বিশাল চওড়া হাইওয়ে যেখানে যানবাহন ছুটে চলে অপ্রতিরোধ্য গতিতে।
এমনকি এই হাইওয়ে এমন ভাবে প্রস্তুত করা যে যানবাহনের সংখ্যা যত কম বা বেশিই হোক না কেন, কারো গতি কখনও কমবে না।
অনন্য এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ৫জি মানুষের আগামী দিনের জীবনযাপনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। এই প্রযুক্তিতে এমন কিছু নতুন সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা মানুষ অর্জন করবে যা বর্তমানে পাওয়া সম্ভব নয়।
বর্তমানের অনেক কিছুকেই ৫জি সম্পূর্ণভাবে রূপান্তর ঘটিয়ে মানুষকে অভিনব অভিজ্ঞতার স্বাদ দিবে। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, রিমোট রবোটিক্স, এআর-ভিআর, গেমিং এবং আইওটি বা ইন্টারনেট অব থিংসের মত সেবা - যেগুলোতে তাৎক্ষণিক এবং সার্বক্ষণিক তথ্যের আদান-প্রদান প্রয়োজন হয়।

টেলিভিশনের জন্য কী আছে?

কন্টেন্ট উন্নয়নের ক্ষেত্রে টেলিভিশনের জন্য এক অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে ৫জি। প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুটি সীমাবদ্ধতা - গতি এবং সীমিত ধারণ ক্ষমতা - দূর করতে পেরেছে ৫জি। এর ফলে আগামী দিনে টেলিভিশন ষ্টেশনগুলো তাদের আলট্রা-হাই-ডেফিনিশন বা ইউএইচডি টিভি সেট ব্যবহারকারী দর্শকদের জন্য এইচডিআর (হাই-ডাইনামিক রেঞ্জ), এইচএফআর (হাই ফ্রেম রেটস) এবং বিস্তৃত রং-এর সন্নিবেশ ঘটিয়ে উচ্চমান সম্পন্ন কন্টেন্ট পরিবেশন করতে পারবে।
এছাড়াও টিভিগুলো ৫জি-র মাধ্যমে তাদের খবর, খেলাধুলা, মিউজিক ফেস্টিভ্যালের মত অনুষ্ঠান যেকোনো স্থান থেকে অত্যন্ত সস্তায় সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে।

টেলিভিশন কেন হুমকিতে?

প্রচলিত টেলিভিশন সম্প্রচার শিল্পের অস্তিত্বকে দুইভাবে হুমকিতে ফেলেছে ৫জি। প্রথমত, বৈচিত্র্যময় কন্টেন্টের ব্যাপক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করেছে ৫জি। ভিজুয়াল কন্টেন্টের বিকল্প মাধ্যমগুলো ৫জি প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে টেলিভিশনের চেয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
যেমন, ভার্চুয়াল, অগমেন্টেড এবং মিক্সড রিয়েলিটি কন্টেন্ট। এছাড়াও ৩৬০ ডিগ্রি ভিজ্যুয়াল মিডিয়া এবং পরবর্তী প্রজন্মের অডিও যা কিনা 'এনজিএ' বা 'এ্যাডভান্সড সাউন্ড সিস্টেম' নামে পরিচিত, ৫জি-র যুগে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
দ্বিতীয়ত, ৫জি-র কারণে বহুদিন থেকে নিজেদের জন্য ব্যবহার করে আসা স্পেকট্রাম হারাতে বসেছে টেলিভিশন শিল্প। যেহেতু ৫জি একটি ব্যাপকভিত্তিক প্রযুক্তি, তাই এটি পরিচালনার জন্য অনেক বেশি পরিমাণে স্পেকট্রামের প্রয়োজন হয়। আর এই প্রযুক্তি বিস্তারের কাজটি বিশ্বব্যাপী মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররা পরিচালনা করছে এবং করবে।

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯

 যুক্তি বিদ্যা ও দর্শন শাত্র..

যুক্তি বিদ্যা ও দর্শন শাত্র..







