Poem লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Poem লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

 বাক যুদ্ধ

বাক যুদ্ধ







 বাক যুদ্ধ

ওমর ফারুক


তোমার সাথে আমার বাক যুদ্ধ হয়েছে বহুবার ,

আমি যতই বার সন্ধি চেয়েছি ,,

তুমি চাইলে রণক্ষেত্র ।

তুমি আমার আকাশ সীমানা লঙ্গণ করেছ বহুবার ,,

তোমার হ্নদয়ে বহন করা মিসাইল,,

আমার হ্নদয়ের ভূ-খন্ডে নিখুঁত ভাবে আঘাত করেছে ।

আমার মনের রাড়ারের নিস্তব্ধ কে,

তুমি অপব্যাবহার করেছো !

তোমার ট্যাংক ,কামান,রকেট লঞ্চার ,,

আমার হ্নদয়ের অরণ্যে ধ্বংশ করেছে ।

আমি যতই বার সন্ধি চেয়েছি ,,

তুমি চাইলে রণক্ষেত্র ।

তোমার গুপ্তচোর বৃদ্ধি ড্রোন গুলো,,

সফল ভাবে আমার হ্নদয়ের রাড়ার ফাঁকি দিয়েছে ।

তোমার হ্নদয়ের সীমানা ,

আমি যত বার প্রবেশ করার চেষ্টা করেছি,

তত বার তোমার মিসাইলের আঘাতে 

- নিজেকে বিধ্বস্ত করেছি ।

আমি যতই বার সন্ধি চেয়েছি ,,

তুমি চাইলে রণক্ষেত্র ।

তোমার হ্নদয়ের নৌবহরে যুক্ত ফ্রিগেট ,ডেস্ট্রয়ার ,

কর্ভেট,  ,সাবমেরিন  এয়ারক্রাফট ,,

নৌযুদ্ধে যে কোন সৈনিক অনাসে পরাজয় !

তোমার হন্দয়ের আকাশে উড্ডয়ন টাইফুন, মিগ 29 -

আকাশ পথে যে কোন বীরের হ্নদয়ে ভূকম্পন সৃষ্টি করে ।

তোমাকে আকাশ পথে স্থলে পথে নৌ পথে ,,

তোমাকে প্রতিরোধ করার সক্ষমতা আমার নাই ।

তোমার হ্নদয়ের আসনে সংরক্ষিত পরমাণু  অস্ত্রে ,,

আমি কখনো পরাজয় ছাড়া –বিজয় অর্জন করতে পারবো না ।

আমি যতই বার সন্ধি চেয়েছি ,,

তুমি চাইলে রণক্ষেত্র । 

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আজ তোমার জন্ম দিন

আজ তোমার জন্ম দিন


 






