রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৭ জানুয়ারি

খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৭ জানুয়ারি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা হামলা মামলায় রোববার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) রোববার প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন।
গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রকিবুর রহমান এ তথ্য জানান।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনের জন্য গুলশানে সমবেত হয়। সেখানে সমাবেশ শেষে ২০ থেকে ৩০ হাজার সাধারণ মানুষ তৎকালীন নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঘেরাওয়ের জন্য রওনা হলে আসামিরা হত্যার উদ্দেশে তাদের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে।
পরিবহন শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন বাচ্চু ওই ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ও বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুবুর রহমানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সূত্র : বাসস
আওয়ামী লীগ থেকে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পেলেন যারা

আওয়ামী লীগ থেকে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পেলেন যারা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম আতিকের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে দল। রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একইসাথে দলের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
এ সময় দুই সিটিতে প্রার্থী নির্ধারণে কী কী বিষয় বিবেচনায় নিয়েছে আওয়ামী লীগ জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘যারা জিতে আসতে পারবেন তারাই মনোনয়ন পেয়েছেন। জনপ্রিয় প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জনগণের কাছে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।’
এর আগে শনিবার রাতে গণভবনে বৈঠকে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দুই সিটিতে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে দলটি।
মনোনয়ন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচিত হলে একটি সুন্দর নগরী উপহার দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমাকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই ঢাকা-১০ আসনের মানুষের প্রতি যারা আমাকে আগলে রেখেছেন। আমি ঢাকা দক্ষিণের মানুষের সহযোগিতা চাই। তারা আমাকে সমর্থন দিয়ে আমার প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে একটি সুন্দর নগরী উপহার দেবো।
তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার সব ঐতিহ্য রক্ষা করে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবো। উন্নত রাজধানী গড়ার জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করবো। আগামী ৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ রাজধানী উপহার দেবো। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র মরহুম আনিসুল হক আমার কাজের অনুপ্রেরণা হবেন। আমি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর সহযোগিতা চাই।
মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিশেষ করে মেয়র সাঈদ খোকন আপনার পক্ষে কাজ করবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেন, আমি সবার সহযোগিতা চাই। আমি মনে করি কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে না। সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম আতিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের প্রতি কতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে আধুনিক ঢাকা গড়ে তুলবো। নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়র হিসেবে গত ৯ মাসে আমি অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছি। আমরা জানি চ্যালেঞ্জগুলো কি। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলে একটি সুন্দর ঢাকা উপহার দেবো।
কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পেলেন যারা
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আক্তার উদ্দিন, ২ নম্বরে আলহাজ্ব কদম আলী মাতব্বর, ৩ নম্বরে মোহাম্মদ জিন্নাদ আলী মাতব্বর, ৪ নম্বরে জামাল মোস্তফা, ৫ নম্বরে আব্দুর রব নান্নু, ৬ নম্বরে সালাহউদ্দিন রবিন, ৭ নম্বরে তোফাজ্জল হোসেন, ৮ নম্বরে আবুল কাসেম, ৯ নম্বরে মুজিব সারোয়ার মাসুদ, ১০ নম্বরে আবু তাহের, ১১ নম্বরে দেওয়ান আবুল মান্নান, ১২ নম্বরে মুরাদ হোসেন, ১৩ নম্বরে হারুনুর রশিদ, ১৪ নম্বরে মফিজ উদ্দিন, ১৫ নম্বরে সালেক মান্নান, ১৬ নম্বরে মতিউর রহমান, ১৭ নম্বরে ইসহাক মিয়া, ১৮ নম্বরে জাকির হোসেন, ১৯ নম্বরে মফিজুর রহমান, ২০ নম্বরে জাহিদুর রহমান, ২১ নম্বরে মাসুম গনি, ২২ নম্বরে লিয়াকত আলী, ২৩ নম্বরে সাখাওয়াত হোসেন, ২৪ নম্বরে শফিউল্লাহ, ২৫ নম্বরে আবদুল্লাহ আল মঞ্জু, ২৬ নম্বরে শামিম হোসেন, ২৭ নম্বরে ফরিদুর রহমান খান, ২৮ নম্বরে তুষার হোসেন, ২৯ নুরুল ইসলাম রতন, ৩০ নম্বরে আবুল হাসেম হাসু, ৩১ নম্বরে আলেয়া সারোয়ার ডেইজি, ৩২ নম্বরে সৈয়দ হাসান মাস্টার, ৩৩ নম্বরে আসিফ আল মামুন, ৩৪ নম্বরে শেখ মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, ৩৫ নম্বরে মমতাজ সরদার, ৩৬ নম্বরে তরুণ রেজা খোকন, ৩৭ নম্বরে জাহাঙ্গীর আলম, ৩৮ নম্বরে শেখ সেলিম, ৩৯ নম্বরে শরিফ শফিকুল ইসলাম, ৪০ নম্বরে নজরুল ইসলাম ঢালি, ৪১ নম্বরে আবদুল মতিন, ৪২ নম্বরে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ৪৩ নম্বরে শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া, ৪৪ নম্বরে মোহাম্মদ শফিকুল শফি, ৪৫ নম্বরে জয়নাল আবেদিন, ৪৬ নম্বরে সাইদুর রহমান সরকার, ৪৭ নম্বরে মোতালেব মিয়া, ৪৮ নম্বরে ইমতিয়াজ মাসুদুজ্জামান, ৪৯ শফিউদ্দিন মোল্লা, ৫০ নম্বরে বি এম শামিম, ৫১ নম্বরে শফিকুর রহমান, ৫২ নম্বরে ফরিদ আহমেদ, ৫৩ নম্বরে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও ৫৪ নম্বরে জাহাঙ্গীর হোসেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বরে মাহবুবুল আলম, ২ নম্বরে আনিসুর রহমান, ৩ নম্বরে মাকসুদ হোসেন, ৪ নম্বরে জাহাঙ্গীর হোসেন, ৫ নম্বরে আশরাফুজ্জামান তাজ, ৬ নম্বরে সিরাজুল ইসলাম বাপ্পি, ৭ নম্বরে আব্দুল বাসিত খান, ৮ নম্বরে ইসমাইল, ৯ নম্বরে মোজাম্মেল হক, ১০ নম্বরে মারুফ আহমেদ মনসুর, ১১ নম্বরে হামিদুল হক সাথি, ১২ নম্বরে মামুনুর রশিদ শুভ্র, ১৩ নম্বরে এনামুল হক, ১৪ নম্বরে ইলিয়াসুর রহমান, ১৫ নম্বরে রফিকুল ইসলাম বাবলা, ১৬ নম্বরে নজরুল ইসলাম, ১৭ নম্বরে মাহবুবুর রহমান, ১৮ নম্বরে ফেরদৌস আলম, ১৯ নম্বরে আবুল বাশার, ২০ নম্বরে শরিফ উদ্দিন রতন, ২১ নম্বরে আসাদুজ্জামান, ২২ নম্বরে জিন্নাত আলী, ২৩ নম্বরে মকবুল হোসেন, ২৪ নম্বরে মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ, ২৫ নম্বরে আনোয়ার ইকবাল, ২৬ নম্বরে হাসিবুর রহমান মানিক, ২৭ নম্বরে ওমর বিন আব্দুল আজিজ, ২৮ নম্বরে মোহাম্মদ সালেহী, ২৯ নম্বরে জাহাঙ্গীর আলম বাবুল, ৩০ নম্বরে মোহাম্মদ হাসান, ৩১ নম্বরে শেখ মোহাম্মদ আলমগীর, ৩২ নম্বরে আব্দুল মান্নান, ৩৩ নম্বরে ইলিয়াস রশিদ, ৩৪ নম্বরে মীর সমির, ৩৫ নম্বরে আবু সাইদ, ৩৬ নম্বরে রঞ্জন বিশ্বাস, ৩৭ নম্বরে আব্দুর রহমান নিয়াজী, ৩৮ নম্বরে আহম্মেদ ইমতিয়াজ মান্নাফি, ৩৯ নম্বরে রোকন উদ্দিন আহম্মেদ, ৪০ নম্বরে আবুল কালাম আজাদ, ৪১ নম্বরে সারোয়ার হাসান আলো, ৪২ নম্বরে মোহাম্মদ সেলিম, ৪৩ নম্বরে আলিফ হোসেন, ৪৪ নম্বরে নিজাম উদ্দিন, ৪৫ নম্বরে হেলেনা আক্তার, ৪৬ নম্বরে শহিদুল্লাহ, ৪৭ নম্বরে নাসির আহমেদ ভূঁইয়া, ৪৮ নম্বরে মোহাম্মদ আবুল কালাম, ৪৯ নম্বরে আবুল কালাম আজাদ, ৫০ নম্বরে মাসুম মোল্লা, ৫১ নম্বরে কাজী আরিফুর রহমান, ৫২ নম্বরে মোহাম্মদ নাসিম মিয়া, ৫৩ নম্বরে নূর হোসেন, ৫৪ নম্বরে মোহাম্মদ মাসুদ, ৫৫ নম্বরে নূরে আলম, ৫৬ নম্বরে মোহাম্মদ হোসেন, ৫৭ নম্বরে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ৫৮ নম্বরে শফিকুর রহমান, ৫৯ নম্বরে আকাশ কুমার ভৌমিক, ৬০ নম্বরে লুতফুর রহমান রতন, ৬১ নম্বরে শাহে আলম, ৬২ নম্বরে মুস্তাক আহমেদ, ৬৩ নম্বরে শফিউল ইসলাম খান, ৬৪ নম্বরে মাসুদূর রহমান মোল্লা, ৬৫ নম্বরে শামসুদ্দিন ভূঁইয়া, ৬৬ নম্বরে আরিফ তালুকদার, ৬৭ নম্বরে ফিরোজ আলম, ৬৮ নম্বরে মাহমুদুল হাসান, ৬৯ নম্বরে হাবিবুর রহমান হাসু, ৭০ নম্বরে আতিকুর রহমান, ৭১ নম্বরে খায়েরুজ্জামান, ৭২ নম্বরে শফিউল ইসলাম শামিম, ৭৩ নম্বরে শফিকুল ইসলাম, ৭৪ নম্বরে মোহাম্মদ ফজর আলী এবং ৭৫ নম্বরে সৈয়দ মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন।
বিচারকদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি আশা নিরর্থক : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

বিচারকদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি আশা নিরর্থক : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, যে দিন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিন এই বিচারকদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে বেগম খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্টটা ঠিক মত পড়েছেন কিনা।
বিচারকদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করা নিরর্থক বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট যেটা দেয়া হয়েছে সেখানে কোনো সাইকোলজিস্ট, একজন ফিজিওথেরাপি ছিলনা। সুতরাং এটা যে হুকুম নামার রিপোর্ট এটা বোঝার মত ৭ বিচারপতির আছে।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা আ স ম আবদুর রব, ড.আবদুল মঈন খান, মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী , অধ্যাপক আবু সাইয়িদ চৌধুরী, বিএনপির আব্দুস সালাম, হাবীবুর রহমান হাবীব, তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের শহিদ উল্লাহ কায়সার, গনফোরামের এডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোস্তাক আহমেদ, শাহ আহমেদ বাদল, গণ দলের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা চৌধুরী, বিএনপির কাজী বাসার,জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো জাতি যখন বিপদে পড়ে তখন বিচারকরা ঘুমিয়ে পড়ে। গত বছর নির্বাচনের উপরে এতগুলো মামলা হয়েছে একটা দিনও হেয়ারিং হয় নাই। এই বিচারকরা জনসাধারণের কাছে কি জবাব দেবেন? তাই এই বিচারকদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তির আলোচনা করা নিরর্থক। খালেদা জিয়ার মুক্তি হতে পারে একমাত্র জনগণের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, গত বছর ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট ডাকাতির পর থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে এক এক করে পত্যেক সম্পত্তিতে রুপান্তরিত করা। সোরওয়ারদী উদ্যানে সরকারি দল এবং তার দোসর দল সমাবেশ, সম্মেলন করতে পারবে কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি ও অন্যান্য দল করতে পারবে না। এটা কি তাদের বাবার সম্পত্তি পেয়েছে?
তি‌নি আরও ব‌লেন, যখন জাতি ঘুমিয়ে পড়ে তখন দু‌র্যোগ দেশের দিকে এগিয়ে আছে। তাই আজকে সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে রাজপথে নেমে এই দুর্যোগ থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। তাহলে অন্যায়ের পতন হবে এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

