Showing posts with label বিদেশ. Show all posts
Showing posts with label বিদেশ. Show all posts

Monday, 3 February 2020

ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিকল্পনা’ ওআইসির প্রত্যাখ্যান

ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিকল্পনা’ ওআইসির প্রত্যাখ্যান

ফিলিস্তিন সমস্যা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ নামে যে রূপরেখা প্রকাশ করেছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে মুসলিম দেশগুলোর বৈশ্বিক জোট ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)।
এর আগে গত শনিবার আরব দেশসমূহের জোট আরব লীগ ট্রাম্পের ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে।
কথিত ওই শান্তি পরিকল্পনার পর ৫৭ রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত এই মুসলিম জোট সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে সোমবার এক জরুরি বৈঠক করে।
বৈঠক শেষে বিবৃতিতে ওআইসি জানিয়েছে, তারা জোটের সব সদস্য রাষ্ট্রকে এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত না হওয়া এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মার্কিন প্রশাসনকে সহযোগিতা না করার আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিন নেতৃত্বের অনুরোধে সোমবার জরুরি বৈঠকে বসে ওআইসি। এর দুদিন আগে গত শনিবার একইভাবে এক জরুরি বৈঠক শেষে ট্রাম্পের কথিত শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে তা বাস্তবায়নে কোনোভাবে সহযোগিতা না করার আহ্বান জানায় ২২ আরব দেশের সমন্বয়ে গঠিত জোট আরব লীগ।
এর আগে রোববার ওআইসি এক টুইটার বিবৃতিতে ঘোষণা দেয়, প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে জোটের নির্বাহী কমিটির এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন প্রশাসনের ঘোষিত ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করে জোটের অবস্থান জানানো হবে।
ফিলিস্তিন সমস্যা নিরসনে ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ নামে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে রূপরেখা উন্মোচন করেছেন সেটাকে একপাক্ষিক অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে আরব লীগ। মিসরের রাজধানী কায়রোতে জরুরি বৈঠক শেষে গত শনিবার এই জোট ট্রাম্পের চুক্তিটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয়।
ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ বললেও আরব জোট তাদের বিবৃতিতে চুক্তিকে ‘শতাব্দীর সেরা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ট্রাম্পের মস্তিষ্ক উৎসারিত এই চুক্তিকে একপাক্ষিক অভিহিত করে জোটটি বলছে, ট্রাম্পের ওই চুক্তিতে ফিলিস্তিনের মানুষের ন্যূনতম অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।
কথিত এই শান্তি চুক্তি কোনোভাবেই শান্তির লক্ষ্যে তৈরি করা হয়নি আর এই চুক্তি বাস্তবায়নে কোনোভাবেই মার্কিন প্রশাসনকে সহায়তা না করার ঘোষণা দিয়েছে আরব লীগ। ইসরাইল ক্ষমতার জোরে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে পারবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম এই সংকট সমাধানে দুই রাষ্ট্র সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে জোটটি।
পূর্ব জেরুসালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে আরব লীগ। কিন্তু হোয়াইট হাউসে হাস্যোজ্জ্বল ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতে ট্রাম্প তার পরিকল্পনায় জেরুসালেমকে ইসরাইলের ‘অবিভক্ত রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। ইসরাইল সাধুবাদ জানালেও ফিলিস্তিন এই চুক্তি আগে থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের কথিত শান্তি পরিকল্পনাটিতে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য একের পর কঠিন শর্ত পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরাইলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব গড়ে তোলার ঘোষণাও দিয়েছেন ট্রাম্প।
চার মহাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ নিয়ে ওআইসি গঠিত। জাতিসংঘের পর এটাই বিশ্বের বৃহৎ আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংস্থা। সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনসংখ্যা প্রায় দুইশ কোটি। অধিকাংশ দেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম জনসংখ্যার কিছু আফ্রিকান ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশও এই জোটের সদস্য। আল জাজিরা।
ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি সমর্থন হারাম : ফিলিস্তিনি ওলামা পরিষদ

ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি সমর্থন হারাম : ফিলিস্তিনি ওলামা পরিষদ

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা সমঝোতায় সমর্থন দেয়া হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছে ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদ।
শনিবার গাজার আল আমরি গ্র্যান্ড মসজিদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনি আলেমদের বৃহৎ প্লাটফর্ম এই ফতোয়া প্রদান করে। ফতোয়ায় তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে দেশটির আরও একাধিক সংগঠন।
সংহতি জানাতে সম্মেলনে ফিলিস্তিনের ইসলামি আওক্বাফ, ইসলামি জিহাদ ও ইবনে বায পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত হয়েছিলেন। পৃথক পৃথক ব্রিফিংয়ে বক্তারা ট্রাম্পের তথাকথিত শতাব্দীর সেরা চুক্তির কঠোর বিরোধিতা করেন।
তারা বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ ও তার রাজধানী আল কুদসের ওপর ট্রাম্পের কথিত এই অশুভ শান্তিচুক্তি গর্হিত অপরাধ। ধর্মীয় ও জাতীয় দৃষ্টিকোন থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা অত্যাবশ্যকীয় (ওয়াজিব)।
যারাই এই চুক্তিতে অংশ নিয়েছে এবং সমর্থন দিয়েছে, তারা আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল, মুসলিম উম্মাহ ও ফিলিস্তিনি জনগণের নিকট খেয়ানতদার সাব্যস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
ফিলিস্তিনি ওলামা পরিষদ গোটা বিশ্বের আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থনের আহবান জানিয়ে কথিত শান্তিচুক্তির সমর্থন হারাম ঘোষণা দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। যার যার সামর্থ অনুযায়ী এই চুক্তির বিরোধিতা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করে মুসলিম উম্মাহর প্রতি পরিষদের তরফ থেকে আহবান জানানো হয়।
এছাড়া বিরোধীশক্তির মোকাবেলার জন্য ফিলিস্তিনি নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য ভুলে এক হওয়ার আহবান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ওলামা পরিষদ। মাআ নিউজ এজেন্সি।