 যুক্তি বিদ্যা ও দর্শন শাত্র........
   তিনিই ভুমন্ডলকে বিস্তৃত করেছেন এবং
   তাতে পাহাড় পর্বত ও নদ-নদী স্থাপন করেছেন 
   এবং প্রত্যেক ফলের মধ্যে দু’দু প্রকার সৃষ্টি করে রেখেছেন। 
   তিনি দিনকে রাত্রি দ্বারা আবৃত করেন। 
   এতে তাদের জন্যে নিদর্শণ রয়েছে, যারা চিন্তা করে।
{   আল কোরআন সুরা রাদ আয়াত ঃ 3 }
  তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা করেছেন 
  এবং তাতে চলার পথ করেছেন, 
  আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং 
  তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।
   আল কোরআন সুরা ত্বোহা আয়াত ঃ 53
   তোমরা আহার কর এবং তোমাদের চতুস্পদ জন্তু চরাও। 
   নিশ্চয় এতে বিবেক বানদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
{   আল কোরআন সুরা ত্বোহা আয়াত ঃ 54 }
   বলুন প্রত্যেকে আপন আপন প্রকৃতি অনুসারে কাজ করে ,
   আর রব তাকে ভালভাবে জানেন 
   যে ,সঠিক পথে চলে ।
{   আল কোরআন সুরা বনীঈসরাইল  আয়াত ঃ 84}
   পথ পর্দশক যারা অদৃশ্য বস্তু সমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে,
   আমার দেয়া রিজিক থেকে ব্যয় করে ।
   আল কোরআন সুরা বাকারা আয়াত ঃ 3
   করুনাময় শিক্ষা দিলেন কুরআন
   ,শিক্ষা দিলেন কথা বলতে ।
   আল কোরআন সুরা রহমান আয়াত ঃ 1
   ভূ-পৃষ্ঠে সবই ধ্বংশশীল । থাকবে শুধু রবের সত্তা 
   যিনি সর্ম্মানিত মর্যাদাবান । 
      ল কোরআন সুরা রহমান আয়াত ঃ 26,27
  তিনিই আল্লাহ যিনি ছাড়া আর কোন,
  ইলাহ নেই, গুপ্ত ও প্রকাশ্য সবই তিনি জানেন ,
  তিনি পরম দয়ালু পরম করুনাময় ।
     আল কোরআন সুরা হাশর আয়াত ঃ 22
যে, দিন এসে যমীন বদলিয়ে অন্য যমীন আনা হবে ,
এবং আসমান সমূহকে বদলানো হবে ,
 তারা এক প্রতাবশালী আল্লাহর সামনে আসবে ।
   আল কোরআন সুরা ইব্রাহীম আয়াত ঃ 48
   আর আল্লাহ তোমাদেরকে ভূমি হতে সৃষ্টি করেছেন ।
   তাতে আবার তোমাদেরকে দিবেন ,
   আবার বের করবেন ।
      আল কোরআন সুরা নূহ আয়াত ঃ17,18
  আর তার কুদরতের মধ্যে আর একটি নির্দশন 
হল, আপনি যমীনকে মৃত শুষ্ক দেখেন ,
 অতপর আমি তার ওপর পানি বর্ষণ করি ,
 তখন তা সজীব ও শস্য শ্যমর হয়ে ওঠে ,
 নিশ্চয়ই তিনি তাতে জীবন দেন , তিনি মৃতের জীবনদাতা
নিশ্চয়ই তিনি সর্বশক্তিমান ।
   আল কোরআন সুরা হা-মীম আয়াত ঃ 39
আর আমি তাদের পূর্বে ও কোন মাসুষকে চিরস্থায়ী করেনি ,
আপনি মরলে ও তারা কি অনন্তকাল বেঁচে থাকবে ?
 প্রত্যেকে জীবই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে,
আমি তোমদের পরীক্ষা করি মন্দ ও ভাল দিয়ে ,
অতঃপর আমার কাছে আসবে ।
   আল কোরআন সুরা আম্বিয়া আয়াত ঃ 34, 35
 সে দিন আমি আকাশ মন্ডলীকে গুটিয়ে ফেলবো,
যে,ভাবে লিখিত দফতর সমূহ গুটিয়ে নেওয়া হয় ,
প্রথম সৃষ্টির মতই পুনরায় সৃষ্টি করবো ,
এ আমার প্রতিশ্রুতি আমি অবশ্যই তা পূরণ করবো ।
   আল কোরআন সুরা আম্বিয়া আয়াত ঃ 104
যুদ্ধ ও সমর বিজ্ঞান.......

যুদ্ধ ও সমর বিজ্ঞান.......