আজ তোমার জন্ম দিন ,,
আকাশে ছিল রংধনু ,,
পাখিদের কিচির মিছির শব্দ ,,
প্রকৃতির অপরুপ সেজে ,,
রহ্যসের হাত ছানি দিয়ে তোমাকে ডাকছে !
আত্মীয় স্বজনদের এক মুঠো হাসি নিয়ে ,
তুমি এসেছিলে ।
আজ তোমার জন্ম দিন !
আজ রাখা হবে ,,
এক নবজাতকের নাম ,,
পৃথিবী জানবে এক নতুন ইতিহাস ,,
দেখাবে নতুন কিছু ,,
বিবর্তনের ছোঁয়া মানব সমাজে ,,
আজ তোমার জন্ম দিন !
তুমি হবে জ্ঞানী গুনি ,,
হয় তো বিজ্ঞানী ,,
আইনস্টান,নিউটন,আলভা এডিসন, র্চাজ ব্যাভেজ, ব্রাউন -
আজ তোমার জন্ম দিন ।
তুমি ঘটাবে সমাজিক বিপ্লব-
রবিন্দ্র,নজরুল,আব্রাহাম লিংকন ,কার্ল মার্ক,লেনিন-
শান্তির দূত আসবে নেমে নর দোর
আজ তোমার জন্ম দিন ।
কুসংষ্কারের প্রদীব তুমি বিদ্যাসাগার ,রামমোহন রায় -
দূর হবে অন্ধকার অজ্ঞতা সমাজ পাবে আশার আলো ,,
আজ তোমার জন্ম দিন ।
শুনাবে র্ধমের বাণী ,,
বৌদ্ধ,যিশু, মোহাম্মদ-
শুধরাবে মানব জাতী
আলো ছড়াবে এই ধরনীর বুকে !
আজ তোমার জন্ম দিন ।
তুমি হবে মহাবীর প্রলয়কারী,
খালিদ, ওমর ;হামজা, আলি ।
জালিমরা আতষ্কিত ,,
মজলুমের মুখে হাসি রাশি রাশি ,,
আজ তোমার জন্ম দিন ! !
মানবতা সমাজ সেবা নাগরিক দায়িত্ব ,,
নিয়ে নেবে তোমার ঘাড়ে ,,
আজ তোমার জন্ম দিন !
তুমি লিখবে গল্প কবিতা ছড়া উপন্যাস ,,
নজরুল ,রবিন্দ্রনাথ,জীবনানন্দ -শেক্সপিয়াস
মনের অজান্তে রংধনুর খেলা ।
আজ তোমার জন্ম দিন !!
তুমি হবে অকুতো বীর দূরসাহসী ,
তীতুমীরের বাঁশের কেল্লা
উড়াবে বিজয়ের নিশান –
যে নাবিক হারিয়েছে দিশা !
তুমি হবে মানব সেবা নিয়োজিত মাদার তেরেসা ,
তুমি হবে নারী শিক্ষার নক্ষত্র বেগম রোকেয়া ।
তুমি হবে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের-
বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর মাওলানা ভাসানী ।
নিপীডিত মজলুম অসহায় অভাবী ,,
তোমার পানে চেয়ে আছে ,,
ধরনীর সব বোঝা তোমার কাধে ,,
আজ তোমার জন্ম দিন



  


শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বাল্য বিবাহ

বাল্য বিবাহ








 

 

 বাল্য বিবাহ

ওমর ফারুক

ঘটক সাহেব ডাক দিয়া কয় –

   রহিম মিয়ারে !

মেয়ে তোমার ডাঙ্গর হইছে –

   বিবাহ দিবা না তারে

আমার কাছে পাত্র আছে ,

 বিরাট বড় লোক –

তোমার মেয়ে সুখে থাকবে ,

এই কামনা হোক ।

রহিম মিয়া ডাক দিয়া কয় ,

মেয়ে আমার আইজ ছোট ,

  সবে ক্লাস পাইভে ,

এই বয়সে কেমনে বিয়া দিমু তারে ,

আমার ইচ্ছা ছিলো তারে ,

 লেখা পড়া শিখামু !

