Showing posts with label Femal. Show all posts
Showing posts with label Femal. Show all posts

Tuesday, 24 December 2019

ব্রণের আধুনিক চিকিৎসা

ব্রণের আধুনিক চিকিৎসা

ব্রণের আধুনিক চিকিৎসা

যৌবনের একটি অবাঞ্ছিত সমস্যার নাম ব্রণ। সুন্দর মুখশ্রীর ওপর ব্রণ যদি জাপটে ধরে, তাহলে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, কারোরই মনে যন্ত্রণার কমতি থাকে না। লিখেছেন ডা: দিদারুল আহসান
১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সে ব্রণ বেশি হয়। তবে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত এটি হতে দেখা যায়। টিনএজারদের মধ্যে ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রেই কম অথবা বেশি এটি হয়ে থাকে। ২০ বছর বয়সের পর থেকে এটি কমতে থাকে।
শরীরের কোথায় হয়
সাধারণত মুখে; যেমন গাল, নাক, থুতনি ও কপালে হতে দেখা যায়। তবে শরীরের ওপরের অংশে ও হাতের ওপরের অংশেও হরহামেশাই হতে দেখা যায়।
ব্রণ হওয়ার কারণ
বংশগত প্রভাব এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। স্বাভাবিকভাবেই লোমের গোড়ায় একটি ব্যাকটেরিয়া থাকে, যার নাম প্রোপাওনি ব্যাকটেরিয়াম একনি। বয়ঃসন্ধিকালে এড্রোজেন হরমোনের প্রভাবে সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবামের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এই সেবাম থেকে ফ্রি ফ্যাটি এসিড তৈরি করে লোমের গোড়ার উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া। ফলে লোমের গোড়ায় প্রদাহের সৃষ্টি হয় এই ফ্যাটি এসিডের প্রভাবে। এর পাশাপাশি জমা হয় লোমের গোড়ায় কেরাটিন নামক পদার্থ। ফলে সেবাসিয়াস গ্রন্থিপথ বন্ধ হতে থাকে এই কেরাটিন, লিপিড আর মেলানিন পদার্থ দিয়ে যা ব্ল্যাক হেড বা ‘হোয়াইট হেড’ হিসেবে দেখা দিয়ে থাকে।
ব্রণের সাথে খাওয়ার সম্পর্ক
অনেকের ধারণা, তৈলাক্ত খাবার খেলে বুঝি ব্রণ হয়। সত্যিকার অর্থে কথাটি সত্য নয়। খাওয়ার সাথে ব্রণের কোনো সম্পর্ক আছে বলে জানা যায় না।
ব্রণ ও ক্রিম
যেসব ক্রিমে তৈলাক্ত উপাদান থাকে, সেসব ক্রিম যাদের মুখে বেশি ব্রণ হয় তাদের ব্যবহার করা উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, ক্রিম যদি তৈলাক্ত হয় তবে তা ব্রণের রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না।
চিকিৎসাপদ্ধতি
রোগীর আক্রান্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করতে হয়। তা হতে পারে মলম থেকে শুরু করে খাওয়ার জন্য নির্ধারিত অ্যান্টিবায়োটিক অথবা রেটিনয়েড জাতীয় ওষুধ।
ব্যাকটেরিয়া নাশক
অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে টেট্রাসাইক্লিন ১৯৫১ সাল থেকেই ব্রণ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে। টেট্রাসাইক্লিন দামে সস্তা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম এবং অত্যন্ত কার্যকর। এই অ্যান্টিবায়োটিক ব্রণ সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে দমন করে। তবে সমস্যা হচ্ছে এ ক্ষেত্রে কয়েক মাস ধরে এই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে যেতে হয়। এর দ্রুত কোনো উন্নতি দেখা যায় না। সাধারণভাবে এই ওষুধ খাওয়ার এক থেকে দেড় মাস পর উন্নতি লক্ষ করা যায়। আর একটি ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক হচ্ছে মিনোসাইক্লিন। মিনোসাইক্লিন টেট্রাসাইক্লি¬নের চেয়েও অধিক কার্যকর। দেখা গেছে, ৫০০ মিলিগ্রাম টেট্রাসাইক্লিনের চেয়ে ১০০ মিলিগ্রাম মিনোসাইক্লিন আরো বেশি কার্যকর।
ডক্সিসাইক্লিন
ব্রণ চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত ডক্সিসাইক্লিন একটি চমৎকার ওষুধ। এরিথ্রোমাইসিন খেয়ে যদি ব্যাকটেরিয়া রেজিস্ট্যান্ট হয় সে থেকে ডক্সিসাইক্লি¬ন একটি অত্যন্ত কার্যকর ওষুধ।
এরিথ্রোমাইসিন বা ক্লি¬নডামাইসিন
গর্ভবতী মহিলারা যখন টেট্রাসাইক্লিন খেতে পারে না, তখন এরিথ্রোমাইসিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ক্লিনডামাইসিনও অন্য ওষুধের মতো একটি কার্যকর ওষুধ।
হরমোন থেরাপি
মহিলাদের ক্ষেত্রে সেবামের নিঃসরণ বেড়ে যায়, যদি ওভারি থেকে এন্ডোজেন হরমোন তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে কম ডোজের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি মুখে খাওয়া যাবে যাতে থাকতে হবে নন-এন্ডোজেন প্রজেসটিন যা খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের হরমোন চিকিৎসাপদ্ধতি কোনো অবস্থায়ই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নেয়া যাবে না।
স্লাইরোনোল্যাকটন
এন্টি-এন্ডো-জেনিক উপাদান; যেমন স্লাইরোনোল্যাকটন সেবাম উৎপাদন কমিয়ে দিতে সক্ষম। ফলে এটি মহিলাদের ব্রণের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ওষুধ। তবে এটিও কোনো অবস্থায়ই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।
আইসোট্রিটিনয়েন
আইসোট্রিটিনয়েন আবিষ্কারের ফলে ব্রণ চিকিৎসায় ভিটামিন এ-এর ব্যবহার এখন একটি ঐতিহাসিক সফলতার দাবিদার।
যেকোনো ধরনের ব্রণের ক্ষেত্রেই এর ব্যবহারে সফলতা আসে। তবে দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহার করা হয় না। মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে ব্যাপক সতর্কতা প্রয়োজন। কেননা শিশুর ওপর এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এটি একদমই ব্যবহার করা যাবে না।
অপারেশনপদ্ধতি
ব্রণের কমিডোন (কালো দাগ) পাকা ব্রণ ও সিস্ট-জাতীয় ব্রণের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কার্যকর। স্কালপেল দুই নম্বর ব্লেডের সাহায্যে এই ছোট অপারেশনটি করতে হয় এবং কমিডো এক্সট্রাক্টরের সাহায্যে ব্রণ বা কমিডোনের উপাদান বের করে দেয়া হয় এবং এতে দ্রুত ভালো ফল পাওয়া যায়।