Sunday, 29 December 2019

৭৯ সালে কাবা শরিফ অবরোধ : কী ঘটেছিল তখন

৭৯ সালে কাবা শরিফ অবরোধ : কী ঘটেছিল তখন

৭৯ সালে কাবা শরিফ অবরোধ : কী ঘটেছিল তখন

১৯৭৯ সালের ২০ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে সারা বিশ্ব থেকে আসা প্রায় ৫০ হাজার অনুসারী ফজরের নামাজ আদায়ে সমবেত হয়েছিলো ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা'র বিশাল প্রাঙ্গণে। এর মধ্যেই মিশে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী জুহায়মান আল ওতাইবি ও তার ২০০ অনুসারী।
যখন ইমাম নামাজ শেষ করা মাত্র জুহায়মান ও তার অনুসারীরা তাকে একপাশে ঠেলে দিয়ে মাইক্রোফোনের দখল নেযন। তারা কয়েকটি কফিন এনে রেখেছিলো কিন্তু যখন কফিনগুলো খোলা হলো তখন দেখা গেলো সেগুলো ভর্তি বন্দুক আর রাইফেল, যা তার লোকদের মধ্যে দ্রুতই বিতরণ করা হয়।
এর মধ্যে একজন আগে থেকে প্রস্তুত করা একটি লিখিত ভাষণ পড়তে শুরু করেন : "প্রিয় মুসলমান ভাইয়েরা, আজ আমরা ইমাম মাহদীর আগমন ঘোষণা করছি..যিনি বিশ্বে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করবেন..."
সেখানে নামাজরতদের জন্য এটা ছিলো অসাধারণ ঘোষণা। কারণ নবী মোহাম্মদ বলেছেন বা অনুমোদন করে গেছেন যে ইমাম মাহদী আসবেন যার কাছে আল্লাহ প্রদত্ত অসামান্য ক্ষমতা থাকবে।
জুহায়মানের একজন অনুসারী খালেদা আল ইয়ামি দাবি করেন হাজার হাজার মুসলমান যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেই মাহদী এখন তাদের মধ্যে এসে গেছেন। এই মাহদীর নাম মোহাম্মেদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাহতানি।
ভাষণের অডিওটিতে শোনা যায়, জুহায়মান বক্তাকে বার বার বাধা দিচ্ছে এবং নির্দেশনা দিচ্ছে মাজার গেইটের কাছে যেতে আর উঁচু মিনারগুলোয় স্নাইপার নিয়ে পজিশন নিতে।
"এটেনশন ব্রাদারস! আহমদ আল লেহেবী ছাদে যাও। গেইটে কাউকে বাধা দিতে দেখলে তাকে গুলি করো"।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, জুহায়মান প্রথম মাহদীকে শ্রদ্ধা জানান এবং পরে অন্যরা তাকে অনুসরণ করে। তারা চিৎকার করে বলে 'আল্লাহ মহান'। কিন্তু সেখানে কিছুটা দ্বিধাও ছিলো।
আবদেল মোনেইম সুলতান, একজন মিসরীয় যিনি ধর্ম বিষয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি জুহায়মানের কিছু অনুসারীকে চিনতে পেরেছিলেন।
সে দিনের ঘটনা মনে করে তিনি বলেন, গ্র্যান্ড মসজিদ ছিলো বিদেশীদের দ্বারা পূর্ণ যারা আরবি অল্পই জানতো এবং কী ঘটছে সেটি বুঝতে পারেনি।
কাবা এলাকায় সহিংসতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ তার পরেও কয়েকটি গুলির শব্দ সেখানে নামাজরতদের বিস্মিত করে। এরপর চিৎকার শুরু হয় ও খোলা গেটগুলোর দিকে সবাই দৌড়াতে থাকে।
"অস্ত্রধারীদের দেখে সবাই বিস্মিত হন। এটা এমন যা তাদের কাছে খুব বেশি পরিচিত ছিলোনা। নিঃসন্দেহে সবাই ভীত হয়ে পড়েছিলো," বলছিলেন আবদেল মোনেইম সুলতান।
কিন্তু এক ঘণ্টার মধ্যেই কাবা দখল হয়ে গেলো। গ্র্যান্ড মসজিদ সশস্ত্র ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে চলে এলো, যা ছিলো সৌদি রাজপরিবারের প্রতি সরাসরি একটি চ্যালেঞ্জ। যারা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিলো তারা আল জামা আল সালাফিয়া আল মুহতাসিবা (জেএসএম) সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো।
অভিযোগ ছিল যে তেলের অর্থে সৌদি আরবের সমাজ তখন ক্রমশ ভোগবাদী হয়ে উঠছে। দেশটি ক্রমশ নগরায়ন হচ্ছিলো। কিছু অঞ্চলে তখনো নারী ও পুরুষ প্রকাশ্যে একসাথে কাজ করে।
ওদিকে জেএসএম সদস্যদের জীবনযাত্রা ছিলো উগ্র। জুহায়মান জেএসএম-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বেদুইন গোত্র থেকে আসা তিনি। তার অনুসারীদের কাছে স্বীকার করেন যে তার অতীত প্রশ্নমুক্ত ছিলো না।
উসামা আল কুশি নামে একজন শিক্ষার্থী নিয়মিত তাদের গ্রুপ মিটিংয়ে যেতেন। তিনি শুনেছেন যে জুহায়মান বলছেন যে তিনি অবৈধ বাণিজ্য, মাদক ও চোরাচালানিতে জড়িত ছিলেন। এ সত্ত্বেও তিনি হয়ে উঠেন একজন ত্যাগী নেতায় এবং জেএসএম র অনেক সদস্য তার ভক্ত হয়ে উঠেন।
যারা তাকে চিনতেন তার মধ্যে আরেকজন ছিলেন মুতাওয়ালী সালেহ। "কেউ তাকে দেখেনি এবং তাকে পছন্দও করতোনা। তবে তার কারিশমা ছিলো। তিনি ছিলেন তার মিশনে নিবেদিত এবং তিনি আল্লাহর জন্যই তার দিনরাত্রি ব্যয় করেছেন"। যদিও ধর্মীয় নেতা হিসেবে তিনি ততটা শিক্ষিত ছিলেন না।
নাসের আল হোজেইমি নামে একজন অনুসারী বলছেন, "জুহায়মান বিচ্ছিন্ন হয়ে গ্রামীণ বেদুইনদের মধ্যেই যেতে চেয়েছিলেন।
"কারণ তার আরবি ছিলো দুর্বল কিন্তু তার বেদুইন উচ্চারণ ছিলো অসাধারণ। তিনি শিক্ষিত লোকজন এড়িয়ে চলতেন নিজের দুর্বলতা প্রকাশ হবার ভয়ে"।
অন্যদিকে জুহায়মান আবার ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীর সৈনিকও ছিলেন। কাবা দখলের প্রস্তুতির সময় তার সামরিক প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে জেএসএম'র সাথে সৌদি পণ্ডিতদের সাথে মতবিরোধ দেখা দেয়।
জুহায়ামান মরুভূমিতে পালিয়ে যান ও পরে বেশ কিছু লিফলেট লিখেন সৌদি রাজপরিবারের সমালোচনা করে এবং পণ্ডিতদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে রাজপরিবার ছিলো দুর্নীতিগ্রস্ত এবং বড় ধরনের একটি হস্তক্ষেপই শান্তি আনতে পারে।
এক পর্যায়ে তিনি মাহদী হিসেবে মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাহতানিকে চিহ্নিত করেন যিনি ছিলেন তরুণ ধর্ম প্রচারক এবং ভালো আচরণের জন্য প্রশংসিত।
হাদিসে যে মাহদীর কথা বলা আছে সেটি তার প্রথম নাম আর তার বাবার নামের সাথে নবী মোহাম্মদের নামের মিল ছিলো। কিন্তু তিনি রাজি হচ্ছিলেন না।
পরে তাকে রাজি করানো হলো এবং তিনি মাহদীর ভূমিকা নিলেন। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হয় যখন জুহায়মান তার বোনকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।
মসজিদ দখলের কয়েক মাস আগে গুজব ছড়িয়ে দেয়া হলো যে মক্কার শত শত মানুষ ও হাজীরা কাহতানিকে স্বপ্নে দেখেছেন যে গ্র্যান্ড মসজিদে তিনি দাড়িয়ে আছেন ইসলামের ব্যানার হাতে।
জুহায়মানের অনুসারীরা এসব বিশ্বাস করেছিলো।