ওরে আমি বড় করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার  বানামু।

ঘটক সাহেব বড়ই পাজি,

বুদ্ধি তার খেক শিয়ালি ,

তোমার ঘাড়ে ভূত চেপেছে ,

  মেয়ে মানুষ সমাজের কি উপকারে আসে ।

  ওদের কাজ রান্না বান্না ঘরের ভিতর থাকা ,

     শুশুর শাশুড়ির যত্ন নেবে ।

  ‍গুরুজনদের করবে আদব,

     স্বামীর করবে সেবা ।

       নইলে তাদের ইহকাল পরকাল ,

সব যাবে ব্যাথা ।

নানান জনে নানান কথা ,

  যখন তোমায় বলবে ,

মেয়ের জন্য চুন কালি ,

  মুখ তোমার পুড়বে ।

রহিম মিয়া চিন্তা করলো ,

 আসলে তো ঠিক ,

মাইয়া মানুষ ধরে রাখলে সমাজের ক্ষতি ,

  মেয়ের সাথে কথা বলে দেখবো আমি ।

পাত্র আমার চেনা জানা দেখার কিছু নাই ।

রাজী থাকলে বলো আমায় ,

  আগামী জুমাই আয় ।

ঐখানে সব কিছু বলি  ।

রহিম মিয়া ঠিক আছে ,

   তুমি যা বুঝো ।

মেয়ে আমার একটা ,

 বুঝে শুনে করো ।

তোমার মেয়ে আমার মেয়ে তপাত কিছু নাই ।

পরের হাতে তুলে দিলে শান্তি খুঁজে পাই ।

রহিম মিয়া ঘরে গেল ,

ডাকলো মেয়েরে ।

তোমার জন্য পাত্র দেখলাম ,

   বিরাট বড় লোক ,

দাবি দাওয়া নাই তাদের ,

সুন্দরী আর সামাান্য লেখাপড়া জানা হোক ।

বাবা আমি এখন করবো না তো বিয়া ,

পাড়ার লোকে আমায় যত করুক রিয়া ।

আমি এতো কথা শুনতে নাহি চাই ।

কথা আমার একটা ,

   তোমার বিয়ে ঐ ছেলের সাথে ,

জবান আমার পাক্কা ।

ঘটক সাহেব সব কিছু ঠিক ঠাক করে ,

  বিবাহের দিন ধার্য্য করে ।

মেয়ের বয়সের চাইতে তিন গুন ,

  পাত্রে কাছে বিয়ে দেয়  ।

মেয়েদের চাওয়া পাওয়ার কোন দাম নাই ,

টাকার কাছে মূর্খ সমাজ ,

মেয়েরা সর্বদা অসহায় ।

 

 

  

বৌয়ের প্রসংসা

বৌয়ের প্রসংসা


 





 বৌয়ের প্রসংসা

ওমর ফারুক

বিয়ের পরে বৌ যেমনি হোক ,

বলতে হবে ভালো !

 সত্য কথা বলতে গেলে ,

মুখ করে কালো !

কাজে কর্মে অলস হলে ও ,

  বলতে হবে লক্ষী !

 রেগে গেলে পিষাস হলে ও –

বলতে হবে দেবী !

নইলে যে বৌ চলে যাবে বাপের বাড়ি ।

  ঘর থাকে আগোচালো ,

      দেখার কেউ নাই !

অফিস থেকে ফিরে এসে –

 করতে হয় ভাই !

শখের বসে যদিও সে  রান্না বান্না করে ,

হলুধ দিতে মরিচ দেনা হাটু পানি তাতে ।

চেহারা কি আর বলবো ডানা কাটা পরী ,

 তাহার ঘরে নাই কসমেটিকের জুড়ি ।

পোষাক আশাক ছেড়া পাটা অতি ফ্যাশান করে ,

 ছেলে বুড়ো সবার নজর কাটে ।

 বসে বসে তাহা খায় হরেক রকম খাবার ,

তাহার জন্য থাকে না –

অন্য সবার আহার ।

অকালে মেদ বাড়ে –

বাড়ে পেটের ভূড়ি ,

 তাহালে দেখলে মনে হয়  -

 ইহা মোটা হাতি ।

কেউ দেয় কালি পূজা কেউ করে লক্ষী

 কেউ আবার দূর্গা স্বরসতি ।

আমি করি বৌ পূজা –

লজ্জা চরমে মরি ।

 এই সব কথা বলতে আমার মনে লাগে ভয় ,

 জানি না আমার উপর কখন জানি কি হয় ।

ভাই বোনের নামে নালিশ করে অকারনে আড়ি ,

 তাহার ভাই বোনের নামে –

কিছু বলতে গেলে ,

     শুধু মারে ঝাড়ি !

কথায় কথায়  খোটা দেবে ,

অল্পতে বেজার !

এমন মেয়ে বিয়ে করলে ,

   সংসারে বাজে হাল ।

সিরিয়ালে দিনে রাতে ডুবে ও যদি থাকে ,

 সংসার তার রসা তলে ,

 খোঁজ নাই তাতে ।

বিয়ের পরে বৌ যেমনি হোক ,

বলতে হবে ভালো !

