শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

এখনো পুড়ছি

এখনো পুড়ছি


 

এখনো পুড়ছি

ওমর ফারুক

এখনো পুড়ছি ,

পোড়া গন্ধ চার দিকে –

স্বপ্নের রাজ্যে লেলিহান শিখা ।

ভয়ে শিউরে উঠে বুক ,

চোখ মুদালেই-

ভোরের কাগজে র্ধষনের চিত্র ।

কোথাও শুকুনের উল্লাস ,

কোথাও অসহায়ের  আর্তনাদ ।

মানবাধিকারের তোতা পাখি –

কেবল বক বক করে যাচ্ছে ।

ধ্বংসের স্তূপ স্মরণ করে দিচ্ছে ,

সবলের কাছে দূর্বল অসহায় ।

এখনো পুড়ছি ,

এখনো নাকে সেই পোড়া গন্ধ-

ভেসে চলে আসে ।

যা করে ছিল পাক হানাদার তার দোসররা ।

গ্রামের পর গ্রাম মাঠের পর মাঠ ।

এখনো বাংলা মায়ের সম্ভ্রম হারানোর চিৎকার শুনি ।

যা করে ছিল পাক হানাদার তার দোসররা ।

 এখনো দেখি বিচারের নামে প্রহসন ,

রক্ত পিপাসুদের দূর্নীতি অনিয়ম –

গুম খুন লুটরাজ র্ধষণ ।

যা করে ছিল পাক হানাদার তার দোসররা ।

 এখনো পুড়ি ,,

হ্নদয়ে যে পোড়া ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে ,

তা আজীবন বয়ে বেড়াচ্ছি ।

মানুষে মানুষে দাঙ্গা বাধায় ,

স্বার্থনেশি মহল ।

মাথার উপরে বন্ধুকের গুলি ,

শ্বাস রুদ্ধ করে প্যাপিষ্টরা ।

চার দিকে চিৎকার আর চিৎকার ,,

বাঁচাও আমাদের বাচাও –

আমরা বাঁচতে চাই ।

হাত বাড়ালে মৃত্যু ,,

শত কাকুতি মিনতি –

দানবের মনে –

উল্লাস বয়ে আনে ।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

আমার কিছুই করার ছিলো না

আমার কিছুই করার ছিলো না


 

আমার কিছুই করার ছিলো না ।
                             ওমর ফারুক
যে দিন আমার মামারা ,
তোমাকে লাঞ্চিত করছে ,
সেই দিন আমি অপলক দৃষ্টিতে দেখছিলাম 
আমার কিছুই করার ছিলো না ।
বাইরে অঝোর বৃষ্টি ঝর ছিল –
হ্নদয়ের আকাশে কালো মেঘে –
ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে ।
মেঘের ভাজ পড়া শব্দে ,
নিজেই  কতবার আতঙ্কিত  হয়েছি –
বার বার মনকে বুঝাছি ,
চোখের সামনে যা দেখছি –
তা হয় তো ভূল কিছু দেখছি ।
দু’চোখ বেয়ে নোনা জলে –
নিজেকে সাতরেয়েছি ।
আমার ভাল বাসার ফলস –
এই ভাবে দিতে হবে জানা ছিলো না ।
তোমার আমার ভাল বাসার সমীকরণ-
কিছুটা ভিন্ন ।
আমার পরিবার থেকে না তোমাকে গ্রহণ ,
তোমার পরিবার থেকে না আমাকে বরণ ।
তুমি কিশোর আমি কিশোরী –
বয়স আমাদের কম ।
ভাল বাসা কি বুঝে ধর্ম বর্ণ জাত-বেজাত –
 বয়সের সমীকরণ ।
তুমি ছিলে আমার সহপাঠী –
আমি ছিলাম তোমার ।
এক দুই তিন চার –
অশ্রু অপার ।
যে দিন তোমার স্পর্শে –
প্রেমের ফুল ফুটেছে ।
সেই গুলো আজ মরে মর্ম হয়ে গেছে ।
তোমার দৃষ্টিতে আমি অভিমান –
আমার দৃষ্টিতে তুমি ।
আর কি হবে না কথা –
হবে না দেখা দেখি ।
তুমি চাইলে অনেক কিছু করতে পারো –
আমি চাইলে কেবল শূণ্য ।
তুমি থাকে ভিন দেশে –
আমি থাকি দেশে ,
বড়ই ভূল করেছি তোমায় ভাল বেসে ।
অনেক দিন অনেক মাস ,
রাখো না আমার খোঁজ –
শূণ্য হ্নদয় ভীষন্ন মনে
পড়ে আছি রোজ ।
যে দিন আমার মামারা ,
তোমাকে লাঞ্চিত করছে ,
সেই দিন আমি অপলক দৃষ্টিতে দেখছিলাম 
আমার কিছুই করার ছিলো না ।

