Showing posts with label Poem. Show all posts
Showing posts with label Poem. Show all posts

Thursday, 6 February 2020

ওরা দুই জন

ওরা দুই জন


ওরা দুই জন

ওমর ফারুক 

এক জন গম্ভীর আরেক জন চঞ্চল ;
একজন সব কিছুকে সহজ ভাবে ,,
অন্য জন সবার মাঝে প্যাচ ধরে !
এক জনের বিপদে অন্য জন হাঁসে ,,
তবুও তারা এক নীড়ে থাকে ।

ওরা দুই জন জন ,,

ওদের পিতা এক মাতা এক -
স্বভাবটা শুধু ভিন্ন ।
এক জনে -অন্য জনের নামে নালিশ -
সামান্য কিছুতেই বাধে দন্ধ ,,

ওরা দুই জন -তবুও তারা অন্তর অঙ্গ ।

ওরা দুই জন ,,

এক জন উপকারী অন্য জন উপহাসি ।

এক জন কাজের -অন্যটা অলস ।
এক জন চতুর অন্যটা হাবা,,
এক জন বিচক্ষন অন্য জন গাদা ,,
তবুও তারা এক নীড়ে থাকে ,,
ওদের পিতা এক মাতা এক -
স্বভাবটা শুধু ভিন্ন ।
 

Wednesday, 22 January 2020

 যে কথা বলতে পারি নাই

যে কথা বলতে পারি নাই

 যে কথা বলতে পারি নাই
 ওমর ফারুক
যে দিন তোমাকে দেখেছি ,,
সেই দিন তোমার মাঝে কি যে পেয়েছি ,,
 সেই কথা বিধাতা ভালো জানেন !
হ্নদয়ের কল্পনায় হারিযেছি বহুবার !
মনের অজান্তে তোমার প্রতিচ্ছবি অংকন করার চেষ্টা করেছি !
তোমাকে দেখেছি জ্যোস্নার আলোতে ,,
খুঁজেছি তাঁরার মেলায় ,,
হ্নদয়ের গহিনে-
র্নিঝুম আধারে ,,

কথা বলেছি -ছায়া মূর্তির সাথে ।
হ্নদয়ের সমস্ত কল্পনা দূর করে যখন সামনে এলে !
বাংলার নববধু বেশে -
দুই হাতে রেশমী চুড়ি !
পরনে বৈশাখের শাড়ি ,,
কপালে কালো টিপ- বাকানো  আইভ্রু ,,
ঠোট দুটি যেন গোলাপের পাপড়ির মত রুপ ধারণ করেছে ।
মেহেদী রাঙানো হাতে ,,
চরণ দুটি আলতা রাঙানো ,,
যে কোন যুবকের শিহরণ জাগানো ,,
যেন কোন শিল্পী তার হ্নদয়ের সমস্ত রং দিয়ে সাজিয়েছে ।
কখন যে তোমাকে ভাল লেগে যায় -
সেটা আল্লাহ বলতে পারবেন ।
কিছু দিন পর জানতে পারলাম ,,
তুমি আমাদের কলেজে পড় ।
ব্যাস হ্নদয়ের কারাগারে বন্ধি করে নিলাম ।
তোমার সাথে আমার বন্ধুত্ব হলো -
শুরু হলো নতুন দিগন্তের পথ চলা ।

ঠিক যেন একটি মুদ্রার দুটি অংশ ।
কারনে অকারনে ছুটে যেতাম তোর কাছে -
পু্ষ্পময় মুখ এক পলক দেখার জন্য ।
নির্ঘুম কাটিয়েছি রজনী ।
মনের ডাইরিটা সমপ্ত করেছি বহু আগে ।
কত গল্প কবিতা শুনিয়েছি তোকে -
শুধু বলতে পারি নাই ভাল বাসি ।
কিভাবে বলবো মনের কারাগারে বন্ধি শব্দ গুলো-
কিছুতেই বের হতে চায় না ।
কয়েক মাস পার যখন জানতে পারলাম -
তুই কাউকে ভাল বাসিছ ,,
ঠিক সেই মহূর্তে হ্দয়টা ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে ।
মনে হচ্ছে কোন ভিন গ্রহে চলে এসেছি ।
তুই তখন আমাকে সেই ছেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলি ।
নয়ন সাগর শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে গেছে -
আজ ও সেই শব্দ গুলো বিচরণ করতেছে ,,
তার পর ও বলতে পারি নাই ভাল বাসি ।