নরমাল ডেলিভারির প্রস্তুতি এবং কিছু কথা

নরমাল ডেলিভারির প্রস্তুতি এবং কিছু কথা

নরমাল ডেলিভারির প্রস্তুতি এবং কিছু কথা

কেস-১ : রোগী ও তার হাসবেন্ড এসে জানালেন, তাদের নরমাল ডেলিভারি করানোর প্রস্তুতির কথা। এর মধ্যে আছে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ, বেশি বেশি ভিটামিন ওষুধ না খাওয়া (কারণ বাচ্চা বড় হয়ে যাবে) ও তেল-চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া (ডেলিভারি সহজ হবে) ইত্যাদি। শুনে কিছুটা হতাশ হলেও অপেক্ষা করলাম ডেলিভারি পেইন ওঠার। শেষ পর্যন্ত যখন ব্যথা উঠল রোগী এবং তার স্বজনদের অনুরোধে সিজার করা হলো।
কেস-২ : বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে হিসেবে এ রোগীটি ছিল অনেক আহ্লাদী। সাধারণত দেখা যায়, এমন মেয়েরা সিজারিয়ান এর ব্যাপারে আগ্রহী হয়। তবে সে জানালো নরমালে বাচ্চা নিতে ইচ্ছুক, তাই প্রতিদিন ইউটিউব থেকে বিভিন্ন ভিডিও দেখে পরামর্শ নিচ্ছে এবং এক্সারসাইজ করে যাচ্ছে। পরে দেখা গেল, তার গর্ভফুল বা প্লাসেন্টা জরায়ুর নিচে অবস্থিত তাই সিজারিয়ানের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত বাচ্চা ডেলিভারি করতে হলো।
উপরের দুটি দৃশ্যপট আমার দুজন রোগীর, যারা সমাজের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে এসেছিলেন। এরা দুজনেই নরমাল ডেলিভারি এক্সপেক্ট করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছিল। আসলে নরমাল ডেলিভারি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখানে অস্বাভাবিক পন্থায চেষ্টা-চরিত্র চালানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তবে ইদানিং কালে দেখা যায় মায়েরা অত্যাধিকভাবে সচেতন হওয়ার কারণে কুসংস্কারগুলো অনুসরণ করতে থাকেন এবং স্বাভাবিক/ সিম্পল পথ থেকে দূরে সরে যান। তাই কিভাবে স্বাভাবিক ডেলিভারি র জন্য হবু মায়েরা প্রস্তুত হতে পারেন তার কিছু গাইডলাইন দেয়া হলো :
# প্রথমত, একটি স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল মেইনন্টেন করতে হবে - যাতে শরীরের ওজন (BMI) স্বাভাবিক থাকে। ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি হলে নরমাল ডেলিভারি সম্ভাবনা কমে যায় এবং ডেলিভারির সময় বিভিন্ন ধরনের জটিলতা হতে পারে।
# যাদের প্রেগনেন্সির পূর্ব থেকেই বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল সমস্যা যেমন প্রেসার বা ডায়াবেটিস আছে তাদেরকে নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে চলতে হবে, যাতে প্রেগনেন্সি কালে এ সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে।
# যাদের একবার সিজার হয়েছে তারাও পরে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করতে পারেন। তবে এটি নির্ভর করবে পূর্ববর্তী সিজার কী কারণে হয়েছিল এবং আরো কিছু ফ্যাক্টরের উপর। বাংলাদেশের কিছু কিছু কর্পোরেট হাসপাতালে এই ডেলিভারি প্র্যাকটিস করা হয়।
# প্রেগনেন্সির প্রথম থেকেই মায়েদের উচিত নরমাল এক্টিভিটি চালিয়ে যাওয়া। কিছু কিছু প্রেগন্যান্ট মায়েরা (প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, প্রিটার্ম ডেলিভারির হিস্ট্রি ইত্যাদি) ছাড়া অন্য সবাই এসময় হালকা থেকে মাঝারি মানের ব্যায়াম ও সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করতে পারবেন। অনেকে প্রেগনেন্ট হলেই ভাবেন এখন তাকে রেস্টে থাকতে হবে, যার ফলে ডায়াবেটিস, প্রেসারসহ বিভিন্ন মেডিকেল ডিজঅর্ডার হবার আশঙ্কা বেড়ে যায় এবং নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনা কমে যায়।
# মানসিক প্রস্তুতি এখানে একটি বড় ভূমিকা রাখে। সব মাকেই মনে রাখতে হবে নরমাল ডেলিভারি একটি কষ্টকর প্রক্রিয়া হলেও মা ও বাচ্চা উভয়ের জন্যই এর সুফল রয়েছে। আর ডেলিভারি পেইন সহ্য করার মতো মানসিক প্রস্তুতি শুধু মাকে নিলেই চলবে না, পরিবারের অন্যদের উৎসাহ এবং সাপোর্ট এক্ষেত্রে অতি জরুরি।
# ডেলিভারি পেইন উঠানোর জন্য কোনো ধরনের ওষুধ বা খাবারের দরকার হয় না, এটি একটি আল্লাহ প্রদত্ত একটি প্রক্রিয়া যা স্বাভাবিক নিয়মে হয়। একটি নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষার পরও না হলে ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ইন্ডাকশনের মাধ্যমে ডেলিভারি পেইন উঠানো সম্ভব। এজন্য অধিক টেনশন বা দুশ্চিন্তা না করে একজন গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শে থাকবেন।
সবশেষে আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, সবরকম মানসিক প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে যখন নরমাল ডেলিভারি চেষ্টা করলে মা ও বাচ্চা উভয়ের ক্ষতি হতে পারে, এ সময় সিজারের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি না করাই ভালো। সর্বক্ষেত্রেই আল্লাহর উপর ভরসা করে একটি সুস্থ বাচ্চা আশা করা উচিত।
এসোসিয়েট কনসালটেন্ট (অবস-গাইনি)
ইমপেরিয়াল হাসপাতাল, পাহাড়তলী