জেএসএম সদস্য মুতাওয়ালি সালেহ বলছেন, "মনে পড়ে মেষ মিটিঙে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো মাহদী নিয়ে কি ভাবছি। আমি বলেছিলাম এ বিষয়ে কথা বলোনা। তখন একজন বলেছিলো তুমি নিশ্চুপ শয়তান। মাহদী সত্যি এবং তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাহতানি"। পরে প্রত্যন্ত এলাকায় জুহায়মান ও তার অনুসারীরা সম্ভাব্য সহিংসতার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্ব গ্র্যান্ড মসজিদ দখলের ঘটনা শুরুতে গুরুত্ব দেয়নি। যুবরাজ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ আল সউদ তিউনিসিয়ায় আরব লীগের সামিটে ছিলেন। ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান প্রিন্স আব্দুল্লাহ মরক্কোতে ছিলেন। ফলে ব্যবস্থা নেয়ার সব দায়িত্ব ছিলো অসুস্থ রাজা খালেদ আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স সুলতানের হাতে। সৌদি পুলিশ শুরুতে সমস্যার ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারেনি। তারা কয়েকটি পেট্রল কার পাঠায় কি হয়েছে দেখতে কিন্তু গ্র্যান্ড মসজিদের আসার পথেই তারা গুলির মুখে পড়ে।
পরে যখন কতটা ভয়াবহ তা পরিষ্কার হয় তখন এগিয়ে আসে ন্যাশনাল গার্ড। মার্ক হাম্বলে ছিলেন জেদ্দায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার। অবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন তিনি। "তীক্ষ্ম শুটারদের হাতে ভালো অস্ত্র ছিলো। অত্যন্ত ভালো মানের বেলজিয়াম রাইফেল"।
এরপর পুরো মসজিদ এলাকা জুড়ে সিকিউরিটি কর্ডন গড়ে তোলা হয় স্পেশাল ফোর্স, প্যারাট্রুপার ও আর্মারড ইউনিটি দিয়ে। আবদের মোনেইম সুলতান তখনো ভেতরে আটকা ছিলেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় দিন দুপুর থেকে লড়াই জোরদার হয়ে ওঠে। "মিনার লক্ষ্য করে গুলি হচ্ছিলো। বার বার হেলিকপ্টার চক্কর দিচিছলো। সামরিক বিমানও দেখা যাচ্ছিল"।
সুলতান বলেন, জুহায়মানকে তখনো আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিলো এবং কাবার সামনে দেখাও হয়েছিলো তাদের। "তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা আমার পায়ে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। তার স্ত্রী দাড়িয়ে ছিলেন যিনি কখনো তাকে ছেড়ে যাননি"।
বিদ্রোহীরা কার্পেট ও রাবার টায়ার পুড়িয়ে কালো ধোয়া তৈরির চেষ্টা করছিলো। এগিয়ে আসা সৌদি বাহিনীর চোখ এড়াতে অন্ধকার অ্যামবুশ করে অবস্থান নিয়েছিলো তারা। মুহূর্তের মধ্য পুরো ভবন হয়ে উঠে কিলিং জোন। হতাহতের সংখ্যা মুহূর্তেই শতাধিক ছাড়িয়ে যায়।
"এটা ছিলো অল্প জায়গায় সরাসরি লড়াই," বলছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল ফোর্সের মেজর মোহাম্মদ আল নুফাই।
সৌদি আরবের প্রধান ধর্মীয় ব্যক্তি একটি ফতোয়া জারি করেন যেখানে তিনি বলেন সৌদি মিলিটারি যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। অ্যান্টি ট্যাংক মিসাইল ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার হয় মিনার থেকে বিদ্রোহীদের সরাতে।
বিদ্রোহীরা মাহদীকে ঘিরে ছিলো।
"আমি তাকে অল্প আহত অবস্থায় দেখতে পাই। তার চোখের নিচে অল্প আঘাত আর তার পোশাকে অনেকগুলো গুলির দাগ ছিলো," বলছিলেন সুলতান। "তিনি বিশ্বাস করতেন যে তিনি মরবেন না, কারণ তিনি তো মাহদী"।
কিন্তু কাহতানির বিশ্বাস বাস্তব হয়নি এবং তিনি শিগগিরই গুলির মুখে পড়েন।
"তিনি যখন আঘাত পেলেন তখন সবাই চিৎকার করে ওঠে। মাহদী আহত। মাহদী আহত। কেউ কেউ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যেতে চাইলো কিন্তু প্রচণ্ড গুলির মুখে তাও পারলো না," বলছিলেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী।
তারা জুহায়মানকে বললো মাহদী আঘাতপ্রাপ্ত কিন্তু তিনি অনুসারীদের বললেন, ওদের বিশ্বাস করো না।
ছয় দিন পর সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদ ভবন এলাকা ও আঙ্গিনার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হলো।
"শুরুতে পানির সরবরাহ ছিলো কিন্তু পরে রেশন করে দেয়া হলো। এক পর্যাযে খেজুরও শেষ হয়ে গেলো। ভয়াবহ অবস্থা। মনে হচ্ছিলো হরর মুভি"।
এটা পরিষ্কার যে বিদ্রোহী নেতাদের জীবন্ত ধরতে সৌদি সরকারের সহায়তার দরকার ছিলো। তারা ফরাসি প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলে। তিনি বলছিলেন, "রাষ্ট্রদূত আমাকে বলেছে যে সৌদি বাহিনী সংগঠিত নয় এবং কিভাবে ব্যবস্থা নেবে তা জানতো না"।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট কাউন্টার টেরর ইউনিট থেকে তিনজন উপদেষ্টাকে ডেকে নিলেন। "পুরো অভিযান গোপন রাখা হলো যাতে ইসলামের জন্মস্থানে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ নিয়ে কোনা সমালোচনা না ওঠে"।
ফরাসি দল তায়েফের কাছে একটি হোটেলে দপ্তর খোলে। সেখান থেকেই পরিকল্পনা হয় যে বিদ্রোহীদের নিশ্চিহ্ন করা, বেজমেন্ট গ্যাস দিয়ে পূর্ণ করা যাতে কেউ টিকতে না পারে।
ক্যাপ্টেন পর বারিল বলছেন, বেজমেন্টে যেতে ৫০ মিটার গভীর গর্ত খোঁড়া হয়েছিলো এবং এগুলো দিয়েই গ্যাস দেয়া হয়।
পরে বিদ্রোহীরা যেখানে ছিলো সেখানে গ্রেনেড দিয়ে গ্যাস ছড়িয়ে দেয়া হয়। নাসের আল হোজেইমি বলেন জুয়াহমান অস্ত্র আর খাদ্য ছাড়াই ছিলেন শেষ দু দিন। "তারা ছোটো একটি রুমে অবস্থান নেন। সৈন্যরা গর্ত দিয়ে স্মোক বোম্ব নিক্ষেপ করছিলো"।
এ কারণে তারা আত্মসমর্পণ করেন। মেজর নুফাই এরপর সৌদি প্রিন্স ও জুহায়মানের সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রিন্স জিজ্ঞেস করেন এটা কেন করলে জুহায়মান। উত্তরে তিনি বলেন 'ভাগ্য'।
তার কিছু প্রয়োজন কিনা জানতে চাইলে জুহায়মান পানি চান।
জুহায়মানকে ক্যামেরার সামনে আনা হয় এবং এর এক মাস পর ৬৩ বিদ্রোহীকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়া হয় এবং জুহায়মানকেই প্রথম মরতে হয়।
একজন ব্যক্তির ওপর এ ঘটনার প্রভাব পড়েছিলো তিনি হলেন ওসামা বিন লাদেন। সৌদির শাসকদের নিয়ে একটি লিফলেটে তিনি প্রসঙ্গটি এনেছিলেন। নাসের আল হুজাইমির মতে জুহায়মানের পদক্ষেপে আধুনিকায়ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গলো।
হারাম শরীফে ওই ঘটনার পর টিভি থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো নারী উপস্থাপকেরা, যা জুহায়মানের একটি দাবি ছিলো।
সৌদি আরব আবার তার রক্ষণশীল পথে ফিরে গেলো এবং গত চার দশক ধরেই তা আছে। এখন অবশ্য কিছুটা পরিবর্তনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এক সাক্ষাতকারে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন ১৯৭৯ সালের আগে "আমাদের একটি স্বাভাবিক জীবন ছিলেন উপসাগরীয় অন্য দেশের মতো। যেখানে নারীরা গাড়ি চালাতো এবং সৌদি আরবে মুভি থিয়েটারও ছিলো"।
সূত্র : বিবিসি
ইন্টারনেটের অভাবে যেভাবে ডুবছে কাশ্মিরের অর্থনীতি