যুদ্ধ ও সমর বিজ্ঞান........
  তোমরা ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর ও তার রাসুলের ওপর ,
  তোমাদের জান মাল দিয়ে জিহাদ করবে,
 এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ ।
{ আল কোরআন সুরা ছফ আয়াত ঃ 11}
 হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কাফেরদের ,
 সাথে মুখোমুখী হবে, তখন পশ্চাদপসরণ করবে না।
{ আল কোরআন সুরা আনফাল  আয়াত ঃ15  }
সুতরাং তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি,
 বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। 
 আর তুমি মাটির মুষ্ঠি নিক্ষেপ করনি,
 যখন তা নিক্ষেপ করেছিলে, বরং তা নিক্ষেপ করেছিলেন
 আল্লাহ স্বয়ং যেন ঈমানদারদের প্রতি 
 এহসান করতে পারেন যথার্থভাবে।
 নিঃসন্দেহে আল্লাহ শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।
{ আল কোরআন সুরা আনফাল  আয়াত ঃ 17}
আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক
 যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং 
 আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। 
 তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, 
 তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।
{ আল কোরআন সুরা আনফাল  আয়াত ঃ 39 }
আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে
 যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, 
 তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, 
 তাঁর নিকটাত্নীয়-স্বজনের জন্য এবং
 এতীম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য;
 যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর এবং
 সে বিষয়ের উপর যা আমি আমার বান্দার
 প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে,
 যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। 
 আর আল্লাহ সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।
{আল কোরআন সুরা আনফাল  আয়াত ঃ 41}
আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার 
নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, 
যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর 
আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে 
তোমরা জান না; আল্লাহ তাদেরকে চেনেন। 
বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, 
তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং 
তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না।
 { আল কোরআন সুরা আনফাল  আয়াত ঃ60 }
হে নবী, আপনি মুসলমানগণকে উৎসাহিত করুন জেহাদের জন্য।
 তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন দৃঢ়পদ ব্যক্তি থাকে, 
 তবে জয়ী হবে দু’শর মোকাবেলায়।
 আর যদি তোমাদের মধ্যে থাকে একশ লোক, 
 তবে জয়ী হবে হাজার কাফেরের উপর থেকে তার কারণ ওরা জ্ঞানহীন। 
{ আল কোরআন সুরা আনফাল  আয়াত ঃ 65 }
আর ছলনাকারী বেদুঈন লোকেরা এলো, 
যাতে তাদের অব্যাহতি লাভ হতে পারে 
এবং নিবৃত্ত থাকতে পারে তাদেরই যারা আল্লাহ ও রসূলের সাথে মিথ্যা বলে ছিল। 
এবার তাদের উপর শীগ্রই আসবে বেদনাদায়ক আযাব যারা কাফের।
{আল কোরআন সুরা তওবা  আয়াত ঃ   90}
আর না আছে তাদের উপর যারা এসেছে
 তোমার নিকট যেন তুমি তাদের বাহন দান কর 
 এবং তুমি বলেছ, আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, 
 তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে
 অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল এ দুঃখে যে,
 তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে
{আল কোরআন সুরা তওবা  আয়াত ঃ 92 }

