Showing posts with label Medical tip. Show all posts
Showing posts with label Medical tip. Show all posts

Wednesday, 25 March 2020

কতক্ষণ বেঁচে থাকে করোনার জীবাণু

কতক্ষণ বেঁচে থাকে করোনার জীবাণু

কোভিড-১৯ এর জন্যে দায়ী ভাইরাসটি কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে তা নির্ভর করে এটি কোন ধরনের বস্তুর গায়ে পড়েছে তার ওপর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দরজার শক্ত হাতল, লিফটের বাটন এবং কিচেন ওয়ার্কটপের মতো শক্ত জিনিসের গায়ে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা টিকে থাকতে পারে। তবে এর আগের গবেষণায় দেখা গেছে সহায়ক পরিবেশে সব ধরনের করোনাভাইরাস এক সপ্তাহও বেঁচে থাকতে পারে।
তবে কাপড়ের মতো নরম জিনিসের গায়ে এটি এতো লম্বা সময় বেঁচে থাকতে পারে না। ফলে আপনি যে কাপড়টি পরেছেন এবং তাতে যদি ওই ভাইরাসটি থাকে, জামাটি একদিন কিম্বা দুদিন না পরলে সেখানে ভাইরাসটি জীবিত থাকার আর সম্ভাবনা নেই।
মনে রাখতে হবে, কোভিড-১৯ এর ভাইরাসটি লেগে আছে এরকম জিনিসে শুধু স্পর্শ করলেই আপনি আক্রান্ত হবেন না। শুধু স্পর্শ করার পর আপনি যদি হাত দিয়ে মুখ, নাক অথবা চোখ স্পর্শ করেন তাহলেই এই ভাইরাসটি আপনার শরীরে ঢুকে পড়বে। তাই এই ভাইরাসটি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ একটি করণীয় হচ্ছে হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ না করা।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সার্স ও মার্সের ভাইরাস লোহা, কাঁচ এবং প্লাস্টিকের গায়ে ৯ (নয়) দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো ভাইরাস ঠাণ্ডা জায়গায় ২৮ দিনও বেঁচে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথের একজন ভাইরোলজিস্ট নিলৎজে ফান ডোরমালেন তার সহকর্মীদের নিয়ে গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন কোভ-২ বা সার্স ভাইরাস কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে। তাতে দেখা গেছে, কাশি দেওয়ার পর থেকে ড্রপলেটের মধ্যে এই ভাইরাসটি তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
ক্ষুদ্র ড্রপলেটে, যার আকার ১ থেকে ৫ মাইক্রোমিটার (মানুষের চুলের ৩০ গুন চিকন) সার্স ভাইরাস কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে কোভ-২ ভাইরাস কার্ডবোর্ডের মতো শক্ত জিনিসের ওপর ২৪ ঘণ্টা আর প্লাস্টিকের জিনিসের গায়ে দুই থেকে তিন দিনও বেঁচে থাকতে পারে।
বৈশ্বিক মহামারি ‍করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৮ জনে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩০ জন। এদের মধ্যে বর্তমানে ১ লাখ ৪৭ হাজার ১৪৫ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং ৭ হাজার ৩৭৮ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। ওই দিজন সুস্থ্য হলেও পরবর্তীতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা যায়। শুক্রবার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২০ জন। সূত্র: বিবিসি

Tuesday, 28 January 2020

করোনা ভাইরাসের ৮ লক্ষণ

করোনা ভাইরাসের ৮ লক্ষণ

করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২০০০ জনের কাছাকাছি, এর মধ্যে বেশিরভাগই চীনের মানুষ। চীনেই সর্বপ্রথম এই ভাইরাসের খবর পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে এটি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। থাইল্যান্ড, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অন্যান্য দেশ থেকেও এই ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা জানা গেছে। তাই, বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে এই মারণ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
কীভাবে এই ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসা করা হবে, তা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO) প্রচার করছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, ২০০৩ সালে ৮০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু ও হাজার হাজার মানুষের আক্রান্ত হওয়ার কারণ 'সার্স' (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম) ভাইরাসের পরিবার থেকেই এসেছে এই নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস। তারা আরো জানিয়েছেন যে এই ভাইরাসটি চীনের বাজারে পাওয়া প্রাণীজ পণ্য বা সামুদ্রিক খাবার থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।
এখন জেনে নেয়া যাক, করোনা ভাইরাস কী এবং কীভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ে।
করোনা ভাইরাস কী?
করোনা ভাইরাস বলতে এক গোত্রের অনেকগুলো ভাইরাসকে বোঝায়, যা মূলত প্রাণীদের মধ্যে পাওয়া যায়। বার্ড ফ্লু তথা সার্স ভাইরাসও এই গোত্রের। হিউম্যান করোনা ভাইরাস এক ধরনের জুনোটিক রোগ এবং এই সংক্রমণটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাসটির অনেক রকম প্রজাতি আছে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা প্রায় ছয়টি করোনা ভাইরাস সনাক্ত করেছেন, যা মানুষকে প্রভাবিত করে এবং হালকা থেকে মারাত্মক লক্ষণ সৃষ্টি করে।
হিউম্যান করোনা ভাইরাসের প্রথম খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল ১৯৬০ সালে একজন রোগীর মধ্যে, যিনি সর্দিতে ভুগছিলেন। করোনাভাইরাস নামটি এসেছে এর আকৃতির ওপর ভিত্তি করে। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে এই ভাইরাসটি ক্রাউন বা মুকুটের মতো দেখতে হওয়ায় এর নাম হয়েছে 'করোনা'।
মানুষ প্রায়ই তাদের জীবনের কোনও না কোনও সময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, সুস্থ হয়ে ওঠে এবং কয়েক মাস পরে আবার সংক্রমিত হতে পারে। মানুষের দেহে ছয় ধরনের করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে, যথা - আলফা করোনা ভাইরাস (NL63 এবং 229E), বিটা করোনা ভাইরাস (HKU1 ও OC43) এবং বাকি দুটি সার্স ও মার্স তাদের প্রাণঘাতী লক্ষণগুলোর জন্য পরিচিত।
হিউম্যান করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কারণ হিউম্যান করোনা ভাইরাস সাধারণত একজন ব্যক্তির শ্বাসনালীকে প্রভাবিত করে। শ্বাসনালীতে সংক্রমিত তরল কাশি বা হাঁচির সময় এক ব্যক্তির থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে চলে যায়। এছাড়াও, যদি সংক্রামিত ব্যক্তি মুখ না ঢেকে খোলা বাতাসে হাঁচি বা কাশি দেয়, তাহলে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যান্য কারণ হলো, সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডশেক, সংক্রামিত কোনো বস্তুর সাথে নাক বা মুখ একসঙ্গে স্পর্শ করা এবং বিরল ক্ষেত্রে, রোগীর মলমূত্র স্পর্শ করা। হিউম্যান করোনা ভাইরাসের লক্ষণ NL63 এবং 229E, HKU1 ও OC43-এর কারণে ফ্লু-এর মতো লক্ষণ দেখা দেয় যা, হালকা থেকে মাঝারি আকার ধারণ করে। অন্যদিকে, মার্স ও সার্স মারাত্মক লক্ষণ সৃষ্টি করে।
এই ভাইরাসের পূর্ববর্তী লক্ষণগুলো হলো -
ক) সর্দি
খ) গলা ব্যথা
গ) কাশি
ঘ) মাথা ব্যাথা
ঙ) জ্বর
চ) হাঁচি
ছ) অবসাদ
জ) শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
এক্ষেত্রে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং যারা বয়স্ক তাদের এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে এবং নিউমোনিয়া বা শ্বাস নালীর ব্যাধির মতো মারাত্মক অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে।
মার্স ও সার্স-এর লক্ষণগুলো মারাত্মক হয়, এর কারণে গুরুতর শ্বাসকষ্টের সমস্যা, কিডনিতে সমস্যা, ডায়রিয়া এবং কোনো ব্যক্তির মৃত্যুও হতে পারে বলে জানা গেছে।
হিউম্যান করোনা ভাইরাস নির্ণয় হিউম্যান করোনা ভাইরাস নির্দিষ্ট কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়, যথা - মলিকিউলার টেস্ট : সক্রিয় সংক্রমণের লক্ষণগুলি খুঁজে বের করতে।
সেরোলজি টেস্ট : এই পরীক্ষাটি নজরদারি করার উদ্দেশ্যে। এটি পূর্ববর্তী সংক্রমণ থেকে অ্যান্টিবডিগুলি সনাক্ত করার জন্য করা হয়, যা একজন ব্যক্তির ভাইরাসের ধরন প্রকাশিত করে।
হিউম্যান করোনা ভাইরাস চিকিৎসা এর সঠিক চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার করা হয়নি। বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে, অনেকগুলো সহায়ক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ওষুধ রয়েছে যেগুলো এর হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গগুলির চিকিৎসা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যথা ও জ্বরের চিকিৎসার জন্য ওষুধ বা গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য গরম পানি, ইত্যাদি।
হিউম্যান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ
ক) হাঁচি বা কাশির পরে হাত ধুয়ে নিন।
খ) কাশি বা হাঁচির আগে মুখ ঢেকে নিন।
গ) আপনার যদি মনে হয় যে আপনি সংক্রামিত, তাহলে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলুন।
ঘ) রান্না না করা গোশত ও ডিম খাওয়া এড়ান। ]
ঙ) নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেট রাখুন।
চ) লক্ষণগুলো দেখা দেয়া মাত্রই ওষুধ খান এবং পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে দেবেন না।
ছ) ধোঁয়াটে এলাকা বা ধূমপান করা এড়িয়ে চলুন।
জ) যথাযথ বিশ্রাম নিন।
ঝ) ভিড় থেকে দূরে থাকুন।
সূত্র : বোল্ডস্কাই