ইন্টারনেটের অভাবে যেভাবে ডুবছে কাশ্মিরের অর্থনীতি

ক্যাইন্টারনেটের অভাবে যেভাবে ডুবছে কাশ্মিরের অর্থনীতিপশন যোগ করুন
‘গত চার মাসে কিছু না হলেও ১০ লাখ রুপির ক্ষতি হয়েছে আমার। ব্যবসা বাঁচাতে না পেরে শ্রীনগর ছেড়ে জম্মুতে আসতে হয়েছে’, জম্মু থেকে টেলিফোনে বিবিসিকে বলছিলেন শারিক আহমেদ।
‘এখানে ৭,০০০ রুপীতে একটি ঘর ভাড়া করতে হয়েছে। নতুন ব্রডব্যান্ড সার্ভিস নিতে মাসে ২ হাজার রুপী গুনতে হচ্ছে। এছাড়া, বাড়ি ছেড়ে বাইরে থাকার খরচ তো রয়েছেই।’
শ্রীনগরে একটি ট্যুর কোম্পানি চালাতেন শরিক। ইন্টারনেটের অভাবে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার যোগাড় হয়েছিল। প্রায় এক মাস আগে শ্রীনগর ছেড়ে জম্মুতে এসে ব্যবসা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
স্ত্রী-সন্তানদের ফেলে নতুন অপরিচিত জায়গায় আসতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
গত ৫ আগস্ট সংবিধানে ৩৭০ ধারা রহিত করে জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা খর্ব করার পর থেকে কাশ্মির উপত্যকায় ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে ভারত সরকার। পরিণতিতে, এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে ওঠার যোগাড় হয়েছে।
ইন্টারনেটের জন্য অপেক্ষা
শ্রীনগরে একটি বইয়ের দোকান চালান সানি হুসেন। ইন্টারনেটে নতুন বইয়ের অর্ডার দিতে পারছেন না বলে তাকে দিল্লি যেতে হয়েছিল।
বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘শ্রীনগর থেকে দিল্লি যাওয়া মানে সব মিলিয়ে ৩০ হাজার রুপীর ধাক্কা। এই টাকা তো আমার ব্যবসা থেকেই আয় হয় না। ৫ আগস্টের আগে এই কাজের জন্য কখনোই আমাকে দিল্লি যেতে হয়নি। সবসময় অনলাইনেই অর্ডার দিয়েছি।’
ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে হুসেন মানুষকে জানাতেন কী কী বই এখন তার দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইনে অ্যামাজনের সাইটে বইয়ের অর্ডার দিতেন।
ইন্টারনেট না থাকায় দুটো রাস্তাই এখন বন্ধ।
হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শ্রীনগরের বাইরের দোকানদারদের কাছ থেকে বইয়ের অর্ডার আসতো। দেনা-পাওনার হিসাবও হতো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। সেটাও বন্ধ।
সম্প্রতি শ্রীনগরে ল্যান্ডফোন লাইন এবং পোস্ট-পেইড মোবাইল ফোনের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রি-পেইড মোবাইল সার্ভিস এবং ইন্টারনেট এখনো বন্ধ।
ব্যবসা-বাণিজ্য ধুঁকছে
শ্রীনগরে শুকনো ফল এবং জাফরানের ব্যবসা করেন ওমর আমিন। দেশের বাইরে থেকেও ইন্টারনেটে তার কাছে অর্ডার আসতো। কাশ্মির উপত্যকায় এখন ইন্টারনেট না থাকায় দিল্লি থেকে তাকে তার অনলাইন অপারেশন চালাতে হচ্ছে। সেখানে লোক নিয়োগ করতে হয়েছে। ফলে বেড়ে গেছে ব্যবসার খরচ।
ওমর জানালেন দিল্লিতে বিকল্প ব্যবস্থা করার আগে প্রায় দেড় মাস তার ওয়েবসাইট বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ফলে, তার ব্যবসার সুনাম এবং নির্ভরযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
মজুরী কমে অর্ধেক
ইন্টারনেটের অভাবে বিশেষ হুমকিতে পড়েছে কাশ্মিরের হস্তশিল্প। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোবাইল ফোন এখন তাদের ব্যবসার বড় জায়গা। মানুষজন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে ছবি দেখে অর্ডার দেয়। সেই রাস্তা এখন পুরোপুরি বন্ধ।
কাশ্মিরের কারুশিল্পীরা এখন তাদের জীবিকা নিয়ে গভীর আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
শাল তৈরির কারখানায় কাজ করেন ফায়াজ আহমেদ। তিনি বলছেন, ‘লন্ডন থেকে যে ক্রেতা শালের অর্ডার দিতেন তিনি যদি মাঝপথে নকশায় কোনো পরিবর্তন চান, যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা ছিল ইন্টারনেট। তার পাঠানো ছবি দেখে আমরা শাল বানাতাম। নকশা বদল করতাম।’ সেই সুবিধা এখন বন্ধ।
ব্যবসা কমায় মজুরীও কমছে। আগস্ট মাসের আগে ফায়াজের আয় ছিল মাসে কমপক্ষে ১০ হাজার রুপী। এখন পাচ্ছেন পাঁচ হাজার।
শ্রীনগরে হস্তশিল্পের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইয়াসিন মীর ভিন্ন এক সমস্যার কথা বললেন
‘যারা আমাদের পণ্য কিনতো, বা যাদের কাছ থেকে আমরা নানা জিনিস কিনতাম, সেসব লেনদেন বন্ধ। সম্প্রতি অমৃতসর থেকে টেলিফোন করে একজন আমাকে দুটো ইলেকট্রিক কম্বলের অর্ডার দেয়। কিন্তু আমি তাদের স্যাম্পল দেখাতে পারছি না। একজনকে সেখানে স্যাম্পলসহ পাঠানো অনেক খরচের ব্যাপার। ফলে আমি অর্ডার নিতে পারিনি।’
‘এখনকার অফিসাররা কথা শোনেন না’
তারা সরকারের কাছে সমস্যা সমাধানের আবেদন কেন করছেন না? এই প্রশ্নে, সব ব্যবসায়ীদেরই উত্তর ছিল প্রায় একই রকম।
‘এই সরকার আমাদের কথা শুনতে রাজী নয়। আগে আমরা নির্বাচিত সরকারের কাছে নানা আর্জি নিয়ে যেতাম, কিন্তু এখন যেসব অফিসার এখানে আছেন, কাশ্মিরিদের কথা তারা শোনেনই না। তারা আমাদের চেনেন না। আমাদের সমস্যা তারা বোঝেন না। সে কারণে আমরা তাদের কাছে যাই না। আমরা শুধু অপেক্ষা করছি পরিস্থিতি হয়তো একদিন ভালো হবে।’
ভারত-অধিকৃত কাশ্মিরের শিল্প ও বণিক সমিতি বলছে, ৫ আগস্ট থেকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার জেরে রাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি রুপী।
সূত্র : বিবিসি
বৃহত্তম ডিটেনশন ক্যাম্প হচ্ছে আসামে