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০

মোহনার সাথে এক দিন

মোহনার সাথে এক দিন

 

 

মোহনার সাথে এক দিন
ওমর ফারুক
মোহনার সাথে এক দিন ,
কোন এক সবুজের বুক চিরে ,
সোনালি ঝলমল রোদ্রে –
হারিয়ে যাবো হ্নদয়ের অরণ্যে ।
যে বনে হরণীরা খেলা করে ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
কোন এক সমুদ্রে যাবো –
হিমেল হাওয়া মানবীয় ক্লেশ ,
হ্নদয়ের উষ্ণতার যোগান দেবে ।
কোন এক ঝর্ণা ধারা –
প্রকৃতির বিচিত্র রুপে ,
নিজেকে বিলিন করে দেবো ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
 কোন এক পার্কে নির্জন আড়ালে , 
কবিতার ছন্দে মনের ভাব প্রকাশ করবো ।
একাকিত্ব মনে হারিয়ে যাবো –
দৃষ্টির শেষ সীমানায় ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
কোন এক কফি হাউজে –
আড়্ড়ায় মেতে উঠবো ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
পরীর দেশে যাবো –
দেখে নিবো কে বেশি মায়াবী ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
বৃষ্টি ভেজা শীতল পরশে –
হ্নদয়ের ভেলা বাইবো ।
বৃষ্টির টাপুর টুপুর –
মোহনার নুপুরের শব্দে ,
নিজেকে মাতিয়ে নেব –
নতুন দিগন্তে ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
কোন স্থানে রঙিন ঘড়ি উড়াবো ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
কোন প্রাচীর ঘেরা-
 দূরগম পথ পাড়ি দিবো ।
মোহনার সাথে এক দিন ,
ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরে বেড়াবো ,
ইতিহাসের পাতায় খুজেঁ বেড়াবো -
মোহনার অস্থিত ।
মোহনার সাথে এক দিন
 চাঁদে বা মঙ্গলে পাড়ি জমাবো ,
বিশ্বকে জানান দিবো নতুন অভিজ্ঞতা ।

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ।

দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ।

 






   দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ।

 ওমর ফারুক

 দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ,

 আমায় একা ফেলি ।

 এই হ্নদয়ে মেঘের গর্জন –

অশ্রু রাশি রাশি ।

দিদি  আমার এই হ্নদয়ে হাজার রঙের ফুল  ।

দিদি ছাড়া এই হ্নদয় মরুর  কুল ।

দিদি আমার গল্প বলা ঠাকুমার ঝুলি ,

দিদির এতো গল্প গুজব –

কেমনে তারে ভূলি ।

দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ,

 আমায় একা ফেলি ।

 এই হ্নদয়ে মেঘের গর্জন –

অশ্রু রাশি রাশি ।

দিদি আমার মায়ের আদর –

অতি কড়া শাসন ।

দিদি আমায় যেথায় সেথায় ,

না যাওয়ার বারন ।

দিদি আমার শিক্ষা দীক্ষা দিদি পেরনা ,

দিদি না থাকলে এই ভূবণে –

কিছুই পেতাম না ।

দিদি আমার প্রথম বন্ধু দূর সময়ের সাথী-

দিদি আমার নয়ন মনি তাকে ছাড়া –

কেমনে একলা থাকি ।

দিদি আমার ফুলের মালি ,

ঘরকে রাখে পরিপাাট্টি  ।

 দিদি আমার ডাক্তার -বৌদ্ধ ,ঔঝা কবিরাজ –

আমাকে সুস্থ্য রাখা দিদির কাজ ।

দিদি যাচ্ছে শুশুর বাড়ি ,

 আমায় একা ফেলি ।

 এই হ্নদয়ে মেঘের গর্জন –

অশ্রু রাশি রাশি ।

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

 বিয়ের নিমন্ত্রণ

বিয়ের নিমন্ত্রণ



 বিয়ের নিমন্ত্রণ

ওমর ফারুক 

আজ বন্ধুর বিয়ে -

নিমন্ত্রণ করেছে আমাকে ।

সেই খুশিতে মন আমার -

রং বেরঙের সাজেঁ ।

কি পরবো কি করবো ,

বেড়েছে আজ তোড়জোড় ।

আজ বন্ধুর বিয়ে -

নিমন্ত্রণ করেছে আমাকে ।

আজ নেই খাওয়া দাওয়া -

দু’চোখে নেই ঘুম ,

হাসি খুশি রং তামাশা -

কে বা হয় খুন ।

আজ ফুটেছে হ্নদয়ের কলি -

হলুধ সরিষা ফুলে ।

গোলাপ পাঁপড়ি শিশির কণা -

নানান সুর তুলে ।

ফুলের কলি সুভাষ ছড়ায় 

- নানান ভঙ্গীমায়  ।

বৌমর এসে ভিড় করে -

মনের আঙিনায়।

আজ সেজেছে তারার মেলা -

রংধনুটা বিশাল ।

চাঁদের কিরণ লেগে আছে -

বাড়ির আঙিনায় ।

আজ এসেছে অতিথি পাখি -

হাজার মাইল উড়ে ।

আখি মেলে দেখিয়াছি -

ধন্য হতাম তাদের পেলে ।

আকাশে বাতাশে ধ্বনিত হলো -

দুটি মন মিলনের পয়গাম-

এ মন ঐ মনকে সম্মতি দিল,

আজ থেকে শুরু হোক বিশ্বাসের সমাগম ।

তোমাকে দেওয়ার মতো উপহার আমার যে নাই ,

শূণ্য হ্নদয় দোয়া ছাড়া আর কি পাই ।

সুখে থাকো ভালো থাকো -

সারাটি জীবন ভর ,

তোমার আমার বন্ধুত্ব -

চির কাল  থাকোক অটুট  ।

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০

  আজ মোহনার বিয়ে

আজ মোহনার বিয়ে

   
আজ মোহনার বিয়ে 
ওমর ফারুক
আজ মোহনার বিয়ে ,
মোহনা করে কান্নাকাটি -
মুখে মেকাপ দিয়ে ।
বর এসেছে ঘোড়া চড়ে -
বৌ সাঁজোনি নিয়ে ।
বান্ধুবীরা লুটে পড়ে -
অট্ট হাসি দিয়ে ।
বান্ধুবীদের মনে প্যাঁচ -
বরকে আজ করবে শেষ ।
গেটে এসে ফুল হাতে-
 বরকে অবরোধ করে ।
তাই দেখে জামাই বাবু -
লজ্জা চরমে মরে ।
খাওয়া দাওয়ার বিশাল বহর -
মোহনার আজ নেই খবর ।
বাড়ি আজ হৈ হুল্লা -
মোহনার মনে শুধু গোল্লা । 
আজ মোহনার বিয়ে ,
মোহনা করে কান্নাকাটি -
মুখে মেকাপ দিয়ে ।
তাই দেখে পাড়ার লোকে -
রং তামাসা করে ।
সেই খুশিতে মোহনার পিতা মাতার -
চোখের পানি ঝরে ।
মোহনার আজ কনের সাজঁ -
পরীর বেশে লাগছে বেশ -
লাল পরী ,নীল পরী ,জল পরী, মায়া পরী -
মোহনার রুপের কাছে করছে ফেল ।
মোল্লা এসে মন্ত্র পড়ে -
কাজী এসে আইন ,
কোটি টাকার কাবিন করে -
জামাই বাবুর ফাইন ।
মোহনাকে তুলে দেয় -
জামাই বাবুর হাতে ,
খোদার চির বিধান আজ -
বিবাহ বন্ধনে মোহনাকে আবদ্ধ করে ।
মোহনা যাবে শুশুর বাড়ি -
লাল শাড়ি পরী ,
পিতা মাতা আত্মীয় স্বজন-
বান্ধুবীদের পর করি ।
আজ মোহনার বিয়ে ,
মোহনা করে কান্নাকাটি -
মুখে মেকাপ দিয়ে ।

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০

মোহনা

মোহনা


 মোহনা 
 ওমর ফারুক 
 নদীর মোহনা আমাদের দেখা ,
 তুমি ছিলে সখির সাথে -
 আমি ছিলাম একা ।
 গায়ে ছিল কালো জমা -
 কানে ছিল দুল ,
 যে দেখিবে সেই হারাবে কুল ।
 ভ্রু ছিল মেঘের ছানি -
 ঠোঁট রাঙিয়েছো গোলাপ ফুল ,
 চোঁখের পাতায় রং ধনু -
 জুঁই জবা শিউলি ফুল ।
 হাত গুলো লতা পাতায় মেহেদী রাঙা -
 তোমার জন্য আমার জেগে উঠে মায়া ।
 দুই হাতে রেশমী চুড়ি -
 গলায় ফুলের মালা ,
 কে এসেছে তোমার সাথে ,
 চাচী কিং বা খালা ।
 চুল গুলো এলোমেলা -
 বসন্তের কাশ ফুল ,
 যে  দেখিবে সে হারাবে কুল ।
 নদীর মোহনা আমাদের দেখা ,
 তুমি ছিলে সখির সাথে -
 আমি ছিলাম একা ।