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ফাইভ-জি স্মার্টফোনের চমক

ফাইভ-জি স্মার্টফোনের চমক

থ্রি-জি, ফোর-জির পর এবার বাজারে এসেছে ফাইভ-জি স্মার্টফোন। বিশ্বের অন্যতম ইলেকট্রনিকস সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং গ্যালাক্সি এস১০ ৫জি নামে বিশ্বের প্রথম ফাইভ-জি প্রযুক্তি সমর্থিত মোবাইল উন্মোচন করেছে। স্যামসাং ছাড়াও প্রতিযোগিতায় রয়েছে এলজি, হুয়াওয়ে, শাওমি ও নকিয়ার ফাইভ-জি স্মার্টফোন। ফাইভ-জি দৌড়ে তুলনামূলক পিছিয়ে অ্যাপল। ২০২০ সালে ফাইভ-জি ফোন আনার কথা থাকলেও ২০২১ সালের আগে ফাইভ-জি ফোন উন্মুক্ত করবে না অ্যাপল। লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার
মোবাইল ফোনের পঞ্চম জেনারেশন ইন্টারনেটকে সংক্ষেপে ডাকা হয় ফাইভ-জি; যেখানে অনেক দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট তথ্য ডাউনলোড এবং আপলোড করা যাবে। যার সেবার আওতা হবে ব্যাপক। এটা আসলে রেডিও তরঙ্গের আরো বেশি ব্যবহার নিশ্চিত করবে। এর ফলে একই সময়ে একই স্থানে বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারবে।
স্যামসাং
ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্যতম ইলেকট্রনিকস সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্বের প্রথম ফাইভ-জি প্রযুক্তি সমর্থিত মোবাইল উন্মোচন করেছে। এই ফোনের নাম হলো গ্যালাক্সি এস১০ ৫জি। এটিই বিশ্বের প্রথম মোবাইল, যাতে বিল্ট ইন ফাইভ-জি প্রযুক্তি রয়েছে।
ফাইভ-জি প্রযুক্তি সমর্থন করা এই ফোনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখা, শোনা, ছোঁয়া ও ঘ্রাণ নেয়ার মতো সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা) ডিসপ্লে ও ইন্টারনেটের দ্রুতগতি। বিশেষ করে সরাসরি সম্প্রচারিত খেলা দেখা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে নতুন এই ফোনের কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ব্যবহারকারীরা।
এলজি
এলজি ইলেকট্রনিক্সের ফাইভ-জি স্মার্টফোন ভি৫০ থিনকিউতে আরো দ্রুতগতির এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করা হয়েছে। এলজি বলেছে, ফাইভ-জিতে যেহেতু লোকে খুবই দ্রুতগতিতে অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে ডাটা ডাউনলোড করতে পারবে সেহেতু আমরা ফাইভ-জির ভি৫০ থিনকিউ এবং ফোর-জির জি৮ থিনকিউ স্মার্টফোন দুটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরো উন্নত করেছি। ফলে ইউজাররা আরো দ্রুত এবং সঠিকভাবে তথ্য সার্চ করতে পারবেন। আর ক্যামেরায়ও আরো ভালো মানের ছবি তুলতে পারবেন। কোনো বিশেষ ছবি সার্চ করতে গেলেও অনেক সহজেই তা পাওয়া যাবে। এর ফলে স্মার্টফোনটির নিরাপত্তাও অনেক জোরদার হয়েছে। ফোনে থাকা কোনো তথ্য হ্যাক করা অনেক বেশি কঠিন হবে। কথিত আছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বেশি চার্জ খেয়ে ফেলে। কিন্তু এলজি জানিয়েছে, তাদের এই উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যাটারিও খরচ হবে অনেক কম।
আইওটি বা ইন্টারনেট অফ থিংসেও প্রবেশ করা যাবে কানেক্ট বাটনটি ক্লিক করার সাথে সাথেই। এই উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা স্মার্টফোনটির ইউজারদের ছবি তোলার অভিজ্ঞতাকে আরো আনন্দদায়ক করবে। এলজি ২০১৮ সালে এর ভিশন এআই ক্যামেরা প্রযুক্তি প্রথম বাজারে ছাড়ে। ভিশন এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো বস্তুকে শনাক্ত করতে পারে এবং ভালো ছবি তোলার জন্য কয়েক ডজন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল রেকমেন্ড করে।
এলজি বলেছে, চলতি বছরের এই আরো উন্নত এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত ক্যামেরা আগের বছরের সংস্করণের চেয়ে আট গুণ বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন। ফলে এবারের ক্যামেরাটি ০.০২ সেকেন্ডেই কোনো বস্তুকে বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করতে সক্ষম এবং এতে রয়েছে ১৯টি শুটিং মোড, যেগুলোতে ফোনটি প্রয়োজন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সুইচ করতে পারবে।
এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত ক্যামেরায় আরো আছে গুগল লেন্স যা মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ইউজারকে তাদের চার পাশের জিনিস শনাক্ত করা এবং চিত্রগ্রহণে সহায়তা করবে।
হুয়াওয়ে
প্রথমবারের মতো ফাইভ-জি সমর্থিত ভাঁজ করা যায় (ফোল্ডেবল) এমন স্মার্টফোন এনেছে চীনের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। ৭ ন্যানোমিটার চিপসেটের বেলং ৫০০০, ৪৫০০ এমএএইচের শক্তিশালী ব্যাটারি, ৫৫ ওয়াটের সুপার চার্জ সুবিধাসহ হুয়াওয়ে মেট এক্স ভাঁজ করা হলে স্মার্টফোনটির ডিসপ্লের আকার হয় ৬.৬ ইঞ্চি। ভাঁজ খোলা হলে স্মার্টফোনটি ৮ ইঞ্চি ডিসপ্লের ট্যাবলেটের মতো দেখায়। ভাঁজ করা অবস্থায় স্মার্টফোনটি ফুল ডিসপ্লে ৬.৬ ইঞ্চির সমান হয়। এ ছাড়া ভাঁজ করা না থাকলে এর ডিসপ্লে ৮ ইঞ্চি ট্যাবলেটের মতো দেখা যায়। মেট এক্স-এ ব্যবহার করা হয়েছে লেইকার ক্যামেরা। এর সাথে থাকবে ক্যামেরার অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি ও ফিচার।
শাওমি
চীনা টেক জায়ান্ট ও স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শাওমি ফাইভ-জি সাপোর্ট করে এমন একটি স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে। শাওমির আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট স্যামসাং তাদের ফাইভ-জিবান্ধব স্মার্টফোনের মোড়ক উন্মোচন করে। শাওমি দাবি করেছে, স্যামসাংয়ের স্মার্টফোনটির চেয়ে তাদের ফোনটি কম মূল্যে পাওয়া যাবে।
ফাইভ-জি প্রযুক্তির মি-ম্যাক্স-থ্রি স্মার্টফোনটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে যা প্রতি সেকেন্ডে ২ গিগা গতিতে ডাউনলোড করতে সক্ষম। শাওমি এই প্রযুক্তির স্মার্টফোন নিয়ে কাজ করছে ২০১৬ সাল থেকে। ‘চায়না মোবাইল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে এটা নিয়ে কাজ করছে তারা। শাওমির ফাইভ-জি ফোনটির মূল্য ধরা হয়েছে ৫৯৯ ইউরো বা ৬৭৯ মার্কিন ডলার।
নকিয়া
ফাইভ-জি হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্কের পরবর্তী প্রজন্ম। এই নেটওয়ার্ক সমর্থিত মোবাইল ফোনের দাম অনেক বেশি। ব্যয়বহুল এই স্মার্টফোন বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে নকিয়ার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এইচএমডি গ্লোবাল।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের মধ্যে সাশ্রয়ী দামে নকিয়ার ফাইভ-জি স্মার্টফোন বাজারে ছাড়বে। এইচএমডি গ্লোবালের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার জুহো সারভিকাস বলেন, আমরা ফাইভ-জি যুগে প্রবেশের সাথে সাথে সাশ্রয়ী দামে ফাইভ-জি স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ব। আমরা বাজারে প্রচলিত ফাইভ-জি স্মার্টফোনের দামের অর্ধেক দামে বিক্রির লক্ষ্য ঠিক করেছি।
চলতি বছরে দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনের কিছু শহরে ফাইভ-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু হয়েছে। প্রযুক্তির এই অপার সম্ভাবনার পরও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে ফাইভ-জি নিয়ে। ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে বাড়বে ক্যান্সারের ঝুঁকি।
সিলিন্ডারে গ্যাস কতটুকু আছে জানার সহজ উপায়