 সত্য কথা বলতে গেলে ,

মুখ করে কালো !

 

 

 


বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আমি জন্ম থেকে জ্বলছি

আমি জন্ম থেকে জ্বলছি








 আমি জন্ম থেকে জ্বলছি

ওমর ফারুক 

আমি বাংলাদেশ ,

শোসিত নিপীড়িত  বাংলাদেশ ।

আমি জন্ম থেকে জ্বলছি ,

আমাকে জ্বালায় -আমি জ্বলি 

কখনো ককটেল কখনো পেট্টল  বোমা ।

আমার সবুল শ্যামল শস্যে–

 রক্তের লিলা ।

এখনো জ্বলছি ,,,

জ্বলছি বাহান্ন ভাষা আনন্দোলনে ।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ।

সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে ।

পঁচিশে মার্চ ভয়াল রাতে ।

একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামে ।

পঁচাত্তরের গভীর ষড়যন্ত্রে ।

১৯৮১ সালের ৩০শে মে -

  জুয়ার বাজিতে ।

বাক রুদ্ধ সামরিক জান্তর কবলে ।

আমি জন্ম থেকে জ্বলছি ,,

আমাকে জ্বালায় অসুর দল !

আমাকে চিবিয়ে খাচ্ছে পিষাসরা ,,

আমি বুক ফুলিয়ে কিছু বলতে পারি না ।

আমাকে শিকলে বাধে সাম্রজ্যবাদিরা ।

ক্ষমাতার পালা বদলে –

   আমাকে জ্বালায় ।

আমাকে কলুসিত করে –

       স্বার্থনেশিরা ।

আমার পদ্য ভূমিতে হানাদারের বাস ,,

          আমি শুধু চেয়ে দেখি !

গুম খুন লুটরাজ ধর্ষণ আহাজারী !

আমি এখনো পরাধীনতার শিকলে বাধা ।

আমি এখনো ঘর থেকে ভের হতে পারি না ,

    শুকুনেরা কখন এসে আমার প্রতি দেয় হানা ।

আমাকে ভয় দেখায়  রক্ত চক্ষুরা ।

    আমার কচি কচি গায়ে রক্তের চোপ –

আমি শুধু প্রশাসনের দিকে চেয়ে থাকি ।

আমাকে মিথ্যা শান্তনা দেয় –

     মানবাধিকার কর্মীরা ।

কখনো কখনো আমাকে নিয়ে রঙ্গমঞ্চ করে ।

আমি জন্ম থেকে জ্বলছি –

আমাকে জ্বালায় স্বার্থনেশি মহল ।


 



 






 

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ভয়নষ্কর সেই রাত

ভয়নষ্কর সেই রাত


 