Sunday, 29 December 2019

শীতের রোগ-বালাই : প্রতিকার যেভাবে

শীতের রোগ-বালাই : প্রতিকার যেভাবে

শীতের রোগ-বালাই : প্রতিকার যেভাবে



শীতের আগমন ঘটেছে আমাদের বাংলাদেশে। এই শীত মৌসুমে নানা বয়সের মানুষের নানা রোগে আক্রান্ত বা নানা রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। তাই শীত মৌসুমে আমাদের সবাইকেই আরামদায়ক জীবনযাপনের জন্য একটু বেশি সতর্ক ও সচেতনতা হতে হয়। তবে মনে রাখবেন, সতর্কতা ও সচেতনতা অনেক রোগের আক্রমণ থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। শীত মৌসুমে আমাদের যেসব রোগের প্রকোপ বেড়ে যায় এগুলো হলো : সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, চর্মরোগ ও বাতব্যথা রোগ।
সর্দি কাশি : ঋতু পরিবর্তনের শুরুতে প্রায় সব লোকই কমবেশি সর্দি কাশিতে ভুগে থাকেন। তার সাথে যুক্ত থাকে জ্বর। নাক দিয়ে বারবার পানি ঝরতে থাকে এবং হাঁচি হয়। মাঝে মধ্যে মাথা ব্যথা, শরীরে ব্যথা, গলা ব্যথা এগুলো সাধারণ রোগ। এ রোগগুলো সাধারণ উপসর্গ দেখা দেয়। ইনফ্লুয়েঞ্জার মাধ্যমে এ রোগগুলো হয়। তা ছাড়া ভাইরাসজনিত কারণেও এ ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে। সাধারণত যাদের শরীরে এন্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারাই এ রোগে বেশি ভোগে। ভাইরাসের আক্রমণে দেহের দুর্বলতার সুযোগে ব্যাকটেরিয়াও আক্রমণ করতে পারে। আপনার সর্দি যদি খুব ঘন হয় বা হলুদাভ বা কাশির সাথে হলুদাভ বর্ণের কফ আসে তাহলে ধরে নেবেন আপনি ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। খুব বেশি জ্বর, গলাব্যথা এবং কাশি থাকলে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
করণীয় :
সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হলে অন্যদের সাথে বিশেষ করে শিশুদের সাথে মেলামেশা ওঠাবসা খুব সতর্কতার সাথে করতে হবে। কারণ হাঁচি কাশির মাধ্যমে শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
* হাঁচি দেয়ার সময় নাকে মুখে রুমাল অথবা টিস্যু পেপার ব্যবহার করতে হবে।
* যেখানে সেখানে থুথু বা নাকের পানি বা শ্লেষ্মা ফেলা যাবে না।
* নিজের ব্যবহৃত রুমাল, গামছা বা কাপড় অন্যকে বা শিশুদের ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।
* তরতাজা পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। * শাকসবজি বেশি করে খেতে হবে। * বাসি বা ঠাণ্ডা খাবার পরিহার করতে হবে।
* হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করতে হবে।
* দারুচিনি, লেবু, এলাচ দিয়ে লাল চা পান করতে পারেন।
* বেশি ঠাণ্ডা লাগলে কান ঢাকা গরম টুপি বা গলায় মাফলার ব্যবহার করতে পারেন। * বাইরে বা রাস্তায় চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
হাঁপানি
হাঁপানি বা অ্যাজমাজাতীয় শ্বাসকষ্টের রোগ। এ রোগটি শুধু শীতকালের নয় সারা বছরের। তবে শীতের মৌসুমে তা বেড়ে যায়। তাই তীব্র শীত আসার আগেই সতর্কতা ও সচেতনতা খুবই প্রয়োজন। এতে এ রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং কষ্টের পরিমাণও কমে আসে।
কারণ : যেসব খাবার খেলে অ্যালার্জি হয় যেমন : চিংড়ি, গরুর গোশত, ইলিশ মাছ ইত্যাদি, বায়ুর সাথে ধোঁয়া, ধুলাবালি, ফুলের রেণু ইত্যাদি শ্বাস গ্রহণের সময় ফুসফুসে প্রবেশ করলে হাঁপানি হতে পারে। বংশগত কারণেও হাঁপানি হতে পারে। শিশুদের সর্দি কাশি থেকেও হাঁপানির সৃষ্টি হতে পারে।
লক্ষণ :
* হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়।
* শ্বাসকষ্টে দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়।
* ঠোঁট নীল হয়ে যায় ও গলার শিরা ফুলে যায়।
* রোগী জোরে জোরে শ্বাস নেয়।
* বুকের ভেতর সাঁই সাঁই শব্দ হয়।
* কাশির সাথে সাদা কফ বের হয়।
* শ্বাস নেয়ার সময় রোগীর পাঁজরের মাঝে চামড়া ভেতরের দিকে ঢুকে যায়।
* রাতে রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বলে বিছানা ছেড়ে বসে থাকে।
করণীয় :
* যেসব খাবারে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তা পরিহার করতে হবে।
* শরীরে ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না।
* ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে।
* যেসব সংস্পর্শে হাঁপানি বেড়ে যায় তা থেকে বিরত থাকতে হবে, যেমন : পশুর লোম, কৃত্রিম আঁশ।
* ধূমপান, গুল, সাদা পাতা, জর্দার ব্যবহার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।
* ডাক্তারের পরামর্শে চলতে হবে এবং ইনহেলার সব সময় সাথে রাখতে হবে। প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হবে।
* শ্বাসকষ্টের সময় তরল খাবার খেতে হবে। * ধুলাবালুর কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।
নিউমোনিয়া :
নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগার কারণে নিউমোনিয়া হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। পৃথিবীব্যাপী ৫ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো নিউমোনিয়া। আমাদের বাংলাদেশেও শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। অভিভাবকদের সতর্কতা ও সচেতনতার ফলে এ রোগ থেকে অনেকাংশে বেঁচে থাকা যায়। এ রোগ প্রতিরোধযোগ্য এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য।
কারণ : নিউমোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। তা ছাড়া আরো বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে।
লক্ষণ :
* ফুসফুসে শ্লেষ্মাজাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়।
* কাশি এবং শ্বাসকষ্ট হয়।
* বেশি জ্বর হয়।
* বেশি আক্রান্ত হলে বুকের মধ্যে গড় গড় শব্দ হয়।
* মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয় এবং শ্বাস গ্রহণের কষ্টে শিশুরা ছটফট করে।
করণীয় :
ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না। শীত উপযোগী হালকা ও নরম গরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে।
* ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করানো যাবে না। সহনীয় গরম পানিতে গোসল দিতে হবে।
* সর্দি কাশি হাঁচিতে আক্রান্ত শিশুরা বা লোকদের কাছে শিশুকে নেয়া যাবে না। হাঁচির মাধ্যমে নানা রোগ ছড়াতে পারে।
* শিশুদের কাছে বড়রা হাঁচি কাশিতে আক্রান্ত হলে হাঁচি দেয়ার সময় অবশ্যই রুমাল বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করতে হবে।
* ধুলাবালু, চুলার ধোঁয়া, মশার কয়েল ও সিগারেটের ধোঁয়া থেকে অবশ্যই শিশুদের দূরে রাখতে হবে।
* তরল ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।
* সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু ঘুমাবার সময় নিচে যদি কাপড় থাকে, তা প্রস্রাব করে ভিজিয়ে ফেলে তাহলে তা সাথে সাথে সরিয়ে নিতে হবে বা পাল্টাতে হবে। অ