সিলিন্ডারে গ্যাস কতটুকু আছে জানার সহজ উপায়

রান্নার গ্যাসের একটা সিলিন্ডার কতদিন চলতে পারে, সে সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা ব্যবহারকারীদের অনেকেরই আছে। কিন্তু যতই ধারণা থাকুন না কেন, একটা দুশ্চিন্তা কিন্তু বার বার ফিরে আসে... এই বুঝি গ্যাস ফুরিয়ে গেল!
রান্নাবান্না জোর কদমে চলছে, এরই মধ্যে হঠাৎ গ্যাস ফুরিয়ে গেলেই সর্বনাশ! কারণ, রান্না চলাকালীন এমনটা হলে ঝক্কি তো কম হয় না! কিন্তু সিলিন্ডারে আর কতটা গ্যাস অবশিষ্ট রয়েছে তা কী করে বুঝবেন?
অনেকেই এ ক্ষেত্রে এলপিজি সিলিন্ডার হাতে তুলে ধরে বা ঝাঁকিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন যে, সিলিন্ডারে আর কতটুকু গ্যাস অবশিষ্ট রয়েছে। কিন্তু এ পদ্ধতিতেও অনুমানের উপরেই নির্ভর করতে হয়। নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। তবে একটা পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে সহজেই বুঝে নেওয়া যায় যে, সিলিন্ডারে আর ঠিক কতটা গ্যাস অবশিষ্ট রয়েছে। আসুন জেনে নেয়া যাক সেই উপায়...
পদ্ধতি :
১. প্রথমে একটা ভিজে কাপড় দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডারটিকে খুব ভালো করে মুছে নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন, সিলিন্ডারের গায়ে যেন কোনো ধুলোর আস্তরণ জমে না থাকে।
২. সিলিন্ডার ভালো করে মোছা হয়ে গেলে ২-৩ মিনিট পর দেখবেন, সিলিন্ডারের কিছুটা অংশের ভিজে ভাব শুকিয়ে গিয়েছে আর বাকি অংশ তখনো ভিজে রয়েছে।
৩. সিলিন্ডারের যে অংশটা শুকোতে বেশি সময় নিচ্ছে, সেই অংশটুকুই রান্নার গ্যাসে ভরা রয়েছে। আর যে অংশটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে গিয়েছে, সিলিন্ডারের সেই অংশটি খালি! কারণ, সিলিন্ডারের যে অংশে তরল রয়েছে, সেখানকার তাপমাত্রা খালি জায়গার তুলনায় কিছুটা হলেও কম হবে। তাই সিলিন্ডারের যে অংশে গ্যাস রয়েছে, সেই অংশটির তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত কম বলে শুকোতে বেশি সময় লাগে।
সুতরাং, ‘এই বুঝি গ্যাস ফুরিয়ে গেল’ ভেবে দুশ্চিন্তা করার আর প্রয়োজন নেই। সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস রয়েছে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় থাকলে এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে নিজেই দেখে নিন। সূত্র : জি নিউজ

সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৯

লেপটব বা কম্পউটারে কেন টাইম ঠিক থাকে না ?