ভয়নষ্কর সেই রাত

ওমর ফারুক

তখন 1971 সাল বাংলায় –

নব জাগরনের জোয়ার বইছে ।

আজ নিজ অধিকার আদায়ে ,,

    বাংলার মানুষ  মরিয়া ।

এর মধ্যে শেখ মজিব –

    স্বাধীনতার ডাক দিলেন ।

এই বারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম ,,

এই বারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ,,

তোমাদের কাছে যা কিছু আছে ,,

   তা নিয়ে শএুর মোকাবেলা করবে জয়  বাংলা।

এর পর পাক হানাদার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় ।

1971 সাল পঁচিশে মার্চ ,,

চার দিকে ঘোর অন্ধকার ।

গ্রামের পরিবেশের সাথে –

  শহরের পরিবেশ ও খাপ খাইয়েছে ।

  কোথাও জন মানবের চিহ্ন নাই ।

আমার পরিবারে আমরা সাত জন ।

মা-বাবা,আমি ভাই –ভাবি বোন ভগ্নীপতি ।

আমি তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন 

ঘুমের রাজ্যে দানবেরা এসে –

      আমাকে শাসাতে লাগলো ।

চার দিকে চিৎকার চেচামেচি কান্নার শোরগোল ।

আগুনের র্স্পশে আমার ঘুম বাঙ্গলো ।

চোখ মেলতে মা-বাবার লাশ ,,

বামে তাকালে সিংহের খপ করে দিদির দেহ ।

শুকুনেরা তখনো বোদির সাথে –

    কুসতি লড়তে লাগলো ।

বোদির ছেলেটি ছিল –

    পশুদের পদ তলে ।

আমি কান্না জড়িত কণ্ঠে –

 এই দিক সেই দিক –

ঘুরাঘুরী করতে লাগলাম দেখলাম !

এই দৃশ্য আমার একার নয় –

বাংলার প্রতিটি মানুষের !

    বাংলার প্রতিটি গৃহে –

শুকুনেরা হানা দিয়েছে ।

আগুনের লেলিহান শিখা ,,

 দানবের চেহারা ফুটিয়ে তুলছে ।

বৃষ্টি হয়ে ঝরছে –

        বন্ধুকের গুলি ।

গ্রামের পর গ্রাম মাঠের পর মাঠ

  শহরের অলি গলি ভূতুড়ে পরিবেশ ।

ভোর হতে দেখি লাশের পর লাশ ।

কোনটার দেহ আছে মাথা নাই ।

কোনটা মুখ থুবড়ে গেছে ,

কোনটার চিহ্ন বিচিহ্ন দেহ ।

যে কুকুর গুলো খাবারের জন্য –

ঘেউ ঘেউ করতো ,

   তারা ও আজ নিরুদ্দেশ ।

লাশ গুলো বাংলা আনাসে কানাসে –

ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলো ।

মানুষ প্রাণের ভয়ে আত্মীয় স্বজন ছেড়ে-

ভিন দেশে চলে যাচ্ছে ।

বেচে থাকলে তাদের খোজ নিবে ।

ভয়নষ্কর সেই রাত –

এখনো চোখ মুদালেই ভেসে ওঠে ।

এখনো মনে পড়ে

এখনো মনে পড়ে


 

এখনো মনে পড়ে

ওমর ফারুক

এখনো মনে পড়ে ,,

 অবহেলা করে চলে গেলে দূরে,

বিরহের ব্যাথা ধীরে ধীরে জ্বলে !

এখনো মনে পড়ে –

    সেই পুরানো দিনের কথা ।

তোমাকে ছাড়া বাচবো না !

তোমার কাছে কিছুই চাইবো না –

আজ কেন এত শর্ত ?

আজ কেন এত অভিযোগ ।

সব তোমার ছল ছাতুরী –

  কিভাবে নাড়তে পারো এত কলকাড়ি ।

সব তোমার মায়ার ছল ,,

যে নাবিক ধরিয়াছে হাল –

পথিক হারিয়েছে দিশা ।

এখনো মনে পড়ে তোমার শাসন বারন ।

এখনো মনে পড়ে তোমার কারুকাজ্য।

এখনো ঘুমের রাজ্যে তোমার ছবি ভাসে ।

এখনো চলার পথে তোমার ছায়া থাকে ।

এখনো হাসি –

তোমার পুরানো স্মৃতি দেখে ।

এখনো কাদি আমার প্রতি তোমার অবহেলা দেখে

এখনো ভাবি তোমার কথা –

অশ্রুতে ভাসে বিরহের ব্যাথা ।

কি নাম দেবো তোমার

কি নাম দেবো তোমার


 

কি নাম দেবো তোমার

ওমর ফারুক

এই মেয়ে এই দিকে এসো !

তুমি কি আমার কথা শুনছো ,,

  নাম কি তোমার !

ও বুঝেছি লজ্জা হচ্ছে ?

  তাহলে তোমার নাম লজ্জাবতী ।

                রাগ করলে ?

তোমার নাম রাগবতী !

   কি হলো কিছু বলছো না যে ?

তাহলে  তোমার নাম  নিরবতী !