Sunday, 15 December 2019

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ভেষজ উপাদান

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ভেষজ উপাদান


উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ভেষজ উপাদান


ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের সাধারণত নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। আর ওষুধের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদানও এই দুই সমস্যার ক্ষেত্রে উপকারী।
ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপ আজকাল সবঘরেই পৌছে গেছে। আর দুটি রোগই সঠিক পরিচর্যার অভাবে মোড় নিতে পারে আরও একাধিক ভয়ংকর রোগের দিকে যার মধ্যে প্রথমসারিতেই আছে ‘স্ট্রোক’, দৃষ্টিশক্তি লোপ, হৃদরোগ, বৃক্কের সমস্যা, ‘হার্ট অ্যাটাক’, ‘ভাস্কুলার ডিমেনসিয়া’, ‘পেরিফেরাল ব্লাড ভেসেল ডিজিস ইত্যাদি মারাত্বক রোগ। তাই রক্তচাপ আর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর এই দুটি রোগে যারা আক্রান্ত তাদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করে যেতে হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল এমন কয়েকটি ভেষজ উপাদান সম্পর্কে।
তুলসি: রক্তচাপ কমাতে তুলসি অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান ‘ইউজেনল’ সেই উপাদানগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে যা রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। তুলসি পাতা গ্রহণের সবচাইতে সহজ উপায় হল চায়ের পানিতে ফুটিয়ে তা পান করা।
রসুন: শীতকালে স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই রসুন খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। মসলাজাতীয় এই ভেষজ উপাদান শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, সঙ্গে দেয় নানান উপকারিতা। শরীরে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’য়ের মাত্রা বাড়ানোর মাধ্যমে রসুন রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ রক্তনালী শিথিল ও প্রসারিত করে যা পক্ষান্তরে রক্তচাপ কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন সুগম করে।
দারুচিনি: কেক বানানো থেকে তরকারি রান্না- সবকিছুতেই আছে এই গরম মসলা। তবে রক্তচাপ কমাতেও এর জুড়ি নেই। আকস্মিক উচ্চ রক্তচাপ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, দুই ক্ষেত্রেই সমান কার্যকর দারুচিনি।
হলুদ: এই মসলায় থাকা ‘কারকিউমিন’য়ের গুণগান ইতোমধ্যেই প্রায় সকলেই জেনে গেছেন। তারমধ্যে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ দুটাই রয়েছে। দীর্ঘ নয় মাসের গবেষণায় ২৪০ জন ‘প্রি-ডায়াবেটিক’ অর্থাৎ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ‍ঝুঁকিতে আছেন এমন মানুষকে নিয়মিত ‘কারকিউমিন’ ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। এদের মধ্যে তিনজন নয় মাস পর ডায়াবেটিসে আক্রান্তই হননি।
মেথি: ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে মেথির কার্যকারিতা গবেষকরা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন। ২৫ জন ‘টাইপ টু ডায়াবেটিস’য়ে আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে করা গবেষণায় দেখা যায় তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে মেথি অত্যন্ত উপকারে এসেছে। নিয়মিত ১০ গ্রাম মেথি পানিতে ভিজিয়ে খেলে ‘টাইপ টু ডায়বেটিস’ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়।
আদা: তরকারি আর চায়ে আদার উপস্থিতি বহুকাল ধরেই আছে। হজমের ক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তচাপ কমাতে আদা অত্যন্ত কার্যকর। এই মসলার আছে দারুণ ‘অ্যান্টি-হাইপারগ্লাইসেমিক ইফেক্ট’, যা কমাতে পারে ‘সেরাম টোটাল কোলেস্টেরল’, ‘ট্রাইগ্লিসারাইড’, আর বাড়ায় ‘এইচডিএল’ বা উপকারী কোলেস্টেরল। ডায়াবেটিসের কারণে অনেক সময় বুকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয় যা সারাতেও কাজে আসে আদা।
জন্ম নিয়ন্ত্রক বড়ির ক্ষতিকর দিক

জন্ম নিয়ন্ত্রক বড়ির ক্ষতিকর দিক


 