বৃহত্তম ডিটেনশন ক্যাম্প হচ্ছে আসামে

ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে দেশজোড়া বিক্ষোভ, হিংসার জেরে দিনসাতেক আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, কোনো ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ই নেই দেশে! অথচ আসামের গোয়ালপাড়ায় দেশের বৃহত্তম ডিটেনশন ক্যাম্প নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। যেখানে রাখা হবে অন্তত তিন হাজার মানুষকে, যারা নতুন আইন মোতাবেক আর ভারতের নাগরিকত্ব দাবি করতে পারবেন না। আসাম সরকারের একটি সূত্র জানাচ্ছে, দেশের বৃহত্তম ডিটেনশন ক্যাম্পটি পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাবে মার্চেই।
ক্যাম্পটি বানানো হচ্ছে গুয়াহাটি থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে গোয়ালপাড়ার মাতিয়ায়। ২৫ বিঘা জমির উপর। ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে। গোটা ক্যাম্প ঘিরে তোলা হচ্ছে ২০ থেকে ২২ ফুট উঁচু দেওয়াল। যেন জেলখানা!
নির্মাণের দায়িত্বে থাকা সাইট সুপারভাইজার মুকেশ বসুমাতারি বললেন, ‘এ মাসের মধ্যেই আমাদের কাজ শেষ করার কথা ছিল। তেমনই বলা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষায় কাজ বন্ধ থাকায় দেরি হয়ে গেল। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য কাঁচামাল সময়মতো পৌঁছবে কি না, সেটা নিয়েই এখন আমি বেশি চিন্তিত।’
মুকেশের বাড়ি আসামের কার্বি আংলং জেলায়। সেখান থেকেই মাতিয়ায় এসে গোটা প্রকল্পের নির্মাণ-কাজের দেখভাল করছেন তিনি।
মুকেশ জানালেন, ডিটেনশন ক্যাম্পে মোট ১৫টি বাড়ি বানানো হবে। প্রত্যেকটিই চার তলার। প্রত্যেকটি বাড়িতে থাকবেন ২০০ জন মানুষ। ক্যাম্পে থাকবে স্টাফ কোয়ার্টার, হাসপাতাল, স্কুল, অফিস কমপ্লেক্স, রান্নাঘর, খাওয়ার ঘর ও নানা অনুষ্ঠানের জন্য কমিউনিটি হল।
ক্যাম্পে আলাদা জায়গায় বানানো হচ্ছে টয়লেট কমপ্লেক্স। তার ছয়টি ব্লক বানানো হচ্ছে। প্রত্যেকটি ব্লকে থাকছে ১৫টি টয়লেট এবং ১৫টি বাথরুম।
সেই বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখতে সরকারি কর্তারা তো বটেই, আশপাশের গ্রাম থেকে প্রচুর লোক আসছেন বলে ক্যাম্প এলাকায় গজিয়ে উঠেছে প্রচুর চায়ের দোকান। খাবারদাবারের দোকানও। অনেকেরই আশা, ক্যাম্প চালু হলে সেখানে কাজ জুটবে আশপাশের গ্রামবাসীদের। স্থানীয় বাসিন্দা বিপুল কলিতা বললেন, ‘চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর কাজ নিশ্চয়ই জুটবে আশপাশের গ্রামের মানুষদের।’
আসামের বিভিন্ন জয়াগায় এমন আরো ১০টি ডিটেনশন ক্যাম্প গড়ে তোলা হবে বলে আসাম সরকারের একটি সূত্রের খবর। এ বছরই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি অনুযায়ী আসামের ১৯ লাখ মানুষ তাদের নাগরিকত্ব খুইয়েছেন। যা আসামের মোট জনসংখ্যার ৬ শতাংশ। তাদের রাখা হবে এই সব ডিটেনশন ক্যাম্পে।
২০০৯ থেকে ২০১৫-র মধ্যে আসামে মোট ছয়টি ডিটেনশন ক্যাম্প বানানো হয়েছিল। গোয়ালপাড়া, কোকড়াঝাড়, যোরহাট, ডিব্রুগড়, তেজপুর ও শিলচরে। নাগরিকত্বের প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি যেসব ভোটার, তাদের ঠাঁই হয়েছে ওই ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে। তাদের নাম- ‘ডি-ভোটার’।
কিন্তু সেখানে থাকা যে কতটা দুর্বিষহ, সেই কাহিনী শুনিয়েছেন মুহাম্মদ সানাউল্লা। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৩০ বছর চাকরির পর অবসর নেয়া সানাউল্লা নাগরিকত্ব খুইয়েছেন গত মে মাসে।
সানাউল্লার কথায়, ‘ক্যাম্পগুলোর একেকটা ঘরে ৪০/৪৫ জন করে রাখা হয়। রাতে মেঝেতে শুতে হয়, জায়গার অভাবে। বাথরুমও খুব নোংরা। যে খাবারদাবার পরিবেশন করা হয়, তা মুখে তোলার মতো নয়।’
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Wednesday, 25 December 2019