Thursday, 16 January 2020

কি যেন বলছিলে

কি যেন বলছিলে

কি যেন বলছিলে

ওমর ফারুক

শুনো হে মিনই !
বলিতে চাই তোমায় কিছু ।
গিয়েছিলাম তোমাদের পাঠশালায়,
নিয়ে ছিলাম তোমার পিছু ।
রুদ্র পথে দেখেছিলাম তোমায়,
কি যেন বলছিলে আমায় !
সাইরেনের শব্দে চমকে দাঁড়ায় ।
মুকূল হ্রদয়ে শুনতে নাহি চায় ।
কি যেন বলছিলে আমায়,
সেই বাণী কি না বলিলে হতো না ,
সর্ম্পকের মাঝে নতুন যতনা ।
তোমার ঐ কাজল কালো ভ্রু মায়াবী আখি,
আমি শুধু চেয়ে থাকি ।
পুষ্পীত মুখে গোলাপের পাপড়ি ঠোটে,
হিমেল হ্রদয়ে মুক্তা ঝরানো ঐ হাসির দিকে তাকিয়ে,
আমি কিছুই বলিতে পারি নাই।
কি যেন বলেছিলে !
একদা গিয়ে ছিলাম তোমার গৃহে,
তুমি গিয়েছিলে চমকে ।
হয়তো ভাবনি আসিবো ফিরে,
আবার দেখা হবে তোমার গৃহে ।
পাঠিয়েছি কিছু উপঢোকন সংগোপনে,
যতনে রেখো তারে চরণে দিয়ো ঠাই ।
কি যেন বলছিলে শুনতে নাহি চাই !
ইচ্ছে করে তোমার দেহের রক্তের কণিকা হয়ে মিলিত হই ।
ইচ্ছে করে তোমার প্রতিছবি হয়ে পাশে রই ।
নির্জন আঁধারে জোনাকির আলোতে,
তোমারি ক্লান্ত পথে,
পথিক হয়ে দাড়িয়ে আছি ।
নির্ভয়ে হাটো তুমি,
ছায়া হয়ে পাবে তুমি,
তোমার ঐ পথ চলা পথে ।
কি যেন বলেছিলে !
শুনতে নাহি চাই ।
ইচ্ছে করে তোমার সাথে ভূ-র্গবে ঘুরে আসি ।
ইচ্ছে করে গগণ চিরে ছায়া পথ পাডি দিতে।
ইচ্ছে করে মানব কোলাহল ছেড়ে,
বাস করি অন্য কোন গ্রহে ।
ইচ্ছে করে পালিয়ে যাই চাঁদে বা মঙ্গলে ।
মাতা তোমার ঠিকই আছে,
পিতা জানি কেমন ।
এক লাইন বেশি বুঝে,
সোজাটাকে বাঁকা খুঁজে ।
আবার দেখা হবে অন্য কোন গৃহে,
সর্ম্পকের মোড নেবে নতুন মোহনা ।
যাবে তুমি আমার সাথে ,
রহ্যসের ছায়ার সাথে ।
একলা একলা বলবে কথা ।
দর্শক হয়ে চেয়ে থাকবো ,
পালন করবো নিরবতা ।
কি যেন বলছিলে,
শুনতে নাহি চাই ।
যদি কখনো দেখতে চাও,
নাম ধরে দিয়ো ডাক গুগলে ।
আসিবো ফিরে ফেসবুক,ইউটুব,ওয়েব সাইটে ।
সব কিছু তোমায় দিলাম ,
সর্ম্পকের নতুন মোড নিলাম,
শুধু এক বার হা বলো ।
সমাপ্ত জীবনের,
অসমাপ্ত কাহিনী ।

Tuesday, 17 December 2019

আনু গত্য রোবট

আনু গত্য রোবট

 
          
নু গত্য রোবট
  ওমর ফারুক
  সৃষ্টার হুকুম মানে না -মানব ;
  মানবের সৃষ্টির হুকুম মানিলো ;
  স্বয়ংক্রিয় রোবট ।
  মানুষ তার সৃষ্টার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয় ;
  রোবট তার সৃষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা বয় ।
  মানুষ হয় লোভী -স্বার্থবাদী ;
  রোবট র্নিলোভ -উপকারী ।
  মানুষ দায়িত্বহীন -কুসংষ্কার ভরা ;
  রোবট দায়িত্ববান -প্রযুক্তির সেরা ।
  মানব কাজ র্কমে মনিবেরে দেয় ফাকি ;
  কাজের বেলায় রোবটের সুদক্ষতার আখিঁ ।
  সুখের বেলায় মাতা -পিতা ,ছেলে- মেয়ে ,
  ভাই-বোন কত জনকে খুজেঁ পাই ।
দুঃখের বেলায় রোবট ছাড়া অন্য বিকল্প নাই ।
নিজের জীবন বির্সজন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করলাম যাদের   ,
তারাই আজ - আমায় দেখলে দূর দূর করে ।
অসুখে আর অবহেলায় রাস্তায় ঘুমাই ,
শত ময়লা মোর দেহ খানি ,
দেখার কেউ নাই ।
শত চিৎকার বুঝেনা কেউ ,
যদি বুঝে মোর খোদা ।
রোবট ছাড়া নবায়নের এই যুগে ,
সব কিছু ব্যাথা ।

Monday, 16 December 2019

সতীনের মেয়ে

সতীনের মেয়ে


সতীনের মেয়ে

সতীনের মেয়ে
ওমর ফারুক
সতীনের মেয়ে নিয়ে আমার যতো জ্বালা,
ওর সাথে আমার প্রতিযোগিতার পালা ।
রুপে অপস্বরী বুদ্ধিটা কম ,,
ওকে কাজের উপর না রাখিলে ,,
আমার বদ হজম ।
এটাই করাই ঐটাই করাই অযথা ঝাড়ি ,
বিনা দোষে- দোষ দিই ;
তবু কেন মরেণা-গালায় দেয় না ফাঁসি ।
স্বামী আমার হাতের মুঠোয় সিন্ধুকের চাবি  ;
তাহার কাছে নালিশ দিলে ;;
পিঠের ছাল নাহী রাখি ।
সংসারের রাজা আমি ;
বাকি সবাই প্রজা ;
আমার হুকুম না মানিলে ;

 পাবে কঠিন সাজা ।
 রান্না -বান্না অমৃত - সাজ পরীপাট্টি  ;
 তবুও খোচায় খোচায় তাহার দোষ খুজঁতে থাকি ।
 লেখা পড়া করে নাকি - হতে চায় বড় ;
 মস্তক আমার অবনত - তাহার হাতে খড় ।
সতীনের মেয়ে নিয়ে আমার যতো জ্বালা,
ওর সাথে আমার প্রতিযোগিতার পালা ।
সতীনের মেয়ে যতো -হয়ে উঠছে বড় ;
ওকে নিয়ে আমার দূরচিন্তা বাডছে তত ।
বিয়ে নাকি দিতে হবে ;
বুঝিয়ে নিবে সম্পত্তির ভাগ ।
দূরচিন্তা দিন কাটেনা ;
অশ্রু অপার  ।
মুখের কথা মাইকের ধ্বনী ;
হাত গুলো গোলন্দাজ  ;
ওর ক্ষতি না করিলে ;