হামলায় আহত নুরদের বিরুদ্ধেই মারধর ও ছিনতাইয়ের মামলা

হামলায় আহত নুরদের বিরুদ্ধেই মারধর ও ছিনতাইয়ের মামলা

হামলায় আহত নুরদের বিরুদ্ধেই মারধর ও ছিনতাইয়ের মামলা

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের হামলায় আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে উল্টো মারধর ও ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহবাগ থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন ডিএম সাব্বির নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘ভিপি নুরুল হক নুরসহ ২৯ জন ছাড়াও এ মামলায় অজ্ঞাত আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।’
মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিপি নুরসহ আসামিরা ২২ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় লাঠি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলামসহ আটজন গুরুতর জখম হন। এ সময় তাদের মানিব্যাগ, মোবাইল ও হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেন আসামিরা। হামলার সময় ১৫ থেকে ২০ জন লাঠি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার দুপুরে ডাকসু ভবনে নিজ কক্ষে ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর পর গায়েব হয়ে গেছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ। কারা এই ফুটেজ নিয়ে গেছে প্রশাসনসহ কেউই বলতে পারছে না। হামলার সাথে ছাত্রলীগ এবং মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ ভিপি নুরের। তবে প্রথম দিন থেকেই ছাত্রলীগ হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। এ ঘটনার সাথে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
এ হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ ও ডাকসুর ৩৭ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে ভিপি নুরুল মামলা করেছেন। ভিপি নুরুলের পক্ষে গত মঙ্গলবার শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন।

বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

ডাকসু ভিপি নূরকে নিয়ে আওয়ামী লীগের 'অস্বস্তি' কোথায়?

ডাকসু ভিপি নূরকে নিয়ে আওয়ামী লীগের 'অস্বস্তি' কোথায়?

ডাকসু ভিপি নূরকে নিয়ে আওয়ামী লীগের 'অস্বস্তি' কোথায়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রলীগের প্রার্থীকে হারিয়ে নুরুল হক নূর যখন ভিপি নির্বাচিত হন, তখন গণভবনে ডাকসুর সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সে অনুষ্ঠানে নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক 'ছোটখাটো' নেতা দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন নুরুল হক নূর। সে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাবও ছিল বেশ ইতিবাচক।
কিন্তু এরপর থেকেই ভিন্ন আরেক পরিস্থিতির তৈরি হতে থাকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক হামলার শিকার হন নুরুল হক নূর।
প্রতিটি হামালার ক্ষেত্রেই অভিযোগ আসে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। যদিও সংগঠনের তরফ থেকে বারবার সেটি অস্বীকার করা হয়েছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের দ্বারা যে ব্যক্তিটি সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছেন তিনি হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নূর।
এসব হামলার কোন বিচার হয়নি, এমনকি পুলিশ কোন অভিযোগ গ্রহণ করতেও রাজী হয়নি।
কিন্তু এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ব্যতিক্রম।
গত ২২শে ডিসেম্বর ডাকসু ভবনের ভেতরে মি: নূর এবং তার অনুসারীদের উপর হামলার পর বিভিন্ন মহল থেকে তার প্রতি সহানুভূতি এবং হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।
তার পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মি: নূরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন।
এমন অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা মি: নূরের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন এবং পুলিশ একটি মামলাও দায়ের করেছে।

ভিপি নূর ও ক্ষমতাসীনদের অস্বস্তি

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পর থেকে আন্দোলনের মুখে সরকারের কাছ থেকে কোন দাবি আদায় করার নজির নেই।
বিরোধী দলগুলোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এবং মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে আন্দোলন বেশ ভালো ভাবেই সামাল দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা।
সে হিসেবে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ব্যতিক্রম। কোটা ব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তুমুল আন্দোলন গড়ে ওঠে।
এক পর্যায়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সরকার সে দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ক্ষমতাসীনরা ভালোভাবে মেনে নেয়নি।
মি: আহমেদ মনে করেন, মি: নূরকে নিয়ে ক্ষমতাসীনদের আরেকটি অস্বস্তির জায়গা হচ্ছে ডাকসু নির্বাচনে তার কাছে ছাত্রলীগ প্রার্থীর পরাজয়।

ছাত্রলীগের একাধিপত্যের প্রতি 'চ্যালেঞ্জ' নূর

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কার্যত কোন বিরোধী ছাত্র সংগঠন নেই।
অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কার্যত নিষ্ক্রিয় কিংবা অনেকের ভাষায় 'অস্তিত্বহীন।'
এমন প্রেক্ষাপটে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রতি নুরুল হক নূর কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলন সফল হবার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে 'গেস্ট-রুম' 'গণ-রুম' এবং ছাত্রলীগ নেতাদের সালাম দিয়ে চলার যে সংস্কৃতি ছিল সেটি অনেকটা কমে এসেছে।
"বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ভয়ের পরিবেশ ছিল, সেটি অনেকটা কমে আসছে।
ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন মনে করছে যে এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। এ কারণে তারা নূরকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে চায়," - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন একথা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কর্তৃত্ব না থাকে তাহলে সেটি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছড়িয়ে যেতে পারে - এমন আশংকা থেকেই মি: নূরকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের এক ধরণের অস্বস্তি কাজ করে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থীটি বলছিলেন।

ভিপি নূর ও বিরোধীদের তৎপরতা

বাংলাদেশে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা যখন রাজনীতির মাঠে গরহাজির - তখন নুরুল হক নূর ক্রমাগত হামলার শিকার হয়েও জায়গা ছেড়ে দেননি।
উল্টো তিনি ছাত্রলীগের সমালোচনায় মুখর। এ বিষয়টি তার জন্য একটি ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
মি: নূরের উপর হামলার পর যারা প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন তাদের মধ্যে সরকার বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও রয়েছে।
মি: নূরকে যারা সমর্থন করছেন, তাদের অনেকেই তাকে 'সরকারবিরোধী মতের প্রতীক' হিসেবে বর্ণনা করছেন।
রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, "যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে কেউ তেমন সক্রিয় হতে পারছে না, বা সক্রিয় হবার মতো সক্ষমতা তাদের নেই, এখন নূরকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ বিরোধিতা দানা বাঁধছে।"

আওয়ামী লীগ কী বলছে?