আলিগড়ে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের ওপর স্টান গ্রেনেড ছুঁড়েছে পুলিশ, বলছে একটি তদন্ত দল

আলিগড়ে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের ওপর স্টান গ্রেনেড ছুঁড়েছে পুলিশ, বলছে একটি তদন্ত দল

ভারতের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভের সময় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সহিংসতা ঘটে, সেসময় পুলিশের বিরুদ্ধে 'বর্বর আচরণ' করার অভিযোগ করে এই দলটি - যাতে ছিলেন আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী এবং শিক্ষাবিদরা।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমটি জানিয়েছে , ছাত্রদের ব্যাপক মারধর করার সময়ে পুলিশের মুখে 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি শোনা গেছে, ছাত্রদের ওপরে ব্যবহার করা হয়েছে 'স্টান গ্রেনেড' - যা সাধারণত সন্ত্রাসী হামলার সময়ে করা হয়ে থাকে থাকে। একজন ছাত্রের হাত কেটে বাদও দিতে হয়েছে।
তবে পুলিশ বলছে, ছাত্ররাই প্রথমে নিরাপত্তা বাহিনীকে আক্রমণ করেছিল এবং তারা ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করেছে শুধু আত্মরক্ষার স্বার্থে।
সবশেষ খবরে জানা যায়, ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বুধবারও অব্যাহত ছিল।
এমাসের প্রথম দিকে পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইনটিতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অ-মুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেবার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার কথা বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে হাজার হাজার লোক এর প্রতিবাদে এক সমাবেশ করে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ বলেন, তার সরকার ওই রাজ্যে কখনোই এ আইন প্রয়োগ করবে না।
আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ই ডিসেম্বর সংঘটিত ওই কথিত পুলিশী বর্বরতার তদন্তের জন্য ১৭ তারিখে সেখানে গিয়েছিল একটি তথ্য অনুসন্ধানী দল বা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম।
তারা বলছে, বিক্ষোভ শুরু হতেই প্রায় ২১ হাজার পড়ুয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকে বার করে দেওয়া হয়। তারপরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে পুলিশ।
ওই তথ্যানুসন্ধানী দলের অন্যতম সদস্য, প্রাক্তন আমলা ও মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মন্দার বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "আমরা যখন ঘটনার দুদিন পরে বিশ্ববিদ্যালয়তে পৌঁছাই, চারদিকে ধ্বংসের ছবি। আমরা জানতে পারি যে এক দিনের মধ্যে ২১ হাজার ছাত্রকে হোস্টেল থেকে বার করে দেওয়া হয়।"
"যে সহিংস ছাত্র বিক্ষোভের কথা বলা হচ্ছে, সেটা নিশ্চিত করা কঠিন। তবে যদি এটা মেনেও নেওয়া হয় যে ছাত্ররা পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়েছিল, তাহলেও কি পুলিশকে ডেকে এনে এভাবে তাদের মার খাওয়াতে হবে?"
"সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে ছাত্রদের ওপরে - যা শুধুমাত্র কোনও সন্ত্রাসী হামলার সময়ে ব্যবহার করা হয়। কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা কী করে করা হল?", বলছিলেন মি. মন্দার।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যখন তারা কথা বলেছিলেন, তাদের জবাব কী ছিল তা জানতে চাওয়া হলে মি. মন্দার বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে তারা ছাত্রদের নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টে পুলিশ আর সরকারের সুরে কথা বলছে!"
"যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ডাকতেই হয়, তাহলেও তো যথেষ্ট সতর্কতার মধ্যে দিয়ে তাদের কাজ করা উচিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার উত্তর প্রদেশ পুলিশের একজন কর্মরত অফিসার। এটা কী ভাবে সম্ভব হয়?"
বিবিসির সংবাদদাতারা ওই ঘটনার প্রতিবেদন করতে গিয়ে যে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তারা জানিয়েছিলেন যে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছিলেন সেদিন।
এদের মধ্যে একজন - মুহাম্মদ তারিকের হাতেই একটি গ্রেনেড শেল ফেটে যায়। তার হাত অপারেশন করে বাদ দিতে হয়েছে।
ওই ছাত্রর খুব প্রিয় বন্ধু মুহাম্মদ আরশাদ বিবিসি বাংলার সঙ্গে বুধবার যখন ফোনে কথা বলছিলেন, তখনও যে তিনি বন্ধুর ওই অবস্থা দেখার পর নিজেকে সামলিয়ে উঠতে পারেন নি, তা বোঝা যাচ্ছিল।
মি. আরশাদ জানাচ্ছিলেন, "ঘটনার সময়ে আমি একটি বিয়ে বাড়িতে ছিলাম। সেখানেই বন্ধুর ওই অবস্থার খবর পাই। সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানে আরও অনেক ছাত্র আহত হয়ে এসেছিল। তবে বন্ধুর হাতের আঘাতে আমি এতটাই বিচলিত ছিলাম, যে অন্যদের দিকে তাকানোর পরিস্থিতি ছিল না।"
"প্রাথমিক চিকিৎসার পরেই ডাক্তাররা বন্ধুর হাতের এক্সরে করাতে বলে। তারপরে তারিককে অপারেশনের জন্য নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা পরে জানিয়েছেন যে তার হাতের একটা অংশ কেটে বাদ দিতে হয়েছে," জানাচ্ছিলেন মুহাম্মদ আরশাদ।
পুলিশ অবশ্য তাদের ওপরে ওঠা অভিযোগগুলো মানতে চাইছে না। উল্টো ছাত্ররাই স্টান গ্রেনেড ছুঁড়েছে বলে মন্তব্য করেছে আলিগড়ের পুলিশ।
ওই ঘটনায় ২১ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়, আর সেদিনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৬ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগও দায়ের করা হয়। এদের মধ্যে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নেতাকর্মী