লেপটব বা কম্পউটারে কেন টাইম ঠিক থাকে না ?

লেপটব বা কম্পউটারে কেন টাইম ঠিক থাকে না ?

ওমর ফারুক

উত্তর ঃ - লেপটব বা কম্পউটারে মাদার বোডের সাথে
টাইম ঠিক রখার জন্য 3.বোল্টের একটা ব্যাটারি থাকে ।
মূলত সেই ব্যাটারির চ্যার্জ শেষ হওয়ার কারনে টাইম ঠিক থাকে না ।
যে কোন ঘডির দোকানে যাবেন ,
20 গুন 32 সাইজের একটা ব্যাটারি কিনবেন ।
তারপর মাদার বোড খুলে দেখন ঘডির ব্যাটারির মতো একটা
ব্যাটারি দেখা যাচ্ছে, সেটা খুলে নতুন ব্যাটারি লাগিয়ে দিন ।
এরপর কম্পউটার থেকে টাইম তারিখ ঠিক করে দিন ।

বুধবার, ২ জানুয়ারী, ২০১৯

ইন্টারনেটের অন্যতম উদ্ভাবক ল্যারি রবার্টস মারা গেছেন

ইন্টারনেটের অন্যতম উদ্ভাবক ল্যারি রবার্টস মারা গেছেন

ইন্টারনেট চালুর অন্যতম অগ্রদূত মার্কিন বিজ্ঞানী লরেন্স জি. রবার্টস (৮১) মারা গেছেন। যে চার জনের হাত ধরে দুনিয়া বদলে দেওয়া প্রযুক্তি ইন্টারনেটের সূচনা হয়েছিল তার অন্যতম ছিলেন লরেন্স জি. রবার্টস। যিনি ল্যারি রবার্টস নামেই সমধিক পরিচিত। তার পারিবারিক সূত্রের বরাতে বিবিসি নিশ্চিত করেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের রেডউড সিটিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মূলত অরপানেট নামে পরিচিত ইন্টারনেটের প্রাথমিক ভিত্তির ডিজাইন করেন ল্যারি রবার্টস। তিনি ১৯৬৬ সালে অরপানেটের প্রাথমিক ডিজাইনটি করেন। এই ডিজাইনই ইন্টারনেটের প্রথম মানচিত্র হিসেবে স্বীকৃত। বিবিসি জানায়, ষাটের দশকের শেষ দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গবেষণা সংস্থা অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সির (আরপা) একটি অংশের দায়িত্বে ছিলেন রবার্টস। এ সময় তিনি সামরিক বাহিনীর নিজস্ব যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নীতকরণে কান, ভিন্ট সার্ফ এবং লেন ক্লেইনরকের সঙ্গে অরপানেট নামের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। পরে এই চারজনকেই ইন্টারনেটের জনক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। ১৯৬৯ সালে অরপানেটে প্রথম চারটি কম্পিউটার যুক্ত হয়। প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্যই অরপানেট যাত্রা শুরু করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারের মধ্যে যোগাযোগে এই নেটওয়ার্ক ব্যবহূত হতে থাকে। তবে পরবর্তী সময়ে ব্যাপক গবেষণায় প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে তৈরি অরপানেটের নেটওয়ার্ক দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৯৮৯ সালে আইএসপির মাধ্যমে সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হয় এই নেটওয়ার্ক। এরপর যোগাযোগ প্রযুক্তির দিক বদলের হাতিয়ার হয়ে ওঠে ইন্টারনেট। 
ফেসবুকের বিরুদ্ধে ফের তথ্য চুরির অভিযোগ

ফেসবুকের বিরুদ্ধে ফের তথ্য চুরির অভিযোগ

ফের অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, কিছু জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতে ফেসবুকের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব গবেষণায় গত আগস্ট থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৩৪টি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, এর মধ্যে ২০টি গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুকের সঙ্গে শেয়ার করেছে। বিষয়টি এমন, কোনো গ্রাহক সংশ্নিষ্ট অ্যাপ ইনস্টলের পর চালু করলেই তার ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুকের কাছে চলে যাচ্ছে! পর্যবেক্ষণ করে দেখা অ্যাপের ৬১ ভাগই চালুর সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকের কাছে তথ্য পাঠাতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হচ্ছে না। এসব অ্যাপ বিনামূল্যে গুগল প্লেস্টোর থেকে ডাউনলোড করা যায়। এ অ্যাপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মাই টকিং টম, ট্রিপ অ্যাডভাইজার, স্কাইস্কেনার, ফ্যামিলি লোকেটরের মতো জনপ্রিয় অ্যাপস ব্যবহারকারীর আইডিসহ অ্যাপ সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারী কোন কোন অ্যাপ কখন খুলছে, কত সময় ব্যবহার করছে প্রভৃতি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বলছে, ফেসবুকের সঙ্গে এভাবে গ্রাহকের তথ্য শেয়ার প্রাইভেসি নীতিমালাকে পুরোপুরি লঙ্ঘন করছে। কোনো অ্যাপেরই বিনানুমতিতে গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ ও শেয়ারের অধিকার নেই।

বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮

সহজ রাইডের প্রোমো নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

সহজ রাইডের প্রোমো নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ



দেশের অনলাইন রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান সহজ রাইডে গ্রাহকদের জন্য আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৯৯ শতাংশ প্রোমো দিয়েছে। এই প্রোমো ব্যবহারে গত কয়েক দিনে অনেকেই বিপদে পড়েছেন। তাদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন। গত ৭ নভেম্বর রাতে বাসায় যাওয়ার জন্য সহজের সেবা নিয়ে প্রতারিত হয়েছেন শাহাদাত। তিনি জানান, পকেটে ভাংতি টাকা না থাকায় রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্ম সহজের বিকাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা যায় এমন সেবা নিয়ে বিপদে পড়েছিলাম। 
আমি যখন অ্যাপে রিকোয়েস্ট দিয়েছি তখন বিকাশের মাধ্যেম ভাড়া পরিশোধের জন্য বিল দেখানো হয়েছিল মাত্র ২০ টাকা। মূল ভাড়া ১১৯ টাকা হলেও সহজের বিকাশ প্রোমো ব্যাবহার করায় ৯৯ শতাংশ ছাড় থাকায় আমাকে ভাড়া দেখানো হয়েছিল মাত্র ২০ টাকা। শাহাদাত বলেন, গত বুধবার রাত ৮টা ৩০মিনিটের দিকে আর কে মিশন রোড থেকে বাসায় ফিরছিলাম। সহজ রাইডে ফিরে আমি আর কিছুতেই বিকাশে পেমেন্ট দিতে পারছিলাম না। পরে আমাকে ক্যাশে ১২০ টাকা ভাড়া রাইডারকে পরিশোধ করতে হয়েছে। এরপর সহজ কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিলেও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান মেলেনি। গ্রাহক সেবাকেন্দ্র থেকে জানানো হয় তাদের একজন প্রতিনিধি পরেরদিন অর্থাৎ বুধবার তাকে ফোন দিয়ে এ বিষয়ে কথা বলবেন। বুধবার রাতে সহজের গ্রাহক সেবাকেন্দ্র থেকে ফোন করে জানানো হয় অভিযোগটির বিষয়ে তারা কাজ করছেন। পরিশোধিত বাড়তি ভাড়ার সমপরিমাণ প্রোমো দেয়া হবে বলেও জানানো হয় তখন। 
এ ক্ষেত্রে উবার সমপরিমাণ টাকা গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেয় তাহলে তারা কেন শাহাদাতকে কুপন দেবে এমন প্রশ্নের জবাবে সহজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটাই তাদের পলিসি।
বাংলাদেশের অনলাইন রাইড শেয়ারিং ও টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠান সহজ দৈনন্দিন যাতায়াতে রাজধানী ঢাকার যানজট থেকে মুক্তি পেতে গ্রাহকদের জন্য অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি ও মোটরসাইকেল বুকিং রাইড শেয়ারিংয়ের সেবা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস, ফেরির টিকিট থেকে শুরু করে সিনেমার টিকিটও বুকিং দেয়া যাচ্ছে সহজের অ্যাপে। কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই একই অ্যাপে গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় যাবতীয় সেবা প্রদান করাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। 
২০১৪ টিকিট সেবা ও পরবর্তীতে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নিয়ে আসা সহজের সেøাগান হলো ‘জীবনটাকে সহজ করুন’। তবে জীবন সহজের নামে এসব প্রতারণা গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে।
গেমের নেশা এক প্রকার মানসিক রোগ