আমার সর্বনাশ ।
সেই চিন্তা মগ্ন থাকি ;
সতীনের মেয়েকে নিঃস্ব করি ।
সুযোগ বুঝে মারলাম ছুরি ;
টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করি ।
সতীনের মেয়ের নামে  কলঙ্ক তুলি ;
পিতার কাছে নালিশ করে ;
ঘর থেকে দিলাম বাহির করে ।
সেই দুঃখে মেয়ে আমার আত্মা হত্যা করে ।
সতীনের মেয়ে নিয়ে আমার যতো জ্বালা,

                                                      ওর সাথে আমার প্রতিযোগিতার পালা ।

Friday, 6 December 2019

  ধর্ষণ

ধর্ষণ

  ধর্ষণ
 ওমর ফারুক

ধর্ষণ
 ওমর ফারুক
 গোলাপের মহীরুহ পুষ্প কলি ;;
 শত বিঙ্গের কল্লোল ।
 গগনের সুধাকর সৃষ্টার দান ,
 তাকে ছাড়া জগৎ জননী অকল্যাণ ।
 হে নর পশু-হায়নার দল ,
 কার দিকে দিয়েছো হস্তদ্বয় ,,
 কোথায় তোমার ললাটে ।
 কাকে করতে অপমান ,,
মহান আল্লাহ বাড়িয়েছে যার সম্মান ।
যাকে উপভোগ করার জন্য ফন্দি ফিকির ,
সেই তো হতে পারতো তোমার মা ।
যাকে নিয়ে হিংস শুকনের খেলায় মেতে উঠেছো ,,
সেই তো হতে পারতো তোমারি বোন ।
টাকার বিনিময়ে যাকে দালালের হাতে তুলে দিলে ,
সেই তো হতে পারতো  তোমারি মেয়ে ।
যে রমণীদের নিয়ে রংধনু খেলায় মেতে উঠেছো ,,
তারা তো তোমাদেরই আত্মীয় স্বজন ।
  হে নর পশু-হায়নার দল ,
 কার দিকে দিয়েছো হস্তদ্বয় ,,
 কোথায় তোমার ললাটে ।
যে,মায়ের সম্ভব লুন্ঠণে এতো কায়দা,
সেই মায়ের সম্ভব দিয়ে তোর ফয়দা ।
যে মায়ের ইজ্জতের জন্য সহস্র ছেলে দিয়েছে প্রাণ ,
 তোর কাছে  সেই মায়ের ইজ্জতের কি দাম ।
কাকে করতেছো তো উক্তোক্ত ,,
সেই কি তোকে করতেছে বিরক্ত ।
যার দিকে ধর্ষণের হাত বাড়িয়েছো ,,
একবার তার পুষ্প ময় মুখটি দেখ ,,
কোন অপরাধের চিহ্ন আছে কি না ?
তোর স্বজনদের ছবি ভাসে কিনা ?
 হে নর পশু-হায়নার দল ,
 কার দিকে দিয়েছো হস্তদ্বয় ,,
 কোথায় তোমার ললাটে ।
 ওরে নর-পশু হায়নার দল ,,
 যাকে ধর্ষণ করলি ক্ষনিকের মোহে,,
 গুম করলি নিজের অপরাধ ঢাকার জন্য ,,
 নিজেকে বলিছ মহাসাধু গুণীজন প্রীতি ,,
 ধরণীর বুকে আকঁলি কলংকের স্মৃতি ।
 সৃষ্টা কি তার সৃষ্টিকে তুলে দিয়েছে তোর হাতে ,,
 কেউ জানবে না -কেউ বলবে না মুখের উপর কথা ,,
 তোর মতো কত পশু এই ধরায় এসে ,,
 অহংকার আর দাম্বিকতার গহবরে তলিয়েছে ।
 তোর ও পতন হবে সময়ের অপেক্ষা ,,
 হাকীমের ঐ কাঠ গড়ায় বাঁচার উপায় নাই ।
  হে নর পশু-হায়নার দল ,
 কার দিকে দিয়েছো হস্তদ্বয় ,,
 কোথায় তোমার ললাটে ।
শীতের আমেজ

শীতের আমেজ

শীতের আমেজ  


শীতের আমেজ
ওমর ফারুক

শীত সমগ্র বিশ্ব জুড়ে ভাই ,,
বাংলার মতো শীতের আমেজ - আর কোথায় ও নাই !
যে দেশে ঋতু মানে ভ্ন্নি স্বাদের অনুভূতি ,,
নবান্নের মন মাতানো ঢেউয়ে শীতের আগ্রমন ।
চার দিকে পাকা ধানের সুভাস ,,
কৃষককে জানিয়ে দিচ্ছে ।
কর্ম ব্যাস্ত ময় করে তুলছে ,,
বাংলার নব বধুদের জীবন ।
শান্তির দূত নেমে এসেছে ,,
  বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে ।
  রুপসী বাংলার রুপ ,,
  সেঁজেছে নিজের মতো করে ।
  ডালিয়া , কসমস,  চন্দমল্লিকা ভিন দেশী ,
  পুষ্প গুলো ঠাঁই নিয়েছে রুপসী বাংলায় ।
  শিশির বিন্দুতে ফসলের মাঠ গুলো ,,,
  হারানো যৌবন ফিরে এসেছে ।
  বাজারে উঠেছে হরেক রকম সবজী ,,,
  লাউ, লাল শাক, ফুল কপি, বাধা কপি, মুলা আর কত কি ?
শরীরের স্তক গুলো জানিয়ে দিচ্ছে ,,
শীতের সর্তক বার্তা ।
ঘন কুয়াশার আবছা আলো ভূতুডে করে তুলছে ,
সূর্য্য মামা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে ।
বাংলার ঘরে ঘরে পিঠা উৎসবে মেতেছে ।
ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, সেমাই পিঠা, গোলাপ,
রাজ ভোগ, মেরা, তেলে ভাজা, মাল পোয়া , নকশী,
ফুলি, দুধ ফুলি, পাটি চ্যাপ্টা, ঝুড়ি ,ঝিনুক ,কলা পিঠা ইত্যাদি ।
খেজুরের রসের ফিরনীতে ,,
যেন অমৃত্যের স্বাদ ফিরে আসে ।
সকালের মিষ্টি রোদ গুলো ,,
নতুন জীবন ফিরিয়ে দেয় ।
শীত আসতে একা আসে না ,,
দুই হস্ত পূর্ণ করে ফল -ফলাদি নিয়ে আসে ।
কামরাঙা, জলপাই, আমলকি,আপেল, কমলালেবু ইত্যাদি ।
যেন - সেই জানে কিভাবে স্তকে- ভিটামিন “সি” এর ঘাটতি পূরণ করা যায় ।
শীত সমগ্র বিশ্ব জুড়ে ভাই,
বাংলার মতো শীতের আমেজ আর কোথায় ও নাই ।   