জন্ম নিয়ন্ত্রক বড়ির ক্ষতিকর দিক

জন্ম নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ‘সিস্ট’জনীত ব্রণ, ‘পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম’, ঋতুস্রাবের যন্ত্রণা কমানো ইত্যাদির সারাতে চিকিৎসকরা জন্ম নিয়ন্ত্রক বড়ি সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
তবে গবেষণা বলছে এই ধরনের ওষুধ নারীর মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে এই বিষয়ে জানানো হল বিস্তারিত।
জন্ম নিয়ন্ত্রক ওষুধ কাজ করে হরমোনের মাধ্যমে। তাই এগুলো সেবনের কারণে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। যার ফলাফল হতে পারে অনিয়মিত ও বিলম্বিত ঋতুস্রাব। অনেকেই আবার এই ওষুধগুলো সেবনের পর বমিভাব অনুভব করেন, এমনকি বমি হতেও পারে। এছাড়াও স্তনের স্পর্শকাতরতা বাড়তে পারে, ব্যথা হতে পারে, শরীরের ওজন বাড়তে পারে, দেখা দিতে পারে ‘মুড সুইং’।
মস্তিষ্কের উপরেও জন্ম নিয়ন্ত্রক বড়ির প্রভাব রয়েছে। ২০১৯ সালে ‘রেডিওলজি সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা’য় ১০৫তম বার্ষিক সম্মেলনে এবিষয়ক এক গবেষণা উপস্থাপন হয়। এতে মোট ৫০জন নারীর মস্তিষ্ক ‘স্ক্যান’ করেন গবেষকরা। যাদের মধ্যে ২১জন নিয়মিত জন্ম নিয়ন্ত্রক ওষুধ সেবন করছিলেন। যারা জন্ম নিয়ন্ত্রক ওষুধ সেবন করেছেন তাদের মস্তিষ্কের আশঙ্কাজনক পরিবর্তন লক্ষ করেন গবেষকরা।
গবেষকরা দেখেন, যারা ওষুধ সেবন করছিলেন তাদের মস্তিষ্কের ‘হাইথ্যালামাস’য়ের ঘনত্ব আর যারা ওষুধ সেবন করছিলেন না তাদের ‘হাইপোথ্যালামাস’য়ের ঘনত্বে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ‘হাইপোথ্যালামাস’ হল যৌনক্ষমতা, ঘুম চক্র, মেজাজ নিয়ন্ত্রণ, খাওয়ার রুচি ইত্যাদি নিয়্ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দু।
গবেষণার প্রধান গবেষক, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্রাস ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স রিসার্চ সেন্টার’য়ের ‘রেডিওলজি’ বিভাগের অধ্যাপক ডা. লিপটন বলেন, “‍মুখে খাওয়া জন্ম নিয়ন্ত্রক বড়ি মস্তিষ্কের কাঠামোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে এর কার্যক্ষমতায় যে সম্ভব্য সংঘর্ষ ঘটায় তা প্রাথমিক গবেষণায় জোরালো সম্পর্ক পাওয়া যায়।”
তাই জন্ম নিয়ন্ত্রক বড়ি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন এই গবেষকরা।
বিয়ের আগে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

বিয়ের আগে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

দেনমোহর নিয়ে দরকষা, গয়না, শাড়ি, শেরওয়ানি কেনা, বিয়ের খানাদানা কী হবে- এসব নিয়ে যত ব্যস্ততা দেখা যায় ততটাই এড়িয়ে যাওয়া হয় বিয়ে করতে যাওয়া বর ও কনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টা। অথচ স্বাস্থ্যকর সুখের জীবন শুরু করতে এই বিষয়টাই আগে নজরে আনা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল বিস্তারিত।
বন্ধ্যত্ব পরীক্ষা: এই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে নারীর ডিম্বাশয় কিংবা পুরুষের অণ্ডকোষের স্বাস্থ্য এবং পুরুষের শুক্রাণুর পরিমাণ সম্পর্কে। কারণ এই বিষয়গুলোই নারী-পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার অবস্থা জানান দেয়। তাই ভবিষ্যতে সন্তান নিতে পারা কিংবা স্বাভাবিক যৌনজীবন পাওয়ার জন্য এই পরীক্ষা করানো জরুরি। নিজের প্রজননক্ষমতা সম্পর্কে আগেই জানা থাকলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া কিংবা অসুখ চিকিৎসাযোগ্য না হলে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। 
রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা: আপাত দৃষ্টিতে এই পরীক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে নাও হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সন্তানের সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান হওয়ার জন্য বাবা-মায়ের রক্তের ‘আরএইচ ফ্যাক্টর’ বা ‘রিসাস ফ্যাক্টর’ একই হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে গর্ভাবস্থায় নানান জটিলতা দেখা দিতে পারে। বাবা-মায়ের ‘আরএইচ ইনকম্প্যাটিবিলিটি’ থাকলে দ্বিতীয় সন্তানের জন্য তা প্রাণঘাতি হতে পারে। কারণ, এমনটা হলে মায়ের রক্তের ‘অ্যান্টিবডি’ তার গর্ভের সন্তানের রক্তকণিকা ধ্বংস করবে।
বংশগত রোগের পরীক্ষা: অসংখ্য বংশগত রোগ বাবা-মায়ের জিনগত বৈশিষ্ট্য থেকে সন্তানের জিনগত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। তাই হবু স্বামী কিংবা স্ত্রীর এমন কোনো ঝুঁকি আছে কি-না তা সময় থাকতেই জেনে নেওয়া জরুরি। এই রোগগুলোর মধ্যে আছে স্তন ক্যান্সার, অন্ত্রের ক্যান্সার, বৃক্কের রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। সময় মতো পরীক্ষা করানো হলে প্রতিষেধনের বদলে রোগ প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এসটিডি টেস্ট: যৌনমিলনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় এমন রোগগুলোকে বলা হয় ‘সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি)’। সারা জীবনের জন্য কারও সঙ্গী হওয়ার আগে নিজের কিংবা হবু সঙ্গীর এমন কোনো রোগ আছে কি-না তা জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এই ধরনের রোগের মধ্যে আছে এইচআইভি/এইডস, গনোরিয়া, হার্পিস, সিফিলিস, হেপাটাইটিস সি ইত্যাদি। এদের মধ্যে কিছু রোগ প্রাণঘাতি, কোনোটার আবার কোনো চিকিৎসা নেই। তাই বিয়ের আগে প্রতিটি মানুষের উচিত ‘এসটিডি টেস্ট’ করানো।
এই পরীক্ষাগুলোর মধ্যে কোনোটায় খারাপ সংবাদ আসলে তা দুজনের জন্যই একদিক থেকে মঙ্গল। আর সেই দিকটি হল বিয়ের পর খারাপ সংবাদ পেলে সারাজীবন যে অপরাধবোধ, দুশ্চিন্তা, মানসিক অত্যাচার আপনাকে সইতে হত তা থেকে মুক্তি পেলেন।
পাশাপাশি রোগের ঝুঁকি কিংবা রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক অবস্থাতেই অবগত হয়ে গেলেন, যা তার চিকিৎসাকে আরও কার্যকর করবে। হয়ত এই পরীক্ষার কারণেই ভবিষ্যত প্রাণঘাতি রোগ থেকে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পরিত্রাণ মিলবে। তবে বিয়ে করেই যে পরীক্ষা করাতে হবে এমন কোনো কথা নেই, নিজের মতো যেকোনো সময় এই পরীক্ষাগুলো করে রাখা যেতে পারে।
বৃক্কে পাথর হওয়ার লক্ষণ