ধিক সময় শিশুর নিচে ভেজা কাপড় থাকলে ঠাণ্ডা লেগে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
চর্মরোগ : শীতকালে আবহাওয়ার সাথে কম তাপমাত্রার সংযোগ আর ধুলাবালু সব মিলিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যের নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এ সমস্যার মধ্যে একটি রোগ হলো চর্মরোগ। যা শীতকালে এর প্রকোপ বেড়ে যায়। শীতের সময় বাতাসের জলীয়বাষ্প কমে যাওয়ার কারণে চামড়া থেকে পানি চুষে নেয়। এর ফলে ত্বক বা চামড়া শুষ্ক হয়ে ওঠে এ সমস্যাটি কম বেশি সব বয়সের নারী-পুরুষের হয়ে থাকে। বিশেষ করে পা, পেটে উভয় দিক এবং ঠোঁট বেশি আক্রান্ত হয়। পায়ে ধুলাবালি লেগে থাকলে পা ফেটে যেতে পারে। তা ছাড়া ঠোঁটের যত্ন না নিলে পুষ্টিকর খাবারের অভাবে ঠোঁট ফেটে যেতে পারে।
শীতকালীন সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় তাহলো ঠোঁট ফেটে যায়। আমাদের চামড়ার নিচে সিবেসিয়াম নামক আণুবীক্ষণিক গ্রন্থি থাকে যা থেকে তেলের মতো রস ক্ষরিত হয়। যাকে সিবাম বলে। যা আমাদের শীরের ঘামের সাথে মিশে গিয়ে পুরো চামড়ায় ছড়িয়ে যায় এবং চামড়া মসৃণ ও চামড়ার আর্দ্রতা বজায় রাখে। আর শীতকালে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে সিবেসিয়াম গ্রন্থি থেকে বের হয়ে আসা শরীরের চামড়ায় ঠিকমতো ছড়িয়ে পড়তে পারে না। ফলে শরীরের চামড়া শুকিয়ে গিয়ে কুঁচকে যায় বা টানটান ভাব দেখা দেয়।
অপর দিকে আমাদের ঠোঁটের চামড়া শরীরের অন্য অংশের চেয়ে পাতলা। তা ছাড়া নাকের নিচে ঠোঁট থাকায় আমাদের দেহের গরম বাতাস নাক দিয়ে বের হওয়ার সময় বা নিঃশ্বাসের সময় ঠোঁট আরো শুকিয়ে দেয়, তাই শীতকালে ঠোঁট বেশি ফাটে। তা ছাড়া যারা বারবার জিহ্বা ঠোঁট ভিজিয়ে রাখে তাদের ঠোঁট বেশি ফাটে। সরাসরি সূর্যালোকের কারণে যেকোনো ঋতুতেই ত্বক শুষ্ক হতে পারে। আবার সাবান, ক্লিনজার ডিটারজেন্টে ক্ষার থাকে, যা ত্বকের ময়লা পরিষ্কারের সময় ক্ষার ত্বকের বা চামড়ার পানি ও তেল চুষে নেয়, ফলে ত্বক শুকিয়ে যায়। আবার প্রয়োজনীয় পানি পান না করলে দেহে পানির অভাবে চামড়া শুকিয়ে যায়।
করণীয় :
যাদের এমন সমস্যা দেখা দেয় তারা অল্প গরম পানিতে কম সময় গোসল করুন।
* যতটা সম্ভব কম ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন।
* গোসলের পর শরীরে ময়েশ্চারাইজার যেমন : পেট্রোলিয়াম জেলি, গ্লিসারিন, বিভিন্ন লোশন ব্যবহার করুন।
* শীত মৌসুমে খাঁটি অলিভ অয়েল সারা শরীরে ব্যবহার করুন। এতে শরীরের চামড়া ফাটবেও না মসৃণও হবে এবং শীতও কম লাগবে।
* হাত পা ও ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন।
* ত্বককে সুরক্ষা রাখতে ভ্যাসলিন, গ্লিসারিন, অলিভ অয়েল, সরিষার তেল ব্যবহার করুন।
* বেশিক্ষণ রোদে থাকবেন না।
* কড়া আগুন পোহাবেন না। এতে চামড়ার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
* শীতে মাথায় খুশকি হয় তাই একটু ঘন ঘন শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। শীত মৌসুমে চামড়ায় খোসপাঁচড়া হতে পারে। তাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
ব্যথাবেদনা :
আমাদের দেশে বেশির ভাগ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিরাই শরীরের নানা বিষ বেদনায় ভোগেন। এ দেশে ৫০ ঊর্ধ্ব জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ ভাগই ব্যথাজনিত সমস্যায় ভোগেন। বিশেষ করে যেসব জয়েন্ট শরীরের ওজন বহন করে এবং বেশি ব্যবহৃত হয় সেগুলো ব্যথা-বেদনা বেশি হয়। ঘাড়, কোমর, সোল্ডার জয়েন্ট, হাঁটুর ব্যথা, পায়ের ব্যথা ও মেরুদণ্ডের ব্যথা উল্লেখযোগ্য। শীরের নানা অংশে সমস্যার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসরা বলেছেন, মেরুদণ্ডের মাংসপেশি বা কশেরুকার সমস্যা, লিগামেন্ট মসকানো, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক ক্ষয় হয়ে যাওয়া বা সমস্যা। আর বয়সজনিত হাড় ও জোড়ার ক্ষয়।
করণীয়
* ব্যথাবেদনা বেশি হলে কমপক্ষে ৭ দিন বিশ্রামে থাকুন।
* ব্যথার জায়গা ১০-১৫ মিনিট গরম বা ঠাণ্ডা সেঁক দিন। * বিছানায় ঘুমাবার সময় যেকোনো একদিকে কাত হয়ে হাতের উপর ভর দিয়ে শোয়া ও ওঠার চর্চা করুন।
* ঘাড় নিচু করে কোনো কাজ করবেন না।
* পিঁড়ি, মোড়া বা ফ্লোরে না বসে চেয়ারে মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন।
* শক্ত সমান বিছানায় ঘুমাবেন।
* মাথায় বা হাতে ভারী বোঝা বহন করবেন না।
* শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখুন।
* পেট ভরে খাবেন না। বরং অল্প অল্প করে কিছুক্ষণ পর পর খাবেন।
* কোনো প্রকার মালিশ করবেন না।
* সিঁড়িতে ওঠার সময় ধীরে ধীরে হাতল ধরে উঠবেন।
* অনেক সময় এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
* মহিলাদের ক্ষেত্রে হাইহিলযুক্ত জুতা ব্যবহার করবেন না।
* ঘুমাবার সময় মধ্যম আকারের বালিশ ব্যবহার করুন।
* দাঁড়ানো থেকে হঠাৎ করে নিচু ভারী জিনিস ধরবেন না বা তুলবেন না।
যেকোনো সমস্যা দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরমার্শ নেবেন এবং সেই মোতাবেক চলবেন। সতর্ক হন, সচেতন হন সুস্থজীবন গড়ুন।