Friday, 29 November 2019

 সেই কি মোর অপরাধ

সেই কি মোর অপরাধ



 সেই কি মোর অপরাধ
ওমর ফারুক
                                                          তোমার অশ্রু সিদ্ধ নোনা জলে বিশ্বাস করেছি ,
 সেই কি ছিল মোর অপরাধ ।
 বিশ্বাস করেছি প্রতিটি শব্দের সমষ্টি ,,
 কলংকের কালি মেখে হ্নদয়ে আসন দিয়েছি ,
 বিনিময়ে শুধু সন্ধি চেয়েছি ।
 দুত হয়ে শুণীয়েছি সত্যের বাণী ,
 জ্যৌতি হয়ে দেখেয়েছি পথ ।
 সেই কি মোর অপরাধ ।
 সহস্র বাধা ফেরিয়ে তোমার পাশে থেকেছি ,
 নির্ঘুম আঁধারে পাড়ি দিয়েছি পথ ।
 শুনেছি প্রীতিজনদের বঞ্চনা , 
 শুধু তোমার জন্য ,
 সেই কি মোর অপরাধ ।
 তোমার ঐ বাল্য সুলভ দৃষ্টি ভঙ্গি ,,
আমাকে আরো মোহনীয় করে তুলেছে ।
তোমার হ্নদয়ের কঠিন দাবানলে ,,
তুষার বৃষ্টিপাত ঢেলেছি ।
কিন্তু তুমি আমার সাথে নর ঘাতকের পরিচয় দিলে ।
তোমার ফণাধরা শব্দ সমষ্টি ,
আমার হ্নদয়ের গহিনে বিষ্ফরিত করেছে,
সেই বিষের জ্বালা সমস্ত শরীর চেয়ে গেছে ।
তোমাকে বিশ্বাস করেছি বলে 
সেই কি ছিল মোর অপরাধ ।
আমি তোমাকে ত্রিশালয়ের দেবী বেভেছিলাম,
কিন্তু তুমি মরতের রাক্ষুসী হয়ে ধরা দিলে ।
তোমার হিংসাত্মক আক্রমণ ,
আমাকে অনুশুশনার অনলে তিলে তিলে খাচ্ছে
প্রীতির বদলতে স্বয়ং পিষাস হলে ,
জীবনের সব চেয়ে বড় ভূল ,,
তোমাকে বিশ্বাস করেছি বলে ।  

Friday, 22 November 2019

 মা হারা ছেলেটি

মা হারা ছেলেটি

 মা হারা ছেলেটি

   ওমর ফারুক
   মা-হারা সেই ছেলেটি আমি নিজে ভাই ,
   ত্রিভূবনে মায়ের মতো আপন কেউ নাই !
   চাচী আম্মা, খালা আম্মা ,জ্যেঠি আম্মা , শাশুড়ি আম্মা 
   এতো ডাকাডাকি স্বাদ নাহী পাই ।
   ত্রিভূবনে মায়ের মতো আপন কেউ নাই !
   কোন গ্রহতে হারিয়ে গেছে কোন সেই অচিনপুর ,
   খুঁজে তোমরা দাওনা তারে মনে পাই না সুখ ।
   সন্ধ্যা এলে সব পাখিরা চলে যায় তাদের নীড়ে ,
   আমার নীড়ের মাঝে সাইরেনের সংকেত বাজে ।
   মা-হারা সেই ছেলেটি আমি নিজে ভাই ,
   ত্রিভূবনে মায়ের মতো আর তো কেউ নাই !
   সুখের বেলায় তেড়ে আসে ,
   দুঃখ এলে কেটে পড়ে ,
   মনের কথা শুনার মত আপন কেউ নাই ।

Tuesday, 19 November 2019

দজ্জাল বৌ

দজ্জাল বৌ



দজ্জাল বৌ
ওমর ফারুক 



বৌ আমার দজ্জাল
নবাবের ভেটি !
হুংকার তার বাঘের গর্জন !
সংসারে তাহার তাবেধী !
মুখ তাহার বাল্য শিশু,
মন অক্টোপাস !
তাহাকে বিবাহ করে আমার সর্বনাশ !
সংসারের কাজ করে না,
কোন কিছুর ধার ধারে না !
বৌ আমার দজ্জাল
নবাবের ভেটি !
শুশুর শাশুড়ি দেবর ভাসুর ননন দেখলে,
হিংসা জ্বলে গা !
মশার মতো গান শুনায় 
হয়ে যাইতাম একা !
নইলে আমায় নাকি দিবে ছ্যাকা !
কি আর করবো ভাই
বৌয়ের মনটা আমি চাই !
যদি একটু শান্তি খুজে পাই !
বৌ আমার দজ্জাল
নবাবের ভেটি !
মহা সুখে আছি ভাইরে
পিতা মাতাকে নিস্ব করি,
মাসের মাইনে বৌয়ের হাতে
আমাকে দেয় শুধু হাত খরচটা !
বৌ আমার দজ্জাল
নবাবের ভেটি !
গাড়ি কিনে বাড়ি কিনে
ব্যাংক একান্ট তার !
রাজ্যটা তাহা চালায়,
আমি শুধু প্রজা !
 আমার জীবন