বৃক্কে পাথর হওয়ার লক্ষণ

পরিচিত কারও ‘কিডনি স্টোন’ বা বৃক্কে পাথর হয়ে থাকলে হয়ত জানেন এই রোগ কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। আকস্মিক হানা দেওয়া তীব্র যন্ত্রণাকে অনেক রোগী সন্তান প্রসবের যন্ত্রণা চাইতেও বেশি বলে দাবি করেন। তাই স্বভাবতই বৃক্কে পাথর হওয়ার উপসর্গ হল তলপেটে ব্যথা। তবে আরও অনেক শারীরিক জটিলতায় শরীরের এই অংশে ব্যথা হতে পারে, তাই ইঙ্গিত বুঝতে না পারা সাধারণ ঘটনা।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে জানানো হল বৃক্কে পাথর কীভাবে হয় এবং তার উপসর্গগুলো বোঝার উপায়গুলো কী।
বৃক্ক পাথর
বৃক্কে সৃষ্ট পাথর হল শরীরের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন খনিজ উপাদান ও লবণের সমষ্টি। সচরাচর এর প্রধান উপাদান হয় ক্যালশিয়াম, ইউরিক অ্যাসিড। সাধারণত পাথরগুলো হয় শক্ত। প্রস্রাবে কোনো নির্দিষ্ট খনিজের মাত্রা বেশি হলে বৃক্কে এই পাথরগুলো জমতে থাকে। আর এই জটিলতায় দুটি প্রধান কারণ হল পানিশূন্যতা ও অতিরিক্ত খাওয়া।
শরীরে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা না হলে প্রস্রাব ঘন হয়। যা থেকে বিশেষ কিছু খনিজের মাত্রা বেড়ে বৃক্কে পাথর হতে শুরু করে।
বৃক্কে সৃষ্ট এই পাথরগুলো আকার বিভিন্ন রকম হতে পারে। এমনকি মুত্রনালির অন্যান্য অংশেও এগুলো চলে যেতে পারে। অধিকাংশ সময় এই পাথরগুলো প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। তবে আকার বড় হয়ে গেলে মুত্রনালি দিয়ে বের হতে পারে না, আর তখনই অস্ত্রোপচার করতে হয়।
উপসর্গ
পেটে, পিঠে ও পাশে তীব্র ব্যথা: নারীদের ক্ষেত্রে বৃক্কে জমা পাথর সরু জরায়ু পথ দিয়ে বের হতে গিয়ে আটকে গেলে বৃক্কে চাপ বাড়তে থাকে। আর তখনই ব্যথা শুরু হয়। এসময় আক্রান্ত ব্যক্তি তার পিঠ, পাঁজরের নিচের অংশে, বুকের একপাশে ব্যথা অনুভব করবে। পাথর বেশি বড় হলে যেই স্থানে পাথরটি আটকাবে সেই স্থানটি ফুলে যেতে পারে।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: মূত্রত্যাগ করতে গিয়ে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া অনুভব করলে তার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বৃক্কের পাথর। মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা তখনই হয় যখন বৃক্কে সৃষ্ট পাথর মুত্রনালী ও মুত্রথলির সংযোগস্থলে পৌঁছায়। ‘ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই)’ বা মূত্রনালীতে সংক্রমণের কারণেও প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হতে পারে।
প্রস্রাবের রং: প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত মিশে যাওয়া বৃক্কে পাথর হওয়ার আরেকটি লক্ষণ। প্রস্রাবের রং যদি লাল, গোলাপি কিংবা বাদামি হয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রস্রাবের বাড়তি বেগ: বৃক্কের বড় পাথরগুলো মূত্রনালী আটকে দিলে প্রস্রাবের প্রবাহ ব্যহত হয়। এতে মূত্রথলি একবারে খালি হতে পারে না। তাই বারবার শৌচাগারে যাওয়ার তাগিদ অনুভূত হয়।
বিস্বাদ ও বমি: পেটে তীব্র ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি বৃক্কে পাথর হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে বমিভাব ও বমি হওয়া বেশ সাধারণ বিষয়। সেই সঙ্গে থাকবে মুখে বিস্বাদভাব। এর কারণ হল বৃক্ক ও ‘গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট’ অর্থাৎ পাকস্থলি এবং অন্ত্রের স্নায়ু পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

Friday, 28 December 2018

ব্রণ কী? ব্রণ কেন হয়, ব্রণ হলে কী করবেন, ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়

ব্রণ কী? ব্রণ কেন হয়, ব্রণ হলে কী করবেন, ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়

