FstarBD.Com - সত্যের সন্ধ্যানে

সংবাদ শিরোনাম
খোজ করা হচ্ছে...
মেনু

Sunday, 21 June 2020

মুখোশ

মুখোশ

মুখোশ
মাইনুল ইসলাম আলিফ

 
শ্রাবণের বৃষ্টিবিলাসে যখন মনে পড়ে
মেঘলা চাদরে তোমায় খুঁজি অবিরাম।
শিশির ভেজা ঘাস ফুলে খুজি তোমার
অদ্ভুত অমলিন ছবিটা।
যখন ভুলে থাকি রাতের প্রলেপ মেখে,
দু হাতে সরাই স্মৃতির জলছবি।
এক সাগর ভাবনায় ডুবে
ঘুম ভাঙাই কবিতার, অথচ আমি কবি।
একি প্রেম, নাকি মুখোশ?

আমি প্রেমের শ্বেত বলাকায় ডানা মেলে,
উড়ে চলেছি দূর দূরান্তে।
প্রসারিত পথে প্রতিবিম্বিত হয়
প্রেম লহরীর নতুন সকাল ।
সবুজ গালিচায় দেখি অবাক সূর্যোদয়
সোনার দেশ,সে যে পুরনো বিস্ময়।
বিবেক বিকিয়ে গলা ফাটাই ,
আঁচল ধরে তারে শূলে চড়াই ,
দ্যাখো, কি জঘন্য প্রেম?
পঙ্কিলতায় কালচে হয়
প্রিয় সবুজের রক্ত পলাশ।
অথচ পাশেই পড়ে রয়
চেতনার জীবন্ত লাশ ।

মুঠোয় মুঠোয় প্রেম ফেরি করে আনি,
যখন মসজিদ ভাঙে কাদিয়ানী।
যখন ইসকনে ভাঙে ঘর,
গান বাদ্য হালাল বলে চ্যলেঞ্জ করে
বাউল শরীয়ত সরকার।
অথচ আমি আর তুমি কাঁদা ছুড়ি
সস্তা ভালোবাসার টানে।
গদবাধা গদ্যে মাতাল হই
প্রেমের নামে,
নীল মলাটের খামে।
আতষ্ক

আতষ্ক




                                                           আতষ্ক -ওমর ফারুক                                                           

১৯৪৭ সালের পর পূর্ব পাকিস্তানে আতষ্ক ছড়িয়ে পড়ে ,,
পরাধীনতার শিকল বাংলার চরণে ।
যেই শিকল পরিয়ে ছিলো বৃষ্টিশরা
- সমগ্র বিশ্বে ।
পাকিস্তান একই রুপ ধারণ করে -
চলনে বলনে বৃষ্টিশদের অনুসরন করে ।
শাসনের নামে শোষন করে -
ছাব্বিশ বছর সামরিক জান্তার কবলে !
-হুকুমত জারি করে ।
ক্রীতদাশ মোদের করে -
ক্ষনে ক্ষনে বাংলাকে করে তোলে ভুতুড়ে ।
কেড়ে নিতে চায় মায়ের মুখের বলি ,,
বায়ান্নতে প্রতিবাদ করি -
বিনিময়ে লাশের উপহার বরণ করি ।
ছয় দফা এগারো ঘাতকের মনে আতষ্ক ছড়িয়ে পড়ে ,,
উনসত্তর এর - গণঅভ্যুত্থানে
ঘাতকের নতুন রুপ প্রকাশ পায় ।
১৯৭০ সাধারণ র্নিবাচনে বাঙ্গালী সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন লাভ করি -
গনভোটে হেরে যায় মির্জাপরের দল ।
বাংলার এই জয় মেনে নিতে পারেনি নর পশুরা -
মেতে উঠে ধ্বংশের লীলা ।
দানবের ক্রোদের থাবা -
বাংলার মানুষ দিশে হারা ।
বাংলার মির্জাফরেরা ভিড় জমায় দানবের দলে ।
৭ই মার্চ শেখ মজিব স্বাধীনতার ডাক তোলে ।
২৫শে মার্চ ঘুমন্ত বাঙ্গালীর ওপর পশুদের হানা -
সেই রাতে শেখ মজিব জেল খানা ।
২৬শে মার্চ শহীদ জিয়া বেতারেতে স্বাধীনতার ডাক ।
নর পশু ঘাতক নিপাত যাক !
দিশে হারা বাঙ্গালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আশ্রয়ে -
গড়ে প্রতিরোধের দূর্বার ঘাটি ।
প্রাণে পনে লড়ে অনেকে মরে যায় -
হাল না ছাড়া ছাড়ি ।
যেখানে সেখানে জয়ের র্বজ্য ধ্বনি ।
পরাজয় বুঝতে পেরে ১৪ ই ডিসেম্বর -
বাংলার মনসীদের নিয়ে রক্তের লীলা ,,
জাতিকে করে মেধা শূন্য -
আতষ্ক হবে দিশে হারা ।
কষ্টের কারাগার