এই যে তুমি কাঁদছো কেন ?

তাহলে তোমার নাম দুঃখবতী ।

      তোমার কেউ নেই !

তাহলে তোমার নাম নিঃস্ববতী ।

তোমার চোখে জল কেন ?

তাহলে তোমার নাম জলপরী !

তুমি কথা বললে তোমাকে মায়া লাগে !

তাহলে তোমার নাম মায়াপরী ।

তুমি কি বেড়াতে এসেছো ?

তাহলে তোমার নাম অথিতি ।

তুমি কি একা এসেছো ?

  তাহলে তোমার নাম নিঃসঙ্গ !

তুমি কি অবিবাহিত ?

 তাহলে তোমার নাম নিঃসঙ্গী ।

তুমি কি কাউকে খোঁজছো ?

  তাহলে তোমার নাম সন্ধ্যানী ।

হাসলে তোমাকে সুন্দর লাগে ,

তাহলে তোমার নাম সুন্দরী ।

রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

  বৃষ্টি ভেজা শীতল পরশ

বৃষ্টি ভেজা শীতল পরশ


 বৃষ্টি ভেজা শীতল পরশ

ওমর ফারুক
আকাশে আজ মেঘ জমেছে ,,
চার দিকে অন্ধকার করে ।
মেঘেরা সব ভেসে বেড়ায় ,
আকাশ মাতিয়ে খেলা ,,
টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে ঝরে -
সকাল সন্ধা বেলা ।

কৃষকের আজ মন ক্ষুন্ন -
ফসল তার চুর্ণ বিচুর্ণ ,,
দক্ষিণ হাওয়া দুলছে ফসল -
মন মাতিয়ে দৌলা ।

একটু বাডে একটু কমে -
রিমঝিম শব্দ করে ।
আকাশে আজ মেঘ জমেছে ,
চার দিকে অন্ধকার করে ।
দূর মাঠে রাখাল বালক -
মন মাতিয়ে করে খেলা ।

বৃষ্টি ভেজা এই ভর দুপুরে পথের কিনারায় ,
দাঁড়িয়ে আছি একা আমি -
তোমার অপেক্ষা ।
তুমি আসবে পরীর রুপে -
ধরবে আমার হাত ।
তোমার সাথে কাটিয়ে দিবো ,
সকাল সন্ধা রাত ।

নগরের সমস্ত পথ হবে আমাদের -
ইচ্ছা মতো ঘুরে বেড়াবো -
বাধা কিসের ।
কচু পাতার ছানি হবে মাথার উপরে ,
কলা গাছের ভেলায় পাড়ি দিবো -
দূর সীমান্তে ।
মেঘের ঐ ঝলকি দেখে মুখ লুকাবে ,
আমার বুকেতে ।

তোমার মনের যতো কথা -
বলবে আমার সাথে ।
আকুল হয়ে শুনবো আজ -
হ্নদয়ের কান পেতে ।
আজ কোন ভয় নয় -
নয় লাজুকতা ।
এ দিনটি হবে তোমার আমার -
শত স্মৃতি গাঁথা ।

পথের মাঝে তুমি আমি -
হাত দুটি ধরে ।
তোমার দিকে চেয়ে থাকবো -
আমার মতো করে ।
হয়তো তুমি লজ্জা পাবে -
মানুষ গুলো দেখে ।
আমি শুধু চেয়ে থাকবো -
তোমার কাঁপা ঠোঁট ।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

এখনো পুড়ছি

এখনো পুড়ছি


 