ব্রণ কী? ব্রণ কেন হয়, ব্রণ হলে কী করবেন, ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়, কালো দাগ দূর করার সহজ পদ্ধতি
ব্রণ বিভিন্ন করনে হতে পারে। বয়ঃসন্ধির সময় হরমোনের ক্ষরণ মাত্রার ভারসাম্যের অভাবে ত্বকের তেলগ্রন্থি ও সেবাম ক্ষরণ বেড়ে যায়। এতে লোমকুপ গুলো বন্ধ হয়ে যায় ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়। এভাবে জীবাণুর বিষক্রিয়ায় ত্বকে ব্রণের সৃষ্টি হয়। ব্রণের জীবাণুর নাম ‘প্রোপাইনো ব্যাকটেরিয়াম অ্যাকনে’।
ব্রণ কী? ব্রণ কেন হয়, ব্রণ হলে কী করবেন, ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়, কালো দাগ দূর করার সহজ পদ্ধতি
ব্রণ
কখন ও কোথায় ব্রণ হয় বয়ঃসন্ধির সময় প্রথম ব্রণ দেখা যায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৬-১৯ বছর বয়সের মাঝে এবং মেয়েদের ১৪-১৬ বছর বয়সে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রে ২০ বছর বয়সের মাঝামাঝি সময় থেকে ব্রণ হওয়ার হার কমে যেতে থাকে।
তবে অনেকের ৩০-৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ব্রণ হওয়ার প্রবণতা থেকেই যায়। ব্রণ সাধারণত মুখেই দেখা যায়, তবে পিঠে, ঘাড়ে ও বুকেও হতে পারে।গরমকালে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়।
নিয়ম
ব্রণ হলে কী করবেন:
দিনে দুই-তিনবার হালকা সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোবেন।
ব্রণে হাত লাগাবেন না।
তেল ছাড়া অর্থাৎ ওয়াটার বেসড মেকআপ ব্যবহার করবেন।
মাথা খুশকিমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন এবং নিজের জন্য আলাদা তোয়ালে রাখুন।
রাতে ঠিকমতো ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
মানসিক চাপ পরিহার করুন।
প্রচুর পরিমাণে ফল, সবজি খান ও প্রচুর পানি পান করুন।
ব্রণ হলে কী করবেন না:
রোদে বেরুবেন না, রৌদ্র এড়িয়ে চলুন।
তেলযুক্ত ক্রিম বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না।
ব্রণে হাত লাগাবেন না। ব্রণ খুঁটবেন না।
চুলে এমনভাবে তেল দেবেন না যাতে মুখটাও তেলতেলে হয়ে যায়।
অতিরিক্ত তেল, ঘি, মশলা খাবেন না।
কেন ব্রণের চিকিৎসা করাবেন:
ব্রণ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা না করালে অনেক সময় ব্রণ ত্বকের মারাÍক ক্ষতি করতে পারে। ত্বকে গভীর প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। আর ব্রণ হলে চেহারা খারাপ দেখানোর কারণে অনেকে হতাশ হয়ে যায়।
রাতে ঘুমানোর সময় ভালো করে মুখ ধুয়ে শুধু ব্রণগুলোর ওপর চিকিৎসকের পরামর্শমতো জেল লাগানো যেতে পারে। দু’একদিন জেল ব্যবহারের পর ঠিক হয়ে যায়। চুলকানি বা লাল ভাব বেশি হলে ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তা দূর করতে হবে। ঝাল-মশলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সুষম সহজপাচ্য হালকা খাবার, শাকসবজি, ফলমূল এবং প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। পুষ্টিহীনতায় ভুগলে প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
মাথায় খুশকি থাকলে অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে খুশকি দূর করতে হবে। ব্রণের তীব্রতা বেশি হলে চিকিৎসকের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্রণের জন্য অন্যের কথা শুনে বা নিজের পছন্দসই কোনও ওষুধ লাগাবেন না। কতটা বেশি ব্রণ হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে খাবার ও লাগানোর জন্য এন্টিবায়োটিক ওষুধ দেয়া হয়। তবে ব্রণের চিকিৎসা সময় সাপেক্ষ। তাই ধৈর্য ধরতে হবে আপনাকে। হঠাৎ চিকিৎসা পদ্ধতি বা ডাক্তার বদলাবেন না।
ব্রণের চিকিৎসা :
সব ধরনের প্রসাধনী বর্জন করতে হবে। নখ দিয়ে ব্রণ খোঁটাখুঁটি করা যাবে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্রণ আপনা-আপনি সেরে যায়।
দিনে দুই থেকে তিনবার ফেসওয়াশ সাবান দিয়ে মুখ ধুতে হবে। অনেকে ব্রণ হলে মুখে সাবান ব্যবহার বন্ধ করে দেন অথচ এ সময়ে সাবান দিয়ে মুখ ধুলে উপকার হয়, কেননা সাবান মুখের তৈলাক্ততা দূর করে এবং লোককূপ পরিষ্কার রাখে।
আমাদের ত্বকের তৈল গ্রন্থি ব্যাটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে এর আকৃতি বৃদ্ধি পায় তখন এর ভিতরে পুঁজ জমা হতে থাকে, যা ধীরে ধীরে বর্ন পরিবর্তন করেব্রণের আকার ধারণ করে। এটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বংশগত। ব্রণকে অনেকেই pimple, zit বা spot বলে থাকে। সাধারণত টিনেজার মেয়েরাইব্রণের সমস্যায় বেশি ভোগে।বাজারে ব্রণ দূর করার জন্য নানারকম কসমেটিক্স/ঔষধ পাওয়া যায়।সেগুলো ব্যবহার করারআগে নিচের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরন করতে পারেন। ঘরোয়া পদ্ধতি্তে ব্রণ এবং ব্রণেরদাগ দুর করার কিছু সহজ উপায়ঃ ১। কাঁচা হলুদ এবং চন্দনকাঠের গুঁড়ো ব্রণের জন্য খুবই কার্যকর দুটো উপাদান। সমপরিমাণ বাটা কাঁচা হলুদ এবংচন্দন কাঠের গুঁড়ো একত্রে নিয়ে এতে পরিমাণ মত পানি মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করতে হবে।মিশ্রণটি এরপর ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষন পর শুকিয়ে গেলে মুখঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণটি শুধুমাত্র ব্রণদূর করার কাজ করে না বরং ব্রণের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে। ২।আপেল এবং মুধ এর মিশ্রণহচ্ছে ব্রণের দাগ দূর করার সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া পদ্ধতি। প্রথমে আপেলের পেষ্ট তৈরিকরে তাতে ৪-৬ ফোঁটা মধু মিশাতে হবে। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করেএরপর মুখ ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখেএবং কমপ্লেকশন হালকা করে।সপ্তাহে ৫-৬ বার এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনিকয়েকদিনের মধ্যে পরিবর্তনটা অনুভব করতে পারবেন। ৩।ব্রণের জন্য তুলসি পাতাররস খুব উপকারী।কারণ তুলসি পাতায় আছে আয়ূরবেদিক গুণ।শুধুমাত্র তুলসি পাতার রস ব্রণআক্রান্ত অংশে লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।এরপর কুসুম গরমপানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। ৪।প্রথমে চন্দন কাঠের গুড়োঁরসাথে গোলাপ জল মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করুন। এরপর এতে ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস মিশাণ। গোলাপজল অনেকের ত্বকের সাথে এডজাষ্ট হয় না।তারা সেইক্ষেত্রে গোলাপ জলের পরিবর্তে মুধব্যবহার করতে পারেন।এই পেষ্ট আপনার ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করবে।সপ্তাহে ৩-৪দিন ব্যবহার করতে পারলে ভাল ফল পাওয়া যাবে। ৫।এছাড়া রাতে শোয়ার আগেডিমের সাদা অংশ ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় মেসেজ করে সারারাত রাখতে পারেন।এটি আপনারত্বকের খসখসে ভাব দূর করে।সবচেয়ে ভাল হয় যদি এর সাথে লেবুর রস যোগ করা যায়।আপনিএটি সারারাতও রাখতে পারেন আবার আধ ঘন্টা পরও ধুয়ে ফেলতে পারেন। ৬।প্রতিদিন ৯-১০ গ্লাস পানিখান। ৭।প্রতিদিন রাতের খাবারের পরযেকোন ধরনের মৌসুমি ফল খান। এটি আপনার ত্বককে সতেজ রাখবে।যতটা সম্ভব তেলযুক্ত বাফাষ্ট ফুড জাতীয় খাবার পরিহার করুন। ৮।সবসময় বাহির থেকে আসামাত্র মুখ ফেসওয়াস দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া হালকা গরম পানির স্টীম নিতে পারেন।এতেকরে ত্বকে জমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার হয়ে যাবে। যারা বহুদিন যাবত ব্রণসমস্যায় ভুগছেন,কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না,তারা আর দেরি না করে কোন অভিজ্ঞডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
ব্রণের সমস্যা এত বিচ্ছিরি একটা ব্যাপার যে তা যেন আপনার সমস্ত সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়। নারী হন বা পুরুষ, মুখে ব্রণ কারো ক্ষেত্রেই ভালো লাগে না দেখতে। নানান রকম চিকিৎসা করিয়ে যারা হতাশ হয়ে পড়েছেন, তাঁদের জন্য রইলো ব্রণের আরেকটি ঘরোয়া চিকিৎসা। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণ ওঠা শূন্যের কোটায় চলে যাবে, আবার চট জলদি ব্রণ কমাতেও এর জুড়ি নেই। ত্বকের জন্য সর্বদা প্রাকৃতিক চিকিৎসাই সবচাইতে উপকারী!
বিশুদ্ধ মধু সংগ্রহ করুন প্রথমেই। মধু একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক। ব্রণের প্রকোপ কমাতে ও দাগ দূর করতে এর জুড়ি নেই।
মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিন খুব হাল্কা ফেসওয়াশ দিয়ে। তারপর ভালো করে মুখ ধুয়ে আলতো করে মুছে নিন। এবার আঙ্গুলের ডগায় মধু নিয়ে ভেজা ত্বকেই লাগান। অল্প একটু ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট রাখুন। তারপর পানি দিয়ে খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। অন্তত ২ ঘণ্টা মুখে কোন প্রসাধনলাগাবেন না।
ত্বকের গঠন অত্যন্ত জটিল। এ জটিলতম ত্বকে একাধিক কারণেও বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্রণের সমস্যা। ব্রণ মূলত টিনএজারদের সমস্যা। এ বয়সে যখন মুখের সৌন্দর্যের প্রতি সবাই আকর্ষণবোধ ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ঠিক সে বয়সেই মুখে এই বিশ্রী গোটাগুলো দেখা দেয়, যা তাদের অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ একটু সচেতন থাকলেই এ সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব।
ব্রণ হওয়ার কারণ : সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে অথবা হরমোনের প্রভাবে ব্রণ হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে বংশগত প্রভাবেও ব্রণ কমবেশি হয়ে থাকে। সাধারণত ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সে এটি হয়। এ বয়সেই কমবেশি ব্রণ হয়ে থাকে। তবে ২০ বছর বয়সের পর থেকে এগুলো স্বাভাবিকভাবেই ধীরে ধীরে কমতে থাকে। যাদের মুখ অতিরিক্ত তৈলাক্ত, তাদের ব্রণ তুলনামূলকভাবে বেশি হয়।
ব্রণ থেকে মুক্তির উপায় : কিছু নিয়ম অবলম্বন করলেই ব্রণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। অনেকের ধারণা, কোনো বিশেষ খাবার খেলেই ব্রণ হয়ে থাকে। আসলে এটি ঠিক নয়। কোনো খাবার খেলে যদি ব্রণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে তবে সে খাবারটি বাদ দিতে হবে। তবে প্রচুর ফলমূল ও পানি খেতে হবে। মুখে বেশি ব্রণ থাকলে রাসায়নিক কোনো উপাদান বা কসমেটিক ব্যবহার করা ঠিক নয়, যথাসম্ভব প্রাকৃতিক বা হারবাল জিনিস ব্যবহার করা ভালো কারণ এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বেশির ভাগ ব্রণ নিজস্ব পরীক্ষার মাধ্যমে সেরে ফেলা সম্ভব।
ব্রণ প্রতিরোধে কিছু উপায় : মূলত ব্রণের জন্য সবচেয়ে বড় ওষুধ হলো অপেক্ষা করা। ব্রণ নিয়ে কখনোই বেশি চিন্তা করবেন না। ব্রণ দু-একটা হবে আবার একাই চলে যাবে। অতিরিক্ত ব্রণ হলে এটি চিন্তার বিষয়। তবে নিচের পরামর্শগুলো অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন।