আমার জীবন

 আমার জীবন /ওমর ফারুক 


 আমার জীবন 
  ওমর ফারুক 
  আমার জীবন রহস্যের ছানি ;
  রুপ কথার গল্পে ভরা !
  এক বাবা দু’মাতা ;
   নিজ মা মৃত !
   সেই মায়ের দুই ছেলে -তিন মেয়ে ,
     আমিই সেজো ।
জন্মের পর বাকপ্রতিবন্ধী ;
গাত্রে বিশ্রি ভরা !
দেখিলে গিন্না লাগিত মোরে ,
  র্সদি কাশিতে রোগা ।
  ওঝা, বৌদ্ধ ,ডাক্তার ,কবিরাজ ,
  দিন রাত করিয়াছে পার ,
শুধু আমার জন্য ।
বড় বোনের নাকের নদ হারাইয়া
কাঁদিতে লাগিতেছে গাছ তলায় বসিয়া !
সেই কান্নার ভাগ লইয়া ,
আমি উঠিলাম কাঁদিয়া ।
সংসারের কত অভার ,
অন্যের কাজ তাহার স্বভাব ।
কিছু পাইলে নিজে না খাইয়া ,
আমাদের দিতো খাবাইয়া ।
বাবার হাতের মার খাইয়া ,
আমাদের জড়াইয়া ধরে , উঠিত কাদিয়া ।
  ছিন্ন কাপড় পরিয়া থাকিতো ,
  মুখ বুঝে সব সর্হ্য করিতো ।
  নানার বাড়ীত যাইয়া ,
  খালাতো ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করিযা ,
  পথ গেলাম হারাইয়া ।
  সবাই খুঁজিতেছে ,
  বড় বোন খুজে পাইছে ।
  বাড়ির পাশে মামার বাড়ি ,
  নিয়ে গেল মা ।
  মামতো ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করে ,
  আমি কি আর সেথায় থাকি ।
  আমি একমত হতাম না বোনের সাথে ,
  বোন এক মত হতো না আমার সাথে ।
  এই যেন ইসরাঈল ফিলিস্তিন এর দন্দ ।
  লুকোচুরি হৈ চৈ দুষ্টামি ভরা ,
  ইহা এক রঙিন জীবন ,
  রুপ কথার গল্পে ভরা ।
  2002 সাল মে কিংবা জুন ,
  কে যেন বলিলো তোর দেবর খুন ।
  সেখানে গিয়া মাথায় ঘুরিয়া রইলো পড়িয়া ।
  শুনতে পাইয়া গেলাম ছুটিয়া ,
  দেখিলাম তারে মাটিতে শুয়ে আছে ,
  মহিলাদের কান্নার শোর গোল বাডিয়াছে ,
  পিতাকে খুঁজিতেছি 
  কিছুক্ষন পর খুঁজে পাইছি ,
     সবাই মিলে নিয়ে গেল ফেণী সদর হাসপাতালে ।
দুপুর দুইটা অচিন পুরের খবর আসে ,
 মামারা মামলা করে অনেকের নামে ,
ফোষ্ট মর্ড়ন ছাড়া ডাক্তার লাশ নাহি দেয় ।
সেই কি বিশ্রি মাতার শরীর ,
ভয়ানক দানবের থাবা ।
আকাশ বাতাস কান্নায় ভারি ,
আত্মীয়দের আহাজারি  ।
রাতে দিনে আসে পুলিশ ,
 যখন তখন দেয় হানা ।
 যে হারায় সেই বুঝে 
 বিরহের কি যন্ত্রণা ।
  বছর খানিক মামলা চলে ,
  সাক্ষীর খুবই অভার ।
  আসামিরা র্নিদোষ প্রমানিত হলে ,
  যত দোষ মোদের বলে ।
  দুই বছর পর বাবা আবার বিয়ে করে ,
  তত দিনে বড় বোন সংসারের হাল ,
  একবার-ছুটি তার ,
   নতুন মা ধাবি ধার ।
   যে হারায় সেই বুঝে 
 বিরহের কি যন্ত্রণা ।
অল্পতে কান তোলে ,
 বাবার কাছে নালিশ করে ।
নিজেকে ভাবে মহারাণী ভিক্টোরিয়া ,
খাইতে মানা ,চাইতে মানা ,
কিছু বলিলে 144 ধারা জারি ।
জীবনটাকে মনে হয় জেল খানার কয়দী ।
যে হারায় সেই বুঝে 

 বিরহের কি যন্ত্রণা ।
পিতা কোন কিছু না বুঝে ,
ধরে সৎ মায়ের কথা ধরে ,
পুরুষ কেন এতো ভীতু !
 কোথায় তার স্বাধীনতা ।
 আমি ভীতু নয় স্পষ্ট প্রতিবাদী ,
 যে দিন পিতা বিনা দোষে শাষণ করে ,
  সেই দিন  হয়ে উঠি বিদ্রোহী ।
  চোখ বুঝে মুখ বন্ধ করে ভাইদের শুনায় গুণীজনদের বাণী ,
  সুযোগ বুঝে জামা কাপড় নিয়ে হয়ে গেলাম ফেরারী ।
  আমার জীবন রহস্যের ছানি ;
  রুপ কথার গল্পে ভরা !  

Sunday, 27 October 2019

 চুরাবালি

চুরাবালি



                                                                   চুরাবালি--রবিন্দ্র নাথ ঠাকুর

                                                                নারী কভু নাহি চায়,
একা হতে কারো ।
এরা দেবী, এরা লোভী
যত পূজা পায়, ততো চায় আরো।
ইহাদের অতি লোভী মন,
একজনে তৃপ্ত নয়।
এক পেয়ে সুখি নয়,
যাচে বহুজন ।।

Saturday, 26 October 2019

কেমন আছো ,ভালো

কেমন আছো ,ভালো

কেমন আছো ,ভালো 
  সোম নাথ মুখোপধ্যায় 

 হিসেব রেখেছি ঠিক, আমার গোপন খাতা ভরে আছে 
            সুঃখদুঃখ কাটা
পূজোয় প্রথম শাড়ি কবে পরেছিলে ,ওষ্ঠের মিতালি 
গ্রামে যেতে কেঁদেছিলে ,র্দীঘদিন দেখা তো হবে না ।
সে চমক মনে আছে ? দুদিন পরেই আমি হঠ্যাৎ হাজির 
হিসেব রেখেছি ঠিক ,শাদাকালো অক্ষরের ছঁবি আকা 
নির্মল বসুর নাম কতবার করে ছিলে রাগাতে আমায় 
মনে কি সে সব পড়ে আজো এই রাতে 
লাত খাতা --শাখা--সিঁদুর ...পিড়ির আল্পনা খানি 
তোমার ছেলেও মেয়ে ভাল আছে ? কি নাম তাদের
তোমার জন্য      বাসু দেব

তোমার জন্য বাসু দেব

 তোমার জন্য 
   বাসু দেব 
এই যে এতো কান্ড জানো 
    সব কিছুই তোমার জন্য 
এই যে মিছিল ট্রফিক জ্যাম
       বা বিধান সভায় ধন্য ধন্য 
   সব কিছু তোমার জন্য 
সেই তুমি লুকিযে রইলে 
 দুঃখী মেযের চোখের পাতায় 
কিংবা আকাবুকির মধ্যে 
  নবীন কবির চটি খাতায় 
এখন না হয় বাইরে এলে 
      জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে 
দেখো নিচে গোলাপ হাতে 
         সেই যুবাটি ঠাঁয় দাড়িয়ে 
ছুটছে মানুষ অফিস ফেরৎ
    রণক্ষেত্র থেকে সৈন্য 
বালকদের ঐ প্রভাতফেরি 
সব কিছু তোমার জন্য ।
তুমি চলে যাবে

তুমি চলে যাবে

তুমি চলে যাবে 
   তরুন সান্যাল

  তুমি চলে যাবে ঝরা স্মরণের দেশে ,
  সন্ধ্যা সকাল আমার শূন্য হলে ,
  পথের পাথরে তবু ঝরে ঝরে রক্ত 
  তখন ও তো প্রেমে মহাসমুদ্রে মেশে 
  অচল আমার খাড়িতে কী কল্লোল 
  প্রয়াণ তোমার সমারোহে 
  আমি কি দশটা আঙুল ছিড়েছি ঘাস 
  কোমল শিশির দলে গেছি দুই পায়ে 
  কঠিন দুবাহু ভুলে গেলে স্পর্শকে 
  আমি চোখ বুঝে মুছে দিই নীলাকাশ
  অবশেষে দেখি বিদায়ের সন্ধ্যায়
  ছলনার মুখে ঠেলেছে আর্দশকে 
  তুমি চলে গেলে স্মরণের দেশে ,
   নারি ,সে তরল স্রোতের ক্ষিপ্র খাড়া 
   চমকায় আমি মাথা পাতি তার নীচে
বুকের বেদনা স্মরণের আশ্লেষে 
কোথায় সে কোন মহাসমুদ্রে হারা 
আমি ফিরে যাই শিকড়ে শায়িত বীজে 
কোথায় যেখানে প্রণয়ে শুরু ও সারা ?
   

Friday, 25 October 2019

 তোমার মুখ     বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

তোমার মুখ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়


তোমার মুখ 
  বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়   
 আমার হাতের ওপর তোমার মুখটি 
  তুলে ধরলাম --
  দেখলাম ,আবেগে বোজা তোমার চোখ 
  দেখা হলো না ।
  কতবার বললাম তোমার কানে ,
  কানে কানে ,--
  দেখলাম রক্তলাজে ফিরিয়ে নেওয়া তোমার চোখ !
  দেখা হলো না ।
  তোমার খোপা দিলাম খুলে ,
  জড়িয়ে নিলাম আমার মুখে ,চোখে ,বুকে --
  দেখা হলো না ।
  যাবার সময় --
  পার হয়ে যাচ্ছিলাম 
  একটি দুটি করে -সব কটি সিড়ি ।
  হঠাৎ ফিরে তাকালাম 
  দেখলাম ,চোখের জলে ভেজা তোমার চোখ ।
ভালবাসার পাশেই

ভালবাসার পাশেই


 ভালবাসার পাশেই  
   সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
 ভালবাসার পাশেই একটা অসুখ আছে 
 ওকে আমি কেমন করে যেতে বলি 
      ও কি কোন ভদ্রতা মানবে না ?
মাঝে মাঝে চোখ কেড়ে নেয় ,
         শিউরে ওঠে গা 
ভালোবাসার পাশেই একটা সুখ আছে ।
 দু’হাত দিয়ে আড়াল করা আলোর শিখাটুকু 
 যখন তখন কাপার মতন তুমি আমার গোপন 
 তার ভেতরে ইর্ষা আছে, রেফেরে মতন 
 তীক্ষ ফলা 
      ছেলেবেলার মতন জেদী 
এ দিক ওদিক তাকাই তবু মন তো মানে না 
 ভালোবাসার পাশেই একটা সুখ আছে ।
 তোমায় আদর করি ,পায়ের কাছে লুটোই 
 সিংহাসনে বসিয়ে আগুন নিয়ে খেলি 
 তবুও নিজের বুক পুড়ে যায় ,বুক পুড়ে যায় 
      বুক পুড়ে যায় 
  কেউ তা বোঝে না 
  ভালোবাসার পাশেই একটা সুখ আছে ।
যা চেয়েছি       সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

যা চেয়েছি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়


 যা চেয়েছি  
   সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
একটু খানি মৃত্যু দেবে 
   কিছুক্ষণের রকম মরণ ?
স্কুল পালানো ছেলের মতন 
ছুটতে ছুটতে তোমার কাছে 
     পিছন পিছন ভয় খাওয়ানো হাওয়া 
সমস্ত বাঁচতে বাঁচতে 
 ভিড়ের মাঝে বাঁচতে বাঁচতে 
    কাচা আমার ধোপা বাড়ির কাপড় 
আর সকালে বেচে র্বতে 
ধূলোর র্মতো খেলা করুক 
      শুনুক  সোনা -রুপার ঝনঝনানি 
আমরা চাই আবগাহন 
এক নিমিষে হারিয়ে যাওয়া 
    যেমন কোনো দৃষ্টিহীনের স্বপ্ন 
নীরব ঘর ,সুখ চাহনি 
বাহুর মেরে  আলোকলতা
    আর কিছু না , আমার বেশি চাই না 
সার্থকতা এক জীবনের 
  শুধু মৃত্যু অমর ভাবে মরণ

Thursday, 24 October 2019

কবর  জসীম উদ্দিন

কবর জসীম উদ্দিন

কবর
জসীম উদ্দিন
ইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মত মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া ক্ষেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ-কথা লইয়া ভাবী-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাটো তার হাসি-ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।
বাপের বাড়িতে যাইবার কালে কহিত ধরিয়া পা
''আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু, উজান-তলীর গাঁ।''
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু-পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধ্যাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!
হেসো না-হেসো না- শোন দাদু, সেই তামাক মাজন পেয়ে
দাদী যে তোমার কত খুশি হত দেখতিস যদি চেয়ে!
নথ নেড়ে নেড়ে কহিত হাসিয়া, ''এতদিন পরে এলে,
পথ পানে চেয়ে আমি যে হেথায় কেদে মরি আঁখিজলে''।
আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝঝুম নিরালায়!
হাতজোড় করে দোয়া মাঙ- দাদু, 'আয় খোদা দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন গো ভেস্ত নসিব হয়।'

তারপর এই শূন্য জীবনে কত কাটিয়াছি পাড়ি
যেখানে যাহার জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।
শত কাফনের শত কবরের অঙ্ক হৃদয়ে আঁকি,
গণিয় গণিয়া ভুল করে গণি সারা দিনরাত জাগি।
এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।
মাটিরে আমি যে বড় ভালবাসি, মাটিতে মিশায়ে বুক,
আয়- আয় দাদু, গলাগলি ধরি- কেঁদে যদি হয় সুখ।

এইখানে তোর বাপজি ঘুমায়, এইখানে তোর মা,
কাঁদছিস তুই? কী করিব দাদু! পরাণ যে মানে না।
সেই ফাল্গুনে বাপ তোর আসি কহিল আমারে ডাকি,
'বা-জান, আমার শরীর আজিকে কী যে করে থাকি থাকি।'
ঘরের মেঝেতে সপটি বিছায়ে কহিলাম, '' বাছা শোও''
সেই শোয়া তার শেষ শোয়া হবে তাহা কি জানিত কেউ?
গোরের কাফনে সাজায়ে তাহারে চলিলাম যবে বয়ে,
তুমি যে কহিলা, 'বা-জানরে মোর কোথা যাও দাদু লয়ে?'
তোমার কথার উত্তর দিতে কথা থেমে গেল মুখে,
সারা দুনিয়ার যত ভাষা আছে কেঁদে ফিরে গেল দুখে!

তোমার বাপের লাঙল-জোয়াল দু-হাতে জড়ায়ে ধরি,
তোমার মায়ে যে কতই কাঁদিত সারা দিনমান ভরি।
গাছের পাতারা সেই বেদনায় বুনো পথে যেত ঝরে,
ফাল্গুনী হাওয়া কাঁদিয়া উঠিত শূন্য-মাঠখানি ভরে।
পথ দিয়া যেতে গেঁয়ে পথিকেরা মুছিয়া যাইত চোখ,
চরণে তাদের কাঁদিয়া উঠিত গাছের পাতার শোক।
আথালে দুইটি জোয়ান বলদ সারা মাঠ পানে চাহি,
হাম্বা রবেতে বুক ফাটাইত নয়নের জলে নাহি।
গলাটি তাদের জড়ায়ে ধরিয়া কাঁদিত তোমার মা,
চোখের জলের গহিন সায়রে ডুবায়ে সকল গা।

উদাসিনী সেই পল্লী-বালার নয়নের জল বুঝি,
কবর দেশের আন্ধার ঘরে পথ পেয়েছিল খুঁজি।
তাই জীবনের প্রথম বেলায় ডাকিয়া আনিল সাঁঝ,
হায় অভাগিনী আপনি পরিল মরণ-বিষের তাজ।
মরিবার কালে তোরে কাছে ডেকে কহিল, 'বাছারে যাই,
'বড় ব্যথা র'ল, দুনিয়াতে তোর মা বলিতে কেহ নাই;
দুলাল আমার, জাদুরে আমার, লক্ষী আমার ওরে,
কত ব্যথা মোর আমি জানি বাছা ছাড়িয়া যাইতে তোরে।'
ফোঁটায় ফোঁটায় দুইটি গণ্ড ভিজায়ে নয়ন-জলে,
কী জানি আশিস করে গেল তোরে মরণ-ব্যথার ছলে।

ক্ষণপরে মোরে ডাকিয়া কহিল, 'আমার কবর গায়
স্বামীর মাথার মাথালখানিরে ঝুলাইয়া দিও বায়।'
সেই সে মাথাল পচিয়া গলিয়া মিশেছে মাটির সনে,
পরাণের ব্যথা মরে নাকো সে যে কেঁদে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে।
জোড়মানিকেরা ঘুমায়ে রয়েছে এই খানে তরু-ছায়,
গাছের শাখারা স্নেহের মায়ায় লুটায়ে পড়েছে পায়।
জোনাকি মেয়েরা সারারাত জাগি জ্বালাইয়া দেয় আলো,
ঝিঁঝিঁরা বাজায় ঘুমের নূপুর কত যেন বেসে ভালো।
হাতজোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, 'রহমান খোদা! আয়;
ভেস্ত নসিব করিও আজিকে আমার বাপ ও মায়!'