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা মি: নূরকে রাজনৈতিকভাবে তেমন একটা গুরুত্ব দিতে চাইছেন না।
তাদের ভাষায় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সামনে ভিপি নূর কোন দূরতম কোন প্রতিপক্ষও নয়।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবুল আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, " এটা একবারেই হাস্যকর ছাড়া আর কিছু নয়। আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। আওয়ামী লীগ অনেক বড়-বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে।"
"সেই আওয়ামী লীগ কোন একটা ছাত্র নেতার জন্য অস্বস্তি বোধ করবে, এই ধরণের যারা চিন্তা করে তাদের প্রতি করুণা ছাড়া করার আর কিছু থাকেনা" - বলেন তিনি।

মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে নুরের অভিযোগ

ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে নুরের অভিযোগ

হামলার জন্য ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৭ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ডাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক আখতার হোসেন শাহবাগ থানায় এই অভিযোগ নিয়ে যান।
তিনি মামলা করতে চাইলেও একই ঘটনায় ইতোমধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করায় ওই মামলার সঙ্গেই নূরের অভিযোগের তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি আবুল হাসান।
গত রোববার ডাকসু ভবনে নিজের কক্ষে হামলার শিকার হন ভিপি নূর ও তার সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একদল নেতা-কর্মী।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালায়। তবে ছাত্রলীগ এই ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকেই দুষছে।
হামলায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন নূরের পক্ষে মামলা করতে মঙ্গলবার থানায় যান পরিষদ থেকে ডাকসুতে নির্বাচিত সমাজ সেবা সম্পাদক আখতার। অভিযোগে বলা হয়, ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের নেতৃত্বে সেদিন হামলা হয়েছিল।
হামলায় আহত নুরুল হক নূর। নূর বলছেন, ওই দিন বেলা ১২টার দিকে হঠাৎ করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ অতির্কিতে ডাকসু ভবনে ঢুকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের উপর প্রথম দফা হামলা চালায়। তখন তারা ডাকসুর কর্মচারীদের সহায়তায় ভবনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
‘কিছুক্ষণ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ দাস এবং সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মূল ফটকের তালা খুলে হত্যার উদ্দ্যেশে হামলা চালায়।’
হামলাকারীরা কক্ষের বাতি নিভিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ হামলা চালিয়েছিল বলে নূরের অভিযোগে বলা হয়।
হামলায় আহতদের মধ্যে ২৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। এখন নূরসহ পাঁচজন ভর্তি রয়েছেন।
সনজিত-সাদ্দাম ছাড়া আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি এ এস এস আল সনেট, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তুর্য, সূর্যসেন হল সংসদের ভিপি মারিয়াম জামান খান, ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ তানিন, এফ রহমান হলের ভিপি আব্দুর আলীম খান, বিজয় একাত্তর হলের এজিএস আবু ইউনুস, ডাকসু সদস্য রাকিবুল হাসান ঐতিহ্য, মাহমুদুল হাসান, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি রবিউল হোসেন রানা, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ সম্পাদক নিয়ামত উল্লাহ তপন, জিয়া হল সংসদের জিএস হাসিবুল হাসান শান্ত, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক সিফাতুজ্জামান খান, মহসীন হল ছাত্র সংসদের জিএস মিজানুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস আলম, এফ রহমান হলের জিএস আব্দুর রহিম সরকার, এফ রহমান হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক তানজিল ইমরান তালাপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু, জিয়া হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বিন সাত্তার, ইবনুল হাসান উজ্জল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ স্কুল বিষয়ক সম্পাদক খাজা খায়ের সুজন, এস এম হল ছাত্রলীগের নেতা খান মিলন হোসেন নিরব, কবি জসিমউদ্দীন হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গণশিক্ষা সম্পাদক হৃদয় হাসান সোহাগ, চারুকলা ছাত্রলীগের উজ্জল, আরিফুল ইসলাম, মুক্তযুদ্ধ মঞ্চের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা রিপা, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের (জামাল গ্রুপ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম মাহবুব, মেহেদী হাসান নিবিড়, বঙ্গবন্ধু হল ছাত্র সংসদের জিএস মেহেদী হাসান শান্ত, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি জীবন রায়।
হামলায় ছাত্রলীগের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাদ্দাম সেদিন সাংবাদিকদের বলেন, ওই ঘটনা ছিল মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সংঘর্ষ। ওই দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে তারা তা থামাতে গিয়েছিলেন।
ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী এক ফেইসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, সেদিন ছাত্রলীগ নেতারা নূরকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন।
নূরের সহকর্মী ডাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক আখতার বলেন, নূর অসুস্থ থাকায় তিনি অভিযোগ নিয়ে থানায় দিয়েছেন।
এদিকে নূর মামলা করার আগেই সোমবার মধ্যরাতে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রইচ হোসেনের করা ওই মামলায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নূরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।
ওই মামলার আসামিরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এএসএম আল সনেট, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত তূর্য, এফ রহমান হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমরান সরকার, কবি জসীম উদ্দীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াদ আল রিয়াদ, কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব হাসান নিলয় এবং জিয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মাহিম।
এই আটজনের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ৩৫ জনকে মামলার এজাহারে আসামি করা হয় বলে জানান ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান।
আল মামুন ও তূর্যকে সোমবার দুপুরে শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯

আ’লীগই দেশের মানুষকে কিছু দিতে পেরেছে : প্রধানমন্ত্রী

আ’লীগই দেশের মানুষকে কিছু দিতে পেরেছে : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগই এদেশের মানুষকে কিছু দিতে পেরেছে। এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আজ শুক্রবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দু’দিনব্যাপী ২১তম ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে কাউন্সিল অধিবেশনে নেতা নির্বাচনের মধ্যদিয়ে এই সম্মেলন শেষ হবে।
এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি সকল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি জাতীয় পতাকা এবং সাধারণ সম্পাদক দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। উদ্বোধনের পরপরই অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শোক প্রস্তাবের মধ্যদিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়।
শোক প্রস্তাব পাঠ করেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। পরে সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
এবারের জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের স্লোগান হচ্ছে, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ, এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ’।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগই এদেশের মানুষকে কিছু দিতে পেরেছে। আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবো, এটাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৯ আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। এই এক দশকেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ ভাগে নামিয়ে এনেছি। জাতির পিতা যে স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন, আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। এটা ধরে রাখতে হবে। আমাদের লক্ষ্য সামনে আরও এগিয়ে যাওয়া।
এর আগে সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ নাসিম আগত অথিতিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে আগামীকাল প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কাউন্সিলর অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন আগামীকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন কার্যনির্বাহী সংসদ নির্বাচন করা হবে।
এসময় কমিটি নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন নির্বাচন কমিশন। দলের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসূফ হোসেন হুমায়ুনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য ড. মসিউর রহমান ও সাইদুর রহমানকে নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সারাদেশ থেকে আগত নেতাকর্মীদের আগমনে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শুধু তাই নয় সম্মেলন স্থলের বাইরেও নেতা-কর্মী এবং সমর্থকসহ সর্বস্তরের মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন নিদর্শন নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজির হয়েছে আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)।
স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগের দীর্ঘ পথ চলার বিভিন্ন ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ১০টি স্থাপনা প্রদর্শন করছে তারা। যা সম্মেলনের জৌলুস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের ২১তম সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকেই সারাদেশের নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। মিছিলে মিছিলে মুখর হয়ে উঠতে থাকে উদ্যান প্রাঙ্গণ। বর্ণিল ব্যানার আর ফেস্টুনের সঙ্গে সঙ্গে সম্মেলনে যোগ দিতে আসা অনেকের হাতেই ছিল দলের প্রতীক, দলীয় নেতাকর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক নৌকা। বাহারি আকৃতি, নকশার সাথে সুসজ্জিত সব নৌকা তাদের হাতে।
সম্মেলন ঘিরে যেন মিছিল-স্লোগানে সাজ সাজ রব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ৫০ হাজার নেতাকর্মীর এই বিশাল জমায়েত ঘিরে সতর্ক ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে ছয়টি নৌকা। উদ্যানের গাছে গাছে লাগানো হয় মরিচবাতি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড লাগানো হয়। মৎস্যভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে লাগানো হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। পাশাপাশি লাগানো হয় আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্রসংবলিত ফেস্টুন।
মঞ্চ ও সাজসজ্জা :
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে ১০২ ফুট দীর্ঘ, ৪০ ফুট প্রসস্ত মঞ্চ তৈরি করা হয়। আশপাশের এলাকাসহ মূল মঞ্চটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়, দেখে মনে হয়েছে, যেন পদ্মা নদীর বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে বিশাল এক নৌকা। সেই নৌকার চারপাশজুড়ে থাকছে প্রদত্ত পদ্মার বিশাল জলরাশি। এর মধ্যে ছিল স্বপ্নের পদ্মা সেতু।
এছাড়া পদ্মার জলতরঙ্গ, পদ্মার বুকে ঘুরে বেড়ানো ছোট ছোট নৌকা, এমনকি চরের মধ্যে কাশবনের উপস্থিতিও ছিল। এর পেছনে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ছবি। নৌকার পেছনের দিকে জাতীয় চার নেতাসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে বিভিন্ন সময়ে অবদান রাখা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছবিও লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া সম্মেলনস্থলে সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের ফেস্টুন ও উন্নয়নের ছবি টানানো হয়।
সম্মেলনস্থলে নেতাকর্মীদের প্রবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাঁচটি গেট ছিল। একটি গেট ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। ৮১ সদস্যের মধ্যে চারটি পদ শূন্য থাকায় মূল মঞ্চে চেয়ার ছিল ৭৭টি। মঞ্চের সামনে নেতাকর্মীদের জন্য চেয়ার রাখা হয় ৩০ হাজার। এছাড়া সম্প্রসারিত মঞ্চে ১৫ হাজার চেয়ার দেয়া হয়। ২৮টি এলইডি পর্দায় দেখানো হয় সম্মেলনের পুরো অনুষ্ঠান।
অভ্যর্থনা :
সম্মেলনে ইউএসএ, ইউকে, জাপান, ভারত, জার্মানী, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, চায়না, ইইউ, ভিয়েতনাম, ইরাক, প্যালেস্টাইন, থাইল্যান্ডসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ অন্যসব পেশার বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলন উপলক্ষে ১০০ চিকিৎসক নিয়ে ১২টি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র প্রস্তুত করেছিল স্বাস্থ্য উপকমিটি। দুপুরে ৫০ হাজার নেতাকর্মীকে খাবার দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক উপকমিটির পক্ষ থেকে সম্মেলন স্থানে কূটনীতিকদের জন্য বিশেষ স্টল স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে জন্ম আওয়ামী লীগের। এখন ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বয়স ৭০ বছর। এ পর্যন্ত দলটির ২০টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সূত্র : বাসস
আ’লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না : ডা. ইরান

আ’লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না : ডা. ইরান

আ’লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না 

২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দাবী করলেও বাস্তবে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম প্রকাশ প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধে অবদান নেই। অবিভক্ত পাকিস্তান রক্ষায় তাদের অবদান ছিল।
শুক্রবার দুপুরে একুশে মিলনায়তনে বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধ-শহীদ জিয়া ও আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির একথা বলেন।
ঢাকা উত্তর লেবার পার্টির সাধারন সম্পাদক মো: আরিফ সরকারের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লায়ন ফারুক রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রাজু, ঢাকা দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় আর্ন্তজাতিক সম্পাদক খোন্দকার মিরাজুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম সাদী, যুবমিশনের যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ জুয়েল ও ছাত্রমিশন প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান রিফাত প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধের ৪৮ বছর পরে রাজাকার তালিকা প্রকাশ করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. ইরান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকা জনগনকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও বিপক্ষের শক্তি চিহিৃত করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ যাদের কথায় কথায় রাজাকার বলেছে। ট্রাইবুনাল গঠন করে ফাসিঁ দিয়েছে তাদের নাম নেই। মানে যাদের ফাঁসি দিয়েছেন তারা রাজাকার নয়। আপনার নোংরা প্রতিহিংসার রাজনীতির স্বীকার।
তিনি বলেন, রাজাকারের তালিকায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের প্রধান কৌশলী গোলাম আরিফ টিপুর ন্যুনতম মনুষত্ববোধ থাকলে সাথে সাথে পদত্যাগ করতো। টিপুর নাম রাজাকারের তালিকায় প্রকাশের পরে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল ও সকল বিচার আবারো প্রশ্নবিদ্ধ হলো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

‘এনআরসি’ বিল কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র তৈরির ঘৃণ্য প্রয়াস : আহমদ শফী

‘এনআরসি’ বিল কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র তৈরির ঘৃণ্য প্রয়াস : আহমদ শফী