এখনো পুড়ছি

ওমর ফারুক

এখনো পুড়ছি ,

পোড়া গন্ধ চার দিকে –

স্বপ্নের রাজ্যে লেলিহান শিখা ।

ভয়ে শিউরে উঠে বুক ,

চোখ মুদালেই-

ভোরের কাগজে র্ধষনের চিত্র ।

কোথাও শুকুনের উল্লাস ,

কোথাও অসহায়ের  আর্তনাদ ।

মানবাধিকারের তোতা পাখি –

কেবল বক বক করে যাচ্ছে ।

ধ্বংসের স্তূপ স্মরণ করে দিচ্ছে ,

সবলের কাছে দূর্বল অসহায় ।

এখনো পুড়ছি ,

এখনো নাকে সেই পোড়া গন্ধ-

ভেসে চলে আসে ।

যা করে ছিল পাক হানাদার তার দোসররা ।

গ্রামের পর গ্রাম মাঠের পর মাঠ ।

এখনো বাংলা মায়ের সম্ভ্রম হারানোর চিৎকার শুনি ।

যা করে ছিল পাক হানাদার তার দোসররা ।

 এখনো দেখি বিচারের নামে প্রহসন ,

রক্ত পিপাসুদের দূর্নীতি অনিয়ম –

গুম খুন লুটরাজ র্ধষণ ।

যা করে ছিল পাক হানাদার তার দোসররা ।

 এখনো পুড়ি ,,

হ্নদয়ে যে পোড়া ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে ,

তা আজীবন বয়ে বেড়াচ্ছি ।

মানুষে মানুষে দাঙ্গা বাধায় ,

স্বার্থনেশি মহল ।

মাথার উপরে বন্ধুকের গুলি ,

শ্বাস রুদ্ধ করে প্যাপিষ্টরা ।

চার দিকে চিৎকার আর চিৎকার ,,

বাঁচাও আমাদের বাচাও –

আমরা বাঁচতে চাই ।

হাত বাড়ালে মৃত্যু ,,

শত কাকুতি মিনতি –

দানবের মনে –

উল্লাস বয়ে আনে ।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

আমার কিছুই করার ছিলো না

আমার কিছুই করার ছিলো না


 

আমার কিছুই করার ছিলো না ।
                             ওমর ফারুক
যে দিন আমার মামারা ,
তোমাকে লাঞ্চিত করছে ,
সেই দিন আমি অপলক দৃষ্টিতে দেখছিলাম 
আমার কিছুই করার ছিলো না ।
বাইরে অঝোর বৃষ্টি ঝর ছিল –
হ্নদয়ের আকাশে কালো মেঘে –
ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে ।
মেঘের ভাজ পড়া শব্দে ,
নিজেই  কতবার আতঙ্কিত  হয়েছি –
বার বার মনকে বুঝাছি ,
চোখের সামনে যা দেখছি –
তা হয় তো ভূল কিছু দেখছি ।
দু’চোখ বেয়ে নোনা জলে –
নিজেকে সাতরেয়েছি ।
আমার ভাল বাসার ফলস –
এই ভাবে দিতে হবে জানা ছিলো না ।
তোমার আমার ভাল বাসার সমীকরণ-
কিছুটা ভিন্ন ।
আমার পরিবার থেকে না তোমাকে গ্রহণ ,
তোমার পরিবার থেকে না আমাকে বরণ ।
তুমি কিশোর আমি কিশোরী –
বয়স আমাদের কম ।
ভাল বাসা কি বুঝে ধর্ম বর্ণ জাত-বেজাত –
 বয়সের সমীকরণ ।
তুমি ছিলে আমার সহপাঠী –
আমি ছিলাম তোমার ।
এক দুই তিন চার –
অশ্রু অপার ।
যে দিন তোমার স্পর্শে –
প্রেমের ফুল ফুটেছে ।
সেই গুলো আজ মরে মর্ম হয়ে গেছে ।
তোমার দৃষ্টিতে আমি অভিমান –
আমার দৃষ্টিতে তুমি ।
আর কি হবে না কথা –
হবে না দেখা দেখি ।
তুমি চাইলে অনেক কিছু করতে পারো –
আমি চাইলে কেবল শূণ্য ।
তুমি থাকে ভিন দেশে –
আমি থাকি দেশে ,
বড়ই ভূল করেছি তোমায় ভাল বেসে ।
অনেক দিন অনেক মাস ,
রাখো না আমার খোঁজ –
শূণ্য হ্নদয় ভীষন্ন মনে
পড়ে আছি রোজ ।
যে দিন আমার মামারা ,
তোমাকে লাঞ্চিত করছে ,
সেই দিন আমি অপলক দৃষ্টিতে দেখছিলাম 
আমার কিছুই করার ছিলো না ।