গেমের নেশা এক প্রকার মানসিক রোগ

প্রযুক্তির উৎকর্ষে শিশুরা প্রতিনিয়তই আনন্দ খুঁজে ফিরছে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের পর্দায়। অনেক সময় এ গেমসের প্রতি তাদের আকর্ষণটা চলে যাচ্ছে আসক্তির পর্যায়ে। অবাক করার বিষয় হলো, বিভিন্ন ডিভাইসে গেম খেলার প্রতি নেশাকে একটি মানসিক রোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। শিশুরা গেম খেলবেই। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন সেটা মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। লিখেছেন সুমনা শারমিন
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ১১তম ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অব ডিজিজেস বা আইসিডিতে এটিকে ‘গেমিং ডিজঅর্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত খসড়ায় গেমিং আসক্তিকে বর্ণনা করা হয়েছে এমন এক ধরনের আচরণ হিসেবে, যা জীবনের আর সব কিছুর আকর্ষণ থেকে একজনকে দূরে সরিয়ে রাখে। বিশ্বের কিছু দেশে গেমিং আসক্তিকে ইতোমধ্যে একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশে তো ইতোমধ্যে এর চিকিৎসার জন্য প্রাইভেট অ্যাডিকশন ক্লিনিক পর্যন্ত রয়েছে।
গেমিং আসক্তিকে কখন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করা হবে, তার বিস্তারিত আছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এই গাইডলাইনে।
এতে বলা হয়েছে, ১২ মাস সময় ধরে অস্বাভাবিক গেমিং আসক্তি বা আচরণ দেখা গেলে তা নির্ণয়ের পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে কারও ক্ষেত্রে যদি অস্বাভাবিক আচরণের মাত্রা অনেক বেশি তীব্র হয়, তখন ১২ মাস নয়, তার আগেই ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে গেমারদের মধ্যে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন: গেমিং নিয়ে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা। গেমিংকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া। নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও গেমিং অব্যাহত রাখা বা আরো বেশি গেমিং করা।
লন্ডনের নাইটিংগেল হাসপাতালের টেকনোলজি অ্যাডিকশন স্পেশালিস্ট ডা: রিচার্ড গ্রাহাম বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর ফলে আরো বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে করে এ ধরনের গেমিং আসক্তিকে লোকে আরো গুরুত্বের সাথে নেবে। 
তবে যারা গেমিং আসক্তিকে একটি মানসিক ব্যাধি হিসেবে দেখার বিপক্ষে, তাদের প্রতিও তিনি সহানুভূতিশীল। 
তিনি স্বীকার করছেন, অনেক বাবা-মা এ নিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারেন। কেবল গেমিংয়ে উৎসাহী বলে সন্তানদের তারা ‘অসুস্থ’ বলে ভাবতে পারেন।
ডা: রিচার্ড গ্রাহাম জানান, বছরে তিনি ডিজিটাল আসক্তির প্রায় ৫০টির মতো কেস দেখেন। এই আসক্তির কারণে তাদের ঘুম, খাওয়া-দাওয়া, সামাজিক মেলামেশা এবং শিক্ষার ওপর কি প্রভাব পড়ে, সেটার ওপর ভিত্তি করে আসক্তির সমস্যার মাত্রা বোঝার চেষ্টা করা হয়।
রোগী দেখার সময় একটা জিনিসকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এই গেমিং আসক্তি ‘নিউরোলজিক্যাল সিস্টেম’কে কতটা প্রভাবিত করছে। এটি চিন্তার ক্ষমতা বা নিবিষ্ট থাকার ক্ষমতার ওপর কী প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বের অনেক দেশই গেমিংয়ের আসক্তি নিয়ে চিন্তিত। দক্ষিণ কোরিয়ায় তো সরকার এমন আইন করেছেÑ যাতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুরা মধ্যরাত হতে ভোর ৬টা পর্যন্ত অনলাইন গেম খেলতে না পারে।
জাপানে কেউ যদি একটি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি গেম খেলে তাকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। চীনে সেখানকার সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট শিশুরা কতক্ষণ গেম খেলতে পারে তার সময় বেঁধে দিয়েছে।
চীনের অনলাইন ভিডিও গেম বাজারে উল্লেখযোগ্য দখল রেখেছে স্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি টেনসেন্ট হোল্ডিংস। চীনের তরুণ প্রজন্ম অনলাইন গেমে অত্যধিক আসক্ত হয়ে পড়ায় দেশটির সরকার তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। গেম বাজারে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকলে সঙ্কটে পড়বে টেনসেন্ট। তাই এ সঙ্কট এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের অনলাইন গেমিংয়ের সময় বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
চলতি বছরের শুরুর দিকে টেনসেন্ট তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গেম ‘অনার অব কিংসের’ জন্য নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করে। এতে গেমারদের পরিচয় ও বয়স যাচাই করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়। আগামী বছর থেকে টেনসেন্ট তাদের সব গেমের জন্যই নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সী শিশুরা দিনে এক ঘণ্টা গেম খেলতে পারবে। এর চেয়ে বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে তা দুই ঘণ্টা হবে।
চীনের শিশুরা গেমে আসক্ত হয়ে পড়ায় তাদের চোখের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চীন সরকার এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।