 আহমদ শফী
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, ভারত সরকার নাগরিকত্ব দেয়ারা নামে যে আইন পাশ করেছে তা মূলত মুসলমানদের একঘরে করে ভারতকে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র করার ঘৃণ্য প্রয়াস চালাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে অমুসলিম সংখ্যালঘুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে বলে দাবী করে ভারত পার্শ্ববর্তী তিনটি দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন, এসব অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেবে আর মুসলমানদের বিতাড়িত করবে।
বৃহস্পতিবার ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর,  এসবকথা বলেন।
বিবৃতিতে আল্লামা আহমদ শফী বলেন, মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলমানদের উপর যেভাবে জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে তা পরিস্কার রাষ্ট্রীয় নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে মুসলমানদের পাশাপাশি যেভাবে সাধারণ জনগণ ফুঁসে উঠেছে তা বিজেপি সরকারের প্রতি চরম অনাস্থা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
ভারতের মুসলমান ধৈর্যশীল, তবে একথা ভুলে গেলে চলবে না, মুসলমান ধৈর্যশীল তবে ভীরু নয়। মুসলমানগণ প্রতিরোধ গড়ে তুললে মোদির মসনদ তছনছ হয়ে যাবে।
হেফাজতের  প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানীর পাঠানো এ প্রেস বিবৃতিতে হেফাজত আমীর আরো বলেন, ভারতের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদানে মুসলমানদের নাম মিশে আছে। ভারতের ঐতিআহাসিক প্রায় স্থাপত্য মুসলমানদের তৈরি। চাইলেই এসব মুছে দেয়া যায় না। ভারতীয় মুসলমানদের কাছে পুরো বিশ্ব ঋণী।  বিজেপিসহ কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক যে নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছে তা করে ভারতকে মুসলিমশূন্য করা যাবে না। বরং এসব নির্যাতন নিপীড়ন মোদি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর পতন ডেকে আনবে।
 আল্লামা আহমদ শফী আরো বলেন, কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে ভারতীয় মুসলমানগণ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে। ভারতকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সাম্প্রদায়িক সহবস্থানের দেশ দাবী করলেও শুধু মুসলিম হবার অপরাধে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। কাশ্মিরের মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে, মা বোন ধর্ষণ করা হচ্ছে। মোদি সরকারের একথা জেনে রাখা উচিসৎ, জুলুম-নির্যাতন করে মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করা যাবে না।
আমীরে হেফাজত আরোর বলেন, ইসলাম সবসময় মানবাধিকারের কথা বলে। শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার কথা বলে। অমুসলিম সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দানের কথা বলে। আর বাংলাদেশি মুসলমানগণ বারবার তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে। মানবপ্রাচীর তৈরি করে মন্দির পাহারা দেয়ার নজীর আমরা দেখিয়েছি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে বসবাস করছে। অথচ ভারতে এর উল্টো  চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় সবসময় সংখ্যাগরিষ্ট হিন্দু সম্প্রদায় কর্তৃক নির্যাতিত নিপীড়িত হচ্ছে। ভারতের উচিৎ হবে নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা
বাংলাদেশীরা ভারত যাবেন কোন দুঃখে!

বাংলাদেশীরা ভারত যাবেন কোন দুঃখে!