Sunday, 15 December 2019

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ভেষজ উপাদান

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ভেষজ উপাদান


উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ভেষজ উপাদান


ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের সাধারণত নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। আর ওষুধের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদানও এই দুই সমস্যার ক্ষেত্রে উপকারী।
ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপ আজকাল সবঘরেই পৌছে গেছে। আর দুটি রোগই সঠিক পরিচর্যার অভাবে মোড় নিতে পারে আরও একাধিক ভয়ংকর রোগের দিকে যার মধ্যে প্রথমসারিতেই আছে ‘স্ট্রোক’, দৃষ্টিশক্তি লোপ, হৃদরোগ, বৃক্কের সমস্যা, ‘হার্ট অ্যাটাক’, ‘ভাস্কুলার ডিমেনসিয়া’, ‘পেরিফেরাল ব্লাড ভেসেল ডিজিস ইত্যাদি মারাত্বক রোগ। তাই রক্তচাপ আর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর এই দুটি রোগে যারা আক্রান্ত তাদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করে যেতে হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল এমন কয়েকটি ভেষজ উপাদান সম্পর্কে।
তুলসি: রক্তচাপ কমাতে তুলসি অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান ‘ইউজেনল’ সেই উপাদানগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে যা রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। তুলসি পাতা গ্রহণের সবচাইতে সহজ উপায় হল চায়ের পানিতে ফুটিয়ে তা পান করা।
রসুন: শীতকালে স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই রসুন খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। মসলাজাতীয় এই ভেষজ উপাদান শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, সঙ্গে দেয় নানান উপকারিতা। শরীরে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’য়ের মাত্রা বাড়ানোর মাধ্যমে রসুন রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ রক্তনালী শিথিল ও প্রসারিত করে যা পক্ষান্তরে রক্তচাপ কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন সুগম করে।
দারুচিনি: কেক বানানো থেকে তরকারি রান্না- সবকিছুতেই আছে এই গরম মসলা। তবে রক্তচাপ কমাতেও এর জুড়ি নেই। আকস্মিক উচ্চ রক্তচাপ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, দুই ক্ষেত্রেই সমান কার্যকর দারুচিনি।
হলুদ: এই মসলায় থাকা ‘কারকিউমিন’য়ের গুণগান ইতোমধ্যেই প্রায় সকলেই জেনে গেছেন। তারমধ্যে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ দুটাই রয়েছে। দীর্ঘ নয় মাসের গবেষণায় ২৪০ জন ‘প্রি-ডায়াবেটিক’ অর্থাৎ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ‍ঝুঁকিতে আছেন এমন মানুষকে নিয়মিত ‘কারকিউমিন’ ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। এদের মধ্যে তিনজন নয় মাস পর ডায়াবেটিসে আক্রান্তই হননি।
মেথি: ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে মেথির কার্যকারিতা গবেষকরা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন। ২৫ জন ‘টাইপ টু ডায়াবেটিস’য়ে আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে করা গবেষণায় দেখা যায় তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে মেথি অত্যন্ত উপকারে এসেছে। নিয়মিত ১০ গ্রাম মেথি পানিতে ভিজিয়ে খেলে ‘টাইপ টু ডায়বেটিস’ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়।
আদা: তরকারি আর চায়ে আদার উপস্থিতি বহুকাল ধরেই আছে। হজমের ক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তচাপ কমাতে আদা অত্যন্ত কার্যকর। এই মসলার আছে দারুণ ‘অ্যান্টি-হাইপারগ্লাইসেমিক ইফেক্ট’, যা কমাতে পারে ‘সেরাম টোটাল কোলেস্টেরল’, ‘ট্রাইগ্লিসারাইড’, আর বাড়ায় ‘এইচডিএল’ বা উপকারী কোলেস্টেরল। ডায়াবেটিসের কারণে অনেক সময় বুকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয় যা সারাতেও কাজে আসে আদা।
বিয়ের আগে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