কষ্টের কারাগার

কষ্টের কারাগার
ওমর ফারুক

কষ্টের কারাগারে সাজা পেয়েছি,
বহু শতাব্দী আগে ।
অবহেলা করে ঠেলে দিলে দূরে ,
বিরহের ব্যাথা ধীরে ধীরে জ্বলে ।
সুখ পাখিটি চলে গেছে বহু দূরে ,
কষ্ট গুলো রয়েছে হ্নদয়ের চারি পাশে –
কোন কিছুতেই সেখান থেকে মুক্তি পাইনা ।
বিনাদোষে অপরাধী হয়েছি বহু বার,
তবুও কি করুনা হয়নি তোমার ।
হবে বা কেন?
তোমার গৃহ অট্টলিকা-
আমার গৃহ খড-কুটায় ।
প্রণয়ে এসেছিলে প্রদীপ জ্বেলে,
যাওযার বেলায় আষাঢ়ের মেঘ জমালে ।
চোখের অশ্রুতে ফসল ফলানোর চেষ্টা করেছি বহুবার,
হ্নদয়ের আগাছা কিছুতেই দেয়নি ।
নির্শতে তোমার দেয়া অপবাধ মেনে নিয়েছি,
তবুও কি করুনা হয়নি তোমার ।
আমি তো চাষী নয়,
তোমার হ্নদয়ে প্রেমের বীজ রোপন করবো।
আমি মালি নয় সেই বাগানের পরিচর্যা করবো
তোমার হ্নদয়ের একখন্ড জমি –
আমাকে দাওনি !
আমার কি যোগ্যতা আছে ,
সেই জমিনের মালিক বলে দাবি করার ।
যে দিন তুমি সরি বলে চলে গেলে
সেই দিনও ভাবছি –
হয়তো একদিন ফিরে আসবে !
সেই আশা ভেঙ্গে দিয়ে ,
হঠ্যাৎ বিবাহের নিমন্ত্রণ পাঠালে !
বুকে চিন চিন করা ব্যাথা নিয়ে ছুটে গিয়েছি  ,
চোখের অশ্র গুলো শুকিয়ে চৈত্রের মরুভূমি ।
অবাক দৃষ্টিতে তোমার আচরণ ভূঙ্গিমা দেখেছি ,
আর ভাবছি মানুষ বুঝি এমনি হয় ।
হাসি মুখে যখন কবুল বলে সম্মতি জানালে !
হ্নদয়ের আয়নাটা ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে
চরণের মৃত্তিকা গুলো প্রচন্ড ভাবেকাঁ পছে,
মাথাটা ভীষণ ভাবে ঝিমঝিম করছে ।
এর পর কি হলো কিছুই মনে নেই ।
হূশ ফিরে দেখি কোন এক হাসপাতালে ভর্তি
আজ তুমি চলে গেলে দূর থেকে দুরে,
জানি আর কখনো ফিরবেনা এই হ্নদয়ে ।
যদি কখনো কোথায় দেখা হয়,
না দেখার ভান করে–
অতি প্রয়োজনে তুমি থেকে আপনি ।
অতিতের স্মৃতি গুলো আজও মনে পড়ে,
ঘুমের রাজ্যে ভয় থেকে ভয়ানক হয়ে ।
চোখ মেললে দেখি সবিই কাল্পনীক ।
তুমি আমাকে যে সাজা দিয়েছো ,
জানিনা সেই সাজার মেয়াদ শেষ হবে কবে।
তোমার দেওয়া কষ্টের কারাগারে ,
আজ ও সেই সাজা ভোগ করতেছি ।

Monday, 11 May 2020

অসহায় পিতা

অসহায় পিতা

 অসহায় পিতা

সহায় পিতা ওমর ফারুক

সেই দিনের ছোট্ট শিশুটি আজ কারো পিতা ,
যার কাঁধে ঝুলিয়ে রাখে হাজারে ও দায়িত্ব ।
যে কিনা দাপিয়ে বেড়াত দিগ -দিগন্তে ,
যার নামে নালিশের কমতি নেই ,
আজ সেই অন্যকে শাসন করতেছে ,
সেই দিনের ছোট্ট শিশুটি কারো পিতা ।
যে কিনা নিজে স্বপ্ন দেখতো-
আজ সেই অন্যকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ।
ঈদ পূজায় যার কিনা রং বাহরী পোষাক থাকতো ,
সেই আজ স্ত্রী পুত্রদের শখ পুরণ করে-
নিজেরটা কোন মতে পার করছে ।
সেই দিনের ছোট্ট শিশুটি আজ কারো পিতা ,
যেই ছেলেটি অলসতায় দিন কাঁটাতো -
সেই আজ কর্মে নিজেকে ব্যাস্ত করে তুলছে ।
যে ছেলেটি রোদ বৃষ্টি সর্হ্য করতে পারতো না,
সেই আজ রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে-
সন্তানদের মুখে অন্ন তুলছে ।
যে ছেলেটি খেয়াল খুঁশি মতো চলতো ,
সেই আজ পরাধীনতার শিকলে বন্ধী ,
সেই দিনের ছোট্ট শিশুটি আজ কারো পিতা ।
যে ছেলেটি কারো কটু বাক্য সর্হ্য করতে পারতো না -
সেই আজ হাজারো কটু বাক্য সর্হ্য করে -সন্তানের কথা ভাবছে।
যার অর্থ উর্পাজনের উপর সকলে নির্ভরশীল ,
যে কিনা দুই হস্ত দিয়ে সকলকে আটকে ধরছে ।
সেই দিনের ছোট্ট শিশুটি আজ কারো পিতা ।
নিজের অর্থ সম্পদ দিয়ে যাদেরকে মনুষ্যের দলে ঠায় দিয়েছে ,
তারাই তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতার পরিচয় দিয়েছে
-শিক্ষিত মানুষ মুর্খের ন্যায় আচরণ করছে ।
যে মানুষটি আসার জন্য সবাই তাকিয়ে থাকতো -
সেই মানুষটি আজ অবহেলায় দিন কাঁটাছে ।
যার চার পাশে ছিল জন কোলাহল,
সেই আজ র্নিজন বডই একা ।
যে ছেলেটি সন্তানের অসুখে র্নিঘুম প্রহর গুনছে ,
আজ সেই নিজের অসুখের ধুকে ধুকে মরছে ।
যেই ছেলেটি দুই হাত দিয়ে সকলকে আটকে ধরছে ,
তাকে আজ দেখার কেউ নাই ।
যেই ছেলেটি পকেট ভর্তি ছিল টাকা -
তার আজ পকেট ফাঁকা ।
যেই ছেলেটি যার হুংকারে সকলে ভীত হয়েছে -
আজ তার চিৎকার সকলের কাছে তিক্ত হচ্ছে ।
যাদের জন্য অর্থ সম্পদ ব্যায় করেছে -
তাদের কাছে আজ অবহেলা লাঞ্ছিত ;
যেই স্বপ্ন নিয়ে বাড়ী সাঁজিয়েছে -
আজ সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে রাস্তা নেমেছে ।
যে হাতে টাকা পয়সা হিসাব বিহীন ব্যায় করেছে -
সেই হাতে আজ কারো কাছে ভিক্ষা চাচ্ছে ।
সেই দিনের ছোট্ট শিশুটি আজ কারো পিতা ,