Tuesday, 17 December 2019

বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় আওয়ামী লীগ নেতারা কোথায় ছিলেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় আওয়ামী লীগ নেতারা কোথায় ছিলেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় আওয়ামী লীগের নেতারা কোথায় ছিলেন এবং কেন তাদের কেউ এ হত্যার বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালন করতে এগিয়ে আসেননি তার উত্তর এখনও খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
৪৯তম বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এটা (আওয়ামী লীগ) এত বড় সংগঠন...এত নেতা! তারা কোথায় ছিলেন? মাঝে মাঝে আমি তা জানতে চাই, কেউ সাহস করে এগিয়ে এলো না। সাধারণ মানুষ সব সময় বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিল।’রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।
তিনি অবাক হন যে কেন দেশের কেউ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার বিষয়ে জানতে পারল না এবং কেন কেউ এ হত্যার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিল না।
‘লাশ (ধানমন্ডি) ৩২ নম্বরে পড়ে ছিল, কেন? সেই উত্তর আমি আজও পাইনি,’ বলেন তিনি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে রক্ষায় ব্যর্থতার খেসারত জাতিকে পরবর্তী দশকগুলোতে দিতে হয়েছে। ‘কারণ, বারবার ক্যু হয়েছে। জাতির পিতার হত্যার পর এ দেশে ১৮-১৯টি ক্যু হয়েছে...দলের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন হয়েছে।’
‘যদি কেউ সাহস নিয়ে এগিয়ে আসতেন তাহলে হয়তো এসব অত্যাচার ও নির্যাতন হতো না এবং হয়তো দেশে বারবার ক্যু হতো না... বারবার ক্যু দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল,’ বলেন তিনি।
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা, হুমায়ুন কবির ও এসএম মান্নান কচি। সূত্র : ইউএনবি
দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আতঙ্কের রাত’

দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আতঙ্কের রাত’

রোববার সন্ধ্যায় লাঠিচার্জ আর পুলিশের ছোড়া একের পর এক কাঁদানে গ্যাসের শেলের মধ্যেই আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারের দরজা আটকে বাথরুমের ভেতর লুকিয়ে ছিল।
ভেতরে থাকা এক শিক্ষার্থীর ভিডিও ফুটেজে কয়েক ডজন ছাত্রছাত্রীকে আশ্রয়ের জন্য হুড়োহুড়ি করতে, ডেস্কের নিচে মাথা লুকিয়ে রাখতে এবং পালানোর চেষ্টায় ধাতব, ভাঙা গ্লাস ডিভাইডারের ওপর দিয়ে লাফ দিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পুলিশের বর্বরতার চিহ্ন হিসেবে সোমবারও ওই গ্রন্থাগারের মেঝেতে ফোটা ফোটা রক্তের দাগ ছিল, জানিয়েছে আনন্দবাজার।
রোববার বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভের মধ্যে দক্ষিণপূর্ব দিল্লির এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে যে সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে বাঁচতে ৬শ’রও বেশি শিক্ষার্থী ওই গ্রন্থাগার ভবনের ভেতর আশ্রয় নিয়েছিলেন।
পুলিশের হামলায় সন্ধ্যার পর থেকে ওই ভবনটিতে ‘আতঙ্কের রাত’ নেমে এসেছিল।
আনন্দবাজার বলছে, পুলিশের হামলায় গ্রন্থাগারের রিডিং-রুমের প্রায় কোনও কাঁচই আস্ত নেই। মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে চেয়ার-টেবিল। সিসি ক্যামেরা ভাঙা। পেটমোটা বইয়ের পাশে মেঝেতে ইটের টুকরো আর কাঁদানে গ্যাসের শেল। এমনকি নরেন্দ্র মোদী আর অযোধ্যা সম্পর্কিত বই রাখা যে শো-কেসে, তার কাঁচও রেহাই পায়নি অমিত শাহের পুলিশের হাত থেকে।
প্রায় একই ছবি পুরো ক্যাম্পাসে।
“জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার চত্বরে পুলিশি তাণ্ডবের ১২ ঘণ্টা পরে ক্যাম্পাসে পা রেখেও মনে হল, যেন যুদ্ধক্ষেত্র!,” বলেছে তারা।
আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘু, যারা ২০১৫ সালের আগে ভারতে এসেছেন তাদের নাগরিকত্ব দিতে যে সংশোধনী আনা হয়েছে তা বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেই চলছে তুমুল বিক্ষোভ।
উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লিতেও আইনটির প্রতিবাদে রাস্তায় নামা প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আইনটির প্রতিবাদে একের পর এক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।
রোববার জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই প্রতিবাদকারীরা বেশ কয়েকটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
পরে এক বিবৃতিতে জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জানান, গাড়িতে আগুন কিংবা পুলিশের ওপর হামলায় তাদের কেউ জড়িত ছিল না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটিয়েছে বলেও দাবি তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক আসাদ মালিক জানান, রোববার প্রায় শতবর্ষ পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্মকর্তারা ক্যাম্পাস ফটকে দাঁড়িয়ে পরিচয়পত্র দেখে দেখে শিক্ষার্থীদের ভেতরে ঢুকিয়েছিলেন।
অপরদিকে পুলিশের ভাষ্য, কিছু নাশকতাকারী বিশ্ববিদ্যালয়টির ভেতরে ঢুকে সেখান থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছিল; পুলিশ কর্মকর্তারা সেসব নাশকতাকারীকে ধরতেই জামিয়ার ভেতরে হানা দেয়। 
“দুষ্কৃতিকারী ও  উচ্ছৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়টির ভেতরে ঢুকে পড়েছিল,  তাদের ধরতেই ধাওয়া করেছিল পুলিশ,” সোমবার সাংবাদিকদের এমনটাই বলেন পুলিশের মুখপাত্র এম এস রানধাওয়া।
তার এ মন্তব্যের বিরোধীতা করে মালিক বলেছেন, পুলিশ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ছিল, ক্যাম্পাসে তখন কেবল জামিয়ার শিক্ষার্থীরাই ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ২২ বছর বয়সী স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সালিহা পিপি জানান, রোববার শতাধিক পুলিশ সদস্য যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে শিক্ষার্থীদের তাড়া করেন, কাঁদানে গ্যাস ছোড়েন এবং লাঠিচার্জ করেন, তখন তিনি ক্যাম্পাসেই ছিলেন।
“একের পর এক কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। যখনই কোনো শিক্ষার্থীকে পাচ্ছিল, তখনই বর্বরভাবে তাকে মারছিল,” বলেছেন তিনি।
জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমা আখতার বলছেন, পুলিশ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলায় ২০০র মতো শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম শিক্ষার্থী অধ্যুষিত বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ এখন এ ঘটনা নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানাবে, জানিয়েছেন নাজমা।
“শিক্ষার্থীদের ওপর তারা যে বর্বরতা চালিয়েছে, তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়,” বলেছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর হামলার সময় পুলিশের দলে কোনো নারী সদস্য ছিল না বলে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী রয়টার্সের কাছে অভিযোগ করেছেন। ভারতের আইন অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে কোনো নারী থাকলে তাকে মোকাবিলায় অবশ্যই নারী পুলিশের উপস্থিতি থাকতে হবে।
এসব অভিযোগ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের প্রতিক্রিয়া চেয়ে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ভারত ছেড়ে পালাতে পারে লাখো মুসলিম: ইমরান খান