বিয়ের আগে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

দেনমোহর নিয়ে দরকষা, গয়না, শাড়ি, শেরওয়ানি কেনা, বিয়ের খানাদানা কী হবে- এসব নিয়ে যত ব্যস্ততা দেখা যায় ততটাই এড়িয়ে যাওয়া হয় বিয়ে করতে যাওয়া বর ও কনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টা। অথচ স্বাস্থ্যকর সুখের জীবন শুরু করতে এই বিষয়টাই আগে নজরে আনা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল বিস্তারিত।
বন্ধ্যত্ব পরীক্ষা: এই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে নারীর ডিম্বাশয় কিংবা পুরুষের অণ্ডকোষের স্বাস্থ্য এবং পুরুষের শুক্রাণুর পরিমাণ সম্পর্কে। কারণ এই বিষয়গুলোই নারী-পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার অবস্থা জানান দেয়। তাই ভবিষ্যতে সন্তান নিতে পারা কিংবা স্বাভাবিক যৌনজীবন পাওয়ার জন্য এই পরীক্ষা করানো জরুরি। নিজের প্রজননক্ষমতা সম্পর্কে আগেই জানা থাকলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া কিংবা অসুখ চিকিৎসাযোগ্য না হলে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। 
রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা: আপাত দৃষ্টিতে এই পরীক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে নাও হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সন্তানের সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান হওয়ার জন্য বাবা-মায়ের রক্তের ‘আরএইচ ফ্যাক্টর’ বা ‘রিসাস ফ্যাক্টর’ একই হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে গর্ভাবস্থায় নানান জটিলতা দেখা দিতে পারে। বাবা-মায়ের ‘আরএইচ ইনকম্প্যাটিবিলিটি’ থাকলে দ্বিতীয় সন্তানের জন্য তা প্রাণঘাতি হতে পারে। কারণ, এমনটা হলে মায়ের রক্তের ‘অ্যান্টিবডি’ তার গর্ভের সন্তানের রক্তকণিকা ধ্বংস করবে।
বংশগত রোগের পরীক্ষা: অসংখ্য বংশগত রোগ বাবা-মায়ের জিনগত বৈশিষ্ট্য থেকে সন্তানের জিনগত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। তাই হবু স্বামী কিংবা স্ত্রীর এমন কোনো ঝুঁকি আছে কি-না তা সময় থাকতেই জেনে নেওয়া জরুরি। এই রোগগুলোর মধ্যে আছে স্তন ক্যান্সার, অন্ত্রের ক্যান্সার, বৃক্কের রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। সময় মতো পরীক্ষা করানো হলে প্রতিষেধনের বদলে রোগ প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এসটিডি টেস্ট: যৌনমিলনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় এমন রোগগুলোকে বলা হয় ‘সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি)’। সারা জীবনের জন্য কারও সঙ্গী হওয়ার আগে নিজের কিংবা হবু সঙ্গীর এমন কোনো রোগ আছে কি-না তা জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এই ধরনের রোগের মধ্যে আছে এইচআইভি/এইডস, গনোরিয়া, হার্পিস, সিফিলিস, হেপাটাইটিস সি ইত্যাদি। এদের মধ্যে কিছু রোগ প্রাণঘাতি, কোনোটার আবার কোনো চিকিৎসা নেই। তাই বিয়ের আগে প্রতিটি মানুষের উচিত ‘এসটিডি টেস্ট’ করানো।
এই পরীক্ষাগুলোর মধ্যে কোনোটায় খারাপ সংবাদ আসলে তা দুজনের জন্যই একদিক থেকে মঙ্গল। আর সেই দিকটি হল বিয়ের পর খারাপ সংবাদ পেলে সারাজীবন যে অপরাধবোধ, দুশ্চিন্তা, মানসিক অত্যাচার আপনাকে সইতে হত তা থেকে মুক্তি পেলেন।
পাশাপাশি রোগের ঝুঁকি কিংবা রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক অবস্থাতেই অবগত হয়ে গেলেন, যা তার চিকিৎসাকে আরও কার্যকর করবে। হয়ত এই পরীক্ষার কারণেই ভবিষ্যত প্রাণঘাতি রোগ থেকে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পরিত্রাণ মিলবে। তবে বিয়ে করেই যে পরীক্ষা করাতে হবে এমন কোনো কথা নেই, নিজের মতো যেকোনো সময় এই পরীক্ষাগুলো করে রাখা যেতে পারে।
বৃক্কে পাথর হওয়ার লক্ষণ

বৃক্কে পাথর হওয়ার লক্ষণ

পরিচিত কারও ‘কিডনি স্টোন’ বা বৃক্কে পাথর হয়ে থাকলে হয়ত জানেন এই রোগ কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। আকস্মিক হানা দেওয়া তীব্র যন্ত্রণাকে অনেক রোগী সন্তান প্রসবের যন্ত্রণা চাইতেও বেশি বলে দাবি করেন। তাই স্বভাবতই বৃক্কে পাথর হওয়ার উপসর্গ হল তলপেটে ব্যথা। তবে আরও অনেক শারীরিক জটিলতায় শরীরের এই অংশে ব্যথা হতে পারে, তাই ইঙ্গিত বুঝতে না পারা সাধারণ ঘটনা।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে জানানো হল বৃক্কে পাথর কীভাবে হয় এবং তার উপসর্গগুলো বোঝার উপায়গুলো কী।
বৃক্ক পাথর
বৃক্কে সৃষ্ট পাথর হল শরীরের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন খনিজ উপাদান ও লবণের সমষ্টি। সচরাচর এর প্রধান উপাদান হয় ক্যালশিয়াম, ইউরিক অ্যাসিড। সাধারণত পাথরগুলো হয় শক্ত। প্রস্রাবে কোনো নির্দিষ্ট খনিজের মাত্রা বেশি হলে বৃক্কে এই পাথরগুলো জমতে থাকে। আর এই জটিলতায় দুটি প্রধান কারণ হল পানিশূন্যতা ও অতিরিক্ত খাওয়া।
শরীরে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা না হলে প্রস্রাব ঘন হয়। যা থেকে বিশেষ কিছু খনিজের মাত্রা বেড়ে বৃক্কে পাথর হতে শুরু করে।
বৃক্কে সৃষ্ট এই পাথরগুলো আকার বিভিন্ন রকম হতে পারে। এমনকি মুত্রনালির অন্যান্য অংশেও এগুলো চলে যেতে পারে। অধিকাংশ সময় এই পাথরগুলো প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। তবে আকার বড় হয়ে গেলে মুত্রনালি দিয়ে বের হতে পারে না, আর তখনই অস্ত্রোপচার করতে হয়।
উপসর্গ
পেটে, পিঠে ও পাশে তীব্র ব্যথা: নারীদের ক্ষেত্রে বৃক্কে জমা পাথর সরু জরায়ু পথ দিয়ে বের হতে গিয়ে আটকে গেলে বৃক্কে চাপ বাড়তে থাকে। আর তখনই ব্যথা শুরু হয়। এসময় আক্রান্ত ব্যক্তি তার পিঠ, পাঁজরের নিচের অংশে, বুকের একপাশে ব্যথা অনুভব করবে। পাথর বেশি বড় হলে যেই স্থানে পাথরটি আটকাবে সেই স্থানটি ফুলে যেতে পারে।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: মূত্রত্যাগ করতে গিয়ে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া অনুভব করলে তার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বৃক্কের পাথর। মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা তখনই হয় যখন বৃক্কে সৃষ্ট পাথর মুত্রনালী ও মুত্রথলির সংযোগস্থলে পৌঁছায়। ‘ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই)’ বা মূত্রনালীতে সংক্রমণের কারণেও প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হতে পারে।
প্রস্রাবের রং: প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত মিশে যাওয়া বৃক্কে পাথর হওয়ার আরেকটি লক্ষণ। প্রস্রাবের রং যদি লাল, গোলাপি কিংবা বাদামি হয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রস্রাবের বাড়তি বেগ: বৃক্কের বড় পাথরগুলো মূত্রনালী আটকে দিলে প্রস্রাবের প্রবাহ ব্যহত হয়। এতে মূত্রথলি একবারে খালি হতে পারে না। তাই বারবার শৌচাগারে যাওয়ার তাগিদ অনুভূত হয়।
বিস্বাদ ও বমি: পেটে তীব্র ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি বৃক্কে পাথর হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে বমিভাব ও বমি হওয়া বেশ সাধারণ বিষয়। সেই সঙ্গে থাকবে মুখে বিস্বাদভাব। এর কারণ হল বৃক্ক ও ‘গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট’ অর্থাৎ পাকস্থলি এবং অন্ত্রের স্নায়ু পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