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০

মোহনার সাথে এক দিন

মোহনার সাথে এক দিন

 

 

মোহনার সাথে এক দিন
ওমর ফারুক
মোহনার সাথে এক দিন ,
কোন এক সবুজের বুক চিরে ,
সোনালি ঝলমল রোদ্রে –
হারিয়ে যাবো হ্নদয়ের অরণ্যে ।
যে বনে হরণীরা খেলা করে ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
কোন এক সমুদ্রে যাবো –
হিমেল হাওয়া মানবীয় ক্লেশ ,
হ্নদয়ের উষ্ণতার যোগান দেবে ।
কোন এক ঝর্ণা ধারা –
প্রকৃতির বিচিত্র রুপে ,
নিজেকে বিলিন করে দেবো ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
 কোন এক পার্কে নির্জন আড়ালে , 
কবিতার ছন্দে মনের ভাব প্রকাশ করবো ।
একাকিত্ব মনে হারিয়ে যাবো –
দৃষ্টির শেষ সীমানায় ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
কোন এক কফি হাউজে –
আড়্ড়ায় মেতে উঠবো ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
পরীর দেশে যাবো –
দেখে নিবো কে বেশি মায়াবী ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
বৃষ্টি ভেজা শীতল পরশে –
হ্নদয়ের ভেলা বাইবো ।
বৃষ্টির টাপুর টুপুর –
মোহনার নুপুরের শব্দে ,
নিজেকে মাতিয়ে নেব –
নতুন দিগন্তে ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
কোন স্থানে রঙিন ঘড়ি উড়াবো ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
কোন প্রাচীর ঘেরা-
 দূরগম পথ পাড়ি দিবো ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরে বেড়াবো ,
ইতিহাসের পাতায় খুজেঁ বেড়াবো -
মোহনার অস্থিত ।
মোহনার সাথে এক দিন
 চাঁদে বা মঙ্গলে পাড়ি জমাবো ,
বিশ্বকে জানান দিবো নতুন অভিজ্ঞতা ।

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ।

দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ।

 






   দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ।

 ওমর ফারুক

 দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ,

 আমায় একা ফেলি ।

 এই হ্নদয়ে মেঘের গর্জন –

অশ্রু রাশি রাশি ।

দিদি  আমার এই হ্নদয়ে হাজার রঙের ফুল  ।

দিদি ছাড়া এই হ্নদয় মরুর  কুল ।

দিদি আমার গল্প বলা ঠাকুমার ঝুলি ,

দিদির এতো গল্প গুজব –

কেমনে তারে ভূলি ।

দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ,

 আমায় একা ফেলি ।

 এই হ্নদয়ে মেঘের গর্জন –

অশ্রু রাশি রাশি ।

দিদি আমার মায়ের আদর –

অতি কড়া শাসন ।

দিদি আমায় যেথায় সেথায় ,

না যাওয়ার বারন ।

দিদি আমার শিক্ষা দীক্ষা দিদি পেরনা ,

দিদি না থাকলে এই ভূবণে –

কিছুই পেতাম না ।

দিদি আমার প্রথম বন্ধু দূর সময়ের সাথী-

দিদি আমার নয়ন মনি তাকে ছাড়া –

কেমনে একলা থাকি ।

দিদি আমার ফুলের মালি ,

ঘরকে রাখে পরিপাাট্টি  ।

 দিদি আমার ডাক্তার -বৌদ্ধ ,ঔঝা কবিরাজ –

আমাকে সুস্থ্য রাখা দিদির কাজ ।

দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ,

 আমায় একা ফেলি ।

 এই হ্নদয়ে মেঘের গর্জন –

অশ্রু রাশি রাশি ।