ভারত ছেড়ে পালাতে পারে লাখো মুসলিম: ইমরান খান

তিনি বলেন, ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইন এবং কাশ্মীরে কারফিউয়ের কারণে মুসলিমরা পালাতে পারে এবং এভাবে একটি “শরণার্থী সংকট তৈরি হতে পারে। যে সংকট ছাপিয়ে যেতে পারে অন্য সব সংকটকে।”
জেনেভায় বিশ্ব শরণার্থী ফোরামে মঙ্গলবারের ভাষণে ইমরান খান আরো বলেন, “আমরা কেবল শরণার্থী সংকট নিয়েই নয় বরং এ থেকে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বিগ্ন।”
‘পাকিস্তান আরো শরণার্থীর জন্য জায়গা করে দিতে সক্ষম নয়’ জানিয়ে ইমরান বিশ্বকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর মাত্র পাঁচদিন আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী করমসূচি নিয়ে এগুচ্ছে বলে ইমরান মন্তব্য করেছিলেন।
এক টুইটে তিনি লিখেছিলেন, “মোদীর শাসনে ভারত হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী করমসূচি নিয়ে ধারবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীর অবৈধভাবে অধিগ্রহণ করা থেকে শুরু করে, জাতীয় নাগরিক পঞ্জী এনআরসি, আটক কেন্দ্র স্থাপন, আর  এখন নাগরিকত্ব(শংসোধন) আইন করার মধ্য দিয়ে তা চলছে।”
ভারত সরকারের নগরিকত্ব আইনের সরবসাম্প্রতিক এ পদক্ষেপটি নিয়ে দেশজুড়ে উত্তাল বিক্ষোভ চলার মধ্যেই পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান মুসলিমদের নিয়ে ওই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন।
তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবারই বলে আসছেন, “নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কোনও ভারতীয়র চিন্তার কারণ নেই। কয়েকবছর ধরে নিপীড়নের শিকার হওয়া বিদেশি যাদের, ভারত ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়ার উপায় নেই্,এ আইন শুধু তাদের জন্য।’’
মঙ্গলবার মোদী বিরোধীদল কংগ্রেসসহ অন্যান্যদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাহস থাকলে কংগ্রেস ও তার শরিক দলগুলো ঘোষণা দিয়ে বলুক যে, তারা সব পাকিস্তানিকেই ভারতীয় নাগরিক করতে চায়। তারা এ ঘোষণা দিলে দেশ তার জবাব দিয়ে দেবে।” কংগ্রেস মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মোদী।
মোশাররফের পাশে দাঁড়াল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী

মোশাররফের পাশে দাঁড়াল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী

মঙ্গলবার বিশেষ আদালতের দেওয়া এ সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ‘সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর এবং বেদনাদায়ক’ বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন মেজর জেনারেল আসিফ গফুর।
২০০৭ সালের ৩ নভেম্বর অবৈধভাবে সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করায় রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মোশাররফকে তার অনুপস্থিতিতেই এ সাজা দেওয়া হয়।পেশোয়ার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওয়াকার আহমাদ শেঠ নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের বিশেষ আদালত ছয় বছর ধরে ঝুলে থাকা এ মামলার রায় ঘোষণা করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রাওয়ালপিন্ডিতে সামরিক বাহিনীর জেনারেল হেডকোয়ারটারে শীর্ষ সামরিক করমকরতাদের একটি বৈঠক হয়েছে। এ বৈঠকের পরই সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ওই বিবৃতি দেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর।
আদালতের রায়ের বিপক্ষে সামরিক বাহিনীর অবস্থান তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, “একজন সাবেক সেনাপ্রধান, জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ কমিটি চেয়ারম্যান এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, যিনি ৪০ বছর দেশের সেবা করেছেন, দেশকে সুরক্ষা দিতে যুদ্ধে লড়েছেন, তিনি কোনোভাবেই দেশদ্রোহী হতে পারেন না।”
রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “বিশেষ আদালত গঠন, আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার অস্বীকার করা, ব্যক্তিগত সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া এবং তাড়াহুড়ো করে মামলা শেষ করে বিচারের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।”
“ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ন্যায়বিচার করা হবে- পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী এমনটিই আশা করে” বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।
পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম বেসামরিক আদালতে দেশদ্রোহের অভিযোগে কোনো সাবেক সেনাপ্রধানের বিচারের রায় এসেছে।
১৯৯৯ সালে এক সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের পর ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পারভেজ মোশাররফ এখন আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখান থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগকে তিনি ‘ভিত্তিহীন’ বলেছেন।

Sunday, 15 December 2019

বাণিজ্যযুদ্ধে শান্তির আভাস, মার্কিন পণ্যে শুল্ক চাপাচ্ছে না চীন

বাণিজ্যযুদ্ধে শান্তির আভাস, মার্কিন পণ্যে শুল্ক চাপাচ্ছে না চীন


১৫ ডিসেম্বর থেকে ওই পণ্যগুলোর উপর বাড়তি ১০ এবং ৫ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপানোর কথা ছিল চীনের। এ শুল্কই এখন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে চীন।
রোববার চীনের অর্থমন্ত্রণালয় জানায়, “যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর ওই শুল্ক চাপানো হচ্ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি গাড়িসহ গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপরও বাড়তি শুল্ক স্থগিত করা হচ্ছে।”
গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের সরকারি কর্মকর্তারা প্রথম পর্যায়ের একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর পর বাণিজ্যযুদ্ধে শান্তির আভাস মেলে।
চুক্তির আওতায় ট্রাম্প চীনের কয়েকটি পণ্যের ওপর থেকে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।এরপরই পাল্টা পদক্ষেপে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যে শুল্ক স্থগিত করল।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের ঘোষণার মধ্য দিয়ে। এরপর দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলেলও দুপক্ষে সমঝোতা হচ্ছিল না।
তবে গত শুক্রবার ট্রাম্প এক  টুইটে জানান,চীনের সঙ্গে একটি প্রথম পর্যায়ের বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ ডিসেম্বর থেকে এ চুক্তি কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
দু’দেশই চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পরকে একমত হয়েছে এবং চুক্তির আওতায় তারা একে অপরের পণ্যের ওপর শুল্কারোপ এড়িয়ে চলতেও রাজি হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি ভুট্টা ও গম কিনবে।তাছাড়া, চীনে ঢোকা মার্কিন পণ্যগুলোর ওপর শুল্কের বোঝাও ধীরে ধীরে কমাবে। যদিও চুক্তিটিতে এখনো সই করেনি দুই দেশ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন: মাহাথির

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন: মাহাথির

শনিবার কাতারে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এ সুস্পষ্ট অবস্থান নেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
“ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার পুনর্বহালকে মালয়েশিয়া সমর্থন করে না। এ নিষেধাজ্ঞাগুলো স্পষ্টতই জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন। জাতিসংঘই কেবল তার সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে (কারো ওপর) নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে,” বলেছেন ৯৪ বছর বয়সী এ প্রধানমন্ত্রী।
মার্কিন এ নিষেধাজ্ঞার ফলে মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দেশ ‘বড় একটি বাজার হারিয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন মাহাথির।
‘দোহা ফোরাম’ নামের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল-থানিও উপস্থিত ছিলেন।