Sunday, 8 December 2019

সর্দিজ্বর: কেন হয় এবং কী করবেন?

সর্দিজ্বর: কেন হয় এবং কী করবেন?

হঠাৎ ঠান্ডা লাগা বা সর্দিজ্বর হওয়া যে কারো জন্য খুবই সাধারণ একটি বিষয়। ঠান্ডা বা সর্দিজ্বর মানুষকে খুবই সামান্য কারণে যেমন ভোগাতে পারে, তেমনি সহজেই সেরেও যেতে পারে।
সাধারণত ঠান্ডা লাগা বা সর্দিজ্বরের বেশকিছু সাধারণ উপসর্গ থাকে যেগুলো শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে একইরকম হয়ে থাকে।
  • নাক বন্ধ হওয়া, সর্দি থাকা
  • গলা ব্যাথা
  • মাথা ব্যাথা
  • মাংসপেশীতে ব্যাথা
  • কাশি
  • হাঁচি
  • জ্বর
  • কানে ও মুখে চাপ অনুভব করা
  • স্বাদ ও ঘ্রাণের অনুভূতি কমে আসা

কেন সর্দি হয়?

সর্দিজ্বর পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি হওয়া রোগগুলোর একটি।
ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাকমে'র সিনিয়র ম্যানেজার ও চিকিৎসক আফরোজা আখতার বলেন, "একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির বছরে ৪ থেকে ৬ বার এবং একটি শিশুর বছরে ১০ থেকে ১২ বার সর্দিজ্বর হওয়া স্বাভাবিক বিষয়।"
অর্থাৎ, আপনার জীবদ্দশায় ২০০ বারের বেশি সর্দি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আপনার।
এই সর্দিজ্বর বা ঠান্ডা লাগার কারণ ভাইরাস সংক্রমণ।
একসময় ধারণা করা হতো একটি বিশেষ গোত্রের ভাইরাসের মাধ্যমেই শুধু সর্দি হয়। তবে ৮০'র দশকে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয় যে মোট সাতটি গোত্রের ভাইরাসের কারণে সর্দিজ্বর হয়ে থাকে।
ঠান্ডার মৌসুমে বা শীতের সময় এই ভাইরাসগুলো দ্রুত সংক্রমিত হওয়ার মত পরিবেশ পায় বলে শীতের সময় সর্দি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায় এবং শীতের সময় মানুষের বেশি সর্দি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সর্দিজ্বর সংক্রমিত থাকা অবস্থায় নাসারন্ধ্রের ভেতরে মিউকাস লাইনিং অতিক্রম করে প্রবেশ করে সংক্রমণকারী জীবাণু। এর ফলে নাাসরন্ধ্রের ভেতর অতিরিক্ত সর্দি জমা হয়, ডাক্তারি শাস্ত্র যেটিকে 'রাইনোরেয়াা' বলা হয়।

সর্দি যেন ছড়িয়ে না পড়ে

ঠান্ডা বা সর্দিজ্বরের উপসর্গ দেখা দেয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই সর্দিজ্বর আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি অন্যের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারেন। ঠান্ডা যেন ছড়িয়ে না পরে সেজন্য কয়েকটি পদক্ষেপ মেনে চলা যায়।
গরম পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া
  • ঠান্ডায় আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে তোয়ালে বা গৃহস্থালির দ্রব্যাদি (যেমন কাপ, প্লেট) শেয়ার না করা।
  • ঠান্ডা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর নিজের চোখ বা নাক স্পর্শ না করা।
  • এই সর্দিজ্বর বা ঠান্ডা লাগার কারণ ভাইরাস সংক্রমণ।
    একসময় ধারণা করা হতো একটি বিশেষ গোত্রের ভাইরাসের মাধ্যমেই শুধু সর্দি হয়। তবে ৮০'র দশকে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয় যে মোট সাতটি গোত্রের ভাইরাসের কারণে সর্দিজ্বর হয়ে থাকে।
    ঠান্ডার মৌসুমে বা শীতের সময় এই ভাইরাসগুলো দ্রুত সংক্রমিত হওয়ার মত পরিবেশ পায় বলে শীতের সময় সর্দি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায় এবং শীতের সময় মানুষের বেশি সর্দি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
    সর্দিজ্বর সংক্রমিত থাকা অবস্থায় নাসারন্ধ্রের ভেতরে মিউকাস লাইনিং অতিক্রম করে প্রবেশ করে সংক্রমণকারী জীবাণু। এর ফলে নাাসরন্ধ্রের ভেতর অতিরিক্ত সর্দি জমা হয়, ডাক্তারি শাস্ত্র যেটিকে 'রাইনোরেয়াা' বলা হয়।