ত্বক পরিষ্কার রাখুন। মুখে ভালো সাবান মেখে দু-এক মিনিট রাখুন। পরে আস্তে আস্তে পরিষ্কার করুন। ক্স অ্যাসট্রিনজেন্ট লোশন বা ফেস স্ক্র্যাব ব্যবহার করুন। ক্স প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। দৈনিক ৮ থেকে ১০ গ্লাস। ক্স ত্বকে কোনোরকম অত্যাচার করবেন না এবং হাত লাগাবেন না, ত্বক কুচকাবেন না, খামচাবেন না, গোটা খোঁটাখুঁটি করবেন না। গোটা খুঁটলে হাতের জীবাণু থেকে ইনফেকশন হয়, ফলে দাগ পড়ে যা সহজে সারে না। এ ছাড়া ত্বকে আরো বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শরীরের ঘাম দ্রুত মুছে ফেলুন। ক্স ওয়াটার বেজড মেকআপ ব্যবহার করুন। তৈলাক্ত ক্রিম, লোশন বা মেকআপ ব্যবহার করবেন না ।
কালো দাগ থেকে মুক্তির উপায়
অনেকেরই মুখে দেখা যায় ব্রণ ও কালো ছোপ ছোপ দাগ। এ জাতীয় ব্রণ ও কালো দাগ হলে প্রথম থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। ত্বকের ক্ষেত্রে অবহেলার ফল মারাত্নক হতে পারে। আর নষ্ট করে দিতে পারে আপনার সুন্দর চেহারার সৌন্দর্য মুখের এসব কালো দাগ ও ব্রণ দূর করার জন্য বাড়তি একটু পরিচর্যা দরকার।প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি আর মওসুমী ফল খেতে হবে রোজ পর্যাপ্ত পরিমানে। আরও কিছু টিপস নীচে দেওয়া হলঃ
*২ চামচ বেসন, ১ চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা, ১ চা চামচ কমলার খোসা বাটা একসাথে মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করুন। এবার এটা মুখে ঘাড়ে মাখিয়ে রেখে ১৫-২০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।
*আপেল এবং কমলার খোসা একসাথে বেটে এর সাথে ১ চামচ দুধ, ডিমের সাদা অংশ এবং কমলার রস মেশান। এবার মিশ্রনটা ত্বকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।
*পাকা পেঁপের শাঁস মুখে মেখে নিন। ১ চামচ পাকা পেঁপের শাঁস ও ১ চামচ শশার রস মুখে মেখে নিন। ত্বক উজ্জ্বল হবে।
*ব্রণ থাকাকালীন মুখমন্ডলের ত্বকে কোন তৈলাক্ত পদার্থ ও ক্রিম লাগাবেন না।
*একটি ডিম, ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, একটি গোটা লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে নিন, এটি নখ, গলা, হাত ও ঘাড়ের কালো ছোপে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ব্রণের দাগ, হাত, ঘাড়ের কালো ছোপ ইত্যাদি সেরে যাবে।
*আধাপাকা চিনির সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে সারাগায়ে মেখে শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে এটিকে ঘষে তুলে ফেলুন। এবার সামান্য গরম পানিতে ভালো করে গোসল করে নিন। সপ্তাহে একবার করবেন। এতে শরীরের ত্বক মসৃণ থাকবে।
*নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় এ ভিটামিন যুক্ত খাবার অবশ্যই রাখবেন। ভিটামিন এ এর প্রধান উৎস প্রাণীজ প্রোটিন যেমন যকৃত, ডিমের কুসুম, দুধ, মলা-ঢেলা, পুঁটি মাছ, কচুশাক, লাউশাক, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, কাঁঠাল ইত্যাদি।
*২ চা চামচ চিনা বাদাম বাটা, ২ চা চামচ দুধের সর মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১০-২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণের দাগ মিলিয়ে যাবে।
*১ চা চামচ লেবুর রস ও ১ চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১০-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলবন। মুখে লাবন্য আসবে।
ত্বকের ঔজ্জ্বল্য এবং সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় ব্রণ। মুখে এসব ব্রণের দাগের জন্য চিন্তায় কাটাচ্ছেন? চিন্তার কোনো কারণ নেই। ব্রণ থেকে বাঁচতে কিছু উপায় অবলম্বন করুন। দেখুন আপনি অনেক ভালো থাকবেন।
— ব্রণ হলে একেবারেই আচার খাবেন না। তবে মিষ্টি চাটনি খেতে পারেন।
— বেশি পরিমাণে নিরামিষ খাবার খান। আমিষ খাবার যতটা সম্ভব না খাওয়ার চেষ্টা করুন।
— ডেইরি প্রোডাক্টসের মধ্যে হরমোনাল উপাদান বেশি পরিমাণে থাকে বলে তা খুব সহজে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। এ কারণেই পনির, দুধ এবং দই কম খান।
— কোল ড্রিঙ্কস খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দিন।
— খুব বেশি পরিমাণে পানি খান। দিনে যদি দু লিটার পানি খেতে পারেন তা আপনার স্বাস্থ্য এবং ত্বকের ক্ষেত্রে ফলদায়ক হবে। পানি বেশি খাওয়ার ফলে শরীর থেকে পিত্ত বেরিয়ে যাবে। আপনি ব্রণের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবেন।
— আয়ুর্বেদের মতে অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে শরীরে পিত্ত সঞ্চিত হয়। তাই ক্রোধ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন।
ব্রণের দাগ দূর করতে ভেষজ পদ্ধতি:
— কমলা লেবুর খোসা শুকিয়ে মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিন। মসুরির ডাল আর চাল ভিজিয়ে ভালো করে পিষে নিন। ওই পেস্টের মধ্যে চন্দন পাউডার, মুলতানি মাটি, কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে মিলিয়ে নিন। এই মিশ্রণের মধ্যে দুই চামচ দুধও মিশিয়ে নিতে পারেন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর ধুয়ে নিন। এই প্যাকটা নিয়মিত মুখে লাগান। ত্বকের জেল্লা বাড়বে। ব্রণের দাগও দূর হয়ে যাবে।
ব্রণ দূর করবে নিম:
— চার-পাঁচটা নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে পিষে নিন। এর মধ্যে এক চামচ মুলতানি মাটি, অল্প গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটা যদি গাঢ় হয়ে যায় তাহলে এর মধ্যে গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিন। প্যাকটা মুখে শুকিয়ে গেলে হালকা পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলু