Male পুরুষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Male পুরুষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ভেষজ উপাদান

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ভেষজ উপাদান


উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ভেষজ উপাদান


ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের সাধারণত নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। আর ওষুধের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদানও এই দুই সমস্যার ক্ষেত্রে উপকারী।
ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপ আজকাল সবঘরেই পৌছে গেছে। আর দুটি রোগই সঠিক পরিচর্যার অভাবে মোড় নিতে পারে আরও একাধিক ভয়ংকর রোগের দিকে যার মধ্যে প্রথমসারিতেই আছে ‘স্ট্রোক’, দৃষ্টিশক্তি লোপ, হৃদরোগ, বৃক্কের সমস্যা, ‘হার্ট অ্যাটাক’, ‘ভাস্কুলার ডিমেনসিয়া’, ‘পেরিফেরাল ব্লাড ভেসেল ডিজিস ইত্যাদি মারাত্বক রোগ। তাই রক্তচাপ আর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর এই দুটি রোগে যারা আক্রান্ত তাদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করে যেতে হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল এমন কয়েকটি ভেষজ উপাদান সম্পর্কে।
তুলসি: রক্তচাপ কমাতে তুলসি অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান ‘ইউজেনল’ সেই উপাদানগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে যা রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। তুলসি পাতা গ্রহণের সবচাইতে সহজ উপায় হল চায়ের পানিতে ফুটিয়ে তা পান করা।
রসুন: শীতকালে স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই রসুন খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। মসলাজাতীয় এই ভেষজ উপাদান শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, সঙ্গে দেয় নানান উপকারিতা। শরীরে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’য়ের মাত্রা বাড়ানোর মাধ্যমে রসুন রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ রক্তনালী শিথিল ও প্রসারিত করে যা পক্ষান্তরে রক্তচাপ কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন সুগম করে।
দারুচিনি: কেক বানানো থেকে তরকারি রান্না- সবকিছুতেই আছে এই গরম মসলা। তবে রক্তচাপ কমাতেও এর জুড়ি নেই। আকস্মিক উচ্চ রক্তচাপ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, দুই ক্ষেত্রেই সমান কার্যকর দারুচিনি।
হলুদ: এই মসলায় থাকা ‘কারকিউমিন’য়ের গুণগান ইতোমধ্যেই প্রায় সকলেই জেনে গেছেন। তারমধ্যে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ দুটাই রয়েছে। দীর্ঘ নয় মাসের গবেষণায় ২৪০ জন ‘প্রি-ডায়াবেটিক’ অর্থাৎ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ‍ঝুঁকিতে আছেন এমন মানুষকে নিয়মিত ‘কারকিউমিন’ ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। এদের মধ্যে তিনজন নয় মাস পর ডায়াবেটিসে আক্রান্তই হননি।
মেথি: ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে মেথির কার্যকারিতা গবেষকরা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন। ২৫ জন ‘টাইপ টু ডায়াবেটিস’য়ে আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে করা গবেষণায় দেখা যায় তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে মেথি অত্যন্ত উপকারে এসেছে। নিয়মিত ১০ গ্রাম মেথি পানিতে ভিজিয়ে খেলে ‘টাইপ টু ডায়বেটিস’ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়।
আদা: তরকারি আর চায়ে আদার উপস্থিতি বহুকাল ধরেই আছে। হজমের ক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তচাপ কমাতে আদা অত্যন্ত কার্যকর। এই মসলার আছে দারুণ ‘অ্যান্টি-হাইপারগ্লাইসেমিক ইফেক্ট’, যা কমাতে পারে ‘সেরাম টোটাল কোলেস্টেরল’, ‘ট্রাইগ্লিসারাইড’, আর বাড়ায় ‘এইচডিএল’ বা উপকারী কোলেস্টেরল। ডায়াবেটিসের কারণে অনেক সময় বুকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয় যা সারাতেও কাজে আসে আদা।
বিয়ের আগে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

বিয়ের আগে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

দেনমোহর নিয়ে দরকষা, গয়না, শাড়ি, শেরওয়ানি কেনা, বিয়ের খানাদানা কী হবে- এসব নিয়ে যত ব্যস্ততা দেখা যায় ততটাই এড়িয়ে যাওয়া হয় বিয়ে করতে যাওয়া বর ও কনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টা। অথচ স্বাস্থ্যকর সুখের জীবন শুরু করতে এই বিষয়টাই আগে নজরে আনা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল বিস্তারিত।
বন্ধ্যত্ব পরীক্ষা: এই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে নারীর ডিম্বাশয় কিংবা পুরুষের অণ্ডকোষের স্বাস্থ্য এবং পুরুষের শুক্রাণুর পরিমাণ সম্পর্কে। কারণ এই বিষয়গুলোই নারী-পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার অবস্থা জানান দেয়। তাই ভবিষ্যতে সন্তান নিতে পারা কিংবা স্বাভাবিক যৌনজীবন পাওয়ার জন্য এই পরীক্ষা করানো জরুরি। নিজের প্রজননক্ষমতা সম্পর্কে আগেই জানা থাকলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া কিংবা অসুখ চিকিৎসাযোগ্য না হলে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। 
রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা: আপাত দৃষ্টিতে এই পরীক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে নাও হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সন্তানের সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান হওয়ার জন্য বাবা-মায়ের রক্তের ‘আরএইচ ফ্যাক্টর’ বা ‘রিসাস ফ্যাক্টর’ একই হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে গর্ভাবস্থায় নানান জটিলতা দেখা দিতে পারে। বাবা-মায়ের ‘আরএইচ ইনকম্প্যাটিবিলিটি’ থাকলে দ্বিতীয় সন্তানের জন্য তা প্রাণঘাতি হতে পারে। কারণ, এমনটা হলে মায়ের রক্তের ‘অ্যান্টিবডি’ তার গর্ভের সন্তানের রক্তকণিকা ধ্বংস করবে।
বংশগত রোগের পরীক্ষা: অসংখ্য বংশগত রোগ বাবা-মায়ের জিনগত বৈশিষ্ট্য থেকে সন্তানের জিনগত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। তাই হবু স্বামী কিংবা স্ত্রীর এমন কোনো ঝুঁকি আছে কি-না তা সময় থাকতেই জেনে নেওয়া জরুরি। এই রোগগুলোর মধ্যে আছে স্তন ক্যান্সার, অন্ত্রের ক্যান্সার, বৃক্কের রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। সময় মতো পরীক্ষা করানো হলে প্রতিষেধনের বদলে রোগ প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এসটিডি টেস্ট: যৌনমিলনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় এমন রোগগুলোকে বলা হয় ‘সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি)’। সারা জীবনের জন্য কারও সঙ্গী হওয়ার আগে নিজের কিংবা হবু সঙ্গীর এমন কোনো রোগ আছে কি-না তা জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এই ধরনের রোগের মধ্যে আছে এইচআইভি/এইডস, গনোরিয়া, হার্পিস, সিফিলিস, হেপাটাইটিস সি ইত্যাদি। এদের মধ্যে কিছু রোগ প্রাণঘাতি, কোনোটার আবার কোনো চিকিৎসা নেই। তাই বিয়ের আগে প্রতিটি মানুষের উচিত ‘এসটিডি টেস্ট’ করানো।
এই পরীক্ষাগুলোর মধ্যে কোনোটায় খারাপ সংবাদ আসলে তা দুজনের জন্যই একদিক থেকে মঙ্গল। আর সেই দিকটি হল বিয়ের পর খারাপ সংবাদ পেলে সারাজীবন যে অপরাধবোধ, দুশ্চিন্তা, মানসিক অত্যাচার আপনাকে সইতে হত তা থেকে মুক্তি পেলেন।
পাশাপাশি রোগের ঝুঁকি কিংবা রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক অবস্থাতেই অবগত হয়ে গেলেন, যা তার চিকিৎসাকে আরও কার্যকর করবে। হয়ত এই পরীক্ষার কারণেই ভবিষ্যত প্রাণঘাতি রোগ থেকে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পরিত্রাণ মিলবে। তবে বিয়ে করেই যে পরীক্ষা করাতে হবে এমন কোনো কথা নেই, নিজের মতো যেকোনো সময় এই পরীক্ষাগুলো করে রাখা যেতে পারে।
বৃক্কে পাথর হওয়ার লক্ষণ

বৃক্কে পাথর হওয়ার লক্ষণ

পরিচিত কারও ‘কিডনি স্টোন’ বা বৃক্কে পাথর হয়ে থাকলে হয়ত জানেন এই রোগ কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। আকস্মিক হানা দেওয়া তীব্র যন্ত্রণাকে অনেক রোগী সন্তান প্রসবের যন্ত্রণা চাইতেও বেশি বলে দাবি করেন। তাই স্বভাবতই বৃক্কে পাথর হওয়ার উপসর্গ হল তলপেটে ব্যথা। তবে আরও অনেক শারীরিক জটিলতায় শরীরের এই অংশে ব্যথা হতে পারে, তাই ইঙ্গিত বুঝতে না পারা সাধারণ ঘটনা।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে জানানো হল বৃক্কে পাথর কীভাবে হয় এবং তার উপসর্গগুলো বোঝার উপায়গুলো কী।
বৃক্ক পাথর
বৃক্কে সৃষ্ট পাথর হল শরীরের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন খনিজ উপাদান ও লবণের সমষ্টি। সচরাচর এর প্রধান উপাদান হয় ক্যালশিয়াম, ইউরিক অ্যাসিড। সাধারণত পাথরগুলো হয় শক্ত। প্রস্রাবে কোনো নির্দিষ্ট খনিজের মাত্রা বেশি হলে বৃক্কে এই পাথরগুলো জমতে থাকে। আর এই জটিলতায় দুটি প্রধান কারণ হল পানিশূন্যতা ও অতিরিক্ত খাওয়া।
শরীরে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা না হলে প্রস্রাব ঘন হয়। যা থেকে বিশেষ কিছু খনিজের মাত্রা বেড়ে বৃক্কে পাথর হতে শুরু করে।
বৃক্কে সৃষ্ট এই পাথরগুলো আকার বিভিন্ন রকম হতে পারে। এমনকি মুত্রনালির অন্যান্য অংশেও এগুলো চলে যেতে পারে। অধিকাংশ সময় এই পাথরগুলো প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। তবে আকার বড় হয়ে গেলে মুত্রনালি দিয়ে বের হতে পারে না, আর তখনই অস্ত্রোপচার করতে হয়।
উপসর্গ
পেটে, পিঠে ও পাশে তীব্র ব্যথা: নারীদের ক্ষেত্রে বৃক্কে জমা পাথর সরু জরায়ু পথ দিয়ে বের হতে গিয়ে আটকে গেলে বৃক্কে চাপ বাড়তে থাকে। আর তখনই ব্যথা শুরু হয়। এসময় আক্রান্ত ব্যক্তি তার পিঠ, পাঁজরের নিচের অংশে, বুকের একপাশে ব্যথা অনুভব করবে। পাথর বেশি বড় হলে যেই স্থানে পাথরটি আটকাবে সেই স্থানটি ফুলে যেতে পারে।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: মূত্রত্যাগ করতে গিয়ে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া অনুভব করলে তার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বৃক্কের পাথর। মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা তখনই হয় যখন বৃক্কে সৃষ্ট পাথর মুত্রনালী ও মুত্রথলির সংযোগস্থলে পৌঁছায়। ‘ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই)’ বা মূত্রনালীতে সংক্রমণের কারণেও প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হতে পারে।
প্রস্রাবের রং: প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত মিশে যাওয়া বৃক্কে পাথর হওয়ার আরেকটি লক্ষণ। প্রস্রাবের রং যদি লাল, গোলাপি কিংবা বাদামি হয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রস্রাবের বাড়তি বেগ: বৃক্কের বড় পাথরগুলো মূত্রনালী আটকে দিলে প্রস্রাবের প্রবাহ ব্যহত হয়। এতে মূত্রথলি একবারে খালি হতে পারে না। তাই বারবার শৌচাগারে যাওয়ার তাগিদ অনুভূত হয়।
বিস্বাদ ও বমি: পেটে তীব্র ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি বৃক্কে পাথর হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে বমিভাব ও বমি হওয়া বেশ সাধারণ বিষয়। সেই সঙ্গে থাকবে মুখে বিস্বাদভাব। এর কারণ হল বৃক্ক ও ‘গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট’ অর্থাৎ পাকস্থলি এবং অন্ত্রের স্নায়ু পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

শুক্রবার, ৮ মার্চ, ২০১৯

স্বপ্ন দোষ কি এবং কেন ঘটে ?

স্বপ্ন দোষ কি এবং কেন ঘটে ?


স্বপ্নদোষ হলো একজন পুরুষের ঘুমের মধ্যে বীর্যপাতের অভিজ্ঞতা। এটাকে ‘ভেজাস্বপ্ন’ও বলা হয়।
১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেদের এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রাথমিক বছরগুলোতে স্বপ্নদোষ খুব সাধারণ। তবে বয়ঃসন্ধিকালের পরে যেকোনো সময় স্বপ্নদোষ হতে পারে। এটার সাথে যৌন উত্তেজক স্বপ্নের সম্পর্ক থাকতে পারে, আবার নাও পারে। আবার পুরুষদের উত্থান ছাড়াই স্বপ্নদোষ ঘটতে পারে। ঘুম থেকে জাগার সময় কিংবা সাধারণ ঘুমের মধ্যে যে স্বপ্নদোষ হয়, তাকে কখনো কখনো ‘সেক্স ড্রিম’ বলে। মহিলাদের ঘুমের মধ্যে চরম পুলক লাভের অভিজ্ঞতা ঘটতে পারে।
স্বপ্নদোষের মাত্রা

স্বপ্নদোষের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। কিছু পুরুষের টিনএজারদের মতো বেশিসংখ্যক স্বপ্নদোষ হয়, আবার অনেক পুরুষের একবারও হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের ৮৩ শতাংশ পুরুষের জীবনে কখনো না কখনো স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা ঘটে। পশ্চিমা দেশগুলোর বাইরের দেশগুলোতে ৯৮ শতাংশ পুরুষের স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা ঘটে। অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে, ১৫ বছর বয়সী ছেলেদের সপ্তাহে ০.৩৬ বার থেকে শুরু করে ৪০ বছর বয়সী পুরুষদের সপ্তাহে ০.১৮ বার স্বপ্নদোষ হয়। বিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ১৯ বছর বয়সী ছেলেদের সপ্তাহে ০.২৩ বার থেকে ৫০ বছর বয়সী পুরুষদের সপ্তাহে ০.১৫ বার হয়।
কিছু পুরুষ কেবল একটা নির্দিষ্ট বয়সে এ ধরনের স্বপ্ন দেখেন, পক্ষান্তরে অন্য বয়ঃসন্ধিকালের পর থেকেই সারাজীবন এ ধরনের স্বপ্ন দেখতে থাকেন। ঘন ঘন স্বপ্নদোষের সাথে ঘনঘন হস্তমৈথুন করার সুনিশ্চিত সম্পর্ক নেই। বিশ্বখ্যাত যৌন গবেষক আলফ্রেড কিনসে দেখেছেন, ‘ঘনঘন হস্তমৈথুন এবং ঘনঘন যৌন উত্তেজক স্বপ্নের মধ্যে কিছুটা সম্পর্ক থাকতে পারে। সাধারণভাবে যেসব পুরুষের ঘনঘন স্বপ্নদোষ হয়, তারা কম হস্তমৈথুন করেন। এসব পুরুষের কেউ কেউ গর্বিত হন এই ভেবে যে, তাদের ঘনঘন স্বপ্নদোষ হয়, এ কারণে তারা হস্তমৈথুন করেন না। অথচ এদের বেলায় উল্টোটা সত্যি। তারা হস্তমৈথুন করেন না কারণ তাদের ঘনঘন স্বপ্নদোষ হয়।’
একজন পুরুষের স্বপ্নদোষের মাত্রা বেড়ে যায় যদি তিনি টেস্টোসটেরনসমৃদ্ধ ওষুধ গ্রহণ করেন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছুসংখ্যক বালক টেস্টোসটেরনের মাত্রা বাড়ানোর ফলে তাদের স্বপ্নদোষের মাত্রাও মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ শতাংশে।