    সর্দি যেন ছড়িয়ে না পড়ে

    ঠান্ডা বা সর্দিজ্বরের উপসর্গ দেখা দেয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই সর্দিজ্বর আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি অন্যের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারেন। ঠান্ডা যেন ছড়িয়ে না পরে সেজন্য কয়েকটি পদক্ষেপ মেনে চলা যায়।
    • গরম পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া
    • ঠান্ডায় আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে তোয়ালে বা গৃহস্থালির দ্রব্যাদি (যেমন কাপ, প্লেট) শেয়ার না করা।
    • ঠান্ডা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর নিজের চোখ বা নাক স্পর্শ না করা।
    • সর্দিজ্বর থেকে বাঁচবেন যেভাবে

      মিষ্টি আলু, বিটের মূল, কয়েকটি বিশেষ ধরণের কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণ বেটা-ক্যারোটিন থাকে যেটিকে আমাদের দেহ ভিটামিন এ'তে রূপান্তরিত করে। ভিটামিন এ আমাদের নাক এবং ফুসফুসের মিউকোসাল লাইনিংকে শক্ত রাখে যা নাগ ও ফুসফুসকে ইনফেকশনের হাত থেকে বাঁচায়।
      পাশাপাশি কমলা, আম, তরমুজসহ লাল ফল একই ধরণের কাজ করে।
      এছাড়া খাবারে যথেষ্ট পরিমাণ পেঁয়াজ ও রসুন থাকলেও ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। পেঁয়াজ ও রসুনে একধরণের তেল থাকে যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।
      এছাড়া ঠান্ডা বা সর্দিজ্বর থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে ভিটামিন সি'র ভূমিকা অনেক আগে থেকেই প্রমাণিত। ঠান্ডা পরিবেশে বসবাসকারী মানুষ উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি গ্রহণ করে সর্দিজ্বর বা ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে পারেন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
      সূর্যের আলো বা অন্য কোনো উৎসের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি গ্রহণও শরীরকে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।
      শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ১৯৩০ এর দশকে ভিটামিন সি ছিল সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা। এটি সত্তরের দশকে এসে আরো বেশি জনপ্রিয় হয় যখন নোবেল বিজয়ী লিনাস পোলিং গবেষণা করে প্রমাণ করেন যে ভিটামিন সি ঠান্ডাজনিত রোগ উপশমে অনেকবেশি কার্যকর।
      সম্প্রতি ককরেন গ্রুপের গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঠান্ডা থেকে মুক্তিতে ভিটামিন সি'র ভূমিকা খুব বেশি নয়। এটি শরীরের জন্যে ক্ষতিকর নয় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন সি শরীর থেকে মুত্রের সাথে বেড়িয়ে যায়।
      তবে জিঙ্ক ক্ষতিকর হয়ে দাড়াতে পারে যদি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সুতরাং সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই ভালো।

      কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

      ডাক্তার আফরোজা আখতার বলেন সর্দিজ্বর সাধারণত কয়েকদিনের মধ্যে সেরে গেলেও বেশিদিন সর্দিজ্বর থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
      "টানা সাতদিনের বেশি সর্দিজ্বর থাকলে বা টানা তিনদিনের বেশি সর্দির সাথে উচ্চমাত্রায় জ্বর থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।"
      শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার ক্ষেত্রে সাতদিন অপেক্ষা না করার পরামর্শ দেন মিজ আখতার। শিশুদের তিনদিনের বেশি সর্দি থাকলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
      সর্দির সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হলে বা বুকে ব্যাথা হলেও অতিসত্বর চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মিজ. আখতার।

Monday, 25 November 2019

খাদ্যে অ্যালার্জি

খাদ্যে অ্যালার্জি

খাদ্যে এলার্জি থেকে খাদ্য থেকে তৈরি হওয়া এক অস্বাভাবিক ইমিউন প্রতিক্রিয়া ।  এলার্জি প্রতিক্রিয়া লক্ষণগুলি হালকা থেকে গুরুতর হতে পারে।  এতে চুলকানি, জিহ্বা ফুলে ওঠা, বমি, ডায়রিয়া, হাইভ, শ্বাসকষ্ট বা রক্তচাপ কম হয়ে যেতে পারে।  এটা সাধারণত এক্সপোজারের কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটে। যখন লক্ষণগুলি গুরুতর হয়, তখন তাকে অনাফিল্যাক্সিস বলা হয়।  খাদ্যে অসহিষ্ণুতা এবং খাদ্যে বিষাক্ততা পৃথক অবস্থা এবং সেগুলো ইমিউন প্রতিক্রিয়া দ্বারা সৃষ্টি হয় না। 
সাধারণত গরুর দুধ, চিনাবাদাম, ডিম, শেলফিশ, মাছ, গাছ বাদাম, সয়া, গম, চাল এবং ফল এর দ্বারা খাদ্যে এলার্জি হতে পারে। সাধারণ এলার্জি দেশের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।  ঝুঁকির কারণগুলি হতে পারে পারিবারিক এলার্জির ইতিহাস, ভিটামিন ডি-এর অভাব, স্থূলতা এবং অত্যধিক পরিচ্ছন্নতার।  অ্যালার্জিগুলি ঘটে যখন শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ ইমিউনোগ্লোবুলিন ই , খাদ্য অণুর সাথে সংযুক্ত হয়। খাদ্যের প্রোটিনই মূলত মূল সমস্যা।এটি হিস্টামাইনের মতো প্রদাহজনক রাসায়নিক পদার্থগুলি মুক্ত করে।  রোগ নির্ণয় সাধারণত একটি চিকিৎসা ইতিহাস, খাদ্য বাছাই, ত্বক বিদ্ধ করে পরীক্ষা, নির্দিষ্ট খাদ্যের  অ্যান্টিবডিগুলির জন্য রক্ত পরীক্ষা, বা মৌখিক খাদ্য চ্যালেঞ্জের ভিত্তিতে হয়। 
যে সকল খাবারে এলার্জি হতে পারে শুরু দিকেই সে সকল খাবারের এক্সপোজার প্রতিরক্ষামূলক হতে পারে। ব্যবস্থাপনা করা হয় যে সকল খাবারে এলার্জি আছে সেগুলো এড়িয়ে চলা এবং এক্সপোজার হয়ে গেলে পরিকল্পনা রাখার মাধ্যমে। এই পরিকল্পনার   অংশ হতে পারে অ্যাড্রেনালিন দেওয়া এবং চিকিৎসা সর্তকতা জুয়েলারি পরা। খাদ্যে এলার্জির ক্ষেত্রে এই এলার্জেন ইমুনোথেরাপির উপকার উপকার পরিষ্কার নয়, তাই ২০১৫ সাল থেকে এটাকে সুপারিশ করা হয় না। বাচ্চাদের কিছু খাদ্যে এলার্জি বয়সের সাথে সাথে সমাধান হয়ে যায় যেমন দুধ, ডিম এবং সয়া; অন্যদিকে কিছু কিছু যেমন বাদাম এবং সেলফিশ এর সমাধান সাধারণত হয় না।
উন্নত বিশ্বে প্রায় ৪% থেকে ৮% লোকের  কমপক্ষে একটি  খাবারে খাদ্য এলার্জি আছে। এটা  প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে বাচ্চাদের মধ্যে বেশি এবং অনুপাতে বাড়ছে।  মেয়ে শিশুদের থেকে সাধারণ ছেলে  শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। কিছু এলার্জি সাধারণত জীবনের শুরুর দিকে বিকশিত হয় কোন দিকে কিছু এলার্জি সাধারণত পরবর্তী জীবনে বিকশিত হয়।  উন্নত বিশ্বে জনগণের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করে তাদের খাদ্যে এলার্জি আছে যদিও তাদের খাদ্যে এলার্জি থাকে না।  ব্রাজিলে খাদ্যে এলার্জি এর উপস্থিতি জানানো বাধ্যতামূলক।

লক্ষণ ও উপসর্গ

:
  • ফুসকুড়ি
  • হাইভস 
  • মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা, গলা, চোখ, ত্বক, বা অন্যান্য এলাকায় চুলকানি 
  • ঠোঁট, জিহ্বা, চোখের পাপড়ি, বা পুরো মুখ ফুলে যাওয়া ( angioedema ) 
  • খাবার গিলতে সমস্যা 
  • সর্দি কিংবা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া 
  • কর্কশ কণ্ঠ 
  • হুইসিং (শ্বাসের সময় বাঁশির মোট শব্দ) এবং / অথবা শ্বাসকষ্ট 
  • ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, এবং /থবা পেট কামড়ানো 
  • মাথা হাল্কা হয়ে যাওয়া 
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া 
  • বমি বমি ভাব 
  • বমি করা 
অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে কয় ঘন্টা দেরিও হতে পারে। 
লক্ষণ পরিবর্তিত হতে পারে। প্রতিক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের পরিমাণেও ভিন্ন হয়। 
এলার্জি সংক্রান্ত গুরুতর বিপদ শুরু হতে পারে যখন শ্বাসযন্ত্র বা রক্ত সঞ্চালন প্রভাবিত হয়। শ্বাস এর সময় বাঁশির মতো শব্দ বা  নীল হয়ে যাওয়া দেখে এটার নির্দেশ পাওয়া যেতে পারে। রক্ত সঞ্চালন কম হয়ে গেলে পালস দুর্বল হয়ে যায়, চামড়া সাদা হয়ে যায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। 
অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন এর একটি গুরুতর ঘটনা হল যখন শ্বাসতন্ত্র এবং রক্ত সংবহনতন্ত্র আক্রান্ত হয়, একে অ্যানফিল্যাক্সিস বলা হয়। যখন রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ গুলো প্রকাশ পায় তখন তখন ব্যক্তিটিকে এনাফিল্যাক্টিক শক -এ আক্রান্ত বলে মনে করা হয়। যখন IgE অ্যান্টিবডি জড়িত থাকে এবং শরীরের যে অংশ খাদ্যের সাথে সরাসরি যোগাযোগে থাকে না -সে সকল অংশ আক্রান্ত হয় এবং উপসর্গ দেখায় তখন অ্যানাফিল্যাক্সিস ঘটে। যাদের চিনাবাদাম, গাছ বাদাম কিংবা সামুদ্রিক খাবারে এলার্জি আছে তাদের অ্যানফিল্যাক্সিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

কারণ

যদিও সংবেদনশীলতা মাত্রা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম হতে পারে,  সাধারনত দুধ, ডিম, চিনাবাদাম, গাছ বাদাম, সামুদ্রিক খাবার, শেলফিশ, সয়াবিন এবং গমের এলার্জি পাওয়া যায়।  এগুলোকে প্রায়ই একসাথে "বৃহৎ আট" হিসেবে উল্লেখ করা হয়।  বীজের অ্যালার্জি - বিশেষত তিলে - অনেক দেশে বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে।  বিশেষ অঞ্চলে বিশেষ এলার্জির একটি উদাহরণ হল ভাতের এলার্জি যেটা পূর্ব এশিয়ার একটি খাবারের একটি বড় অংশ। 
সবচেয়ে সাধারণ খাদ্য এলার্জিগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে চিনাবাদাম সংবেদনশীলতা, যা বীজ পরিবারের সদস্য। চিনাবাদাম এলার্জি গুরুতর হতে পারে কিন্তু বড় হবার সাথে সাথে অনেক শিশুর এটা দূর হয়ে যায়। কাশু, ব্রাজিল বাদাম, হজেলন, ম্যাকডামিয়াম বাদাম, পেকান, পিস্তাশিও, পাইন বাদাম, নারকেল এবং আখরোটও কতগুলো সাধারণ অ্যালার্জেন। ভুক্তভোগী একটি কিংবা বিভিন্ন ধরনের গাছ বাদমে সংবেদনশীল হতে পারে। এছাড়াও, বীজ যেমন, তিল এবং পপি বীজ তেলে প্রোটিন থাকে, যা এলার্জি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। 
প্রতি ৫০ জন বাচ্চার একজনের ডিমে এলার্জি থাকতে পারে কিন্তু তা পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। সাধারণত, ডিমের কুসুম এর চাইতে ডিমের সাদা অংশের প্রোটিনে বেশি সংবেদনশীলতা থাকে। 
আরও কিছু সাধারণ এলার্জেন হল গরু, ছাগল বা ভেড়ার দুধ এবং অনেক ভুক্তভোগী দুগ্ধজাতীয় খাদ্য যেমন পনির সহ্য করতে পারে না। দুধের এলার্জিযুক্ত শিশুদের একটি ছোট অংশ, প্রায় ১০% এর গরুর মাংসের প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। গরুর মাংসে সামান্য পরিমাণ প্রোটিন থাকে যা গরুর দুধেও থাকে।
সামুদ্রিক খাবার অ্যালার্জেনের অন্যতম একটি উৎস; মানুষ মাছ, ক্রাস্তেসিয়ান, বা শেলফিশ -এ পাওয়া প্রোটিনে এলার্জিক হতে পারে।
অন্যান্য যে সকল খাবারে এলার্জিক প্রোটিন থাকতে পারে যেমন সয়া, গম, ফল, শাকসবজি, ভুট্টা, মসলা, কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক রং,এবং বিভিন্ন রাসায়নিক।
বিভিন্ন খাবারে থাকা পেরুর বালসাম, "শীর্ষ পাঁচ" অ্যালার্জির একটি যা চর্মরোগ ক্লিনিকে প্যাচ টেস্ট সাধারণত সংবেদনশীলতা দেখায়।

সংবেদনশীলতা

সংবেদনশীলতা খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী এবং সম্ভবত ত্বকের মাধ্যমে ঘটতে পারে।  প্রস্তাব হয়েছে যে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি যেমন একজিমা সংবেদনশীলতা তৈরি করতে পারে।  মেডিসিন ইনস্টিটিউটের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ভ্যাকসিনের খাদ্য প্রোটিনগুলি যেমন জেলাতিন, দুধ, বা ডিম ভ্যাকসিন গ্রহীতার মধ্যে, সেসব খাদ্যদ্রব্যগুলিতে সংবেদনশীলতা (অ্যালার্জির উন্নয়ন) সৃষ্টি করতে পারে।