আজ থেকে সিকি শতাব্দী অর্থাৎ পঁচিশ বছর আগে প্রথমবারের মতো আগরতলা গিয়েছিলাম। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা সম্পর্কে আমার আগ্রহ ছিল সেই ছেলেবেলা থেকেই। কারণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ববর্তী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং মুক্তিকালীন সময়ে আগরতলাবাসীর ভূমিকার কারণে স্থানটি সম্পর্কে আমার একধরনের মিশ্রঅনুভূতি ছিল। ফলে যখন জানতে পারলাম, আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং আমাকে সেখানে বেড়াতে যাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তখন কালবিলম্ব না করে সেখানে বেড়াতে গেলাম। বাংলাদেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে একদিন গভীর রাতে আগরতলা শহরে গিয়ে পৌঁছলাম। বাংলাদেশ মিশনের ভিআইপি গাড়ি আমাদের সীমান্ত থেকে নির্দিষ্ট হোটেলে নিয়ে গেল। সেখানে বন্ধু সস্ত্রীক আমাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
আমার জীবনের দ্বিতীয় ভারত ভ্রমণ ছিল কলকাতা হয়ে দিল্লি-আগ্রা-জয়পুর-আজমিরসহ অন্যান্য এলাকা। প্রায় কুড়ি বছর আগে ঢাকা থেকে বিমানে কলকাতা নগরীতে গিয়ে ভারত সম্পর্কে আমার দ্বিতীয়বার মোহভঙ্গ হয়েছিল। পরে যতবার ভারত ভ্রমণে গেছি ততবারই নিজেকে বারবার প্রশ্ন করেছি- কেন এলাম! এখানে না এলে কি আমার একেবারে বয়ে যেত, নাকি আহামরি কোনো ক্ষতি হয়ে যেত। বাংলাদেশের পাসপোর্ট এবং বাংলাদেশী নাগরিকদের নিয়ে ভারতীয় কাস্টম ও ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং বাহারি নাজেহালের হালনাগাদ চিত্র বোঝার জন্য সংসদ সদস্যের লাল পাসপোর্ট নিয়ে দুইবার ভারত ভ্রমণ করেছি। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাইনি। ভারত সরকারের কর্তাব্যক্তিরা ছাড়াও সে দেশের হোটেল-মোটেল, বিমান কর্মচারী এবং সড়ক ও রেলপথের ড্রাইভার-হেলপার ও কন্ডাকটররা পর্যন্ত বাংলাদেশীদের সম্পর্কে অত্যন্ত বাজে ধারণা পোষণ করে। আমরা যখন সেই ২০-২৫ বছর আগে ভারতের পাঁচ তারকা হোটেল, বিমানের বিজনেস ক্লাস অথবা রেলওয়ের প্রথম শ্রেণীতে মালসামান নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম, তখন সেখানকার লোকজন মনে করেছিল- বাঙালেরা হয়তো ভুল করে ভুল স্থানে এসেছে। পরে যখন তারা বুঝতে পারল আমরা ভুল করিনি, তখন ভারী আশ্চর্য হয়ে অদ্ভুত সব অপমানজনক প্রশ্ন করে আমাদের ভারত ভ্রমণের ফন্দি-মন্দি তালাশ করতে শুরু করল।
ভারত ভ্রমণের সময় আমরা যেখানেই গেছি, সেখানেই বাংলাদেশী পরিচয়টা আমাদের জন্য সম্মানজনক বলে মনে হয়নি। কলকাতার লোকজনের কৃপণতা এবং হীনম্মন্যতা আমাকে নিদারুণ ব্যথিত করেছে। অন্যান্য অঞ্চলের লোকজনের অহঙ্কার এবং বাংলাদেশ নাম শোনার পর আমাদের দরিদ্র-অসহায় এবং ভারতের করুণাপ্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করার যে অভিব্যক্তি তারা কথাবার্তা এবং অঙ্গভঙ্গিতে ফুটিয়ে তুলত, তা দেখে আমাদের শরীর ঘেন্নায় রিরি করে উঠত। ব্যবসায়িক জীবনে আমি ভারতীয়দের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করতে গিয়ে দেখেছি, তারা প্রায় সবাই এক ধরনের কর্তৃত্ব নিয়ে আমাদের সাথে লেনদেন করার চেষ্টা করে এবং ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসকে তারা এতটাই ক্ষমতাশালী মনে করে যে, তাদের ধারণা তারা দূতাবাসের মাধ্যমে অনেক অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম। বছর চারেক আগে ভারত থেকে এক ক্লায়েন্ট পাথর আমদানির জন্য আমাদের কাছ থেকে একটি জাহাজ ভাড়া নেয়, যা আমরা আমাদের ভারতীয় এজেন্টের মাধ্যমে হংকং থেকে সংগ্রহ করি। সেই জাহাজের ভাড়া নিয়ে আমি যে দুর্ভোগ দুর্দশার মধ্যে পড়ি, যা আমার দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে কল্পনাও করতে পারিনি কোনো দিন।
আমার ক্ষুদ্র জীবনে ভারত সম্পর্কে বিরূপ অভিজ্ঞতার পাঁচালী মনে হওয়ার কারণ হলো ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ অন্যান্য কট্টরপন্থী বিজেপি নেতার বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের বর্তমান শাসকদলের সাম্রাজ্যবাদী আচরণ। ভারতীয় পার্লামেন্টে সাম্প্রতিক কালে পাস হওয়া নাগরিকত্ব বিল, ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশী আখ্যা দিয়ে সীমান্তে পুশইন করার চেষ্টা এবং প্রায় ত্রিশ লাখ বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিককে দেশ ছাড়া করার হুমকি ধামকির কারণে সৃষ্ট সমস্যার জন্য সারা ভারত যেভাবে উত্তাল হয়ে পড়েছে এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে ফাটল শুরু হয়েছে তা শেষ অবধি কোন পরিণতিতে গিয়ে ঠেকে তা ভেবে শঙ্কিত না হয়ে পারছি না।
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতারা দশমুখে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন, বাংলাদেশের কারণে ভারতীয় অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমাজব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছে। তারা দাবি করছে, প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী নাগরিক নাকি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছে এবং প্রতিদিনই অগণিত বাংলাদেশী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারত চলে যাচ্ছে অভাবের তাড়নায়। তারা আরো প্রচার চালাচ্ছে, বাংলাদেশের পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা হিন্দুদের জন্য ক্রমেই বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ দেশে হিন্দু নির্যাতনের হার নাকি পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি। এ কারণে তারা তাদের নতুন নাগরিকত্ব বিলে বাংলাদেশী হিন্দুদের ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভের প্রক্রিয়াটি সহজলভ্য করার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে, যা গত ১২ বছর ধরে চলা ভারত-বাংলাদেশ ঢলাঢলি বা দহরম-মহরমের সাথে একেবারেই বেমানান।
ভারত অত্যন্ত সুকৌশলে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে তাদের বিশ্বস্ত দালাল বা তাঁবেদার সৃষ্টি করে ফেলেছে। এসব তাঁবেদার ভাত খায় বাংলাদেশে কিন্তু কুলি ফেলে ভারতে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন কৌশলগত এবং স্পর্শকাতর স্থানে দালালদের অবাধ যাতায়াত এবং সেসব স্থানে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থরক্ষাসহ দেশের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্টকারী বিষবাষ্প ছড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে পরস্পরবিরোধী ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রবল হয়ে উঠেছে। এসব বিপরীতমুখী ক্ষোভ-বিক্ষোভের কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ভারত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বমহলে এই ধারণা বিদ্যমান যে, গত ১২ বছরে এই দেশের সংখ্যালঘুরা যে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা-আনুকূল্য এবং সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে তা তাদের পক্ষে হিন্দুস্তানে পাওয়া অকল্পনীয় ও অসম্ভব ছিল। সরকারি পদ-পদবি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি থেকে শুরু করে গ্রাম্য মাতব্বরিতেও সংখ্যালঘুদের আধিপত্য এ দেশের সর্বত্র দৃশ্যমান। তাদের তাপে ও চাপে দেশের নব্বই শতাংশ সংখ্যাগুরু লোকজন দিবানিশি থরথর করে কাঁপে।
সংখ্যালঘুদের উল্লিখিত জমিদারি তথা সামন্ততান্ত্রিক জৌলুশের কারণে বঞ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতরা রীতিমতো হতাশ। কিন্তু তারা বিভন্ন প্রভাবশালী দেশী-বিদেশী চক্রের ভয়ে টুঁ শব্দ উচ্চারণ করতে পারছে না। অন্য দিকে, সাম্রাজ্যবাদী ভারত তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দশমুখে প্রচার চালাচ্ছে যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে অহরহ। বাংলাদেশে মৌলবাদ বেড়ে যাচ্ছে- র‌্যাডিক্যাল ইসলামপন্থীরা ক্রমেই শক্তি অর্জন করছে এবং তালেবান বা আইএসের মতো সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে, যা কিনা ভারত রাষ্ট্রের জন্য বিরাট এক হুমকি। সুতরাং ভারত যেকোনো মূল্যে অর্থাৎ দরকার পড়লে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে হলেও বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ নির্মূলে ব্যবস্থা নেবে। ভারতের এসব জঘন্য প্রচার-প্রপাগান্ডা আমরা বাংলাদেশে বসে শুনতে পাই না। কারণ এ দেশের ভারতীয় তাঁবেদাররা সব কিছুর ওপর এমনই প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছেন যে, তাদের হুকুমের বাইরে বেশির ভাগ পত্রপত্রিকা এক ফোঁটা কলমের কালি ঝরিয়ে দুই-চারটি সত্য বাক্য প্রকাশে নারাজ এবং সমজাতীয় ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। তারা ভারতের বিরুদ্ধে একটি টুঁ শব্দ উচ্চারণ তো দূরের কথা- বরং যারা ভারতের বিপক্ষে ন্যায্য কথা বলেন তাদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে সেসব দেশপ্রেমিক লোকজনকে দেশদ্রোহী বানিয়ে শূলে চড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রপাগান্ডা চালাতে থাকে।
বাংলাদেশের এই ভূখণ্ড সম্পর্কে ভারতের দাদাগিরি এবং সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব বাঙালি মহাপুরুষদের মধ্যে খুব অল্প ক’জনই বুঝতে পেরেছিলেন এবং রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। বাংলার বাঘ শেরেবাংলা একে ফজলুল হক সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মহাত্মা গান্ধী, নেহরু কিংবা সুভাষ বোসের চেয়েও পদ-পদবি এবং প্রভাব প্রতিপত্তিতে এগিয়ে ছিলেন। তিনি দিল্লি-কলকাতাকেন্দ্রিক উগ্রবাদী হিন্দু নেতাদের আগ্রাসী মনোভাবের কারণেই কংগ্রেসের অর্থাৎ সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক থাকা সত্ত্বেও সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতির পদ গ্রহণ করেছিলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে শেরেবাংলাই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কোনো একটি দেশের প্রধানতম রাজনৈতিক দলের দুটো গুরুত্বপূর্ণ পদ একই সাথে অলঙ্কৃত করেছিলেন। শেরেবাংলা ছাড়াও নওয়াব আলী চৌধুরী, খাজা সলিমুল্লাহ, আবুল হাসিম, বগুড়ার মুহাম্মদ আলী এবং শওকত আলী ভ্রাতৃদয় প্রমুখ বাঙালি রাজনীতিবিদরা সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ভারতীয়দের থেকে এগিয়ে ছিলেন। শিল্প-সাহিত্য, সাংবাদিকতাও বাঙালির প্রভাব ছিল উল্লেখ করার মতো। মওলানা আকরম খাঁর পত্রিকা দৈনিক আজাদ, নাসির উদ্দিনের সওগাত ছাড়াও কবি মোজাম্মেল হকের মোসলেম ভারতের জনপ্রিয়তার কাছে ভারতীয় কোনো পত্রিকাই দাঁড়াতে পারছিল না। ফলে স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতে অর্থাৎ ১৯৪০ থেকে ১৯৪৮ সাল অবধি এমন একটা অবস্থা বিরাজ করছিল যে, বাঙালিরাই ভারত শাসন করবে এবং সেখানে পূর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশের লোকজনই নেতৃত্বে থাকবে।
উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মানস পিতা এবং উগ্রপন্থী কংগ্রেস নেতা গুজরাটের অধিবাসী সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে উগ্রবাদীরা এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যার কারণে ভারত বিভক্তি অপরিহার্য হয়ে পড়ে এবং তাদের চক্রান্তের কারণেই লাহোর প্রস্তাবে পেশকৃত ঝঃধঃবং শব্দ থেকে এস অক্ষরটি বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। শুধু তাই নয়- পুরো চক্রান্তটিকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য ভারতবর্ষে একাধিকার ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়া হয়, যার ফলে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাংবাদিকতায় শীর্ষ অবস্থানে থাকা বাঙালিরা কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হন। অন্য দিকে, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ আন্তর্জাতিক মানের মুসলিম ব্যক্তিত্ব যথাক্রমে দিল্লি এবং পিন্ডি-ঢাকায় চলে যেতে বাধ্য হন।
১৯৪৯-৫০ সালে গুজরাটের বল্লভ ভাই প্যাটেল বাংলাদেশকেন্দ্রিক যে নোংরা খেলাটা শুরু করেছিলেন সেই খেলা ফাইনালে রূপ দেয়ার জন্যই তার সুযোগ্য মানসপুত্রদ্বয় অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ ২০১৯-২০ সালে এসে নতুন করে খেলতে আরম্ভ করেছেন। এই খেলায় যদি তারা জিতে যান তবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অবস্থা যে কী হবে তা একমাত্র আল্লাহই বলতে পারেন। তাদের খেলায় ইতোমধ্যে ভারত উত্তাল হয়ে উঠেছে। তারা চাচ্ছেন যে, বাংলাদেশও উত্তাল হোক। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এবার আর ভারতীয় তালিতে বাংলাদেশ উত্তাল হবে না কিংবা ভারতীয় তাঁবেদাররা যেভাবে অতীতকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে- এবার আর সেই খেলা খেলতে দেয়া হবে না। আমাদের রাষ্ট্র ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে কড়া পাহারা বসেছে- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশীরা আমাদের বিজিবিকে সীমান্ত রক্ষায় দিবানিশি সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অতীতের রেওয়াজ ভেঙে নতুন সুরে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলা আরম্ভ করেছে।
অমিত শাহ এবং তার সহযোগীরা দশমুখে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এ কথা বলার চেষ্টা করছেন যে, বাংলাদেশের লোকজন খুবই দরিদ্র, তারা অভাবের তাড়নায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পঙ্গপালের ভারতে ঢুকছে। তারা আরো বলে বেড়াচ্ছেন যে, বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীরা ভারতের পরিবেশ কলুষিত করে তুলছে, অর্থনীতি ধ্বংস করছে এবং ভারতে বসে ভারতবিরোধী চক্রান্ত করছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে খোদ ভারতের জনগণই ফুঁসে উঠেছে। বড় বড় রাজনীতিবিদ-মন্ত্রী-এমপিরা সরকারকে সমালোচনা করে বলতে আরম্ভ করেছেন, কোন দুঃখে বাংলাদেশের লোকজন ভারত যাবে। কারণ বিশ্বের সব অর্থনৈতিক জরিপে বাংলাদেশ হলো দক্ষিণ এশিয়ার প্রধানতম ধনী রাষ্ট্র। অন্য দিকে, ভারতের দারিদ্র্যসীমা শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ এবং মিয়ানমার থেকেও নিম্নস্তরে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত কেবল নেপালের চেয়ে ধনী রাষ্ট্র। চলতি অর্থবছরে ভারতের জিডিপির হার মাত্র সাড়ে চার ভাগ। এভাবে যদি আরো বছর দুয়েক চলে তবে ভারত দরিদ্রতায় নেপালকে হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এক নম্বর গরিব রাষ্ট্র হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। সুতরাং বাঙালিরা যদি পাগল হয়ে না যায় তবে তারা মরে গেলেও ভারত যাবে না।
লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

 রাজনীতি  মন্ত্রিত্ব গেলে ‘সাংবাদিকতায় ফিরবেন’ ওবায়দুল কাদের

রাজনীতি মন্ত্রিত্ব গেলে ‘সাংবাদিকতায় ফিরবেন’ ওবায়দুল কাদের


রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতায় ছিলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রিত্ব হারালে ওই পেশায় ফিরে যাবেন বলে জানালেন তিনি।আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের খানিকটা উষ্মা প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আপনারা আজকের এমন একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে পত্রিকার শিরোনাম রাজনৈতিক করার জন্য ভিন্ন দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা প্রাসঙ্গিক না কেন? আজকের যেই অনুষ্ঠানে এসেছি, তাকে ভিন্ন দিকে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
“আপনারা সাংবাদিকতা করেন, আমিও আপনাদের অগ্রজ। মন্ত্রিত্ব গেলে আমি আবার সাংবাদিকতায় আসব।”
পঁচাত্তর পরবর্তীতে ছাত্রলীগের সভাপতি ওবায়দুল কাদের ’৮০ এর দশকে শেখ ফজলুল হক মনি প্রতিষ্ঠিত দৈনিক বাংলার বাণীতে কাজ করতেন। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগেও সক্রিয় থাকেন তিনি।
পরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পেরিয়ে এখন দলটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের।
শেখ হাসিনার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী কাদের প্রায় এক দশক ধরে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।