বয়ঃসন্ধিকালে ১৩ শতাংশ পুরুষের প্রথম বীর্যপাতের অভিজ্ঞতা ঘটে স্বপ্নদোষ হিসেবে। তবে অনেকেই প্রথম বীর্যপাত ঘটায় হস্তমৈথুনের মাধ্যমে।
স্বাভাবিকভাবে বীর্যপাতের পরে পুরুষাঙ্গ শিথিল হয়ে যায়। তবে স্বপ্নদোষের ক্ষেত্রে, বীর্যপাতের পরও পুরুষাঙ্গ শক্ত থাকে।
যদিও স্বপ্নদোষ প্রতিরোধ করতে কিংবা বন্ধ করতে বেশকিছু চিকিৎসা রয়েছে, তবে অনেকেই সেই চিকিৎসার মধ্যে যান না। হিক্কার মতো স্বপ্নদোষেরও অনেক ধরনের ঘরোয়া প্রতিষেধক রয়েছে, তবে তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তা ছাড়া স্বপ্নদোষ কোনো শারীরিক ক্ষতি করে না বলে এবং কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে না করে বলে সাধারণত চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয় না।
মহিলাদের ক্ষেত্রে কিনসে দেখেছেন, ৫ হাজার ৬২৮ জন মহিলার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মহিলা তাদের ৪৫ বছর বয়সের সময় কমপক্ষে একবার স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। ওই সব মহিলা কিনসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ মহিলা তাদের ২১ বছর বয়সের সময় স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। কেউ কেউ ১৩ বছর বয়সে পড়লে এ অভিজ্ঞতা লাভ করেন। যেসব মহিলা ঘুমের মধ্যে চরম পুলক লাভ করেন, সাধারণত তাদের বছরে কয়েকবার এটা হয়। মহিলাদের রতিমোচন হিসেবে ঘুমের মধ্যে যৌন উত্তেজনা জাগে যার মাধ্যমে তারা রতিমোচনের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে তাদের স্বপ্নদোষ নির্ণয় করা সহজ, কারণ হলো বীর্য। মহিলাদের যোনিপথে নিঃসরণ রাগ মোচন ছাড়াই যৌন উত্তেজনার চিহ্ন হতে পারে।
  • স্পারম্যাটোরিয়া
৮ ও ১৯ শতকে, যদি একজন রোগীর ঘনঘন অনৈচ্ছিক বীর্যপাত হতো কিংবা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণ বীর্য বের হতো তখন তার রোগ নির্ণয় করা হতো স্পারম্যাটোরিয়া বা ‘ধাতুদৌর্বল্য’ বলে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা যেমনন্ধ খৎনা করার পরামর্শ দেয়া হতো। বর্তমানে কিছু হার্বাল ওষুধ দিয়ে অনেকেই এর চিকিৎসা করলেও তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
প্রচলিত ধারণা
অনেক রোগী স্বপ্নদোষ হওয়াকে মারাত্মক রোগ বলে মনে করেন। তাদের ধারণা, যৌবনে এটা একটা প্রধান যৌন সম্পর্কিত রোগ। কেউ কেউ নানা ধরনের চিকিৎসা করানন্ধ এমনকি স্বপ্নদোষ ও হস্তমৈথুনের জন্য প্রচলিত ব্যয়বহুল চিকিৎসা করান। এদের অজ্ঞতার সুযোগ নেন অনেকে। স্বপ্নদোষকে ভয়াবহ রোগ হিসেবে অভিহিত করে রোগীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।