এই খানে তোর বু-জির কবর, পরীর মতন মেয়ে,
বিয়ে দিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি বুনিয়াদি ঘর পেয়ে।
এত আদরেরর বু-জিরে তাহারা ভালোবাসিত না মোটে,
হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
খবরের পর খবর পাঠাত, 'দাদু যেন কাল এসে
দু-দিনের তরে নিয়ে যায় মোরে বাপের বাড়ির দেশে।'
শ্বশুর তাহার কসাই চামার, চাহে কি ছাড়িয়া দিতে,
অনেক কহিয়া সেবার তাহারে আনিলাম এক শীতে।
সেই সোনামুখ মলিন হয়েছে ফোটে না সেথায় হাসি,
কালো দুটি চোখে রহিয়া রহিয়া অশ্রু উঠিছে ভাসি।
বাপের মায়ের কবরে বসিয়া কাঁদিয়া কাটাত দিন,
কে জানিত হায়, তাহারও পরাণে বাজিবে মরণ-বীণ!
কী জানি পচানো জ্বরেতে ধরিল আর উঠিল না ফিরে,
এইখানে তারে কবর দিয়েছি দেখে যাও দাদু! ধীরে!

ব্যথাতুরা সেই হতভাগিনীরে কেউ বাসে নাই ভালো,
কবরে তাহার জড়ায়ে রয়েছে বুনো ঘাসগুলি কালো।
বনের ঘুঘুরা উহু-উহু করি কেঁদে মরে রাতদিন,
পাতায় পাতায় কেঁপে উঠে যেন তারি বেদনার বীণ।
হাতজোড়া করি দোয়া মাঙ দাদু, 'আয় খোদা! দয়াময়!
আমার বু-জির তরেতে যেন গো ভেস্ত নাজেল হয়!'

হেথায় ঘুমায়ে তোর ছোট ফুপু, সাত বছরেরর মেয়ে,
রামধনু বুঝি নেমে এসেছিল ভেস্তের দ্বার বেয়ে।
ছোট বয়সেই মায়েরে হারায়ে কী জানি ভাবিত সদা,
অতটুকু বুকে লুকাইয়াছিল কে জানিত কত ব্যথা!
ফুলের মতোন মুখখানি তার দেখিতাম যবে চেয়ে,
তোমার দাদীর ছবিখানি মোর হৃদয়ে উঠিত ছেয়ে।
বুকেতে তাহারে জড়ায়ে ধরিয়া কেঁদে হইতাম সারা,
রঙিন সাঁঝেরে ধুয়ে মুছে দিত মোদের চোখের ধারা।

একদিন গেনু গজনার হাটে তাহারে রাখিয়া ঘরে,
ফিরে এসে দেখি সোনার প্রতিমা লুটায়ে পথের 'পরে।
সেই সোনামুখ গোলগাল হাত সকলি তেমন আছে,
কী জানি সাপের দংশন পেয়ে মা আমার চলে গেছে।
আপন হস্তে সোনার প্রতিমা কবরে দিলাম গাড়ি,
দাদু! ধর- ধর- বুক ফেটে যায়, আর বুঝি নাহি পারি।

এইখানে এই কবরের পাশে আরও কাছে আয় দাদু,
কথা কস নাকো, জাগিয়া উঠিবে ঘুম-ভোলা মোর যাদু।
আস্তে আস্তে খুঁড়ে দেখ দেখি কঠিন মাটির তলে,
দীন দুনিয়ার ভেস্ত আমার ঘুমায় কিসের ছলে!
ওই দুর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবীরের রাগে,
অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে।
মজিদ হইতে আযান হাঁকিছে বড় সকরুণ সুর,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দূর।
জোড়হাতে দাদু মোনাজাত কর, 'আয় খোদা! রহমান!

ভেস্ত নসিব করিও সকল মৃত্যু-ব্যথিত-প্রাণ।
তাহারেই পড়ে মনে

তাহারেই পড়ে মনে





তাহারেই পড়ে মনে
- সুফিয়া কামাল

“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”
“এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম “কেন কবি আজ
এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?”
কহিল সে সুদূরে চাহিয়া-
“অলখের পাথার বাহিয়া
তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান?
ডেকেছে কি সে আমারে? -শুনি নাই,রাখিনি সন্ধান।”
কহিলাম “ওগো কবি, রচিয়া লহ না আজও গীতি,
বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি-এ মোর মিনতি।”
কহিল সে মৃদু মধুস্বরে-
“নাই হ’ল, না হোক এবারে-
আমার গাহিতে গান! বসন্তরে আনিতে ধরিয়া-
রহেনি,সে ভুলেনি তো, এসেছে তো ফাল্গুন স্মরিয়া।”
কহিলাম “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?
যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।”
কহিল সে পরম হেলায়-
“বৃথা কেন? ফাগুন বেলায়
ফুল কি ফোটে নি শাখে? পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন?
মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নি সে অর্ঘ্য বিরচন?”
“হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?”
কহিলাম “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”
কহিল সে কাছে সরি আসি-
“কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে। তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।”